সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... যায়দ ইবনু আসলাম (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ান উম্মু দারদাহ (রাযিঃ) এর নিকট তার নিজের পক্ষ থেকে সৌন্দর্য বর্ধক কিছু গৃহ সামগ্ৰী পাঠালেন। এক রাতে আবদুল মালিক নিদ্রা থেকে জেগে তার খাদিমকে ডাকলেন। সে তার নিকট আসতে দেরী করলে তিনি তাকে অভিসম্পাত করলেন। রাত্রি শেষে উম্মু দারদাহ (রাযিঃ) তাকে বললেন, আমি শুনলাম যখন আপনি রাতে আপনার খাদিমকে ডেকেছিলেন তখন তাকে লা’নাত করেছেন। অতঃপর তিনি বললেন, আমি আবু দারদাহ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অভিসম্পাতকারীরা কিয়ামত দিবসে সুপারিশকারী কিংবা সাক্ষ্যদাতা হতে পারবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩৭৩, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আবূ দারদাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, অভিসম্পাতকারীরা কিয়ামত দিবসে সাক্ষী ও সুপারিশকারী হতে পারবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩৭৫, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা দু’জন লোক রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে আসলো। তারা তার সঙ্গে কোন বিষয়ে আলোচনা করল। তা কী ছিল, আমি জানি না। অতঃপর তারা তাকে রাগাম্বিত করেছিল। তিনি তাদের উভয়কে অভিসম্পাত করলেন এবং তিরস্কার করলেন। যখন তারা বের হয়ে গেল আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! যারা (আপনার কাছ থেকে) কল্যাণ লাভ করে। এরা দু’জনে তার কিছুই পাবে না। তিনি বললেন, সে কী ব্যাপার! তিনি [‘আয়িশাহ্ (রাযিঃ)] বললেন, আপনি তো তাদের উভয়কে অভিসম্পাত করেছেন এবং ধিক্কার দিয়েছেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি জান আমার প্রতিপালকের সাথে এ বিষয়ে আমি কী শর্তারোপ করেছি? আমি বলেছিলাম, "হে আল্লাহ! আমি একজন মানুষ। আমি কোন মুসলিমকে লা’নাত করলে কিংবা তিরস্কার করলে তা তুমি তার জন্য পবিত্রতা ও পুরস্কার বানিয়ে দিও।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩৭৭, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবু কুরায়ব, আলী ইবনু হুজর আস্ সাদী, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও ‘আলী ইবনু খাশরাম (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) থেকে এ সানাদে জারীর সূত্রে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি ঈসা (রহঃ) বর্ণিত হাদীসে বলেন, এরপর তারা তাঁর সঙ্গে একান্তে মিলিত হলেন, তখন তিনি তাদের উভয়কে তিরস্কার করলেন এবং তাদেরকে লা’নাত দিয়ে বের করে দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩৭৮, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ "হে আল্লাহ! আমি তো একজন মানুষ। সুতরাং আমি কোন মুসলিমকে গাল-মন্দ করলে কিংবা তাকে অভিশাপ করলে অথবা আঘাত করলে তখন তুমি তার জন্য তা পবিত্রতা ও রহমত অর্জনের উপায় বানিয়ে দিও।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩৭৯, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 6617 — Sahih Muslim 45:115
وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ إِلاَّ أَنَّ فِيهِ " زَكَاةً وَأَجْرًا " .
(…/২৬০২) ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তার হাদীসেرَحْمَة (করুণা)-এর স্থলে أَجْرًا (সাওয়াব) উল্লেখিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩৮০, ইসলামিক সেন্টার)
আবু বকর ইবনু আবু শাইবাহ, আবূ কুরায়ব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) থেকে আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে ঈসা (রহঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে اجعل (বানিয়ে দাও) উল্লেখ আছে। আর আবু হুরাইরাহ-এর হাদীসে اجرا (পুরস্কার) কথাটির উল্লেখ রয়েছে এবং জাবির (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসে وَجَعَلَ وَرَحْمَةً (বানিয়ে দাও রহমত) কথাটির উল্লেখ আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩৮১, ইসলামিক সেন্টার ৬৪৩১ [ক)
কুতাইবাহ্ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট থেকে যে বিষয়ে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছি, তুমি কখনো তার বিপরীত করো না। আমি তো একজন মানুষ মাত্র। সুতরাং আমি কোন মু’মিন ব্যক্তিকে কষ্ট দিলে, গাল-মন্দ করলে, অভিসম্পাত করলে, তাকে কোড়া লাগালে তা তার জন্য রহমত, পবিত্রতা ও নৈকট্যের কারণ বানিয়ে দাও, যার দ্বারা সে কিয়ামত দিবসে তোমার নৈকট্য লাভ করতে পারে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩৮২, ইসলামিক সেন্টার)