(…/...) ইবনু আবূ উমর (রহঃ) .... আবূ যিনাদ (রহঃ) এ সানাদে তার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। পার্থক্য এতটুকু যে, তিনি বলেছেন أَوْ جَلَدُّهُ (কিংবা আমি দোররা মেরেছি) আবু যিনাদ (রহঃ) বলেন, এ শব্দটি আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) এর পরিভাষা মাত্র। আসলে এর অর্থ جَلَدْتُهُ (অর্থাৎ- আমি তাকে শাস্তি দিয়েছি)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩৮৩, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 6621 — Sahih Muslim 45:119
حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ مَعْبَدٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِهِ .
সুলাইমান ইবনু মা’বাদ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ রকমই বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩৮৪, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... নাসরিয়্যিন এর আযাদকৃত গোলাম সালিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আমি আবু হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ তো একজন মানুষ। তিনি রাগাম্বিত হন যেভাবে একজন মানুষ রাগাম্বিত হয়। আর আমি আপনার কাছ থেকে যে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছি আপনি কখনো তার উল্টো করবেন না। অতএব কোন মু’মিনকে আমি দুঃখ দিলে কিংবা তাকে তিরস্কার করলে অথবা তাকে কোড়া লাগালে তা আপনি তার জন্য কাফফারাহ ও নৈকট্য লাভের সোপান বানিয়ে দিন; যার দ্বারা কিয়ামত দিবসে সে আপনার নৈকট্য অর্জন করতে পারে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩৮৫, ইসলামিক সেন্টার)
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন যে, "হে আল্লাহ! আমি কোন ঈমানদার বান্দাকে মন্দ কথা বললে তুমি তা তার জন্য কিয়ামত দিবসে তোমার সান্নিধ্য লাভের ওয়াসীলা বানিয়ে দিও।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩৮৬, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট থেকে যে বিষয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছি, আপনি কখনো তার বিপরীত করবেন না। কাজেই আমি কোন মুমিন ব্যক্তিকে কষ্ট দিলে কিংবা গালি বা শাস্তি বিধান কায়িম করলে আপনি তার জন্য তা কিয়ামত দিবসে কাফফারাহ বানিয়ে দিন।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩৮৭, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব ও আবু মা'ন আর রাক্কাশী (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস (রাযিঃ) এর মা উন্মু সুলায়ম এর নিকট এক ইয়াতীম মেয়ে ছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখে বললেন, এ তুমি সে মেয়ে? তুমি তো অনেক বড় হয়েছ; কিন্তু তুমি দীর্ঘায়ু হবে না। তখন ইয়াতীম মেয়েটি উম্মু সুলায়মের নিকট এসে কাঁদতে লাগল। তখন উম্মু সুলায়ম (রাযিঃ) বললেন, তোমার কী হয়েছে? হে আমার স্নেহের মেয়ে! মেয়েটি বলল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বদদু’আ করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি দীর্ঘায়ু হব না। সুতরাং এখন থেকে আমি বয়সে আর বড় হব না। অথবা সে سِنِّي এর স্থলে قَرْنِي (আমার সমবয়সী) বলেছিল। এ কথা শুনে উম্মু সুলায়ম (রাযিঃ) তাড়াতাড়ি গায়ে চাদর দিয়ে বেরিয়ে পড়েন এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে দেখা করেন। তখন তাঁর উদ্দেশে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কী ব্যাপার, হে উম্মু সুলায়ম! তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! আপনি কি আমার ইয়াতীম মেয়েটিকে বদদু’আ করেছেন? তিনি বললেন, হে উম্মু সুলায়ম! এটা কেমন কথা! বদদু’আ করব কেন? উম্মু সুলায়ম বললেন, সে তো মনে করেছে যে, আপনি তাকে বদদু’আ করেছেন যেন তার বয়স না বাড়ে কিংবা তার সমবয়সীর বয়স বৃদ্ধি না পায়। রাবী বলেন, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হেসে বললেন, হে উম্মু সুলায়ম! তুমি বোধহয় জান না যে, আমার রবের সাথে এ মর্মে আমি শর্ত করেছি এবং আমি বলেছি যে, আমি একজন মানুষ মাত্র। মানুষ যাতে সন্তুষ্ট থাকে আমিও তাতে সন্তুষ্ট হই। আমিও রাগাম্বিত হই যেভাবে মানুষ রাগাম্বিত হয়ে থাকে। সুতরাং আমি আমার উম্মাতের কোন লোকের বিরুদ্ধে বদদু’আ করলে সে যদি তার যোগ্য না হয় তাহলে তা তার জন্য পবিত্রতা, আত্মশুদ্ধি ও নৈকট্যের সোপান বানিয়ে দাও, যার দ্বারা কিয়ামতের দিনে সে তোমার নৈকট্য অর্জন করতে পারে। আবু মা'ন (রহঃ) উল্লেখিত এক হাদীসে তিন জায়গায় يَتِيمَةٌ এর স্থলে يُتَيِّمَةٌ শব্দ বর্ণনা করেছেন, যার অর্থ ছোট ইয়াতীম মেয়ে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩৮৯, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না আল আনাযী ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... ‘আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন একদিন আমি বালকদের সাথে খেলায় লিপ্ত ছিলাম। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে আসলেন। তখন আমি একটি দরজার পিছনে লুকিয়ে থাকলাম। তিনি বলেন, তিনি আমাকে তার হাতে (আদর করে) চড় দিলেন এবং বললেন, যাও, মু’আবিয়াকে আমার কাছে ডেকে নিয়ে আসো। তিনি বলেন, তখন আমি তার নিকট গেলাম এবং আমি তাকে বললাম, তিনি খাচ্ছিলেন। (আমি ফিরে আসলাম) তিনি বলেন, তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, যাও, মু’আবিয়াকে আমার নিকট ডেকে নিয়ে আসো। তিনি বলেন, তখন আমি তার নিকট গেলাম এবং (ফিরে এসে) বললাম, তিনি খাচ্ছেন। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ যেন তার পেটভর্তি না করেন। ইবনুল মুসন্না (রহঃ) বলেন, আমি উমাইয়াকে বললাম, مَا حَطَأَنِي 'আমাকে চড় মেরেছেন' এর অর্থ কি? তিনি বললেন, قَفَدَنِي قَفْدَةً অর্থাৎ- তিনি আমাকে আদর করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩৯০, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 6629 — Sahih Muslim 45:126
حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنَا أَبُو حَمْزَةَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ كُنْتُ أَلْعَبُ مَعَ الصِّبْيَانِ فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاخْتَبَأْتُ مِنْهُ . فَذَكَرَ بِمِثْلِهِ .
ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... আবু হামযাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি কিছু ছেলের সাথে খেলায় লিপ্ত ছিলাম। অকস্মাৎ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তথায় আসলেন আমি তাথেকে লুকিয়ে থাকলাম। ..... তারপর তিনি তার হুবহু হাদীস উল্লেখ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩৯১, ইসলামিক সেন্টার)