(…) ইসহাক ইবনু ইবরাহীম হানযালী (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কায় পনের বছর থাকেন, সাত বছর শব্দ শুনতেন এবং আলো দেখতে পেতেন, কিন্তু ভিন্ন কিছু দেখতেন না। আর আট বছর তার নিকট ওয়াহী আসত। অতঃপর মাদীনায় দশ বছর থাকেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৮৯৩, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ... জুবায়র ইবনু মুত'ইম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। আমি মুহাম্মদ (প্রশংসিত), আমি আহমদ (অত্যধিক প্রশংসাকারী), আমি আল-মাহী’ (বিলুপ্তকারী) এমন লোক যে, আমার মাধ্যমে কুফুরকে নিঃশেষ করা হবে। আমি আল-হাশির (একত্রকারী) এমন ব্যক্তি যে, আমার পেছনে লোকেদের একত্রিত করা হৰে! আমি আল-আকিব' (সর্বশেষ) আর আল-আকীব, ঐ লোক যার পর আর কোন নবী নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৮৯৪, ইসলামিক সেন্টার)
হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ...... জুবায়র ইবনু মুতাইম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার বহু নাম রয়েছে। আমি মুহাম্মদ, আমি আহমদ, আমি আল-মাহী’ (বিলোপ সাধনকারী) ঐ লোক যে, আমার মাধ্যমে আল্লাহ কুফুরকে নিঃশেষ করবেন, আমি আল-হাশির (একত্রকারী) এমন লোক যে, আমার পায়ের নিকট লোকেদের একত্রিত করা হবে। আমি আল-আকীব' (শেষ) এমন লোক যার পর কেউ (নবী) নেই এবং আল্লাহ তার নাম রেখেছেন রউফ ও রহীম। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৮৯৫, ইসলামিক সেন্টার
আবদুল মালিক ইবনু শু'আয়ব ইবনু লায়স, আবদ ইবনু হুমায়দ ও আবদুল্লাহ ইবনু 'আবদুর রহমান দারিমী (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) হতে এ সূত্রে হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। শু'আয়ব এবং মা'মার (রহঃ) বর্ণিত হাদীসে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুনেছি তিনি বর্ণনা করেছেন। আর মা'মারের হাদীসে আছে, তিনি বলেন, আমি যুহরী (রহঃ) কে প্রশ্ন করলাম, আল-আকিব কী? তিনি বললেন, এমন লোক যার পর আর নবী নেই। মা’মার ও উকায়ল এর হাদীসে রয়েছে 'আল-কাফারাতা', আর শুআয়ব এর হাদীসে আছে আল-কুফুর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৮৯৬, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম হানযালী (রহঃ) ... আবূ মুসা আশ'আরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট তাঁর নিজের নামগুলো রিওয়ায়াত করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি মুহাম্মাদ, আহমদ, আল-মুকাফ্ফী (সর্বশেষ), আল-হাশির (একত্রকারী), তাওবার নবী ও রহমতের নবী। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৮৯৭, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) .... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একটি কাজ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করলেন এবং এটি জারি রাখলেন। এ খবর তার কিছু সহাবার নিকট পৌছলে তারা এ কাজটি পছন্দ করলেন না এবং এ থেকে বিরত রইলেন। এ কথা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে পেরে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দিলেন। তিনি বললেনঃ জনগণের কি হলো, তাদের নিকট এ খবর পৌছেছে যে, একটা কাজে, আমি সম্মতি দিয়েছি, তারপরও তারা একে নিকৃষ্ট মনে করছে এবং এ থেকে বিরত থাকছে। আল্লাহর শপথ আল্লাহ সম্পর্কে আমি বেশি জানি এবং আল্লাহকে তাদের তুলনায় অতধিক ভয় করি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৮৯৮, ইসলামিক সেন্টার)
(…/…) আবূ সাঈদ আশাজ্জ ইসহাক ইরনু ইবরাহীম (রহঃ) ...... আ'মাশ (রহঃ) হতে এ সূত্রে জারীর (রাযিঃ) এর হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৮৯৯, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 6111 — Sahih Muslim 43:169
وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُسْلِمٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ رَخَّصَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي أَمْرٍ فَتَنَزَّهَ عَنْهُ نَاسٌ مِنَ النَّاسِ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَغَضِبَ حَتَّى بَانَ الْغَضَبُ فِي وَجْهِهِ ثُمَّ قَالَ " مَا بَالُ أَقْوَامٍ يَرْغَبُونَ عَمَّا رُخِّصَ لِي فِيهِ فَوَاللَّهِ لأَنَا أَعْلَمُهُمْ بِاللَّهِ وَأَشَدُّهُمْ لَهُ خَشْيَةً " .
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কাজকে জায়িয করলেন, অন্য কিছু লোক তো খারাপ মনে করল। এ কথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌছলে তিনি রেগে গেলেন; এমনকি তার মুখায়বে রাগ প্রকাশ পেল। তখন তিনি বললেনঃ লোকদের কী হলো যে, আমার জন্য বৈধ একটা কাজে তারা আগ্রহ প্রকাশ করছে না। আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই আল্লাহ সম্পর্কে তাদের চেয়ে অধিক জানি এবং তাকে অধিক ভয় করি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯০০, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 6112 — Sahih Muslim 43:170
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ، حَدَّثَهُ أَنَّ رَجُلاً مِنَ الأَنْصَارِ خَاصَمَ الزُّبَيْرَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي شِرَاجِ الْحَرَّةِ الَّتِي يَسْقُونَ بِهَا النَّخْلَ فَقَالَ الأَنْصَارِيُّ سَرِّحِ الْمَاءَ . يَمُرُّ فَأَبَى عَلَيْهِمْ فَاخْتَصَمُوا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلزُّبَيْرِ " اسْقِ يَا زُبَيْرُ ثُمَّ أَرْسِلِ الْمَاءَ إِلَى جَارِكَ " . فَغَضِبَ الأَنْصَارِيُّ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْ كَانَ ابْنَ عَمَّتِكَ فَتَلَوَّنَ وَجْهُ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ " يَا زُبَيْرُ اسْقِ ثُمَّ احْبِسِ الْمَاءَ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَى الْجَدْرِ " . فَقَالَ الزُّبَيْرُ وَاللَّهِ إِنِّي لأَحْسِبُ هَذِهِ الآيَةَ نَزَلَتْ فِي ذَلِكَ { فَلاَ وَرَبِّكَ لاَ يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لاَ يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا}
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, আনসারদের জনৈক লোক রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মুখে যুবায়র (রাযিঃ) এর সাথে পানি সেচের নালা নিয়ে বিতর্ক করল যা থেকে তারা খেজুর গাছে পানি দিত। আনসার ব্যক্তিটি বললেন, পানি ছেড়ে দাও, তা প্রবাহিত হতে থাকুক। যুবায়র (রাযিঃ) তা মানলেন না। শেষ অবধি সকলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মুখে তর্ক করলে তিনি যুবায়রকে বললেন, হে যুবায়র! তোমার পানি নেয়া হলে তোমার প্রতিবেশীর জন্য ছেড়ে দাও। সে সময় আনসার ব্যক্তিটি রাগাম্বিত স্বরে বলল, ইয়া রসূলাল্লাহ! যুবায়র তো আপনার ফুফাতো ভাই। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারার রং পাল্টে গেলো। তিনি বললেন, হে যুবায়রা নিজের বৃক্ষগুলোকে পানি দাও এবং পানি আটকিয়ে রাখো, যে পর্যন্ত না পানি বাধ পর্যন্ত পৌছে যায়। যুবায়র (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ আমার ধারণা হয় এ আয়াত সে ব্যাপারেই নাযিল হয়ঃ "তোমার প্রতিপালকের কসম! ততক্ষণ পর্যন্ত তারা মু'মিন হতে পারবে না ....."— (সুরাহ আন নিসা ৪ঃ ৭৫)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯০১, ইসলামিক সেন্টার)
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া তুজীবী (রহঃ) ..... আবদুর রহমান ও সাঈদ ইবনু মুসাইয়্যিব (রহঃ) হতে বর্ণিত। তারা দু’জনে বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলতেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, আমি তোমাদের যা বারণ করেছি তা হতে বিরত থাকো এবং যা তোমাদের নির্দেশ করেছি তা যা সম্ভব পালন করো। কেননা, অধিক জিজ্ঞাসা ও স্বীয় নবীগণের সঙ্গে মতবিরোধ তোমাদের পূর্ববর্তীদের ধ্বংস করেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯০২, ইসলামিক সেন্টার)