মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ঈদের সালাত আদায় করতে বের হতেন, একটি বর্শা সাথে নেয়ার জন্য নির্দেশ দিতেন। এটা তার সামনে দাঁড় করে রাখা হত এবং তিনি এর দিকে ফিরে সালাত আদায় করতেন। উপস্থিত লোকেরা তার পিছনে থাকত। তিনি সফরে থাকাকালীন সময়েও এমন করতেন। তার পরবর্তী সময়ের শাসকগণও এটাকে সুতরাহ্ হিসেবে ব্যবহার করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আওন ইবনু আবূ জুহাইফাহ (রাযিঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (জুহাইফাহ) বলেন, আমি মক্কায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে আসলাম। তিনি তখন আব্তাহ (মুহাসসাব) নামক স্থানে লাল চামড়ার তৈরি একটি তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন। রাবী বলেন, বিলাল (রাযিঃ) তার উয়ুর পানি নিয়ে আসলেন। কেউ পানি পেল, কেউ পেল না- সে অন্যের কাছ থেকে সামান্য নিয়ে নিল*। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বের হয়ে আসলেন। তার গায়ে লাল রং এর চাঁদর শোভা পাচ্ছিল। আমি যেন তার পায়ের গোছার শুভ্রতা এখনো দেখতে পাচ্ছি। তিনি ওযু করলেন এবং বিলাল (রাযিঃ) আযান দিলেন। আমি তার (বিলালের) অনুসরণ করে এদিকে-ওদিক মুখ ঘুরাতে লাগলাম। সে ডানে বায়ে মুখ ঘুরিয়ে "হাইয়্যা আলাস সলাহ" ও "হাইয়্যা 'আলাল ফালাহ" বলল। রাবী বলেন, অতঃপর একটি বর্শা দাঁড় করিয়ে পুতে দেয়া হলো। তিনি সামনে অগ্রসর হয়ে যুহরের দু'রাকাআত (ফরয) সালাত আদায় করলেন। তার (সুত্রার) সামনে দিয়ে গাধা, কুকুর ইত্যাদি যাচ্ছিল কিন্তু তিনি বাধা দিলেন না। অতঃপর তিনি 'আসরের ফরয সালাতও দু'রাকাআত পড়লেন। মদীনায় ফিরে আসার সময় পর্যন্ত তিনি এভাবে দু'রাকাআত করে সালাত আদায় করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০০০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আওন ইবনু আবূ জুহাইফাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তার পিতা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে লাল চামড়ার তৈরি তাবুর মধ্যে দেখতে পেলেন। আমি (আবূ জুহাইফাহ) বিলালকে তার ওযুর অবশিষ্ট পানি নিয়ে বের হয়ে আসতে দেখলাম। যারা তা পেল তারা নিজেদের শরীরে তা মাখল। আর যারা তা পায়নি তারা নিজেদের সাথীদের ভেজা হাতের স্পর্শ লাভ করল। অতঃপর আমি দেখলাম, বিলাল একটি বর্শা বের করে এনে তা মাটিতে পুঁতে দিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লাল এক জোড়া চাঁদর পরিধান করে তা পায়ের গোছা পর্যন্ত উচু করে বের হলেন। অতঃপর তিনি বর্শাটি সামনে রেখে লোকদের নিয়ে দু'রাকাআত ফরয সালাত আদায় করলেন। আমি বর্শার বহিরাংশ দিয়ে মানুষ এবং চতুষ্পদ জন্তু অতিক্রম করতে দেখলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০০১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইসহাক ইবনু মানসূর, আবদ ইবনু হুমায়দ ও কাসিম ইবনু যাকারিয়্যা (রহঃ) ..... আওন ইবনু আবূ জুহাইফাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি তার পিতার সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। মালিক ইবনু মিগওয়াল-এর বর্ণনায় আছেঃ যখন দুপুর হলো, বিলাল (রাযিঃ) এসে সালাতের জন্য আযান দিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০০২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও মুহাম্মাদ বিন বাশশার (রহঃ) ..... আবূ জুহাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুপুর বেলা (তাবু থেকে বের হয়ে) মাঠের দিকে গেলেন, অতঃপর ওযু করলেন। অতঃপর তিনি যুহরের সময়ের দু'রাকাআত এবং আসরের সময়েরও দু'রাকাআত সালাত আদায় করলেন। তার সামনে একটি বর্শা ছিল। শু'বাহ বলেন, ‘আওন তার পিতা আবূ জুহাইফাহ (রাযিঃ)-এর সূত্রে আরো বর্ণনা করেছেন যে, বর্শার অপরদিক দিয়ে মহিলা এবং গাধা অতিক্রম করছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০০৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
যুহায়র ইবনু হারব ও মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... শু'বাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি এ সূত্রে উপরোল্লিখিত সূত্রদ্বয়ের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। হাকাম-এর বর্ণনায় আরো আছেঃ লোকেরা তার ওযুর অবশিষ্ট পানি (গায়ে মাখার জন্য বারাকাত স্বরূপ) নিতে লাগল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০০৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)