আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবূ উসামাহ্ (রহঃ) ..... সা'দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উহুদ যুদ্ধে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ডানে এবং বামে দু’ লোককে দেখতে পাই তাদের গায়ে সাদা পোশাক ছিল। এর আগে বা পরে আমি তাদেরকে আর কক্ষনো দেখিনি। আসলে তারা ছিলেন জিবরীল ও মীকাঈল (আঃ)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৭৯৯, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ডানে ও বামে দু’ লোককে দেখতে পাই, যাদের গায়ে ছিল সাদা বস্ত্র। তারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষে কঠিনভাবে যুদ্ধ করছিলেন। এর আগে ও পরে আমি তাদের দেখিনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৮০০, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামীমী, সাঈদ ইবনু মানসূর, আবূ রাবী' আতাকী ও আবূ কামিল (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব লোকের মাঝে অতি সুন্দর, অতি দানশীল এবং শ্রেষ্ঠ বীর ছিলেন। কোন এক রাত্রে মাদীনাবাসীরা ভীত হয়ে পড়েছিল। অতঃপর যেদিক থেকে শব্দ আসছিল, লোকেরা সেদিকে ছুটে চলল। রাস্তায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তাদের দেখা হয়, তখন তিনি ফিরে আসছিলেন। কারণ শব্দের দিকে প্রথম তিনিই দৌড়ে গিয়েছিলেন। তখন তিনি আবূ তালহাহ (রাযিঃ) এর গদিবিহীন ঘোড়ায় চড়ে ছিলেন। তার কাঁধে তলোয়ার ছিল। তিনি বলছিলেন, তোমরা শঙ্কিত হয়ো না, তোমরা শঙ্কিত হয়ে না। তিনি আরো বললেনঃ আমি এ ঘোড়াকে পেয়েছি সমুদ্রের মতো। কিংবা বললেন, এ তো সমুদ্র। ইতোপূর্বে এ ঘোড়ার গতি ছিল ক্ষীণ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৮০১, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক সময় মদীনায় ভয়ের কারণ সৃষ্টি হয়েছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ তালহাহ্ (রাযিঃ) এর একটি ঘোড়া চেয়ে নিলেন। এটিকে 'মানদূব' বলা হত। তিনি তার উপর সওয়ার হলেন। অতঃপর বললেন, আমি ঘাবড়ানোর কোন কারণ দেখতে পাইনি। আর এ ঘোড়াটিকে সমুদ্রের মতো পেয়েছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৮০২, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, ইবনু বাশশার ও ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব (রহঃ) ..... শু’বাহ (রহঃ) থেকে উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীস রিওয়ায়াত করেন। ইবনু জাফারের হাদীসে আমাদের ঘোড়ার কথা বলা হয়েছে, আবূ তালহাহ্ (রাযিঃ) এর কথা বলা হয়নি। কাতাদাহ্ (রহঃ) এর সূত্রে খালিদ (রহঃ) বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, আমি আনাস (রাযিঃ) হতে শুনেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৮০৩, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 6009 — Sahih Muslim 43:68
حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ أَبِي مُزَاحِمٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ، - يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ - عَنِ الزُّهْرِيِّ، ح وَحَدَّثَنِي أَبُو عِمْرَانَ، مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ زِيَادٍ - وَاللَّفْظُ لَهُ - أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ، عَنِ ابْنِ، شِهَابٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَجْوَدَ النَّاسِ بِالْخَيْرِ وَكَانَ أَجْوَدَ مَا يَكُونُ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ إِنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ كَانَ يَلْقَاهُ فِي كُلِّ سَنَةٍ فِي رَمَضَانَ حَتَّى يَنْسَلِخَ فَيَعْرِضُ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْقُرْآنَ فَإِذَا لَقِيَهُ جِبْرِيلُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَجْوَدَ بِالْخَيْرِ مِنَ الرِّيحِ الْمُرْسَلَةِ .
মানসূর ইবনু আবূ মুযাহিম ও আবূ ইমরান মুহাম্মাদ ইবনু জাফার ইবনু যিয়াদ (রহঃ) ...... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের মাঝে দানশীলতায় সবচেয়ে বেশী অগ্রগামী ছিলেন। তবে রমযান মাসে তিনি আরো অধিক দানশীল হতেন। কারণ জিবরীল (আঃ) প্রতি বছর রমযান মাসে তার সাথে দেখা করতেন। রমযান শেষ হওয়া পর্যন্ত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্মুখে কুরআন পাঠ করে শোনাতেন। যখন জিবরীল (আঃ) তার সাথে দেখা করতেন তখন তিনি বিক্ষিপ্ত বাতাসের চাইতেও বেশি দানশীল হতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৮০৪, ইসলামিক সেন্টার)
সাঈদ ইবনু মানসূর ও আবূ রাবী’ (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দশ বছর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমত করেছি। আল্লাহর শপথ তিনি কখনো আমাকে 'উহ' শব্দও বলেননি এবং কোন সময় আমাকে ‘এটা কেন করলে’, ‘ওটা কেন করনি তাও বলেননি। আবূ রাবী’ (রহঃ) বর্ধিত বলেছেন, 'কোন বিষয় সম্পর্কে যা খাদিমের করা ঠিক নয়' এবং তার রিওয়ায়াতে আল্লাহর শপথের বর্ণনা নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৮০৫, ইসলামিক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু হাম্বাল ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মাদীনায় আসেন তখন আবূ তালহাহ্ (রাযিঃ) হাতে ধরে আমাকে নিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উপস্থিত হলেন। অতঃপর বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আনাস অত্যন্ত বুদ্ধিমান ছেলে, সে আপনার সেবা করবে। আনাস (রাযিঃ) বলেন, আমি তার খিদমাত করেছি সফর ও ইকামাত অবস্থায়। আল্লাহর শপথ! আমি যে কোন কাজই করেছি, তিনি আমাকে বলেননি যে, কেন এমনটি করলে? আর যে কোন কাজই আমি করিনি, কেন তুমি এটি করনি, এ রকমও বলেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৮০৭, ইসলামিক সেন্টার)