কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মদ ইবনু আব্বাদ (রহঃ) .... সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, মু'আবিয়াহ ইবনু আবূ সুফইয়ান (রাযিঃ) সা'দ (রাযিঃ) কে আমির (প্রতিনিধি) নিযুক্ত করলেন এবং বললেন, আপনি আলী (রাযিঃ) কে কেন মন্দ বলেন না? সা'দ বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্বন্ধে যে তিনটি কথা বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তা আমি মনে রাখবো ততক্ষণ পর্যন্ত কখনও তাকে খারাপ বলব না। সেসব কথার মধ্য হতে একটিও যদি আমি লাভ করতে পারতাম তাহলে তা আমার জন্য লাল উটের চেয়েও অধিক কল্যাণকর হত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে 'আলী (রাযিঃ) এর উদ্দেশে বলতে শুনেছি- আলী (রাযিঃ) কে কোন যুদ্ধের সময় প্রতিনিধি বানিয়ে রেখে গেলে তিনি বললেন, মহিলা ও শিশুদের মধ্যে আমাকে রেখে যাচ্ছেন, হে আল্লাহর রসূল? তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি এতে আনন্দবোধ করো না যে, আমার নিকট তোমার সম্মান মূসা (আঃ) এর নিকট হারূন (আঃ) এর মতো। এ কথা ভিন্ন যে, আমার পর আর কোন নবী নেই। খাইবারের যুদ্ধের দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমি বলতে শুনেছি, আমি এমন এক লোককে পতাকা (ইসলামের ঝাণ্ডা) দেব যে আল্লাহ ও তার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ভালবাসে এবং আল্লাহ ও তার রসূলও তাকে ভালবাসেন। এ কথা শুনে আমরা (অধির আগ্রহে) অপেক্ষা করতে থাকলাম। তখন তিনি বললেন, ‘আলীকে ডাকো। আলী আসলেন, তার চোখ (অসুখ হয়েছিল) উঠেছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চোখে থুথু লাগিয়ে দিলেন এবং তার হাতে পতাকা সপে দিলেন। অবশেষে আল্লাহ তার হাতেই বিজয়মালা (পতাকা) তুলে দিলেন। আর যখন আয়াতঃ চলো আমরা আমাদের এবং তোমাদের সন্তান-সন্ততিকে ডাকি”— (সূরাহ আ-লি ইমরান ৩ঃ ৬১) অবতীর্ণ হলো, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী, ফাতিমাহ, হাসান ও হুসায়ন (রাযিঃ) কে ডাকলেন। তারপর বললেন, হে আল্লাহ! এরাই আমার পরিবার-পরিজন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬০০২, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... সা'দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আলী (রাযিঃ)-কে বললেনঃ তুমি কি এতে খুশী নও যে, তোমার সম্মান আমার নিকট মূসা (আঃ) এর নিকট হারূন এর ন্যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬০০৩, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবারের দিন বললেন। নিশ্চয়ই আমি ঐ লোকের হাতে পতাকা তুলে দিবো, যে লোক আল্লাহ ও তার রসূলকে ভালবাসে। তার হাতেই আল্লাহ তা'আলা বিজয় দেবেন। উমর (রাযিঃ) বলেন, শুধু ঐ দিনটি ব্যতীত আমি কখনো নেতৃত্ব লাভের আশা করিনি। এ প্রত্যাশা নিয়ে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গেলাম, হয়ত এ কাজের জন্য আমাকে ডাকা হতে পারে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী ইবনু আবূ তালিবকে ডেকে তার হাতে পতাকা দিলেন এবং বললেনঃ অগ্রসর হও, এদিক-ওদিক দৃষ্টি দিও না যতক্ষণ আল্লাহ তোমাকে বিজয় দেন। অতঃপর ‘আলী (রাযিঃ) সামান্য অগ্রসর হয়ে থামলেন, এদিক-সেদিক দেখেননি। এরপর চিৎকার করে বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! কোন কথার উপর আমি লোকদের বিরুদ্ধে লড়াই করব। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাও যে পর্যন্ত না তারা সাক্ষ্য প্রদান করে যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃতপক্ষে আর কোন ইলাহ নেই, আর নিঃসন্দেহে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রসূল। যখনই তারা এ সাক্ষ্য প্রদান করবে তখনই তারা তাদের প্রাণ ও ধন-মাল তোমার হাত হতে মুক্ত করে ফেলবে। তবে কোন প্রাপ্য অধিকারের প্রশ্নে মুক্ত হবে না। আর তাদের হিসাব আল্লাহর নিকট। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬০০৪, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... সাহল ইবনু সা'দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবারের যুদ্ধের দিন বলেছেনঃ অবশ্যই আমি এমন এক লোকের হাতে পতাকা তুলে দিব যার হাতে আল্লাহ তা'আলা বিজয় প্রদান করবেন। সে লোক আল্লাহ ও তার রসূলকে ভালবাসে আর আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রসূলও তাকে ভালবাসেন। লোকেরা রাতভর এ কথোপকথনই করতে থাকল যে, কাকে এ পতাকা তুলে দেয়া হবে। প্রত্যুষে সবাই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলো। প্রত্যেকের এটাই প্রত্যাশা যে, তাকেই হয়ত দেয়া হবে এ পতাকা। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আলী ইবনু আবূ তালিব কোথায়? লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রসূল! তার চোখে অসুখ। তারপর তিনি তাকে ডেকে পাঠালেন, তাকে নিয়ে আসা হলো, তার চোখে থুথু লাগালেন এবং দুআ করলেন তার জন্য। তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেলেন এমনভাবে যেন তার চোখে কোন রোগই ছিল না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পতাকা তুলে দিলেন। আলী (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি কি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব যতক্ষণ না তারা আমাদের মতো হয়ে যায়। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তোমার পথে চলে যাও এবং ওদের মাঠে অবতীর্ণ হয়ে তাদেরকে ইসলামের দিকে আহবান কর। আর তাদের উপর বর্তিত আল্লাহর হাকগুলোর ব্যাপারে সংবাদ দিয়ে দাও। কারণ, আল্লাহর কসম! তোমার মাধ্যমে যদি আল্লাহ একটা মানুষকেও হিদায়াত করেন তবে তা তোমার জন্য লাল উট থেকেও উত্তম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬০০৫, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 6224 — Sahih Muslim 44:54
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَاتِمٌ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْمَاعِيلَ - عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي، عُبَيْدٍ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، قَالَ كَانَ عَلِيٌّ قَدْ تَخَلَّفَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي خَيْبَرَ وَكَانَ رَمِدًا فَقَالَ أَنَا أَتَخَلَّفُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَخَرَجَ عَلِيٌّ فَلَحِقَ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا كَانَ مَسَاءُ اللَّيْلَةِ الَّتِي فَتَحَهَا اللَّهُ فِي صَبَاحِهَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لأُعْطِيَنَّ الرَّايَةَ - أَوْ لَيَأْخُذَنَّ بِالرَّايَةِ - غَدًا رَجُلٌ يُحِبُّهُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَوْ قَالَ يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يَفْتَحُ اللَّهُ عَلَيْهِ " . فَإِذَا نَحْنُ بِعَلِيٍّ وَمَا نَرْجُوهُ فَقَالُوا هَذَا عَلِيٌّ . فَأَعْطَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الرَّايَةَ فَفَتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِ .
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... সালামা ইবনু আকওয়া (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, খাইবারের দিন আলী (রাযিঃ) পিছনে রয়ে গেলেন। তার চোখ উঠেছিল। তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে রেখে পিছনে পড়ে থাকব? তিনি বের হলেন এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মিলিত হলেন। বিজয় প্রভাতের আগের দিন বিকালে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আগামীকাল এমন এক ব্যক্তির হাতে পতাকা তুলে দিব কিংবা পতাকা এমন এক লোক গ্রহণ করবে, যাকে আল্লাহ ও তার রসূল ভালবাসেন, কিংবা যিনি আল্লাহ ও তার রসূলকে ভালবাসেন। আল্লাহ তার হস্তেই বিজয় দেবেন। অকস্মাৎ আমরা আলী (রাযিঃ) কে লক্ষ্য করলাম। আমরা তাকে প্রত্যাশা করিনি। মানুষেরা বলল, ইনি তো আলী। আর একেই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পতাকা দিলেন এবং তার হাতেই আল্লাহ বিজয় প্রদান করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬০০৬, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব ও শুজা ইবনু মাখলাদ (রহঃ) ...... ইয়াযীদ ইবনু হাইয়্যান (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি, হুসায়ন ইবনু সাবরাহ এবং উমার ইবনু মুসলিম- আমরা যায়দ ইবনু আরকাম (রাযিঃ) এর কাছে গেলাম। যখন আমরা তার নিকট বসি তখন হুসায়ন (রাযিঃ) তাকে বললেন, হে যায়দ আপনি তো অনেক কল্যাণ লক্ষ্য করেছেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছেন, তার হাদীস শ্রবণ করেছেন, তার সাথে থেকে যুদ্ধ করেছেন এবং তার পেছনে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করেছেন। আপনি অনেক কল্যাণ অর্জন করেছেন, হে যায়দ। আপনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে যা শ্রবণ করেছেন তা আমাদের বলুন। যায়দ (রাযিঃ) বললেন, ভাতুস্পুত্র আমার বয়স বেড়েছে, আমি পুরনো যুগের মানুষ। অতএব রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হতে যা আমি সংরক্ষণ করেছিলাম এর কিয়দংশ ভুলে গেছি। তাই আমি যা বলি তা গ্রহণ করো আর আমি যা না বলি সে সম্বন্ধে আমাকে কষ্ট দিও না। এরপর তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন মাক্কাহ ও মাদীনার মাঝামাঝি খুম্ম’ নামক স্থানে দাঁড়িয়ে আমাদের সামনে বক্তৃতা দিলেন। আল্লাহর প্রশংসা ও সানা বর্ণনা শেষে ওয়ায-নাসীহাত করলেন। অতঃরপর বললেন, হুঁশিয়ার, হে লোক সকল! আমি একজন মানুষ, অতি সত্বরই আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত ফেরেশতা আসবে, আর আমিও তার আহানে সাড়া দিব। আমি তোমাদের নিকট ভারী দুটাে জিনিস রেখে যাচ্ছি। এর প্রথমটি হলো আল্লাহর কিতাব। এতে হিদায়াত এবং আলোকবর্তিকা আছে। অতএব তোমরা আল্লাহর কিতাবকে অনুসরণ করো, একে শক্ত করে আঁকড়ে রাখো। তারপর তিনি কুরআনের প্রতি উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিলেন। এরপর বলেন, আর দ্বিতীয়টি হলো আমার আহলে বায়ত। আর আমি আহলে বায়তের বিষয়ে তোমাদের আল্লাহর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছি। আহলে বায়তের ব্যাপারে তোমাদের আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, আহলে বায়তের বিষয়ে তোমাদের আল্লাহর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছি। হুসায়ন (রাযিঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আহলে বায়ত কারা, হে যায়দ? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিবিগণ কি আহলে বায়তের অধিভুক্ত নন? যায়দ (রাযিঃ) বললেন, বিবিগণও আহলে বায়তের অন্তর্ভুক্ত; কিন্তু আহলে বায়ত তারাই তার (মৃত্যুর) পর যাদের উপর যাকাত নেয়া নিষিদ্ধ। হুসায়ন (রাযিঃ) বললেন, এসব লোক কারা? যায়দ (রাযিঃ) বললেন, এরা আলী, আকীল, জাফার ও আব্বাস (রায়িঃ) এর পরিবার-পরিজনেরা। হুসায়ন (রাযিঃ) বললেন, এদের সবার জন্য যাকাত গ্রহণ নাজায়িয? যায়দ (রাযিঃ) বললেন, হ্যাঁ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬০০৭, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 6226 — Sahih Muslim 44:56
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكَّارِ بْنِ الرَّيَّانِ، حَدَّثَنَا حَسَّانُ، - يَعْنِي ابْنَ إِبْرَاهِيمَ - عَنْ سَعِيدِ بْنِ مَسْرُوقٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ حَيَّانَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِنَحْوِهِ بِمَعْنَى حَدِيثِ زُهَيْرٍ .
(…/...) মুহাম্মাদ ইবনু বাক্কার ইবনু রাইয়্যান (রহঃ) ...... যায়দ ইবনু আরকাম (রাযিঃ) এর সনাদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬০০৮, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রাযিঃ) ..... ইবনু হাইয়্যান (রহঃ) হতে এ সূত্রেই ইসমাঈলের হাদীসের হুবহু রিওয়ায়াত করেন। জারীরের হাদীসে বর্ধিত বর্ণনা রয়েছে, “আল্লাহর কিতাব, তাতে আছে হিদায়াত ও আলো, যে এটাকে আঁকড়ে রাখবে হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে আর যে এটা ছেড়ে দেবে সে পথ হারিয়ে ফেলবে (পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে)।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬০০৯, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু বাক্কার ইবনু রাইয়্যান (রহঃ) ..... যায়দ ইবনু আরকাম (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা তার নিকট গিয়ে বললাম, আপনি তো অনেক কল্যাণ লক্ষ্য করেছেন, আপনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পাশে ছিলেন, তার পেছনে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করেছেন। তারপর আবূ হাইয়্যানের হাদীসের অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। কিন্তু এ হাদীসে আছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাবধান! আমি তোমাদের মাঝে দু’টো ভারী জিনিস ছেড়ে যাচ্ছি। তন্মধ্য থেকে একটি আল্লাহর কিতাব এটি আল্লাহর রশি, যে এর অনুসরণ করবে হিদায়াতের উপর থাকবে আর যে একে ছেড়ে দেবে সে পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হবে। এ বর্ণনায় আরো আছে যে, আমরা বললাম, রসূলের আহলে বায়তের মাঝে কি তার বিবিরা সংযুক্ত রয়েছেন? যায়দ (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! স্ত্রীরা একটা সময় পুরুষদের সাথে থাকে, তারপর তাকে স্বামী তালাক দিলে সে তার পিতা এবং গোষ্ঠীর নিকট ফিরে যায়। আহলে বায়ত হলো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মূল বংশ এবং তার স্বগোত্রীয়রা, যাদের জন্য নবীর ইন্তিকালের পর যাকাত গ্রহণ নিষিদ্ধ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬০১০, ইসলামিক সেন্টার)