উবাইদুল্লাহ ইবনু মু'আয আল 'আম্বারী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ থেকে "তিনি তো তার প্রতিপালকের মহান নিদর্শনাবলী দেখেছিলেন"- (সূরাহ আন নাজম ৫৩ঃ ১৮)। এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন এবং এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরীল (আঃ)-কে তার আকৃতিতে দেখেছিলেন, তার ছয়শ' ডানা আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বাকর ইবনু শাইবাহ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর বাণীঃ “তিনি যা দেখেছেন, তার অন্তকরণ তা অস্বীকার করেনি" "এবং নিশ্চয়ই তিনি তাকে আরো একবার দেখেছেন"- (সূরাহ্ আন নাজম ৫৩ঃ ১১ ও ১৩) আয়াতদ্বয়ের ব্যাখ্যা হচ্ছেঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রভুকে দু'বার অন্তকরণ দ্বারাই দেখেন। (অর্থাৎ বাহ্যিক চোখে প্রত্যক্ষ করেননি)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ জাহমাহ এ সনদে উপরোক্ত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... মাসরূক (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাযিঃ) এর মাজলিসে হেলান দিয়ে বসেছিলাম। তখন তিনি বলছেন, হে আবূ আয়িশাহ। তিনটি কথা এমন, যে এর কোন একটি বলল, সে আল্লাহ সম্পর্কে ভীষণ অপবাদ দিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, সেগুলো কি? তিনি বললেন, যে এ কথা বলে যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতিপালককে দেখেছেন, সে আল্লাহর উপর ভীষণ অপবাদ দিল। রাবী মাসরূক বলেন, আমি তো হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলাম, এবার সোজা হয়ে বসলাম। বললাম, হে উন্মুল মুমিনীন! থামুন। আমাকে সময় দিন, ব্যস্ত হবেন না। আল্লাহ তা'আলা কুরআনে কি বলেননিঃ “তিনি (রাসূল) তো তাকে (আল্লাহকে) স্পষ্ট দিগন্তে দেখেছেন- (সূরাহ আত তাকভীর ৮১ঃ ২৩)। অন্যত্র “নিশ্চয় তিনি তাকে আরেকবার দেখেছিলেন"- (সূরাহ আন নাজম ৫৩ঃ ১৩)। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আমিই এ উম্মতের প্রথম ব্যক্তি, যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেছেনঃ তিনি তো ছিলেন জিবরীল (আঃ)। কেবলমাত্র এ দু'বারই আমি তাকে তার আসল আকৃতিতে দেখেছি। আমি তাকে আসমান থেকে অবতরণ করতে দেখেছি। তার বিরাট দেহ ঢেকে ফেলেছিল আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী সব স্থানটুকু৷ আয়িশাহ (রাযিঃ) আরো বলেন, তুমি শোননি? আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ তিনি (আল্লাহ) দৃষ্টির অধিগম্য নন, তবে দৃষ্টিশক্তি তার অধিগত এবং তিনি সূক্ষ্মদৰ্শী ও সম্যক পরিজ্ঞাত"- (সুরাহ আল আন’আম ৬ঃ ১০৩)। এরূপে তুমি কি শোননি? আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ "মানুষের এমন মর্যাদা নেই যে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন ওয়াহীর মাধ্যম ব্যতিরেকে, অথবা পর্দার অন্তরাল ব্যতিরেকে, অথবা এমন দূত প্রেরণ ব্যতিরেকে যে তার অনুমতিক্রমে তিনি চান তা ব্যক্ত করেন, তিনি সমুন্নত ও প্রজ্ঞাময়"- (সূরাহ আশ শূরা ৪২ঃ ৫১)। 'আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আর ঐ ব্যক্তিও আল্লাহর উপর ভীষণ অপবাদ দেয়, যে এমন কথা বলে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কিতাবের কোন কথা গোপন রেখেছেন। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “হে রাসূল! আপনার প্রতিপালকের নিকট হতে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রচার করুন, যদি তা না করেন তবে আপনি তার বার্তা প্রচারই করলেন না (সূরাহ আল মায়িদাহ ৫ঃ ৬৭)। তিনি [আয়িশাহ (রাযিঃ)] আরো বলেন, যে ব্যক্তি এ কথা বলে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর ওয়াহী ব্যতীত আগামীকাল কি হবে তা অবহিত করতে পারেন, সেও আল্লাহর উপর ভীষণ অপবাদ দেয়। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেন, "বল, আসমান ও জমিনে আল্লাহ ব্যতীত গায়ব সম্পর্কে কেউ জানে না" (সূরাহ আন নামল ২৭ঃ ৬৫)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) হতে উক্ত সনদে ইবনু উলাইয়্যাহ এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে এতে এতটুকু অতিরিক্ত আছে, আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, যদি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উপর অবতীর্ণ ওয়াহীর কোন অংশ গোপন করতেন তবে তিনি এ আয়াতটি অবশ্য গোপন করতেনঃ "স্মরণ করুন, আল্লাহ যাকে অনুগ্রহ দান করেছেন এবং আপনিও যার [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পোষ্য পুত্র যায়দ] প্রতি অনুগ্রহ করেছেন আপনি তাকে বলেছিলেন "তুমি তোমার স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখ এবং আল্লাহকে ভয় কর। আর আপনি আপনার অন্তরে গোপন করেছিলেন। অথচ আল্লাহ তা প্রকাশকারী। আপনি লোককে ভয় করছিলেন, অথচ আল্লাহকে ভয় করা আপনার জন্য অধিকতর সঙ্গত" (সূরাহু আল আহযাব ৩৩ঃ ৩৭)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হাদিস 441 — Sahih Muslim 1:346
حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ هَلْ رَأَى مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم رَبَّهُ فَقَالَتْ سُبْحَانَ اللَّهِ لَقَدْ قَفَّ شَعْرِي لِمَا قُلْتَ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِقِصَّتِهِ . وَحَدِيثُ دَاوُدَ أَتَمُّ وَأَطْوَلُ .
ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... মাসরূক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার রবকে দেখেছেন কি? জবাবে তিনি (আতঙ্ক বা আশ্চর্যের সাথে) বললেন, সুবহানাল্লাহ! তোমার কথা শুনে আমার শরীরের পশম কাটা দিয়ে খাড়া হয়ে গেছে। অতঃপর হাদীসের পূর্ণ বিবরণ বর্ণনা করেছেন। তবে এ প্রসঙ্গে দাউদের হাদীসটিই পরিপূর্ণ ও বিস্তৃত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... মাসরূক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাযিঃ) কে বললাম (আপনিতো বলেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতিপালককে দেখেননি) তাহলে আল্লাহর এ বাণীর জবাব কি? “এমনকি দুই ধনুকের সমান কিংবা তার চেয়েও কম দূরত্ব থেকে গেল। তখন আল্লাহর বান্দাকে যে ওয়াহী পৌছাবার ছিল তা পৌছে দিল"- (সূরাহ আন নাজম ৫৩ঃ ৯-১১)। 'আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেন, ইনি তো হলেন জিবরীল (আঃ)। সাধারণত তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসতেন মানুষের আকৃতিতে। কিন্তু এবার এসেছিলেন তার আসল রূপে। তার দেহ আকাশের সীমা ঢেকে ফেলেছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করেছি, আপনি কি আপনার প্রতিপালককে দেখেছেন? তিনি বললেনঃ তিনি (আল্লাহ) নূর, তা আমি কি রূপে দেখবো? (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০ ইসলামিক সেন্টারঃ)