উবায়দুল্লাহ ইবনু উমার আল কাওয়ারীরী, আবূ কামিল এবং মুহাম্মাদ আবদুল মালিক আল আল উমাবী (রহঃ) ..... মুন্যির ইবনু জারীর (রাযিঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বসা ছিলাম। এ সময় চামড়ার আবা পরিহিত একদল লোক আসলেন ..... পূর্বের হাদীসের অনুরূপ। এতে আরো আছে, অতঃপর তিনি যুহরের সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন। অতঃপর ছোট একটি মিম্বারে উঠে আল্লাহ তা’আলার প্রশংসা ও গুণগান করলেন। অতঃপর বললেন, আল্লাহ তা'আলা তার কিতাবে নাযিল করেছেন- “হে মানব গোষ্ঠী! তোমরা তোমাদের প্রভুকে ভয় কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২২২, ইসলামীক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, পশমী কাপড় পরিহিত অবস্থায় গ্রাম থেকে কয়েক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসল। তিনি তাদের দুরবস্থা দেখেন। তারা অভাব অনটনে নিমজ্জিত আছে। হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বের হাদীসসমূহের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২২৩, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন ও বিশর ইবনু খালিদ (রহঃ) ..... আবূ মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বোঝা বহনকারী শ্রমিক ছিলাম, আমাদেরকে দান-খয়রাত করার জন্য নির্দেশ দেয়া হলো। অতঃপর আবূ আকীল অর্ধ সা' সদাকাহ করল এবং আরেক ব্যক্তি এর চেয়ে কিছু বেশী নিয়ে আসল। মুনাফিকরা বলতে লাগল আল্লাহর কাছে সামান্য দানের কোন মূল্য নেই এবং তিনি এর মুখাপেক্ষী নন। আর দ্বিতীয় ব্যক্তি (আবূ আকীল) শুধু লোক দেখানোর উদ্দেশেই দান করেছেন। অতঃপর এ আয়াত নাযিল হলোঃ "যারা বিদ্রুপ করে স্বেচ্ছায় ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সদাকাহ্ প্রদানকারী মুমিনদেরকে, আর তাদেরকে যাদের পরিশ্রমিক ছাড়া কোন আয় বা সামর্থ নেই”- (সূরা আত্ত্বওবা ৯ঃ ৭৯)। বিশরের বর্ণনায় مُطَّوِّعِينَ শব্দটি নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২২৪, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার ও ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... শু'বাহ (রাযিঃ) থেকে এ সূত্রে এ হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। সাঈদ ইবনু রবী এর বর্ণনায় আছেঃ আবূ মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, আমরা পিঠে করে বোঝা বহন করতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২২৫, ইসলামীক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেনঃ "যে ব্যক্তি কোন পরিবারকে এমন একটি উষ্ট্ৰী দান করে যা সকাল ও সন্ধ্যা বড় একটি পাত্র ভর্তি দুধ দেয়, এর বিনিময়ে তার অনেক সাওয়াব হয়।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২২৬, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ ইবনু আবূ খালাফ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি কিছু সংখ্যক কাজ ও অভ্যাস পরিত্যাগের নির্দেশ দান করলেন। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি মানীহাহ্ (অর্থাৎ দুগ্ধবতী জন্তু বিনামূল্যে দুধ পানের জন্য) দান করে, সকাল সন্ধ্যায় যখনই এর দুধ পান করা হয় তখনই সে একটি করে সদাকার সাওয়াব লাভ করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২২৭, ইসলামীক সেন্টার)
আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ খরচকারী ও দান-খয়রাতকারী (এখানে বর্ণনাকারীর ভুল হয়ে গেছে সঠিক কথা হলো- কৃপণ ও সদাকাকারীর) উদাহরণ ঐ ব্যক্তির ন্যায় যার পরনে দুটি জামা অথবা দুটি বর্ম রয়েছে (বর্ম সম্পর্কে বর্ণনাকারী বলেন, যখন সদাকাকারী সদাকাহ দিতে ইচ্ছে করে) তখন ঐ বর্ম প্রশস্ত হয়ে যায় এবং তার সমস্ত শরীরে ছেয়ে যায়। আর যখন কৃপণ ব্যক্তি ব্যয় করতে চায় তখন ঐ বর্ম তার জন্য সঙ্কীর্ণ হয়ে এবং বর্মের পরিধি স্ব-স্ব স্থানে কমে যায়। এমনকি তার সব গ্রন্থিগুলো আবৃত করে ফেলে এবং তার পায়ের চিহ্নগুলোও মুছে ফেলে। বর্ণনাকারী বলেন, আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) তার বর্ণিত হাদীসে বলেছেন, “অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সে তা প্রশস্ত করতে চায় কিন্তু প্রশস্ত হয় না।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২২৮, ইসলামীক সেন্টার)
সুলায়মান ইবনু উবায়দুল্লাহ আবূ আইয়ুব আল গায়লানী (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কৃপণ ও দাতার উদাহরণ দিতে গিয়ে এমন দু' ব্যক্তির উল্লেখ করেন যাদের গায়ে রয়েছে দুটি লৌহবর্ম। এর কারণে তাদের দু' হাত তাদের বুকের ও গলার হাসুলির সাথে লেগে গেছে। অতঃপর দাতা যখন দান করতে চায় ঐ বর্ম প্রশস্ত হয়ে যায় এবং তার গ্রন্থগুলো আবৃত করে ফেলে। এমনকি তার পদচিহ্নকেও মুছে দেয়, আর কৃপণ ব্যক্তি যখন দান করতে চায় তখন তার বর্ম সংকুচিত হয়ে কষে যায় এবং এর প্রতিটি কড়া নিজ নিজ স্থানে ফেঁসে যায়। বর্ণনাকারী বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তার হাত দিয়ে জামার কলারের দিকে ইঙ্গিত করতে দেখেছি। আর যদি তোমরা তাকে দেখতে তাহলে সে বলত, প্রশস্ত করতে চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু ঐ বর্ম প্রশস্ত হচ্ছিল না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২২৯, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কৃপণ ও দানশীলদের উদাহরণ হচ্ছে এমন দু' ব্যক্তির মতো যাদের পরনে দু'টাে লৌহবর্ম রয়েছে। অতঃপর দানশীল ব্যক্তি যখন দান করার ইচ্ছা করল তার বর্ম প্রশস্ত হয়ে গেল এমনকি তার পায়ের চিহ্ন পর্যন্ত মুছে ফেলতে লাগল। কিন্তু যখন কৃপণ ব্যক্তি দান করার ইচ্ছা করল তখন তা সঙ্কীর্ণ হয়ে গেল এবং তার হাত গলার সাথে আটকে পড়ল আর প্রতিটি গ্রন্থি অপরটির সাথে কষে গেল। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি। তারপর সে তা প্রশস্ত করার চেষ্টা করে কিন্তু তা করতে সক্ষম হয় না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৩০, ইসলামীক সেন্টার)
সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এক ব্যক্তি বলল, আমি আজ রাতে কিছু দান-খয়রাত করব। অতঃপর সে সদাকাহ নিয়ে বের হয়ে এক যিনাকারীকে তা অর্পণ করল। ভোরে লোকেরা বলাবলি করতে লাগল যে, আজ রাতে এক ব্যক্তি যিনাকারীকে দান-খয়রাত করেছে। অতঃপর সে ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা তোমার জন্য। আমার প্রদত্ত সদাকাহ তো যিনাকারীর হাতে গিয়ে পড়েছে। এরপর সে (আবার) বলল, আজ আমি আরো কিছু সদাকাহ করব। অতঃপর সে তা নিয়ে বের হয়ে এক ধনী লোকের হাতে অর্পণ করল। লোকজন ভোরে আলাপ করতে লাগল যে, আজ রাতে কে যেন এক ধনী লোককে সদাকাহ দিয়ে গেছে। সে বলল, হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা তোমার জন্য। আমার সদাকাহ তো ধনীর হাতে গিয়ে পড়েছে। তারপর সে পুনরায় বলল, আমি আজ রাতে কিছু সদাকাহ দিব। সদাকাহ নিয়ে বের হয়ে সে এক চোরের হাতে অৰ্পণ করল। অতঃপর সকালে লোকজন বলাবলি করতে লাগল। আজ রাতে কে যেন চোরকে সদাকাহ দিয়েছে। সে বলল, হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা তোমারই। আমার প্রদত্ত সদাকাহ যিনাকারী, ধনী ও চোরের হাতে পড়ে গেছে। অতঃপর এক ব্যক্তি (মালাক বা সে যুগের কোন নবী) এসে তাকে বলল, তোমার প্রদত্ত সকল সদাকাহ্ই কবুল হয়েছে। যিনাকারীকে দেয়া সদাকাহ কবুল হওয়ার কারণ হলো- সম্ভবতঃ সে ঐ রাতে যিনা থেকে বিরত ছিল (কেননা সে পেটের জ্বালায় এ কাজ করত) ধনী ব্যক্তিকে যে সদাকাহ দেয়া হয়েছিল তা কবুল হওয়ার কারণ হলো ধনী ব্যক্তি এতে লজ্জিত হয়ে হয়ত নাসীহাত গ্রহণ করেছে এবং আল্লাহর দেয়া সম্পদ থেকে সেও দান করবে বলে সঙ্কল্প করেছে। আর চোরকে দেয়া সদাকাহ কবুল হওয়ার কারণ হলো সম্ভবতঃ সে ঐ রাতে চুরি থেকে বিরত ছিল। কেননা সেও পেটের তাগিদে চুরি করত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৩১, ইসলামীক সেন্টার)