আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ, আবূ আমির আল আশ'আরী, ইবনু নুমায়র, আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ মূসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে মুসলিম আমানতদার কোষাধ্যক্ষ নির্দেশ মুতাবিক যথাযথভাবে হুকুম পালন করে বা দান করে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রাপককে পূর্ণমাত্রায় দান করে, সেও জনৈক দাতা হিসেবে গণ্য, অর্থাৎ সেও মূল মালিকের সমপরিমাণ সাওয়াব লাভ করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৩২, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, যুহায়র ইবনু হারব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কোন স্ত্রীলোক ক্ষতির মনোভাব না নিয়ে স্বামীর ঘরের খাদ্যদ্রব্য দান করে, সে তার দানের সাওয়াব পাবে এবং তার স্বামীও তার উপার্জনের সাওয়াব পাবে। অনুরূপভাবে এ সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণকারীও মালিকের সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে। এতে একজনের দ্বারা অপরজনের প্রাপ্য সাওয়াব মোটেও কমবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৩৩, ইসলামীক সেন্টার)
ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... মানসূর (রহঃ) এর সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে “তার ঘরে খাদ্যশস্যের” পরিবর্তে তার “স্বামীর খাদ্যশস্যের" কথা উল্লেখ আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ২২৩৪, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনরূপ ক্ষতির মনোভাব ছাড়া স্ত্রী যখন তার স্বামীর ঘর থেকে খরচ করে, স্বামী স্ত্রী উভয়েই এর সমান সাওয়াব লাভ করে। স্বামী সাওয়াব পায় তার উপার্জনের জন্য এবং স্ত্রী সাওয়াব পায় তার দানের জন্য। অনুরূপভাবে কোষাধ্যক্ষও সাওয়াব পাবে। তবে এদের সাওয়াব লাভের কারণে পরস্পরের সাওয়াবের কোন কমতি হবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৩৫, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, ইবনু নুমায়র ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ লাহম-এর [আবদুল্লাহ (রাযিঃ)] আযাদকৃত গোলাম 'উমায়র (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ছিলাম ক্রীতদাস। তাই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলাম, আমি কি আমার মালিকের সম্পদ থেকে কিছু দান করতে পারি? তিনি বললেন, হ্যাঁ; আর তোমরা দু’জনেই এর অর্ধেক সাওয়াব পাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৩৭, ইসলামীক সেন্টার)
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবূ লাহম (রাযিঃ) এর মুক্ত গোলাম উমায়র (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার মালিক আমাকে গোশত শুকানোর জন্য নির্দেশ দিলেন। আমার কাছে জনৈক মিসকীন আসলো। আমি তাকে এ থেকে খাওয়ার জন্য দিলাম। এটা টের পেয়ে আমার মালিক আমাকে মারধর করলেন। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে তাকে ব্যাপারটি জানালাম। তিনি তাকে ডেকে এনে বললেন, তুমি একে মারলে কেন? আমার মালিক বলেন, আমার খাদ্যদ্রব্য আমার অনুমতি ছাড়াই সে দান করে। তিনি বলেন, তোমরা দু’জনেই এর সমান সাওয়াব পাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৩৮, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2370 — Sahih Muslim 12:107
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَصُمِ الْمَرْأَةُ وَبَعْلُهَا شَاهِدٌ إِلاَّ بِإِذْنِهِ وَلاَ تَأْذَنْ فِي بَيْتِهِ وَهُوَ شَاهِدٌ إِلاَّ بِإِذْنِهِ وَمَا أَنْفَقَتْ مِنْ كَسْبِهِ مِنْ غَيْرِ أَمْرِهِ فَإِنَّ نِصْفَ أَجْرِهِ لَهُ " .
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করলেন। তার একটি এই যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ছাড়া স্ত্রী যেন (নাফল) রোযা না রাখে। তার উপস্থিতিতে তার অনুমতি ছাড়া সে যেন তার ঘরে প্রবেশ করার জন্য অন্য কাউকে অনুমতি না দেয়। তার (স্বামীর) নির্দেশ ছাড়া সে তার উপার্জিত সম্পদ থেকে যা কিছু দান করবে তাতেও সে (স্বামী) অর্ধেক সাওয়াব পাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৩৯, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ ত্বাহির ও হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া আত তুজীবী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি নিজ সম্পদ থেকে আল্লাহর রাস্তায় জোড়া খরচ করে জান্নাতে তাকে এই বলে ডাকা হবে যে, ওহে আল্লাহর বান্দা! এখানে আসো, এখানে তোমার জন্য উত্তম ও কল্যাণ রয়েছে। যে ব্যক্তি নামাযী তাকে সালাতের দরজা দিয়ে ডাকা হবে, যে ব্যক্তি মুজাহিদ তাকে জিহাদের দরজা দিয়ে ডাকা হবে। সদাকাহ দানকারীকে সদাকার দরজা দিয়ে ডাকা হবে এবং রোযাদারকে রোযার দরজা রাইয়্যান দিয়ে ডাকা হবে। আবূ বাকর (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! কোন ব্যক্তিকে সবগুলো দরজা দিয়ে ডাকা হবে কি? অর্থাৎ এমন কোন ব্যক্তি হবে কি যাকে সবগুলো দরজা দিয়েই ডাকা হবে? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন হ্যাঁ, আর আমি আশা করি তুমিই হবে তাদের মধ্যে সে ব্যক্তি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৪০, ইসলামীক সেন্টার)