ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, ইবনু আইয়্যুব, কুতাইবাহ ও ইবনু হাজর (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে শুয়ে ছিলেন, তার উরু কিংবা পায়ের নলা উন্মুক্ত ছিল। আবূ বাকর (রাযিঃ) এসে অনুমতি চাইলে তিনি তাকে অনুমতি দিলেন এবং এ অবস্থাতে কথপকথন করলেন। তারপর উমার (রাঃ) অনুমতি চাইলে অনুমতি দিলেন এবং এ অবস্থায়ই কথাবার্তা বললেন। উসমান (রাযিঃ) অনুমতি চাইলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে বসলেন এবং তার কাপড় ঠিক করলেন। বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ বলেন, এ বিষয়টি একই দিনে ঘটেছে বলে আমি দাবী করি না। অতঃপর উসমান (রাযিঃ) এসে কথা বলে চলে যাওয়ার পর আয়িশা (রাযিঃ) বললেন, আবূ বকর (রাযিঃ) আসলেন, আপনি তাকে কোন গুরুত্ব দিলেন না ও ভ্রুক্ষেপ করলেন না, উমার (রাযিঃ) আসলেন আপনি তাকেও কোন গুরুত্ব দিলেন না ও ভ্রূক্ষেপ করলেন না। উসমান (রাযিঃ) প্রবেশ করতেই আপনি উঠে বসলেন এবং জামা ঠিক করে নিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি কি সে লোককে লজ্জা করবো না, ফেরেশতারা পর্যন্ত যাকে দেখলে লজ্জা পান। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯৯২, ইসলামিক সেন্টার)
আবদুল মালিক ইবনু শু'আয়ব ইবনু লায়স ইবনু সা'দ (রহঃ) ..... নবী পত্নী আয়িশাহ ও উসমান (রাযিঃ) হতে রিওয়ায়াত করেন যে, আবূ বাকর (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন নিজের বিছানায় আয়িশাহর চাদর গায়ে দিয়ে শুয়ে ছিলেন। তিনি আবূ বাকরকে অনুমতি দিলেন। আর তিনি এ অবস্থায়ই রইলেন, আবূ বাকর (রাযিঃ) তার প্রয়োজন শেষে চলে গেলেন। তারপর উমর (রাযিঃ) অনুমতি চাইলে তাকে অনুমতি দিলেন এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ অবস্থায়ই রইলেন। উমার (রাযিঃ) তার কাজ সেরে চলে গেলেন। উসমান (রাযিঃ) বলেন, তারপর আমি অনুমতি চাইলাম, তিনি উঠে বসে পড়লেন এবং আয়িশাহকে বললেন, ভালো মতো তোমার শরীরের কাপড় ঠিক করে নাও। আমি আমার কাজ শেষ করে চলে এলে আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! কি ব্যাপার, আবূ বাকর ও উমার (রাযিঃ) আসলে আপনাকে এমন ব্যস্ত হতে দেখলাম না, যেমন উসমান আসতেই আপনি ব্যতিব্যস্ত হলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ উসমান (রাযিঃ) বড়ই লাজুক পুরুষ। তাই আমি ভাবলাম, এ অবস্থায় তাকে আসতে বললে হয়ত সে তার প্রয়োজন আমার নিকট উথাপন করতে পারবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯৮৩, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) আমর আন নাকিদ, হাসান ইবনু আলী হুলওয়ানী ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... উসমান ও আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে রিওয়ায়াত করেন যে, আবূ বাকর সিদীক (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলেন, অবশিষ্টাংশ যুহরী (রহঃ) থেকে উকায়ল (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯৯৪, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না আনাযী (রহঃ) ... আবূ মূসা আশআর (রাযিঃ) হতে রিওয়ায়াত করেন যে, একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনার একটি বাগিচায় হেলান দিয়ে বসাবস্থায় একটি লাকড়ি কাদা মাটিতে গাঢ়তে চেষ্টা করছিলেন। এমনি মুহূর্তে কেউ দরজা খোলার অনুমতি চাইলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। তখন আমি গিয়ে দেখি তিনি আবূ বাকর (রাযিঃ)। আমি দরজা খুললাম এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিলাম। তারপর আরেক ব্যক্তি দরজা খোলার অনুমতি চাইলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। তখন আমি গিয়ে দেখলাম তিনি উমার (রাযিঃ)। দরজা খুলে দিলাম এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিলাম। তারপর আরেক ব্যক্তি দরজা খোলার অনুমতি চাইলেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোজা হয়ে বসে পড়লেন এবং বললেন। দরজা খুলে দাও এবং তাকে আসন্ন বিপদসহ জান্নাতের সুসংবাদ দাও। আমি গিয়ে দেখি তিনি উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ)। আমি দরজা উন্মুক্ত করে তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিলাম এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন তার বর্ণনা দিলাম। উসমান (রাযিঃ) বললেনঃ “হে আল্লাহ আমাকে ধৈর্য দান করো। আল্লাহর নিকট আমি সাহায্য কামনা করছি।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯৯৫, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 6213 — Sahih Muslim 44:43
حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الْعَتَكِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ حَائِطًا وَأَمَرَنِي أَنْ أَحْفَظَ الْبَابَ . بِمَعْنَى حَدِيثِ عُثْمَانَ بْنِ غِيَاثٍ .
(…) আবূ রাবী’ আল-আতাকী (রহঃ) ..... আবূ মূসা আশ'আর (রাযিঃ) হতে রিওয়ায়াত করেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বাগিচায় গেলেন এবং আমাকে দরজায় পাহারা দিতে বললেন, তারপর উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসের সমার্থক হাদীস রিওয়ায়াত করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯৯৬, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 6214 — Sahih Muslim 44:44
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِسْكِينٍ الْيَمَامِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، - وَهُوَ ابْنُ بِلاَلٍ - عَنْ شَرِيكِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَخْبَرَنِي أَبُو مُوسَى الأَشْعَرِيُّ، أَنَّهُ تَوَضَّأَ فِي بَيْتِهِ ثُمَّ خَرَجَ فَقَالَ لأَلْزَمَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلأَكُونَنَّ مَعَهُ يَوْمِي هَذَا . قَالَ فَجَاءَ الْمَسْجِدَ فَسَأَلَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا خَرَجَ . وَجَّهَ هَا هُنَا - قَالَ - فَخَرَجْتُ عَلَى أَثَرِهِ أَسْأَلُ عَنْهُ حَتَّى دَخَلَ بِئْرَ أَرِيسٍ - قَالَ - فَجَلَسْتُ عِنْدَ الْبَابِ وَبَابُهَا مِنْ جَرِيدٍ حَتَّى قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَاجَتَهُ وَتَوَضَّأَ فَقُمْتُ إِلَيْهِ فَإِذَا هُوَ قَدْ جَلَسَ عَلَى بِئْرِ أَرِيسٍ وَتَوَسَّطَ قُفَّهَا وَكَشَفَ عَنْ سَاقَيْهِ وَدَلاَّهُمَا فِي الْبِئْرِ - قَالَ - فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ ثُمَّ انْصَرَفْتُ فَجَلَسْتُ عِنْدَ الْبَابِ فَقُلْتُ لأَكُونَنَّ بَوَّابَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْيَوْمَ . فَجَاءَ أَبُو بَكْرٍ فَدَفَعَ الْبَابَ فَقُلْتُ مَنْ هَذَا فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ . فَقُلْتُ عَلَى رِسْلِكَ - قَالَ - ثُمَّ ذَهَبْتُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا أَبُو بَكْرٍ يَسْتَأْذِنُ فَقَالَ " ائْذَنْ لَهُ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ " . قَالَ فَأَقْبَلْتُ حَتَّى قُلْتُ لأَبِي بَكْرٍ ادْخُلْ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُبَشِّرُكَ بِالْجَنَّةِ - قَالَ - فَدَخَلَ أَبُو بَكْرٍ فَجَلَسَ عَنْ يَمِينِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَعَهُ فِي الْقُفِّ وَدَلَّى رِجْلَيْهِ فِي الْبِئْرِ كَمَا صَنَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَكَشَفَ عَنْ سَاقَيْهِ ثُمَّ رَجَعْتُ فَجَلَسْتُ وَقَدْ تَرَكْتُ أَخِي يَتَوَضَّأُ وَيَلْحَقُنِي فَقُلْتُ إِنْ يُرِدِ اللَّهُ بِفُلاَنٍ - يُرِيدُ أَخَاهُ - خَيْرًا يَأْتِ بِهِ . فَإِذَا إِنْسَانٌ يُحَرِّكُ الْبَابَ فَقُلْتُ مَنْ هَذَا فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ . فَقُلْتُ عَلَى رِسْلِكَ . ثُمَّ جِئْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ وَقُلْتُ هَذَا عُمَرُ يَسْتَأْذِنُ فَقَالَ " ائْذَنْ لَهُ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ " . فَجِئْتُ عُمَرَ فَقُلْتُ أَذِنَ وَيُبَشِّرُكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْجَنَّةِ - قَالَ - فَدَخَلَ فَجَلَسَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْقُفِّ عَنْ يَسَارِهِ وَدَلَّى رِجْلَيْهِ فِي الْبِئْرِ ثُمَّ رَجَعْتُ فَجَلَسْتُ فَقُلْتُ إِنْ يُرِدِ اللَّهُ بِفُلاَنٍ خَيْرًا - يَعْنِي أَخَاهُ - يَأْتِ بِهِ فَجَاءَ إِنْسَانٌ فَحَرَّكَ الْبَابَ فَقُلْتُ مَنْ هَذَا فَقَالَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ . فَقُلْتُ عَلَى رِسْلِكَ - قَالَ - وَجِئْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ " ائْذَنْ لَهُ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ مَعَ بَلْوَى تُصِيبُهُ " . قَالَ فَجِئْتُ فَقُلْتُ ادْخُلْ وَيُبَشِّرُكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْجَنَّةِ مَعَ بَلْوَى تُصِيبُكَ - قَالَ - فَدَخَلَ فَوَجَدَ الْقُفَّ قَدْ مُلِئَ فَجَلَسَ وُجَاهَهُمْ مِنَ الشِّقِّ الآخَرِ . قَالَ شَرِيكٌ فَقَالَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ فَأَوَّلْتُهَا قُبُورَهُمْ .
মুহাম্মাদ ইবনু মিসকীন ইয়ামামী (রহঃ) ..... আবূ মূসা আশ'আরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি তার গৃহ থেকে ওযু সেরে বেরিয়ে বলেন, আজকের দিন আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে থাকবো। তিনি মসজিদে আসলেন এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্বন্ধে প্রশ্ন করলেন। লোকেরা বলল, তিনি এ দিকে গিয়েছেন। আবূ মূসা (রাযিঃ) লোকদের নিকট প্রশ্ন করে তার পদাংক অনুসরণ করে বি'রি আরীসে গিয়ে পৌছলেন। আবূ মূসা (রাযিঃ) বলেন, আমি চৌকাঠে বসলাম। এর দরজাটি ছিল খেজুরের ডালের। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাজ শেষ করে ওযু করলে আমি তার নিকট গিয়ে দাঁড়ালাম। তিনি আরীস' কূপের কিনারার মাঝখানে উপবিষ্ট হলেন। তার পা দু’টো হাটু পর্যন্ত উন্মুক্ত করে কূপের ভেতর ঝুলিয়ে দিলেন। আমি তাকে সালাম দিয়ে চৌকাঠের কাছে গিয়ে বসে পড়লাম আর বললাম, অবশ্যই আমি আজ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পাহারাদার হবো। আবূ বাকর (রাযিঃ) এসে দরজায় ধাক্কা দিলে আমি বললাম, কে? বললেন, আবূ বাকর। আমি বললাম, দাঁড়ান। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আবূ বাকর (রাযিঃ) এসেছেন এবং অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বললেন। তাকে আসার অনুমতি এবং জান্নাতের সুসংবাদ দাও। আমি এগিয়ে গিয়ে আবূ বাকরকে বললাম, প্রবেশ করুন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। আবূ বাকর (রাযিঃ) প্রবেশ করে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ডান পাশে রূপে পা লটকিয়ে বসলেন আর পা দু’টো ইঁটু পর্যন্ত উন্মুক্ত করলেন। যেমনটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছেন। এরপর আমি প্রত্যাবর্তন শেষে বসে পড়লাম। আমি আমার ভাইকে রেখে এসেছিলাম, তিনি ওযু করছিলেন। তিনি আমার সাথে সাক্ষাৎ করবেন। আমি মনে করলাম, আল্লাহ তা'আলা যদি তার মঙ্গল চান তাহলে তাকে এখনই এনে দেবেন। এমন সময় এক লোক দরজা নাড়ল। বললাম, কে? উত্তর দিলো, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)। বললাম, দাঁড়ান। পরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে তাকে সালাম দিয়ে বললাম, 'উমার (রাযিঃ) এসেছেন, তিনি প্রবেশের অনুমতি চান। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। উমারের নিকট এসে বললাম, আসুন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে জান্নাতের সুখবর দিচ্ছেন। উমর (রাযিঃ) প্রবেশ করে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বামপাশে কূপে পা ঝুলিয়ে বসলেন। আমি ফিরে এসে বসে পড়লাম, বললাম, আল্লাহ যদি আমার ভাইয়ের ভাল চান তাহলে তাকে এনে দেবেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে দরজা নাড়ল। আমি বললাম, কে? বলল, উসমান ইবনু আফফান। বললাম, দাঁড়ান। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে সংবাদ দিলাম। তিনি বললেনঃ তাকে প্রবেশ করতে দাও এবং আগত বিপদের সঙ্গে জান্নাতের সুখবর দাও। আমি এসে বললাম, প্রবেশ করুন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে একটি আগত বিপদের সঙ্গে জান্নাতের সুখবর দিচ্ছেন। উসমান (রাযিঃ) প্রবেশ করে দেখলেন কুপের একপাশ ভরাট হয়ে আছে। তিনি তাদের মুখোমুখি হয়ে কুপের অন্য পাশে বসলেন। শারীক (রহঃ) বলেন, সাঈদ ইবনু ইবনু মুসাইয়্যাব (রহঃ) বলেন, আমি এ বৈঠকের বিশ্লেষণ করলাম যে, এ হচ্ছে তাদের কবরের অবস্থান। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯৯৭, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু ইসহাক (রহঃ) ..... আবূ মূসা আশ'আরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সন্ধানে বের হয়ে দেখলাম তিনি বাগিচার দিকে গিয়েছেন। আমি একটি বাগিচায় গিয়ে দেখি তিনি কুয়ার চাকের উপর পা দু’টো বুলিয়ে বসে আছেন, তার পা দু’টো হাঁটু পর্যন্ত উন্মুক্ত। অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্বোল্লিখিত হাদীসের অবিকল রিওয়ায়াত করলেন। এখানে সাঈদ (রহঃ) এর কথা "আমি বিশ্লেষণ করলাম যে, তাদের কবরও এভাবেই" কথাটি উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯৯৭, ইসলামিক সেন্টার)
হাসান ইবনু আলী আল-হুলওয়ানী ও আবূ বাকর ইবনু ইসহাক (রহঃ) ..... আবূ মূসা আশ'আরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কোন প্রয়োজনে মাদীনায় এক বাগিচায় গেলেন। আমি তার পদাঙ্ক অনুসরণ করলাম। তারপর সুলাইমান ইবনু বিলাল এর হাদীসের অবিকলভাবে তিনি (রাবী) এ হাদীস রিওয়ায়াত করেন। এ হাদীসে এও বর্ণনা রয়েছে যে, ইবনু মুসাইয়্যিব (রাযিঃ) বলেন, আমি এর বিশ্লেষণ করলাম যে, তা হচ্ছে তাদের কবরের নিদর্শন। সকলে একত্রে আর পৃথকভাবে আছেন উসমান (রাযিঃ)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯৯৮, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামীমী, আবূ জাফার মুহাম্মাদ ইবনু সাব্বাহ, উবাইদুল্লাহ কাওয়ারীরী ও সুরায়জ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আলী (রাযিঃ) কে বলেছেনঃ তুমি আমার কাছে তেমন যেমন মূসা (আঃ) এর কাছে হারূন। তবে আমার পর আর কোন নবী আসবেন না। সাঈদ (রহঃ) বলেন, আমি মনে করলাম যে, হাদীসটি প্রত্যক্ষভাবে সা'দ (রাযিঃ) হতে শ্রবণ করি। অতএব আমি সা'দের সঙ্গে একত্রিত হলাম এবং আমির আমাকে যা বলেছে আমি তাকে তা বললাম। তিনি বললেন, আমি এ কথা শুনেছি। আমি বললাম, আপনি কি এ কথা শুনেছেন? তিনি দু’কানে দু’টো আঙ্গুল ঢুকিয়ে বললেন, হ্যাঁ শুনেছি, না শুনে থাকলে এ কান দু'টো বধির হয়ে যাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯৯৯, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) .... সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, তাবুকের যুদ্ধের সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আলী (রাযিঃ) কে মদীনায় তার প্রতিনিধি বানিয়ে রেখে গেলেন। আলী (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে মহিলা ও শিশুদের নিকট রেখে যাচ্ছেন? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি এতে খুশী হবে না যে, তোমার মর্যাদা আমার কাছে মূসা (আঃ) এর কাছে হারূন (আঃ) এর মতো। এ কথা ভিন্ন যে, আমার পর আর কোন নবী আসবেন না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬০০০, ইসলামিক সেন্টার, নেই)