ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে হজ্জের ইহরাম বাঁধলাম। আমরা মাক্কায় (মক্কায়) পৌছলে তিনি আমাদেরকে হালাল হওয়ার এবং এ ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিবর্তন করার নির্দেশ দিলেন। আমাদের জন্য তার এ নির্দেশ কঠোর মনে হল এবং আমাদের মনোকষ্ট হল। এ খবর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌছল। আমাদের জানা নেই তিনি কি ওয়াহীর মাধ্যমে এ খবর পেয়েছেন, না কেউ তার কাছে এ কথা পৌছিয়েছে? তিনি বললেন, হে জনগণ! তোমরা হালাল (ইহরামমুক্ত) হও। আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকলে আমিও তোমাদের অনুরূপ করতাম। জাবির (রাযিঃ) বলেন, অতএব আমরা ইহরামমুক্ত হলাম, এমনকি স্ত্রী সঙ্গম এবং স্বাভাবিক অবস্থায় সাধারণত যা করা হয়, তাই করলাম। অতঃপর তালবিয়ার দিন (৮ যিলহাজ্জ) আমরা মাক্কাহ (মক্কাহ) ত্যাগ করলাম (মিনা ও আরাফার উদ্দেশে) এবং হাজ্জে (হজ্জে/হজে)র ইহরাম বাঁধলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮১১, ইসলামীক সেন্টার)
ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... মূসা ইবনু নাফি' (রহঃ) বলেন, আমি উমরাসহ তামাত্তু হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বেঁধে তালবিয়াহ দিবসের চারদিন পূর্বে (৪ যিলহাজ্জ) মাক্কায় (মক্কায়) পৌছলাম। লোকেরা বলল, এখন তো আপনার হাজ্জ মাক্কা (মক্কা)-বাসীদের অনুরূপ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) হয়ে যাবে। অতএব আমি আতা ইবনু আবূ রাবাহ এর নিকট উপস্থিত হয়ে তার কাছে মাসআলাহ জিজ্ঞেস করলাম। আতা (রহঃ) বললেন, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আল আনসারী (রাযিঃ) আমাকে বলেছেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে করেছেন- যে বছর তিনি সঙ্গে করে কুরবানীর পশু নিয়েছিলেন এবং তারা কেবল হাজ্জের (হজ্জের/হজের) (ইফরাদ হজ্জের) ইহরাম বেঁধেছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা ইহরাম খুলে ফেল, বায়তুল্লাহ এর ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) কর, সাফা-মারওয়াহ পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাঈ কর, মাথার চুল ছাট এবং ইহরামমুক্ত অবস্থায় থাক। যখন তালবিয়ার দিন আসবে- তখন পুনরায় হজ্জের ইহরাম বাঁধ এবং এটা তামাত্তু হাজ্জের ইহরামে পরিণত কর। তারা বললেন, কিভাবে আমরা তা তামাত্তুতে পরিণত করব, অথচ ইতোপূর্বে আমরা হজ্জের ইহরাম বেঁধেছি? তিনি বললেন, আমি তোমাদের যে নির্দেশ দিচ্ছি, তাই কর। কারণ আমি যদি সাথে করে কুরবানীর পশু না আনতাম তবে তোমাদের যে নির্দেশ দিচ্ছি, আমিও তদ্রুপ করতাম। কিন্তু হাদী যথাস্থানে কুরবানী না করা পর্যন্ত আমার জন্য ইহরাম খোলার সুযোগ নেই। অতএব তারা তার নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮১২, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2946 — Sahih Muslim 15:155
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرِ بْنِ رِبْعِيٍّ الْقَيْسِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو هِشَامٍ الْمُغِيرَةُ بْنُ سَلَمَةَ، الْمَخْزُومِيُّ عَنْ أَبِي عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، - رضى الله عنهما - قَالَ قَدِمْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُهِلِّينَ بِالْحَجِّ فَأَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَجْعَلَهَا عُمْرَةً وَنَحِلَّ - قَالَ - وَكَانَ مَعَهُ الْهَدْىُ فَلَمْ يَسْتَطِعْ أَنْ يَجْعَلَهَا عُمْرَةً .
–(১৪৪/...) মুহাম্মাদ ইবনু মা'মার ইবনু বিরূ'ঈ আল কায়সী (রহঃ) .... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বেঁধে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে (মাক্কায় (মক্কায়) পৌছলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে তা উমরার ইহরামে পরিবর্তন করার এবং (উমরাহ পালনের পর) ইহরামমুক্ত হবার নির্দেশ দিলেন। রাবী বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে কুরবানীর পশু থাকায় তিনি নিজের হজ্জের ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিবর্তন করতে পারেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮১৩, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূ নাযরাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) তামাত্তু হাজ্জ করার নির্দেশ দিতেন এবং ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) তামাত্তু হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করতে নিষেধ করতেন। আমি বিষয়টি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) এর সামনে পেশ করলাম। তিনি বললেন, এ ঘটনাটি আমার সামনেই ঘটেছে। আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে তামাত্তু হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করেছি। উমার (রাযিঃ) খলীফা নির্বাচিত হওয়ার পর বললেন, আল্লাহ তা'আলা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য যে জিনিস ইচ্ছা এবং যে কারণে ইচ্ছা হালাল করেন এবং কুরআন নাযিল হওয়া সমাপ্ত হয়েছে। অতএব তোমরা আল্লাহ তা'আলার উদ্দেশে হাজ্জ ও উমরাহ সম্পাদন কর- যেভাবে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন এবং যেসব নারীকে তোমরা মুত্'আর (উপভোগ করার) মাধ্যমে বিবাহ করেছে- তাদের সঠিক বিবাহ বন্ধনে নিয়ে নাও। আমার নিকট মুত'আর শর্তে বিবাহকারী কোন পুরুষ লোক এলে আমি অবশ্যই তাকে রজম (প্রস্তরাঘাতে হত্যা) করব। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮১৪, ইসলামীক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... কাতাদাহ (রাযিঃ) এর সূত্রেও উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ বর্ণনায় আরও আছে, উমার (রাযিঃ) বলেন, “তোমাদের হাজ্জ (হজ্জ/হজ) কে উমরাহ থেকে পৃথক কর। কারণ এতে তোমাদের হাজ্জ (হজ্জ/হজ)ও পূর্ণাঙ্গ হবে এবং উমরার পূর্ণাঙ্গ হবে।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮১৫, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2949 — Sahih Muslim 15:158
وَحَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ هِشَامٍ، وَأَبُو الرَّبِيعِ، وَقُتَيْبَةُ، جَمِيعًا عَنْ حَمَّادٍ، - قَالَ خَلَفٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، - عَنْ أَيُّوبَ، قَالَ سَمِعْتُ مُجَاهِدًا، يُحَدِّثُ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، - رضى الله عنهما - قَالَ قَدِمْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ نَقُولُ لَبَّيْكَ بِالْحَجِّ . فَأَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَجْعَلَهَا عُمْرَةً .
খালাফ ইবনু হিশাম, আবূ রবী ও কুতায়বাহ (রহিমাহুমুল্লাহ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে (মাক্কায় (মক্কায়) পৌঁছলাম হাজ্জের (হজ্জের/হজের) জন্য তালবিয়াহ উচ্চারণ করতে করতে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিবর্তন করার নির্দেশ দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮১৬, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2950 — Sahih Muslim 15:160
وَحَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ أَتَيْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ فَسَأَلْتُهُ عَنْ حَجَّةِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِنَحْوِ حَدِيثِ حَاتِمِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ وَزَادَ فِي الْحَدِيثِ وَكَانَتِ الْعَرَبُ يَدْفَعُ بِهِمْ أَبُو سَيَّارَةَ عَلَى حِمَارٍ عُرْىٍ فَلَمَّا أَجَازَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْمُزْدَلِفَةِ بِالْمَشْعَرِ الْحَرَامِ . لَمْ تَشُكَّ قُرَيْشٌ أَنَّهُ سَيَقْتَصِرُ عَلَيْهِ وَيَكُونُ مَنْزِلُهُ ثَمَّ فَأَجَازَ وَلَمْ يَعْرِضْ لَهُ حَتَّى أَتَى عَرَفَاتٍ فَنَزَلَ .
উমার ইবনু হাফস্ ইবনু গিয়াস (রহঃ) ..... জাফর ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) এর নিকট এলাম এবং তাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিদায় হজ্জ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম ... হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত হাতিম ইবনু ইসমাঈলের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায়আরও আছেঃ আবূ সাইয়্যারাহ নামক এক ব্যক্তি (জাহিলী যুগে) লোকদেরকে জীনবিহীন গাধার পিঠে করে (মুযদালিফাহ্ থেকে) নিয়ে যেত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মুযদালিফাহ্ থেকে আল-মাশ'আরুল-হারাম-এর দিকে অগ্রসর হলেন, তখন কুরায়শরা নিঃসন্দেহ ছিল যে, তিনি এখানে থামবেন এবং অবস্থান করবেন। কিন্তু তিনি আরও সামনে অগ্রসর হলেন এবং এদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ করলেন না অবশেষে তিনি আরাফাতে পৌছে সেখানে অবতরণ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮১৮, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু শায়বাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... জা'ফার ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) এর কাছে গেলাম। তিনি সকলের পরিচয় জিজ্ঞেস করলেন। অবশেষে আমার পরিচয় জানতে চাইলেন। আমি বললাম, আমি মুহাম্মাদ ইবনু আলী ইবনু হুসায়ন। অতএব তিনি আমার দিকে হাত বাড়িয়ে আমার মাথার উপর রাখলেন। তিনি আমার জামার উপর দিকের বোতাম খুললেন তারপর নিচের বোতাম খুললেন। অতঃপর তার হাত আমার বুকের মাঝে রাখলেন। আমি তখন যুবক ছিলাম। তিনি বললেন, হে ভ্রাতুষ্পপুত্ৰ! তোমাকে স্বাগত জানাই, তুমি যা জানতে চাও, জিজ্ঞেস কর। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তখন তিনি (বাৰ্ধক্যজনিত কারণে) দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। ইতোমধ্যে সালাতের ওয়াক্ত হয়ে গেল। তিনি নিজেকে একটি চাঁদর আবৃত করে উঠে দাঁড়ালেন। তিনি যখনই চাঁদরের প্রান্ত নিজ কাঁধের উপর রাখতেন- তা (আকারে) ছোট হবার কারণে নীচে পড়ে যেত। তার আরেকটি বড় চাঁদর তার পাশেই আলনায় রাখা ছিল। তিনি আমাদের নিয়ে সালাতের ইমামত করলেন। অতঃপর আমি বললাম, আপনি আমাদেরকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর (বিদায়) হাজ্জ সম্পর্কে অবহিত করুন। জাবির (রাযিঃ) স্বহস্তে নয় সংখ্যার প্রতি ইঙ্গিত করে বললেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নয় বছর (মাদীনায়) অবস্থান করেন এবং এ সময়ের মধ্যে হাজ্জ করেননি। অতঃপর ১০ম বর্ষে লোকদের মধ্যে ঘোষণা দেয়া হল যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বছর হাজ্জে যাবেন। সুতরাং মদীনায় বহু লোকের আগমন হল। তাদের প্রত্যেকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরণ করতে এবং তার অনুরূপ আমল করতে আগ্রহী ছিল। আমরা তার সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা যখন যুল হুলায়ফাহ নামক স্থানে পৌছলাম- আসমা বিনতু উমায়স (রাযিঃ) মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বাকরকে প্রসব করলেন। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট লোক পাঠিয়ে জানতে চাইলেন- এখন আমি কী করব? তিনি বললেন, তুমি গোসল কর, একখণ্ড কাপড় দিয়ে পট্টি বেঁধে নাও এবং ইহরামের পোশাক পরিধান কর। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে (দু' রাকাআত) সালাত আদায় করলেন। অতঃপর ‘কাসওয়া' নামক। উষ্ট্রীতে আরোহণ করলেন। অতঃপর বায়দা নামক স্থানে তার উষ্ট্রী যখন তাকে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল- আমি সামনের দিকে যতদূর দৃষ্টি যায়, তাকিয়ে দেখলাম লোকে লোকারণ্য- কতক সওয়ারীতে, কতক পদব্রজে অগ্রসর হচ্ছে। ডানদিকে, বাঁদিকে এবং পিছনেও একই দৃশ্য। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝখানে ছিলেন এবং তার উপর কুরআন নাযিল হচ্ছিল। একমাত্র তিনিই এর আসল তাৎপর্য জানেন এবং তিনি যা করতেন, আমরাও তাই করতাম। তিনি আল্লাহর তাওহীদ সম্বলিত এ তালবিয়াহ্ পাঠ করলেনঃ لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ অর্থঃ “আমি তোমার দরবারে হাযির আছি, হে আল্লাহ! আমি তোমার দরবারে হাযির, আমি তোমার দরবারে হাযির, তোমার কোন শারীক নেই, আমি তোমার দরবারে উপস্থিত। নিশ্চিত সমস্ত প্রশংসা, নি’আমাত তোমারই এবং সমগ্র রাজত্ব তোমার, তোমার কোন শারীক নেই।" লোকেরাও উপরোক্ত তালবিয়াহ্ পাঠ করল- যা (আজকাল) পাঠ করা হয়। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর থেকে বেশি কিছু বলেননি। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপরোক্ত তালবিয়াহ পাঠ করতে থাকলেন। জাবির (রাযিঃ) বলেন, আমরা হাজ্জ ছাড়া অন্য কিছুর নিয়ম করিনি, আমরা উমরার কথা জানতাম না। অবশেষে আমরা যখন তার সঙ্গে বায়তুল্লাহয় পৌছলাম- তিনি রুকন (হাজারে আসওয়াদ) স্পর্শ করলেন, অতঃপর সাতবার কাবাহ ঘর তুওয়াফ করলেন- তিনবার দ্রুতগতিতে এবং চারবার স্বাভাবিক গতিতে। এরপর তিনি মাকামে ইবরাহীমে পৌছে এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى অর্থঃ “তোমরা ইবরাহীমের দাঁড়াবার স্থানকে সালাতের স্থানরূপে গ্রহণ কর”- (সুরাহ আল বাকারাহ ২ঃ ১২৫)। তিনি মাকামে ইবরাহীমকে তার ও বায়তুল্লাহর মাঝখানে রেখে (দু' রাকাআত সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন)। (জাফার বলেন) আমার পিতা (মুহাম্মদ) বলতেন, আমি যতদূর জানি, তিনি (জাবির) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি দু' রাকাআত সালাতে সূরা কুল হুওআল্ল-হু আহাদ ও কুল্ ইয়া আইয়্যুহাল কা-ফিরূন পাঠ করেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজারে আসওয়াদের কাছে প্রত্যাবর্তন করলেন এবং তাতে চুমু খেলেন। অতঃপর তিনি দরজা দিয়ে সাফা পাহাড়ের দিকে বের হলেন এবং সাফার নিকটবর্তী হয়ে তিলাওয়াত করলেনঃ إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ অর্থঃ “নিশ্চয়ই সাফা-মারওয়াহ পাহাড়দ্বয় আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম"- (সূরা আল বাকারাহ ২ঃ ১৫৮) এবং আরো বললেন- আল্লাহ তা'আলা যে পাহাড়ের উল্লেখ করে আরম্ভ করেছেন, আমিও তা দিয়ে আরম্ভ করব। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফা পাহাড় থেকে শুরু করলেন, অতঃপর এতটা উপরে আরোহণ করলেন যে, বায়তুল্লাহ দেখতে পেলেন। তিনি ক্বিলামুখী হলেন, আল্লাহর একত্ব ও মাহাত্ম্য ঘোষণা করলেন এবং বললেনঃ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كَلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ أَنْجَزَ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ অর্থঃ আল্লাহ ছাড়া কোন মা'বূদ নেই, তিনি এক, তার কোন শারীক নেই। তার জন্য রাজত্ব এবং তার জন্য সমস্ত প্রশংসা, তিনি প্রতিটি জিনিসের উপর শক্তিমান। আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি এক, তিনি নিজের প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন।" তিনি এ দু'আ পড়লেন এবং তিনি অনুরূপ তিনবার বলেছেন। অতঃপর তিনি নেমে মারওয়াহ পাহাড়ের দিকে অগ্রসর হলেন- যাবৎ না তার পা মুবারক উপত্যকার সমতল ভূমিতে গিয়ে ঠেকল। তিনি দ্রুত চললেন যতক্ষণ যাবৎ না উপত্যকা অতিক্রম করলেন। মারওয়াহ পাহাড়ে উঠার সময় হেঁটে উঠলেন, অতঃপর এখানেও তাই করলেন যা তিনি সাফা পাহাড়ে করেছিলেন। সর্বশেষ তওয়াফে যখন তিনি মারওয়াহ পাহাড়ে পৌছলেন, তখন (লোকদের সম্বোধন করে) বললেনঃ যদি আমি আগেই ব্যাপারটি বুঝতে পারতাম, তাহলে আমি সাথে করে কুরবানীর পশু আনতাম না এবং (হাজ্জের) ইহরামকে উমরায় পরিবর্তন করতাম। অতএব তোমাদের মধ্যে যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে যেন ইহরাম খুলে ফেলে এবং একে উমরায় পরিণত করে। এ সময় সুরাকাহ ইবনু মালিক ইবনু জুশুম (রাযিঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এ ব্যবস্থা কি আমাদের এ বছরের জন্য, না সৰ্বকালের জন্য? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতের আঙ্গুলগুলো পরস্পরের ফাঁকে ঢুকালেন এবং দু’বার বললেন, উমরাহ হাজ্জের (হজ্জের/হজের) মধ্যে প্রবেশ করেছে। আরও বললেন, না বরং সর্বকালের জন্য, সর্বকালের জন্য। এ সময় ‘আলী (রাযিঃ) ইয়ামান থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য কুরবানীর পশু নিয়ে এলেন এবং যারা ইহরাম খুলে ফেলেছে, ফাতিমাহ (রাযিঃ) কে তাদের অন্তর্ভুক্ত দেখতে পেলেন। তিনি রঙ্গীন কাপড় পরিহিতা ছিলেন এবং চোখে সুরমা দিয়েছিলেন। আলী (রাযিঃ) তা অপছন্দ করলেন। ফাতিমাহ (রাযিঃ) বললেন, আমার পিতা আমাকে এরূপ করার নির্দেশ দিয়ছেন। রাবী বলেন, আলী (রাযিঃ) ইরাকে থাকতেন, অতএব ফাতিমাহ (রাযিঃ) যা করেছেন তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে আমি তাকে জানালাম যে, আমি তার এ কাজ অপছন্দ করেছি। তিনি যা উল্লেখ করেছেন, সে বিষয়ে জানার জন্য আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ফাতিমাহ্ সত্য বলেছে, সত্য বলেছে। তুমি হাজ্জের ইহরাম বাঁধার সময় কী বলেছিলে? আলী (রাযিঃ) বললেন, আমি বলেছি, হে আল্লাহ! আমি ইহরাম। বাঁধলাম, যেরূপ ইহরাম বেঁধেছেন আপনার রসূল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার সঙ্গে হাদী (কুরবানীর পশু) আছে, অতএব তুমি ইহরাম খুলবে না। জাবির (রাযিঃ) বলেন, "আলী (রাযিঃ) ইয়ামান থেকে যে পশুপাল নিয়ে এসেছেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের সঙ্গে করে যে সব পশু নিয়ে এসেছিলেন, সর্বসাকুল্যে এর সংখ্যা দাঁড়ালো একশত। অতএব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং যাদের সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল, তারা ব্যতীত আর সকলেই ইহরাম খুলে ফেললেন এবং চুল কাটলেন। অতঃপর যখন তালবিয়ার দিন (৮ যিলহাজ্জ) আসলো, লোকেরা পুনরায় ইহরাম বাঁধলো এবং মিনার দিকে রওনা হল। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ার হয়ে গেলেন এবং সেখানে যুহর, আসর, মাগরিব, ইশা ও ফজরের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেন এবং নামিরাহ নামক স্থানে গিয়ে তার জন্য একটি তাবু খাটানোর নির্দেশ দিলেন এবং নিজেও রওনা হয়ে গেলেন। কুরায়শগণ নিঃসন্দেহ ছিল যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাশ'আরুল হারামের কাছে অবস্থান করবেন যেমন জাহিলী যুগে কুরায়শগণ করত। কিন্তু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনে অগ্রসর হলেন, তারপরে আরাফায় পৌছলেন এবং দেখতে পেলেন নামিরায় তার জন্য তাবু খাটানো হয়েছে। তিনি এখানে অবতরণ করলেন। অতঃপর যখন সূর্য ঢলে পড়ল, তখন তিনি তার কাসওয়া (নামক উষ্ট্রী)-কে প্রস্তুত করার নির্দেশ দিলেন। তার পিঠে হাওদা লাগানো হল। তখন তিনি বাতুনে ওয়াদীতে এলেন এবং লোকদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন, “তোমাদের রক্ত ও তোমাদের সম্পদ তোমাদের জন্য হারাম যেমন তা হারাম তোমাদের এ দিনে, তোমাদের এ মাসে এবং তোমাদের এ শহরে।" “সাবধান জাহিলী যুগের সকল ব্যাপার (অপসংস্কৃতি) আমার উভয় পায়ের নীচে। জাহিলী যুগের রক্তের দাবিও বাতিল হল। আমি সর্বপ্রথম যে রক্তপণ বাতিল করছি, তা হল আমাদের বংশের রবী'আহ ইবনু হারিসের পুত্রের রক্তপণ। সে শিশু অবস্থায় বানু সা'দ এ দুগ্ধপোষ্য ছিল, তখন হুযায়ল গোত্রের লোকেরা তাকে হত্যা করে। "জাহিলী যুগের সুদও বাতিল হল। আমি প্রথম যে সুদ বাতিল করছি তা হল আমাদের বংশের আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্ত্বালিবের সুদ। তার সমস্ত সুদ বাতিল হল।" “তোমরা স্ত্রীলোকদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানাত হিসেবে গ্রহণ করেছ এবং আল্লাহর কালিমার মাধ্যমে তাদের লজ্জাস্থান নিজেদের জন্য হালাল করেছ। তাদের উপরে তোমাদের অধিকার এই যে, তারা যেন তোমাদের শয্যায় এমন কোন লোককে আশ্রয় না দেয় যাকে তোমরা অপছন্দ কর। যদি তারা এরূপ করে, তবে হালকাভাবে প্রহার কর। আর তোমাদের উপর তাদের ন্যায়সঙ্গত ভরণ-পোষণের ও পোশাক-পরিচ্ছদের হাক্ব (হক) রয়েছে। “আমি তোমাদের মাঝে এমন এক জিনিস রেখে যাচ্ছি- যা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে থাকলে তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। তা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব।" “আমার সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাসিত হলে, তখন তোমরা কী বলবে?” তারা বলল, আমরা সাক্ষ্য দিব যে, আপনি (আল্লাহর বাণী) পৌছিয়েছেন, আপনার হাক্ব (হক) আদায় করেছেন এবং সদুপদেশ দিয়েছেন। অতঃপর তিনি তর্জনী আকাশের দিকে তুলে লোকদের ইশারা করে বললেন, “ইয়া আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাক, "তিনবার এরূপ বললেন।” অতঃপর (মুয়াযযিন) আযান দিলেন ও ইকামাত দিলেন এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত আদায় করলেন। এরপর ইকামাত দিলেন এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের সালাত আদায় করলেন। তিনি এ দু’ সালাতের মাঝখানে অন্য কোন সালাত আদায় করেননি। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ার হয়ে মাওকিফ (অবস্থানস্থল) এলেন, তার কাস্ওয়া উটের পেট পাথরের স্তুপের দিকে করে দিলেন এবং লোকদের একত্র হবার জায়গা সামনে রেখে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ালেন। সূর্য পর্যন্ত তিনি এভাবে উকুফ করলেন। হলদে আভা কিছু দূরীভূত হল, এমনকি সূর্য গোলক সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে গেল। তিনি উসামাহ্ (রাযিঃ) কে তার বাহনের পিছন দিকে বসালেন এবং কাসওয়ার নাকের দড়ি সজোরে টান দিলেন- ফলে তার মাথা মাওরিক (সওয়ারী ক্লান্তি অবসাদের জন্য যাতে পা রাখে) স্পর্শ করল। তিনি ডান হাতের ইশারায় বললেন, হে জনমণ্ডলী! ধীরে সুস্থে, ধীরে সুস্থে অগ্রসর হও। যখনই তিনি বালুর স্তুপের নিকট পৌছতেন, কাসওয়ার নাকের রশি কিছুটা ঢিল দিতেন যাতে সে উপরদিকে উঠতে পারে। এভাবে তিনি মুযদালিফায় পৌছলেন এবং এখানে একই আযানে ও দু' ইকামাতে মাগরিব ও ইশার সালাত আদায় করলেন। এ সালাতের মাঝখানে অন্য কোন নফল সালাত আদায় করেননি। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুয়ে পড়লেন। যাবৎ না ফজরের ওয়াক্ত হল। অতঃপর ভোর হয়ে গেলে তিনি আযান ও ইকামাত সহ ফজরের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর কাসওয়ার পিঠে আরোহণ করে "মাশ’আরুল হারাম" নামক স্থানে আসলেন। এখানে তিনি কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর নিকট দু'আ করলেন, তার মহত্ব বর্ণনা করলেন, কালিমাহ তাওহীদ পড়লেন এবং তার একত্ব ঘোষণা করলেন। দিনের আলো যথেষ্ট উজ্জ্বল না হওয়া পর্যন্ত তিনি দাঁড়িয়ে এরূপ করতে থাকলেন। সূর্যোদয়ের পূর্বে তিনি আবার রওনা করছিলেন এবং ফাযল ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) সওয়ারীতে তার পিছনে বসলেন। তিনি ছিলেন যুবক এবং তার মাথার চুল ছিল অত্যন্ত সুন্দর। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন অগ্রসর হলেন- পাশাপাশি একদল মহিলাও যাচ্ছিল। ফাযল (রাযিঃ) তাদের দিকে তাকাতে লাগলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের হাত ফাযলের চেহারার উপর রাখলেন এবং তিনি তার মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিলেন এবং ফাযল (রাযিঃ) অপরদিক দেখতে লাগলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় অন্যদিক হতে ফাযল (রাযিঃ) এর মুখমণ্ডলে হাত রাখলেন। তিনি আবার অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে দেখতে লাগলেন। তিনি বাতুনে মুহাসসাব’ নামক স্থানে পৌছলেন এবং সওয়ারীর গতি কিছুটা দ্রুত করলেন। তিনি মধ্যপথে অগ্রসর হলেন- যা জামরাতুল কুবরার দিকে বেরিয়ে গেছে। তিনি বৃক্ষের নিকটের জামরায় এলেন এবং নিচের খালি জায়গায় দাড়িয়ে এখানে সাতটি কংকর নিক্ষেপ করলেন এবং প্রত্যেকবার 'আল্ল-হু আকবার' বললেন। অতঃপর সেখান থেকে কুরবানীর স্থানে এলেন এবং নিজ হাতে তেষট্টিটি পশু যাবাহ করলেন। তিনি কুরবানীর পশুতে আলী (রাযিঃ)-কেও শারীক করলেন। অতঃপর তিনি প্রতিটি পশুর গোশতের কিছু অংশ নিয়ে একত্রে রান্না করার নির্দেশ দিলেন। অতএব তাই করা হল। তারা উভয়ে এ গোশত থেকে খেলেন এবং ঝোল পান করলেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ার হয়ে বায়তুল্লাহর দিকে রওনা হলেন এবং মাক্কায় (মক্কায়) পৌছে যুহরের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বানু আবদুল মুত্ত্বলিব এর লোকদের কাছে আসলেন, তারা লোকদের যামযামের পানি পান করাচ্ছিল। তিনি বললেন, হে “আবদুল মুত্ত্বালিবের বংশধরগণ! পানি তোল। আমি যদি আশংকা না করতাম যে, পানি পান করানোর ব্যাপারে লোকেরা তোমাদের পরাভূত করে দিবে, তবে আমি নিজেও তোমাদের সাথে পানি তুলতাম। তখন তারা তাকে এক বালতি পানি দিল এবং তিনি তা থেকে কিছু পান করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮১৭, ইসলামীক সেন্টার)
উমর ইবনু হাফস্ ইবনু গিয়াস (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত। তার এ হাদীসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “আমি এখানে কুরবানী করেছি এবং মিনার গোটা এলাকা কুরবানীর স্থান। অতএব তোমরা যার যার অবস্থানে কুরবানী কর। আর আমি এখানে অবস্থান করছি এবং গোটা 'আরাফাহই অবস্থানস্থল (মাওকিফ), মুযদালিফার সবই অবস্থানস্থল এবং আমি এখানে অবস্থান করছি।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮১৯, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2953 — Sahih Muslim 15:162
وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ، مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، - رضى الله عنهما - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا قَدِمَ مَكَّةَ أَتَى الْحَجَرَ فَاسْتَلَمَهُ ثُمَّ مَشَى عَلَى يَمِينِهِ فَرَمَلَ ثَلاَثًا وَمَشَى أَرْبَعًا
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মাক্কায় (মক্কায়) এসে পৌছলেন প্রথমে হাজারে আসওয়াদের নিকট এসে তাতে চুমু খেলেন, অতঃপর তওয়াফ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮২০, ইসলামীক সেন্টার)