হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ মর্মে আয়াত অবতীর্ণ হল (অর্থ) “তোমার নিকটাত্মীয়বর্গকে সতর্ক করে দাও"- (সূরাহ আশ শুআরা ২৬ঃ ২১৪)। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে কুরায়শগণ। আল্লাহর (আযাব) থেকে তোমরা নিজেদের কিনে নাও (বাঁচাও)। আল্লাহর (আযাব) থেকে তোমাদের রক্ষা করার কোন ক্ষমতা আমার নেই। ওহে আবদুল মুত্তালিব এর বংশধর! তোমাদের আমি রক্ষা করতে পারব না। হে আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব! তোমাকেও আমি রক্ষা করতে পারব না। হে সাফিয়্যাহ রাসূলুল্লাহর ফুপু আমি আল্লাহর (আযাব) থেকে তোমার কোন উপকার করতে পারবো না। হে রাসূলুল্লাহর কন্যা ফাতিমাহু! তোমার যা ইচ্ছা চাও। আল্লাহর (আযাব) থেকে আমি তোমাকে রক্ষা করতে পারবো না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হাদিস 505 — Sahih Muslim 1:411
وَحَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ ذَكْوَانَ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ هَذَا .
আমূর আন নাকিদ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ কামিল আল জাহদারী (রহঃ) ..... কাবীসাহ ইবনু মুখারিক ও যুহায়র ইবনু আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, যখন এ মর্মে আয়াত নাযিল হয়, "তোমার নিকট আত্মীয়বর্গকে সতর্ক করে দাও”— (সূরাহ আশ শুআরা ২৬ঃ ২১৪)। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্বতের বৃহদাকার পাথরের দিকে গেলেন এবং তার মধ্যে সবচেয়ে বৃহত্তর প্রস্তর খণ্ডে আরোহণ করলেন। এরপর তিনি আহ্বান জানালেন, ওহে আবদ মানাফ এর বংশধর! আমি (তোমাদের) সতর্ককারী। আমার ও তোমাদের উপমা হলো, এমন এক ব্যক্তির ন্যায়, যে শত্রুকে দেখতে পেয়ে তার লোকদের রক্ষা করার জন্য অগ্রসর হল, পরে সে আশঙ্কা করল যে, শত্রু তার আগেই এসে যাবে। তখন সে 'ইয়া সাবাহ' (হায় মন্দ প্রভাত) বলে চীৎকার শুরু করল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হাদিস 507 — Sahih Muslim 1:413
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، عَنْ أَبِيهِ، حَدَّثَنَا أَبُو عُثْمَانَ، عَنْ زُهَيْرِ بْنِ عَمْرٍو، وَقَبِيصَةَ بْنِ مُخَارِقٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِهِ .
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল আ'লা (রহঃ) ..... যুহায়র ইবনু আমর ও কাবীসাহ ইবনু মুখারিক (রাযিঃ) থেকে উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনু 'আলা (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ মর্মে আয়াত নাযিল হয়, "তোমার নিকট আত্মীয়বর্গকে সতর্ক করে দাও"- (সূরাহ আশ শু'আরা ২৬ঃ ২১৪) এবং তাদের মধ্য থেকে তোমার নিষ্ঠাবান সম্প্রদায়কেও*। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে এলেন এবং সাফা পর্বতে উঠে উচ্চস্বরে ডাক দিলেনঃ হায়, মন্দ প্রভাত! সকলে বলাবলি করতে লাগল, কে এ ব্যক্তি যে ডাক দিচ্ছে? লোকেরা বলল, মুহাম্মাদ। তারপর সবাই তার কাছে উপস্থিত হল। তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন হে অমুকের বংশধর। হে অমুকের বংশধর। হে আবদ মানাফ এর বংশধর। হে আবদুল মুত্তালিব এর বংশধর। এতে সবাই তার কাছে সমবেত হল। নবীজী জিজ্ঞেস করলেনঃ দেখ, যদি আমি তোমাদের এ সংবাদ দেই যে, এ পর্বতের পাদদেশে অশ্বারোহী শক্র সৈন্য এসে পড়েছে তবে কি তোমরা আমাকে বিশ্বাস করবে? তারা উত্তরে বললোঃ তোমাকে কখনো মিথ্যা বলতে তো আমরা দেখিনি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তোমাদের সতর্ক করছি সামনের কঠোর ‘আযাব সম্পর্কে। বর্ণনাকারী বলেন, আবূ লাহাব তখন এই বলে উঠে গেল “তুমি ধ্বংস হও, তুমি এজন্যই কি আমাদের একত্রিত করেছিলে?" তখন এ সূরাহ অবতীর্ণ হয়ঃ “ধ্বংস হোক আবূ লাহাবের দুই হাত এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও ..... সূরার শেষ পর্যন্ত।" (সূরাহ লাহাব ১১১ঃ ১-৫) অবশ্য রাবী আ'মাশ وَ تَبَّ এর পরিবর্তে وَقَدْ تَبَّ পাঠ করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার আল কাওয়ারীরী, মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বাকর আল মুকাদ্দামী ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল মালিক আল উমাবী (রহঃ) ..... আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি আবূ তালিবের কোন উপকার করতে পেরেছেন? তিনি তো আপনার হিফাযাত করতেন, আপনার পক্ষ হয়ে (অন্যের প্রতি) ক্রোধান্বিত হতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেনঃ হ্যাঁ, তিনি কেবল পায়ের গ্রন্থি পর্যন্ত জাহান্নামের আগুনে আছেন, আর যদি আমি না হতাম তবে জাহান্নামের অতল তলেই তিনি অবস্থান করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! নিশ্চয়ই আবূ তালিব তো আপনার হিফাযাত করতেন, আপনাকে সাহায্য করতেন এবং আপনার পক্ষ হয়ে (অন্যদের প্রতি) রাগ করতেন। তার এ কর্ম তার কি কোন উপকারে এসেছে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেনঃ হ্যাঁ। আমি তাকে জাহান্নামের গভীরে পেয়েছিলাম, অতঃপর আমি সেখান থেকে (তার পায়ের) গ্রন্থি পর্যন্ত বের করে আগুনের উপরিভাগে নিয়ে এসেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রাযিঃ) থেকে এবং আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... সুফইয়ান (রহঃ) থেকে ঐ সনদে পূর্ব বর্ণিত আবূ আওয়ানাহ এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তার চাচা আবূ তালিব এর কথা আলোচিত হলে তিনি বলেন, হয়তো কিয়ামত দিবসে তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কাজে আসবে বলে আশা করি। তাকে জাহান্নামের উপরিভাগে এমনভাবে রাখা হবে যে, আগুন তার পায়ের গিরা পর্যন্ত পৌছবে; এতেই তার মগজ উথলাতে থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)