ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব আল হারিসী এবং উবায়দুল্লাহ ইবনু মুআয (রহঃ) ..... শুবাহ (রহঃ) থেকে একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে খালিদ ইবনু হারিস বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেছেনঃ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার সওয়ারীতে বসে সূরাহ আল ফাতহ পড়তে পড়তে পথ অতিক্রম করছিলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭২৫, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... বারা ইবনু আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি সূরাহ আল কাহফ পড়ছিল। সে সময় তার কাছে মজবুত লম্বা দু'টি রশি দিয়ে একটি ঘোড়া বাঁধা ছিল। এ সময়ে একখণ্ড মেঘ তার মাথার উপরে এসে হাজির হ’ল। মেঘ খণ্ডটি ঘুরছিল এবং নিকটবর্তী হচ্ছিল। এ দেখে তার ঘোড়াটি ছুটে পালাচ্ছিল। সকাল বেলা সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে ঐ বিষয়টি বর্ণনা করল। এসব কথা শুনে তিনি বললেনঃ এটি ছিল (আল্লাহর তরফ থেকে) রহমত বা প্রশান্তি যা কুরআন পাঠের কারণে অবতীর্ণ হয়েছিল (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭২৬, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) [শব্দগুলো ইবনুল মুসান্না-এর] ..... আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বারা ইবনু আযিব (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, জনৈক ব্যক্তি সূরাহ আল কাহফ পড়ছিল। তখন লোকটি তাকিয়ে দেখতে পেল একখণ্ড মেঘ তাকে পরিবেষ্টন করে নিয়েছে। বারা ইবনু আযিব বর্ণনা করেছেন যে, লোকটি বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বললেন। তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ হে অমুক তুমি সূরাটি পড়তে থাক। কারণ এটি ছিল আল্লাহর রহমত বা প্রশান্তি যা কুরআন তিলাওয়াতের কারণে বা কুরআন তিলাওয়াতের জন্য অবতীর্ণ হয়েছিল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭২৭, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বারা ইবনু আযিবকে বলতে শুনেছি। এতটুকু বর্ণনা করার পর উভয়েই পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তারা تَنْقُزُ শব্দ উল্লেখ করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭২৮, ইসলামীক সেন্টার)
হাসান ইবনু আলী আল হুলওয়ানী ও হাজ্জাজ ইবনুশ শাইর (রহঃ) [তাদের শব্দগুলো প্রায় কাছাকাছি] ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একরাতে উসায়দ ইবনু হুযায়র তার ঘোড়ার আস্তাবলে কুরআন মাজীদ পাঠ করছিলেন। এমন সময় তার ঘোড়া লাফঝাপ দিতে শুরু করল। তিনি(কিছুক্ষণ পর)পুনরায় পাঠ করতে থাকলে ঘোড়াটিও পুনরায় লাফঝাপ দিতে শুরু করল।(কিছুক্ষণ পরে) তিনি আবার পাঠ করলেন এবারও ঘোড়াটি লাফ দিল। উসায়দ ইবনু হুযায়র বলেন- এতে আমি আশঙ্কা করলাম যে, ঘোড়াটি (শায়িত ছেলে) ইয়াহইয়াকে পদপিষ্ট করতে পারে। তাই আমি উঠে তার কাছে গেলাম। হঠাৎ আমার মাথার উপর সামিয়ানার মতো কিছু দেখতে পেলাম। তার ভিতরে অনেকগুলো প্রদীপের মতো জিনিস আলোকিত করে আছে। অতঃপর এগুলো উপরের দিকে শূন্যে উঠে গেল এবং আমি আর তা দেখতে পেলাম না। তিনি বলেছেনঃ পরদিন সকালে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! গতকাল রাতে আমি আমার ঘোড়ার আস্তাবলে কুরআন মজীদ পাঠ করছিলাম। এমতাবস্থায় আমার ঘোড়টি হঠাৎ লাফঝাপ দিতে শুরু করল। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে ইবনু হুযায়র! তুমি কুরআন পাঠ করতে থাকতে। ইবনু হুযায়র বলেন, আমি পুনরায় পাঠ করলাম। ঘোড়াটিও পুনরায় লাফঝাপ শুরু করে। আবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে ইবনু হুযায়র! তুমি পাঠ করতে থাকতে। আমি পাঠ করে সমাপ্ত করলাম। ইয়াহইয়া ঘোড়াটির পাশেই ছিল। তাই ঘোড়াটি তাকে পদদলিত করে ফেলতে পারে আমি আশঙ্কা করলাম (এবং এগিয়ে গেলাম)। তখন আমি মেঘপুঞ্জের মতো কিছু দেখতে পেলাম যার মধ্যে প্রদীপের মতো কোন জিনিস আলো দিচ্ছিল। এটি উপর দিকে উঠে গেল এমনকি তা আমার দৃষ্টির আড়াল হয়ে গেল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসব শুনে বললেন। ওসব ছিল মালায়িকাহ (ফেরেশতাগণ)। তারা তোমার কুরআন শ্রবণ করছিল; তুমি যদি পড়তে থাকতে তাহলে ভোর পর্যন্ত তারা থাকত। আর লোকজন তাদেরকে দেখতে পেত। তারা লোকজনের দৃষ্টির আড়াল হত না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭২৯, ইসলামীক সেন্টার)
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ ও আবূ কামিল আল জাহদারী (রহঃ) ..... আবূ মূসা আল আশ'আর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে মু’মিন আল কুরআন মাজীদ পাঠ করে তার উদাহরণ হ’ল কমলালেবু যা স্বাদে ও গন্ধে উত্তম। আর যে মু’মিন আল কুরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ হ’ল খেজুর যার সুগন্ধ না থাকলেও স্বাদে মিষ্ট। আর যে মুনাফিক আল কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ হ’ল রায়হানাহ ফুল যার সুগন্ধি আছে এবং স্বাদ তিক্ত। আর যে মুনাফিক আল কুরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ হ'ল হানযালাহ (মাকাল) যার কোন সুগন্ধি নেই এবং স্বাদও খুব তিক্ত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৩০, ইসলামীক সেন্টার)
হাদ্দাব ইবনু খালিদ, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... উভয়ে কাতাদাহ (রহঃ) থেকে একই সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে হাম্মাম বর্ণিত হাদীসে الْمُنَافِقِ শব্দটিকে الْفَاجِرِ শব্দ দ্বারা বদল করা হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৩১, ইসলামীক সেন্টার)
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু উবায়দ আল গুবারী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআন সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তি ঐসব মালাকগণের সাথে থাকবে যারা আল্লাহর অনুগত, মর্যাদাবান এবং লেখক। আর যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং তার জন্য কষ্টকর হওয়া সত্ত্বেও বারবার পড়ে সে ব্যক্তির জন্য দু'টি পুরস্কার নির্দিষ্ট আছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৩২, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... উভয়ে কাতাদাহ (রহঃ) থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ওয়াকী বর্ণিত হাদীসে এ কথাটি আছে "আর যে ব্যক্তি তার জন্য কঠোর ও কষ্টকর হওয়া সত্ত্বেও কুরআন তিলাওয়াত করে তার জন্য দু'টি পুরস্কার আছে।" (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৩৩, ইসলামীক সেন্টার)