হাদ্দাদ ইবনু খালিদ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কাবকে লক্ষ্য করে বললেনঃ মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ আমাকে তোমার সামনে কুরআন পড়ে শুনাতে আদেশ করেছেন। (এ কথা শুনে) উবাই ইবনু কা'ব বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন আল্লাহ তা'আলা কি আপনার কাছে আমার নাম উল্লেখ করেছেন? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- হ্যাঁ, আল্লাহ তা'আলা আমার কাছে তোমার নাম উল্লেখ করেছেন। বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক বলেন, এ কথা শুনে উবাই ইবনু কাব কাঁদতে শুরু করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৩৪, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কাবকে লক্ষ্য করে বললেনঃ মহান আল্লাহ তোমার সামনে আমাকে (সূরাহ) لَمْ يَكُنِ الَّذِينَ كَفَرُوا পড়ার জন্য আদেশ করেছেন। (এ কথা শুনে) উবাই ইবনু কাব বললেনঃ তিনি আপনার কাছে আমার নাম উল্লেখ করে বলেছেন? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ। তিনি (হাদীসের বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক) বলেন, এ কথা শুনে তিনি (উবাই ইবনু কাব) কেঁদে ফেললেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৩৫, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1866 — Sahih Muslim 6:294
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ الْحَارِثِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - يَعْنِي ابْنَ الْحَارِثِ - حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسًا، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأُبَىٍّ بِمِثْلِهِ .
ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব আল হারিসী (রহঃ) ..... কাতাদাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ) কে লক্ষ্য করে অনুরূপ বলেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৩৬, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শারবাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ তুমি আমাকে কুরআন পাঠ করে শোনাও। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনাকে কুরআন পাঠ করে শোনাব? কুরআন তো আপনার প্রতিই অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বললেনঃ অন্যের নিকট থেকে আমার কুরআন শুনতে ভাল লাগে। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেন- তাই এরপর আমি সূরাহ আন নিসা পাঠ করলাম। যখন আমি এ আয়াত فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاَءِ شَهِيدًا "হে নবী! একটু চিন্তা করুন তো সে সময় এরা কি করবে যখন আমি প্রত্যেক উম্মাতের মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী হাজির করব, আর এসব লোকের জন্য আপনাকে সাক্ষী হিসাবে হাজির করব"- (সূরাহ আন নিসা ৪ঃ ৪১) তিলাওয়াত করা হলে আমি মাথা উঠালাম অথবা কেউ আমার পার্শ্বদেশ স্পর্শ করে ইঙ্গিত দিলে আমি মাথা উঠালাম এবং দেখতে পেলাম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর (চোখ থেকে) অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৩৭, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1868 — Sahih Muslim 6:296
حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، وَمِنْجَابُ بْنُ الْحَارِثِ التَّمِيمِيُّ، جَمِيعًا عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُسْهِرٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . وَزَادَ هَنَّادٌ فِي رِوَايَتِهِ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ " اقْرَأْ عَلَىَّ " .
হান্নাদ ইবনুস সারী ও মিনহাজ ইবনুল হারিস আত তামীমী (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) থেকে এই একই সানাদে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে হান্নাদ তার বর্ণনায় এ কথা বৃদ্ধি করেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে দাঁড়ানো অবস্থায় একদিন আমাকে বললেনঃ আমাকে (কুরআন) পাঠ করে শোনাও। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৩৮, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... ইবরাহীম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ)-কে বললেনঃ তুমি আমাকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাও। তিনি (আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ) বললেন- আমি আপনাকে কুরআন পড়ে শোনাব? অথচ কুরআন তো আপনার প্রতিই অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বললেনঃ আমি অন্যের মুখ থেকে কুরআন পাঠ শুনতে ভালবাসি। হাদীস বর্ণনাকারী ইবরাহীম বলেনঃ অতঃপর তিনি (আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ) সূরাহ্ আন নিসার প্রথম থেকেفَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاَءِ شَهِيدًا "হে নবী! একটু ভেবে দেখুন তো সে সময় এরা কী করবে যখন আমি প্রত্যেক উন্মাতের মধ্যে থেকে একজন করে সাক্ষী হাজির করব, আর এসব লোকের জন্য আপনাকে সাক্ষী হিসাবে হাজির করব"— (সূরাহ আন নিসা ৪ঃ ৪১) এ আয়াত পর্যন্ত তাকে পড়ে শুনালেন। এতে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কেঁদে ফেললেন। বর্ণনাকারী মিস’আর বলেছেনঃ মা’ন আমার কাছে হাদীসটি জাফার ইবনু আমর ইবনু হুরায়স তার পিতা হুরায়স-এর মাধ্যমে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ থেকে এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, এ আয়াত পাঠের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি যতক্ষণ তাদের মধ্যে আছি ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের জন্য সাক্ষী। কিংবা বর্ণনাকারী মিস'আর-এর সন্দেহ যে, তিনি বলেছেন, "যতক্ষণ তাদের মাঝে ছিলাম।" (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৩৯, ইসলামীক সেন্টার)
উসমান ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (এক সময়ে) আমি হিমস এ ছিলাম। একদিন কিছু সংখ্যক লোক আমাকে বলল, আমাদেরকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনান। আমি তাদেরকে সূরাহ ইউসুফ পাঠ করে শুনলাম। এমন সময় সবার মধ্য থেকে জনৈক ব্যক্তি বলে উঠলঃ আল্লাহর শপথ। সূরাটি এরূপ অবতীর্ণ হয়নি। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেছেনঃ আমি তাকে বললাম- তোমার জন্য দুঃখ। আল্লাহর শপথ, এ সূরাটি আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে পড়ে শুনিয়েছিলাম। তিনি আমাকে বলেছিলেনঃ ‘খুব সুন্দর পড়েছ।' এভাবে তখনও আমি তার (লোকটির) সাথে কথা বলছিলাম। এ অবস্থায় আমি তার মুখ থেকে শরাবের গন্ধ পেলাম। আমি তাকে বললাম- তুমি শরাব পান কর আল্লাহর কিতাবকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে চাও? আমার হাতে কোড়া না খেয়ে তুমি এখানে যেতে পারবে না। অতঃপর আমি তাকে কোড়া মেড়ে শরাব পানের শাস্তি দিলাম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৪০, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, আলী ইবনু খশরাম, আবূ বকর ইবনু আবূ শয়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ... সকলেই আ'মাশ (রহঃ) হতে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে আবূ মু'আবিয়াহ বর্ণিত হাদীসে তিনি আমাকে বললেনঃ 'খুব সুন্দর হয়েছে' কথাটির উল্লেখ নেই। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৪১, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ কি চাও যে, যখন বাড়ী ফিরবে তখন বাড়ীতে গিয়ে তিনটি বড় বড় মোটাতাজা গর্ভবতী উটনী দেখতে পাবে? আমরা বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তোমরা কেউ সালাতে তিনটি আয়াত পড়লে তা তার জন্য তিনটি মোটাতাজা গর্ভবতী উটনীর চেয়ে উত্তম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৪২, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... উক্বাহ ইবনু আমির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন। তখন আমরা সুফফাহ বা মসজিদের চত্বরে অবস্থান করছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা কেউ চাও যে, প্রতিদিন "বুত্বহান" বা আকীকের বাজারে যাবে এবং সেখানে থেকে কোন পাপ বা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা ছাড়াই বড় কুঁজ বা চুঁটবিশিষ্ট দু'টি উটনী নিয়ে আসবে? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা এরূপ চাই। তিনি বললেনঃ তাহলে কি তোমরা কেউ মসজিদে গিয়ে আল্লাহর কিতাবের দু'টি আয়াত শিক্ষা দিবে না কিংবা পাঠ করবে না? এটা তার জন্য ঐরুপ দু'টি উটনীর চেয়েও উত্তম। এরূপ তিনটি আয়াত তিনটি উটনীর চেয়ে উত্তম এবং চারটি আয়াত চারটি উটনীর চেয়ে উত্তম। আর অনুরূপ সমসংখ্যক উটনীর চেয়ে তত সংখ্যক আয়াত উত্তম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৪৩, ইসলামীক সেন্টার)