আবুত তহির ও হারমালাহ্ (রহঃ) ...... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আবুত তাহির এর বর্ণনায়أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ এবং হারমালা এর বর্ণনায় أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ زَعَمَ উল্লেখিত হয়েছে। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রসুন ও পিয়াজ খায় তার উচিত আমাদের থেকে দূরে থাকা অথবা আমাদের মসজিদ থেকে সরে থাকা কিংবা বাড়ীতে বসে থাকা। কোন এক সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে শাক-সবজি ভর্তি একটি ডেকচি আনা হলে তিনি তাতে খাবার গন্ধ দেখে তাতে কি আছে জানার জন্য জিজ্ঞেস করলেন। তাতে কি ধরনের সবজি আছে তাকে তা জানানো হলে তিনি তখন তার কোন সাহাবীর কাছে তা নিয়ে যেতে বললেন। এ কথা জেনে সাহাবীও তা খাওয়া পছন্দ করলেন না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন তুমি খেতে পার। কারণ আমি যার (মালায়িকাহ) সাথে কথা বলি তোমাকে তো তার সাথে কথা বলতে হয় না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৩৩, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... ইবনু জুরায়জ (রহঃ) থেকে একই সানাদে বর্ণিত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এসব সবজি জাতীয় গাছ অর্থাৎ- রসুন খাবে সে যেন আমার মসজিদে- আমাদের কাছে না আসে। তবে তিনি (ইবনু জুরায়জ) বর্ণিত হাদীসে পিয়াজ ও গো-রসুনের কথা উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৩৫, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1256 — Sahih Muslim 5:94
وَحَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ لَمْ نَعْدُ أَنْ فُتِحَتْ، خَيْبَرُ فَوَقَعْنَا أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي تِلْكَ الْبَقْلَةِ الثُّومِ وَالنَّاسُ جِيَاعٌ فَأَكَلْنَا مِنْهَا أَكْلاً شَدِيدًا ثُمَّ رُحْنَا إِلَى الْمَسْجِدِ فَوَجَدَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الرِّيحَ فَقَالَ " مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ الْخَبِيثَةِ شَيْئًا فَلاَ يَقْرَبَنَّا فِي الْمَسْجِدِ " . فَقَالَ النَّاسُ حُرِّمَتْ حُرِّمَتْ . فَبَلَغَ ذَاكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّهُ لَيْسَ بِي تَحْرِيمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لِي وَلَكِنَّهَا شَجَرَةٌ أَكْرَهُ رِيحَهَا " .
আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খায়বার বিজিত হলো। আমরা এখনো ফিরে আসিনি। ইতোমধ্যে আমরা, অর্থাৎ- রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ ঐ সবজি অর্থাৎ— রসুনের উপর ঝাপিয়ে পড়লাম। কারণ লোকজন সবাই ছিল ক্ষুধার্ত। এরপর আমরা মসজিদে গেলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রসুনের গন্ধ পেয়ে বললেনঃ যে ব্যক্তি এ কদৰ্য গাছ তথা সবজি খাবে সে যেন মসজিদে আমাদের নিকটেও না আসে। এ কথা শুনে সবাই বলতে শুরু করল রসুন হারাম হয়ে গিয়েছে। রসুন হারাম হয়ে গিয়েছে। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এ খবর পৌছলে তিনি লোকজনকে সাক্ষ্য করে বললেনঃ হে লোক সকল! আমার জন্য আল্লাহ তা'আলা যা হালাল করে দিয়েছেন তা হারাম করার ক্ষমতা আমার নেই। তবে রসুন এমন একটি সবজি (গাছ) যার গন্ধ আমি অপছন্দ করি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৩৬, ইসলামীক সেন্টার)
হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী ও আহমাদ ইবনু ঈসা (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি পিয়াজের ক্ষেতে গেলেন। সাথে তার সাহাবীগণও ছিলেন। কিছু সংখ্যক সাহাবী ঐ ক্ষেতের পিয়াজ খেলেন এবং অবশিষ্ট সাহাবীগণ খেলেন না। এরপর আমরা সবাই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম। কিন্তু যারা পিয়াজ খেয়েছিলেন না তিনি তাদেরকে প্রথমে কাছে ডেকে নিলেন। আর অন্যদেরকে যারা পিয়াজ খেয়েছিল পিয়াজের গন্ধ দূর না হওয়া পর্যন্ত কাছে ডাকলেন না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৩৭, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... মা'দান ইবনু আবূ ত্বলহাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেছেনঃ) কোন এক জুমুআর দিন উমর ইবনুল খাত্ত্বাব খুতবাহ প্রদান করলেন। সে বক্তৃতায় তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বাকরের কথা উল্লেখ করে বললেনঃ আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন একটি মোরগ আমাকে তিনটি ঠোকর দিল। আমি মনে করি এ স্বপ্নের অর্থ আমার মৃত্যু নিকটবর্তী হওয়া ছাড়া অন্য কিছু নয়। কিছু সংখ্যক লোক বলছে আমি যেন পরবর্তী খালীফাহ্ মনোনীত করে যাই (কিন্তু আমি যদি পরবর্তী খালীফাহ্ মনোনীত না করেও যাই তাহলেও কোন ক্ষতি নেই)। কেননা, (আমি বিশ্বাস করি) মহান আল্লাহ এ দীনকে এবং তার খিলাফাত ব্যবস্থাকে বরবাদ করবেন না। কিংবা যা দিয়ে তিনি তার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে পাঠিয়েছি তাও ব্যর্থ করে দিবেন না। খুব শীঘ্রই যদি আমার মৃত্যু হয় তাহলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তিকালের সময় পর্যন্ত যাদের প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন তাদের এ ছয়জনের* মধ্যে থেকে পরামর্শের ভিত্তিতে খিলাফাতের ব্যাপারে ফায়সালা হবে। আমি জানি কিছু সংখ্যক লোক এ ব্যাপারে ইসলামের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করে। আমি তাদের এ জন্য আমার নিজের এ হাতে শাস্তি দিয়েছি এরপরে আবারও যদি তারা অনুরূপ কাজ করে (এ ব্যাপারে ইসলামের বদনাম করে) তাহলে তারা আল্লাহর শক্র, কাফির ও গোমরাহ। এছাড়া আরো একটি বিষয় আছে আমার পরে আমার দৃষ্টিতে কালালাহ বা উত্তরাধিকারবিহীন লোকের পরিত্যক্ত সম্পদের বিষয় ছাড়া সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ আর কোন বিষয়ই রেখে যাচ্ছি না। (জেনে রেখো!) আমি কালালাহ বা উত্তরাধিকারবিহীন লোকের পরিত্যক্ত সম্পদ সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে যত বেশি জিজ্ঞেস করেছি অন্য কোন বিষয় সম্পর্কে এত জিজ্ঞেস করিনি আর তিনিও এ বিষয়ে আমাকে যত কঠোরভাবে বলেছেন আর কোন বিষয়েই তত কঠোরভাবে বলেননি। এমনকি তিনি আমার বুকের উপর তার আঙ্গুল ঠেসে ধরে বলেছেনঃ হে উমার! সূরাহ আন নিসার শেষের যে আয়াতটি গ্রীষ্মকালে অবতীর্ণ হয়েছিল (এ ব্যাপারে) সে আয়াতটিই কি তোমার জন্য যথেষ্ট নয়? আমি যদি আরো কিছু দিন বেঁচে থাকতাম তাহলে এ বিষয়ে (কালালাহ) এমন একটি ফায়সালা করতাম যা প্রত্যেকের মনের মতো হত। চাই সে কুরআন মাজীদ পড়ে থাকুন বা না পড়ে থাকুক। তিনি [উমার (রাযিঃ) বললেনঃ হে আল্লাহ! আমি তোমাকে বিভিন্ন জনপদের উমারাদের (শাসনকর্তা) ব্যাপারে সাক্ষী রেখে বলছি, আমি তাদের উদ্দেশ্য ঐসব এলাকার লোকদের শাসনকর্তা করে পাঠিয়েছি যে তারা তাদের প্রতি ন্যায় বিচার করবে, লোকদের দীন সম্পর্কে শিক্ষাদান করবে, নবীর সুন্নাত সম্পর্কে অবহিত করবে এবং "ফাই" বা যুদ্ধের ময়দানে বিনাযুদ্ধে লব্ধ সম্পদ (সঠিকভাবে) বন্টন করে দিবে। আর তাদের কোন ব্যাপার কঠিন বা সমস্যাপূর্ণ হলে তা আমার কাছে জেনে নিবে। হে লোকজন! আরেকটি কথা হলো, তোমরা দুটি (সবজি জাতীয়) গাছ খেয়ে থাকো; অর্থাৎ- পিয়াজ ও রসুন। আমি এ দুটি জিনিসকে অরুচিকর বলে মনে করি। আমি দেখেছি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের কোন লোকের মুখ থেকে ঐ দু'টি জিনিসের গন্ধ পেলে তাকে বের করে দিতে আদেশ করতেন। আর তাদেরকে বাকীর দিকে বের করে দেয়া হত। তবে কেউ এ দুটি জিনিস (পিয়াজ ও রসুন) খেতে চাইলে যেন রান্না করে গন্ধ দূর করে নেয়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৩৮, ইসলামীক সেন্টার)
আবুত তহির আহমাদ ইবনু 'আম্র (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ কোন লোককে মসজিদের মধ্যে হারানো কোন জিনিস খোঁজ করতে দেখলে (অর্থাৎ- উচ্চস্বরে) যেন বলেঃ আল্লাহ করুন! তোমার জিনিস যেন তুমি না পাও। কারণ মাসজিদ তো এ উদ্দেশে তৈরি করা হয়নি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৪১, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1261 — Sahih Muslim 5:99
وَحَدَّثَنِيهِ زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا الْمُقْرِئُ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الأَسْوَدِ، يَقُولُ حَدَّثَنِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ، مَوْلَى شَدَّادٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ . بِمِثْلِهِ .
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি। পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৪১, ইসলামীক সেন্টার)
হাজ্জাজ বিন শাইর (রহঃ) ..... বুরায়দাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (বুরায়দাহ) বলেন, জনৈক ব্যক্তি মসজিদে হারানো জিনিস অনুসন্ধান করল। সে বলল, লাল বর্ণের উটের প্রতি কে ঘোষণা জানাল? অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি যেন তোমার হারানো জিনিস না পাও। কেননা মসজিদ তো মসজিদের কাজের জন্য বানানো হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৪২, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1263 — Sahih Muslim 5:101
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ أَبِي سِنَانٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمَّا صَلَّى قَامَ رَجُلٌ فَقَالَ مَنْ دَعَا إِلَى الْجَمَلِ الأَحْمَرِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لاَ وَجَدْتَ إِنَّمَا بُنِيَتِ الْمَسَاجِدُ لِمَا بُنِيَتْ لَهُ " .
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... বুৱায়দাহ (রযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (বুরায়দাহ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত আদায় শেষ হলে জনৈক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, লোহিত বর্ণের উটের কথা কে বলল? এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যেন তা (তোমার হারানো বস্তুটি) না পাও। কারণ মাসজিদ মসজিদের কাজের জন্য নির্মিত হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৪৩, ইসলামীক সেন্টার)