আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তারা সবাই বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আমি তোমাদের জন্য যা ছেড়ে দিয়েছি তোমরাও আমাকে সে বিষয়ে ছেড়ে দাও” (অর্থাৎ সে বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করো না)। হাম্মাম (রহঃ) এর হাদীসে আছে, “যে বিষয়ে তোমাদের ছাড় দেয়া হয়েছে।” কারণ তোমাদের পূর্ববর্তীরা ধ্বংস হয়েছে, এরপর তারা আবূ হুরাইরাহ হতে যুহরী এবং আবূ সালামাহ্ (রহঃ) এর হাদীসের অবিকল রিওয়ায়াত করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯০৪, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... সা'দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমদের মাঝে সর্বাধিক দোষী ঐসব লোক, যে এমন ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে, যা মুসলিমদের জন্য হারাম বা নিষিদ্ধ ছিল না। আর তার জিজ্ঞেস করার কারণে সে ব্যাপারটি মুসলিমদের উপর হারাম করে দেয়া হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯০৫, ইসলামিক সেন্টার)
(…) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, ইবনু আবূ উমার ও মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ (রহঃ) ..... সা'দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমদের মধ্যে সর্বাধিক অপরাধী মুসলিম সে-ই, যে মুসলিমদের জন্য যা অবৈধ নয়, এমন ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে, আর সে ব্যাপারটি তার জিজ্ঞেস করার কারণে লোকদের উপর অবৈধ ঘোষণা দেয়া হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯০৬, ইসলামিক সেন্টার)
হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ইউনুস থেকে এবং আবদ ইবনু হুমায়দ মা'মার থেকে, উভয়ে উক্ত সানাদে যুহরী (রহঃ) হতে রিওয়ায়াত করেন। তবে মা'মার এর হাদীসে যুহরীর রিওয়ায়াতে বর্ধিত আছে- “কোন লোক কোন ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে এবং তৎসম্পর্কে অধিক জিজ্ঞেস করে”। ইবনু সা'দ (রহঃ) থেকে বর্ণিত ইউনুসের হাদীসে আছে যে, যুহরী (রহঃ) বলেছেন, তিনি আমির ইবনু সাদ হতে শুনেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯০৬, ইসলামিক সেন্টার)
মাহমুদ ইবনু গাইলান, মুহাম্মাদ ইবনু কুদামাহ সুলামী এবং ইয়াহইয়া ইবনু মুহাম্মাদ লু'লুঈ (রহঃ) ...... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তার সাহাবীদের কোন কথা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌছল। তখন তিনি এক বক্তৃতা দিলেন এবং বললেনঃ আমার সামনে জান্নাত ও জাহান্নাম উপস্থিত করা হয়। আজকের মতো ভাল এবং মন্দ আমি আর কখনো দেখিনি। আমি যা জানতে পেরেছি, তা যদি তোমরা জানতে, তবে তোমরা অবশ্যই খুবই কম হাসতে এবং বেশী কাঁদতে। আনাস (রাযিঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের উপর এর চাইতে বিভীষিকাময় কোন দিন আর আসেনি। তারা নিজেদের মাথা আবৃত করল এবং তাদের ভেতর হতে কান্নার আওয়াজ আসতে লাগল। আনাস (রাযিঃ) বলেন, তারপর উমার (রাযিঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, আমরা সন্তুষ্টচিত্তে আল্লাহকে রব, ইসলামকে দীন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নবী হিসেবে মেনে নিলাম। অতঃপর এক লোক দাঁড়িয়ে বলল, আমার পিতা কে? তিনি বললেনঃ তোমার পিতা অমুক। তখন এ আয়াত নাযিল হলোঃ “হে মু’মিনগণ! তোমরা সেসব ব্যাপারে জিজ্ঞেস করো না, যা উন্মোচিত হলে তোমরা বেদনার্ত হবে”— (সূরাহ্ আল মায়িদাহ ৫ঃ ১০১)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯০৭, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু মা'মার ইবনু রিব'বঈ কায়সী (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক লোক বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমার পিতা কে? তিনি বললেনঃ তোমার পিতা অমুক। আর তখনই নাযিল হয়ঃ হে মুমিনগণ! তোমরা সেসব ব্যাপারে জিজ্ঞেস করো না যা উন্মোচিত হলে তোমরা বেদনার্ত হবে”..... আয়াতের শেষাংশ পর্যন্ত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯০৮, ইসলামিক সেন্টার)
হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু হারমালাহ্ ইবনু ‘ইমরান তুজীবী (রহঃ) ...... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য ঢলে যাওয়ার পর বের হলেন এবং লোকদের নিয়ে যুহরের সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন। যখন সালাম ফিরালেন তখন মিম্বারে দাঁড়িয়ে কিয়ামতের আলোচনা করে বর্ণনা করলেন যে, এর পূর্বে বহু বড় বড় বিষয় ঘটবে। তারপর বললেনঃ তোমাদের মাঝে যে লোক আমাকে কোন ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতে চায় সে যেন ঐ সম্বন্ধে আমাকে জিজ্ঞেস করে। আল্লাহর শপথ! যতক্ষণ পর্যন্ত আমি এ স্থানে রয়েছি ততক্ষণ তোমরা আমাকে যে বিষয়েই জিজ্ঞেস করবে আমি তা বলে দিব। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) বলেন, এ কথা শুনে লোকেরা অনেক চিৎকার আরম্ভ করে দিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারবার বলতে থাকলেন, আমাকে জিজ্ঞেস করো। তখন আবদুল্লাহ ইবনু হুযাফাহ (রাযিঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, আমার পিতা কে? হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন; তোমার পিতা হুযাফাহ। তারপর যখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারবার বলতে থাকলেন, আমাকে জিজ্ঞেস করো। তখন উমার (রাযিঃ) হাঁটু গেড়ে বসে বললেন, সন্তুষ্টচিত্তে আমরা আল্লাহকে রব, ইসলামকে দীন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে রসূল হিসেবে মেনে নিয়েছি। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) বলেন, যখন উমার (রাযিঃ) এ কথা বললেন, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেমে গেলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বিপদ সন্নিকটবর্তী। মুহাম্মাদের জীবন যার হাতে তার শপথ! এ দেয়ালটির পাশে এখনই আমার সামনে জান্নাত ও জাহান্নাম দেখানো হয়েছে। অতএব, আজকের মতো ভাল এবং খারাবী আমি আর দেখিনি। ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উতবাহ আমাকে বলেছেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু হুযাফার মা আবদুল্লাহ ইবনু হুযাফাহকে বলেছেন, তোর চাইতে অধিক অবাধ্য কোন সন্তানের ব্যাপারে আমি শুনিনি। তুই কি এ কথা হতে নিশ্চিন্ত ছিলি যে, তোর মাও হয়ত এমন কোন পাপ করে বসেছে যা জাহিলী যুগের নারীরা করত, আর তুই তোর মাকে লোকদের সম্মুখে অপমান করতিস? আবদুল্লাহ ইবনু হুযাফাহ (রাযিঃ) জবাবে বললেন, আল্লাহর শপথ আমাকে যদি একটা কালো হাবশীর সঙ্গেও সম্পর্কিত করতেন তাহলে আমি তা মেনে নিতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯০৯, ইসলামিক সেন্টার)
আবদ ইবনু হুমায়দ ও আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান দারিমী (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) এর সানাদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। উবাইদুল্লাহর হাদীসটিও এর সাথে রয়েছে, তবে শু'আয়ব যুহরীর সূত্রে তিনি আবদুল্লাহ থেকে, তিনি জনৈক আহলে ইলম থেকে শুনেছেন— ‘আবদুল্লাহ ইবনু হুযাফার মা ইউনুসের হাদীসের অনুরূপ বলেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯১০, ইসলামিক সেন্টার)
ইউসুফ ইবনু হাম্মাদ মা’নী (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, লোকেরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করতে লাগল। এমনকি তারা তাকে প্রশ্ন করে জর্জরিত করে ফেলল, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে এসে মিম্বারে দাড়িয়ে বললেনঃ আমাকে প্রশ্ন করো, যে কোন ব্যাপারে তোমরা আমাকে প্রশ্ন করবে, আমি অবশ্যই তোমাদের নিকট তা বর্ণনা করে দিব। লোকেরা এ কথা শুনে তাকে জিজ্ঞেস করা হতে মুখ বন্ধ রাখল এবং ঘাবড়িয়ে গেল, না জানি সামনে কোন ঘটনা সামনে এসে পড়ে। আনাস (রাযিঃ) বলেন, আমি ডানে বামে দেখতে লাগলাম। সকল লোক স্ব স্ব মাথা আবৃত করে কান্নাকাটি করছিল। তখন মসজিদ হতে জনৈক ব্যক্তি উঠল যার সাথে ঝগড়া লাগলে তার পিতা ছাড়া অন্যের দিকে তাকে সম্পর্কিত করা হতো। সে বলল, হে আল্লাহর নবী! কে আমার পিতা? তিনি বললেন, তোমার পিতা হুযাফাহ। তারপর উমার (রাযিঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, (আমরা আন্তরিকতার সাথে) আল্লাহকে রব, ইসলামকে দীন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে রসূল হিসেবে মেনে নিলাম। আর আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি ফিতনার অকল্যাণ থেকে। তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আজকের মতো ভাল এবং খারাপ আমি কক্ষনো দেখিনি। আমার সামনে জান্নাত ও জাহান্নামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তাই আমি উভয়টিকে এ দেয়ালের পাশে দেখতে পাই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯১১, ইসলামিক সেন্টার)