আবূ গাসসান আল মিসমাঈ, মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ প্রত্যেক নবীর কাছে তার উম্মতের ক্ষেত্রে প্রয়োগের জন্য একটি দু'আর অনুমতি আছে। প্রত্যেকে আপন উম্মতের কল্যাণের জন্য তা করেছেন। আর আমি আমার দু'আটি কিয়ামত দিবসে আমার উম্মতের শাফা'আতের জন্য অবশিষ্ট রেখে দিয়েছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ কুরায়ব, ইবরাহীম ইবনু সাঈদ আল জওহারী ও মিসআর (রহঃ) এ সূত্রে কাতাদাহ (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে ওয়াকী'র বর্ণনায় আছে আনসার (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে ওয়াকী’র বর্ণনায় আছে, আনাস (রাযিঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক নবীকে একটি করে দু'আ প্রদান করা হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হাদিস 497 — Sahih Muslim 1:403
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ .
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল আ'লা (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে কাতাদাহ এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ ইবনু আবূ খালাফ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, প্রত্যেক নবীকে একটি গ্রহণীয় বিশেষ দু'আর অনুমতি দেয়া হয়েছে। সবাই তাদের দু'আ আপন উম্মতের কল্যাণের জন্য করে ফেলেছেন, তবে আমি আমার দু'আটি কিয়ামত দিবসে আমার উম্মতের শাফাআতের জন্য গোপনে অবশিষ্ট রেখে দিয়েছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইউনুস ইবনু আবদুল আ'লা আস্ সাদাফী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনে ইবরাহীম (আঃ) এর দু'আ সম্বলিত আয়াতঃ "হে আমার প্রতিপালক। এ সকল প্রতিমা বহু মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। সুতরাং যে আমার অনুসরণ করবে সে আমার দলভুক্ত। আর যে আমার অবাধ্য হবে তুমি তো ক্ষমাশীল পরম দয়ালু"— (সূরাহ ইবরাহীম ১৪ঃ ৩৬) তিলাওয়াত করেন। আর "ঈসা (আঃ) বলেছেনঃ “তুমি যদি তাদেরকে শাস্তি দাও তবে তারা তো তোমারই বান্দা, আর যদি তাদেরকে ক্ষমা কর, তবে তুমি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়"- (সূরাহ আল মায়িদাহ ৫ঃ ১১৮)। তারপর তিনি তার উভয় হাত উঠালেন এবং বললেন, হে আল্লাহ! আমার উম্মত, আমার উম্মত! আর কেঁদে ফেললেন। তখন মহান আল্লাহ বললেন, হে জিবরীল! মুহাম্মাদের নিকট যাও, তোমার রব তো সবই জানেন তাকে জিজ্ঞেস কর, তিনি কাঁদছেন কেন? জিবরীল (আঃ) এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছিলেন, তা তাকে অবহিত করলেন। আর আল্লাহ তো সর্বজ্ঞ। তখন আল্লাহ তা'আলা বললেন, হে জিবরীল! তুমি মুহাম্মাদ এর কাছে যাও এবং তাকে বল, “নিশ্চয়ই আমি (আল্লাহ) আপনার উম্মতের ব্যাপারে আপনাকে সন্তুষ্ট করে দিব, আপনাকে অসন্তুষ্ট করব না"। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা কোথায় আছেন (জান্নাতে না জাহান্নামে)? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, জাহান্নামে। বর্ণনাকারী বলেন, লোকটি যখন চলে যেতে লাগল, তিনি ডাকলেন এবং বললেন, আমার পিতা এবং তোমার পিতা জাহান্নামে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়: “তোমার নিকটাত্মীয়বর্গকে সতর্ক করে দাও" (সূরাহ আশ শু'আরা ২৬ - ২১৪)। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরায়শদের ডাকলেন। তারা একত্রিত হলো। তারপর তিনি তাদের সাধারণ ও বিশেষ সকলকে সম্বোধন করে বললেন, হে কাব ইবনু লুওয়াই-এর বংশধর। জাহান্নাম থেকে তাদের আত্মরক্ষা কর। ওহে মুররাহ ইবনু কাব এর বংশধর। জাহান্নাম থেকে তোমরা আত্মরক্ষা কর। ওহে আবদ শামস এর বংশধর! জাহান্নাম থেকে তোমরা আত্মরক্ষা কর। ওহে আবদ মানাফ এর বংশধর! জাহান্নাম থেকে তোমরা নিজেদের বাঁচাও। ওহে হাশিমের বংশধর। জাহান্নাম থেকে তোমরা আত্মরক্ষা কর। ওহে আবদুল মুত্তালিব এর বংশধর! জাহান্নাম থেকে তোমরা নিজেদের বাঁচাও। ওহে ফাতিমা! জাহান্নাম থেকে তুমি নিজেকে বাঁচাও। কারণ, আল্লাহর (আযাব) থেকে রক্ষা করার ব্যাপারে আমার কোন ক্ষমতা নেই। অবশ্য আমি তোমাদের সঙ্গে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করব। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার আল কাওয়ারীরী (রহঃ) ..... 'আবদুল মালিক ইবনু উমার (রহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন; তবে জারীর বর্ণিত হাদীসটি সম্পূর্ণ ও পরিপূর্ণ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ মর্মে আয়াত নাযিল হয়ঃ "তোমার নিকটাত্মীয়বর্গকে সতর্ক করে দাও”— (সূরাহ আশ শুআরা ২৬ঃ ২১৪)। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফা পর্বতের উপর দাঁড়িয়ে বললেন, হে ফাতিমা বিনতু মুহাম্মাদ! হে সাফিয়্যাহ বিনতু আবদুল মুত্তালিব! হে আবদুল মুক্তালিবের বংশধর। আল্লাহর আযাব থেকে তোমাদেরকে রক্ষা করার আমার কোন ক্ষমতা নেই। তোমরা আমার কাছে আমার সম্পদের যা খুশি চাও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)