মুহাম্মাদ ইবু রাফি' ও 'আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মি'রাজ রজনীতে আমি মূসা (আঃ) এর সাথে দেখা করেছি। এরপর নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দেহের আকৃতি বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার আকৃতি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মৃদু কোকড়ানো চুল বিশিষ্ট। দেখতে শানুয়াহ গোত্রের লোকদের ন্যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি ঈসা (আঃ) এর সাথে দেখা করেছি। এরপর তিনি ঈসা (আঃ) এর আকৃতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, তিনি মধ্যম ধরনের লোহিত বর্ণের পুরুষ। মনে হচ্ছিল এক্ষুণি যেন গোসলখানা থেকে বেরিয়ে আসলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি ইবরাহীম (আঃ) কে দেখেছি। তার সন্তানদের মধ্যে আমিই সবচেয়ে বেশী তার সাদৃশ্যের অধিকারী। এরপর আমার সম্মুখে দু'টি পাত্র পেশ করা হয়, এর একটি দুধের ও অপরটি শরাবের। আমাকে বলা হল, এর মধ্যে যেটা আপনার ইচ্ছা সেটা গ্রহণ করুন। আমি দুধ গ্রহণ করে তা পান করলাম। জিবরীল (আঃ) আমাকে বললেন, আপনাকে ফিতরাহ-এরই হিদায়াত করা হয়েছে। আপনি যদি শরাব গ্রহণ করতেন তবে আপনার উম্মত গোমরাহ হয়ে যেত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, একরাতে (স্বপ্নে) আমি কা'বা শরীফের কাছে আমাকে দেখতে পেলাম। গোধূম (গম) বর্ণের এক ব্যক্তিকে দেখলাম। এ বর্ণের যত লোক তোমরা দেখেছ তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর। ঘাড় পর্যন্ত লম্বা চুল ছিল তার। এ ধরনের চুলের অধিকারী যত ব্যক্তি তোমরা দেখেছ তাদের মধ্যে তিনি হলেন সবচেয়ে সুন্দর। তিনি এ চুল আঁচড়িয়ে রেখেছেন আর তা থেকে পানি ঝরছিল। দু'জনের উপর বা বর্ণনাকারী বলেন, দু'জনের কাঁধের উপর ভর করে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করছেন। জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? বলা হল, ইনি মাসীহ ইবনু মারইয়াম*। তারপর দেখি আরেক ব্যক্তি, অধিক কোকড়ানো চুল, ডান চক্ষুটি টেরা যেন একটি আঙ্গুর ফুলে রয়েছে। জিজ্ঞেস করলামঃ এ কে? বলা হল, এ হচ্ছে মাসীহুদ দাজ্জাল।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক আল মুসাইয়্যাবী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবাদের সম্মুখে দাজ্জালের কথা উল্লেখ করে বললেন, অবশ্যই আল্লাহ তা'আলা টেরা চোখ বিশিষ্ট নন। জেনে রাখ দাজ্জালের ডান চোখ টেরা যেন ফোলা একটি আঙ্গুর। ইবনু উমার (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, একবার আমি স্বপ্নে আমাকে কা'বার কাছে পেলাম। গোধূম বর্ণের এক ব্যক্তিকে দেখলাম। এ বর্ণের তোমরা যত লোক দেখেছ তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর। চুল তার কাঁধ পর্যন্ত বুলছিল। তার চুলগুলো ছিল সোজা। তা থেকে তখন পানি ঝরছিল। তিনি দু' ব্যক্তির কাঁধে হাত রেখে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করছিলেন। জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? বলা হল, ইনি মাসীহ ইবনু মারইয়াম। তারই পেছনে দেখলাম, আরেক ব্যক্তি, অধিক কোঁকড়ানো চুল। তার ডান চোখ ছিল টেরা। সে দেখতে ছিল ইবনু কাতান এর ন্যায়। সেও দু' ব্যক্তির কাঁধে হাত রেখে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করছে। জিজ্ঞেস করলাম, এ কে? বলা হল, মাসীহুদ দাজ্জাল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি (স্বপ্নযোগে) কা'বার নিকটে খাড়া চুল বিশিষ্ট বাদামী রঙের এক ব্যক্তিকে দু'জন লোকের (কাঁধের) উপর হাত রাখা অবস্থায় দেখেছি। তার মাথা থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছিল অথবা বলেছেন, ফোটা ফোটা পানি পড়ছিল। আমি জানতে চাইলাম, ইনি কে? লোকেরা বললো, ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) অথবা বলেছেন, আল মাসীহ ইবনু মারইয়াম (আঃ)। সালিম বলেন, ইবনু উমর (রাযিঃ) সঠিকভাবে অবগত নন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনটি বলেছেন। তবে তিনি এ কথাও বলেছেন যে, তার পেছনে আমি এমন এক ব্যক্তিকেও দেখেছি, যে রক্তবর্ণের, স্থুলদেহী, মাথার চুল কোঁকড়ানো, ডান চোখ কানা, আকৃতিতে আমার দেখা (কাফির) ইবনু কাতানের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। আমি জানতে চাইলাম, এ লোকটি কে? তারা বললেন, এ হলো মাসীহে দাজ্জাল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, (মি'রাজের সংবাদে) কুরায়শরা আমাকে মিথ্যাবাদী বলে অপবাদ দিল। তখন আমি হজ্জরে আসওয়াদের পাশে দাঁড়ালে আল্লাহ তা'আলা আমার সম্মুখে বাইতুল মাকদাসকে তুলে ধরেন, আর আমি চোখে দেখেই তার সকল নিদর্শনাবলী উল্লেখ করে যেতে লাগলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, একদিন আমি ঘুমিয়েছিলাম। তখন দেখি যে, আমি কা'বা তাওয়াফ করছি। বাদামী বর্ণের মধ্যমাকৃতির এক ব্যক্তিকে সেখানে দেখলাম। তার চুলগুলো ছিল সোজা। তিনি দু’জনের কাধে ভর করে তাওয়াফ করছেন। আর তার মাথা হতে টপটপ করে পানি ঝরছে। বর্ণনাকারী বলেন, এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হয়তো অথবা' শব্দ ব্যবহার করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? বলা হল, ইনি ইবনু মারইয়াম (আঃ)। তারপর আমি চোখ ফিরিয়ে তাকালাম; লোহিত বর্ণের মোটা এক ব্যক্তিকে দেখলাম। তার চুলগুলো ছিল কোঁকড়ানো। তার চোখ ছিল টেরা, যেন একটি ফোলা আঙ্গুর। জিজ্ঞেস করলাম, এ কে? বলা হল, এ হল দাজ্জাল। তার নিকটতম সদৃশ হল ইবনু কাতান। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি হাজরে আসওয়াদের নিকট ছিলাম। এ সময় কুরায়শরা আমাকে আমার মি'রাজ সম্পর্কে প্রশ্ন করতে শুরু করে। তারা আমাকে বাইতুল মাকদাসের এমন সব বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে লাগল যা আমি ভালভাবে দেখিনি। ফলে আমি খুবই চিন্তিত হয়ে পড়লাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তারপর আল্লাহ তা'আলা আমার সামনে বাইতুল মাকদাসকে উদ্ভাসিত করে দিলেন এবং আমি তা দেখছিলাম। তারা আমাকে যে প্রশ্ন করছিল তার জবাব দিতে লাগলাম। এরপর নবীদের এক জামা'আতেও আমি নিজেকে উদ্ভাসিত দেখলাম। মূসা (আঃ) কে সালাতে দণ্ডায়মান দেখলাম। তিনি শানুয়াহ গোত্রের লোকদের ন্যায় মধ্যমাকৃতি। তার চুল ছিল কোকড়ানো। ঈসা (আঃ) কেও সালাতে দাঁড়ানো দেখলাম। তিনি তোমাদের এ সাখীর মতোই দেখতে অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তারপর সালাতের সময় হল, আমি তাদের ইমামাত করলাম। সালাত শেষে এক ব্যক্তি আমাকে বললেন, হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ইনি জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক মালিক ওকে সালাম করুন। আমি তার দিকে তাকালাম। তিনি আমাকে আগেই সালাম করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ, ইবনু নুমায়র ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মি'রাজ রজনীতে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হল। এটি ষষ্ঠ আসমানে অবস্থিত[1]। জমিন থেকে যা কিছু উত্থিত হয় তা সে পর্যন্ত গিয়ে পৌছে এবং সেখান থেকে তা গ্রহণ করা হয়। তদ্রূপ ঊর্ধ্বলোক থেকে যা কিছু অবতরণ হয় তাও এ পর্যন্ত এসে পৌছে এবং সেখান থেকে তা গ্রহণ করা হয়। এরপর আবদুল্লাহ (রাযিঃ) তিলাওয়াত করলেনঃ “যখন প্রান্তবর্তী বাদরী বৃক্ষটি যা দ্বারা আচ্ছাদিত হবার, তা দ্বারা আচ্ছাদিত হলো"- (সূরাহু আন নাজন ৫৩ঃ ১৬) এবং বলেন, এখানে 'যা দ্বারা' কথাটির অর্থ সোনার পতঙ্গসমূহ। তিনি বলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তিনটি বিষয় দান করা হল, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত। সূরাহ আল-বাকারার শেষ দু' আয়াত এবং শিরক মুক্ত উম্মতের মারাত্মক গুনাহ তাওবার মাধ্যমে ক্ষমার সুসংবাদ[2]। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)