ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যুহর ও আসরের সালাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কিয়ামের (দাঁড়ানোর) পরিমাণ নিরূপণ করার চেষ্টা করতাম। যুহরের প্রথম দুরাকাআতে তার কিয়ামের পরিমাণ ছিল সূরাহ "আলিফ, লাম, মীম, তানযীলুল সিজদা" পাঠ করার পরিমাণ সময়। তার পরবর্তী দু'রাক’আত আমরা তার কিয়ামের পরিমাণ নিরূপণ করেছি ঐ সূরার অর্ধেক পাঠ করার পরিমাণ সময়। আমরা আসরের দু'রাকাআতে তার কিয়ামের পরিমাণ নিরূপণ করেছি যুহরের শেষের দুরাকাআত তার কিয়ামের পরিমাণ সময়। আর আসরের শেষ দুরাকাআত তার কিয়ামের পরিমাণ ছিল— প্রথম দুরাকাআতের অর্ধেক পরিমাণ সময়। আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ তার বর্ণনায় সূরাহু "আলিফ লাম মীম তানযীলের" উল্লেখ করেননি। তিনি কিয়ামের পরিমাণ ত্রিশ আয়াত পাঠের পরিমাণ সময় উল্লেখ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৯৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
শাইবান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুহরের প্রথম দুরাকাআতে ত্রিশ আয়াত পরিমাণ পাঠ করতেন এবং শেষের দুরাকাআতের প্রতি রাকাআতে পনের আয়াত পরিমাণ পাঠ করতেন। অথবা (রাবীর সন্দেহ) তিনি (আবূ সাঈদ) বলেছেন, এর অর্ধেক পরিমাণ। তিনি ‘আসরের প্রথম দু'রাকাআতের প্রতি রাকাআতে পনের আয়াত পরিমাণ পাঠ করতেন এবং শেষের দু'রাকাআতে এর অর্ধেক পরিমাণ পাঠ করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৯৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুফার অধিবাসীরা (তাদের গভর্নর) সা'দ (রাযিঃ)-এর বিরুদ্ধে তার সালাত সম্পর্কে উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-এর কাছে অভিযোগ করল। উমার (রাযিঃ) তাকে ডেকে পাঠালেন। তিনি তার দরবারে উপস্থিত হলেন। উমার (রাযিঃ) তার সালাত সম্পর্কে উত্থাপিত অভিযোগ তাকে শুনালেন। সা'দ (রাযিঃ) বললেন, আমি তাদেরকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুরূপ সালাত আদায় করি। এতে কোনরূপ ত্রুটি করি না। আমি প্রথম দুরাকাআত দীর্ঘ করি এবং শেষের দুরাকাআত সংক্ষিপ্ত করি। উমার (রাযিঃ) বললেন, হে আবূ ইসহাক (সাদ) এটাই তোমার কাছে আশা করি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৯৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু সামুরার কাছে শুনেছি, তিনি বলেন, উমর (রাযিঃ) সা'দকে বললেন, তারা তোমার বিরুদ্ধে সব ব্যাপারেই অভিযোগ এনেছে; এমনকি সালাতের ব্যাপারেও। সা'দ (রাযিঃ) বললেন, আমি তো প্রথম দুরাকাআত লম্বা করে থাকি এবং পরবর্তী দুরাকাআত সংক্ষেপ করে থাকি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সালাত আদায়ের নিয়ম অনুসরণ করতে আমি মোটেও ত্রুটি করি না। 'উমার (রাযিঃ) বললেন, তোমার কাছে এটাই আশা করি। অথবা তিনি বলেছেন, তোমার সম্পর্কে আমার এটাই ধারণা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯০০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এতে আরো আছে, “সা'দ (রাযিঃ) বললেন, বেদুঈনরা আমাকে সালাত শিখাতে চায়?” (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯০১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
দাউদ ইবনু রুশায়দ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যুহরের সালাত শুরু হয়ে যেত। অতঃপর কোন ব্যক্তি প্রয়োজন (প্ৰস্ৰাব-পায়খানা) পূরণের জন্য বাকী নামক স্থানে যেত। সে নিজের প্রয়োজন সেরে ওযু করে এসে দেখত- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখনো প্রথম রাকাআতেই আছেন। তিনি সালাত এতটা লম্বা করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯০২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... কাযআহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সাঈদ আল-খুদরীর কাছে আসলাম, এ সময় তার কাছে অনেক লোক উপস্থিত ছিল। তারা তার কাছ থেকে চলে গেলে আমি তাকে বললাম, তারা আপনার কাছে যা জিজ্ঞেস করেছে আমি তা জিজ্ঞেস করব না। আমি বললাম, আমি আপনার কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করব। আবূ সাঈদ (রাযিঃ) বললেন, এটা জানার মধ্যে তোমার কোন কল্যাণ নেই। (কেননা, তুমি তার মতো সালাত পড়তে সক্ষম হবে না)। তিনি পুনর্বার তাই জানতে চাইলেন। তখন আবূ সাঈদ (রাযিঃ) বললেন, যুহরের সালাত শুরু হয়ে যাওয়ার পর আমাদের কোন ব্যক্তি বাকী' নামক স্থানে যেত। সে নিজের প্রয়োজন সেরে নিজ বাড়ীতে এসে ওযু করে পুনরায় মসজিদে যেত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখনো প্রথম রাকআতেই থাকতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯০৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হারূন ইবনু আবদুল্লাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) .... আবদুল্লাহ ইবনু সায়িব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে মক্কায় ভোরের (ফজরের) সালাত আদায় করলেন। তিনি সূরাহ আল মু'মিনূন পড়া শুরু করলেন। তিনি তা পড়তে পড়তে মূসা ও হারূন (আঃ) অথবা ঈসা (আঃ)-এর আলোচনা সম্পর্কিত আয়াতে পৌছে গেলেন। (এ ব্যাপারে মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ সন্দেহে পড়ে গেছেন অথবা রাবীদের মধ্যে মতভেদের সৃষ্টি হয়েছে)। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাশি আসলে তিনি রুকূ’তে চলে গেলেন। আবদুল্লাহ ইবনু সায়িবও সালাতে উপস্থিত ছিলেন। আবদুর রাযযাকের বর্ণনায় রয়েছে, তিনি কিরাআত পাঠ থামিয়ে দিয়ে রুকু’তে চলে গেলেন। তিনি তার বর্ণনায় 'আবদুল্লাহ ইবনু "আমরের নাম উল্লেখ করেছেন, কিন্তু ইবনুল আস এর নাম উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯০৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)