মুহাম্মাদ ইবনু রাফি ও মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জোড়ায় খরচ করবে জান্নাতের দরজাগুলোর প্রত্যেক কোষাধ্যক্ষ তাকে ডেকে বলবে, হে অমুক! এখানে আসো, এখানে আসো। আবূ বাকর (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! যাকে এভাবে সবগুলো দরজা থেকে ডাকা হবে সে অসুবিধায় পড়ে যাবে না তো? তার কোন প্রকার অনিষ্টের সম্ভাবনা নেই তো? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি নিশ্চিতই আশা করি তুমিই হবে তাদের সে ব্যক্তি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৪২, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2374 — Sahih Muslim 12:111
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، - يَعْنِي الْفَزَارِيَّ - عَنْ يَزِيدَ، - وَهُوَ ابْنُ كَيْسَانَ - عَنْ أَبِي حَازِمٍ الأَشْجَعِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَصْبَحَ مِنْكُمُ الْيَوْمَ صَائِمًا " . قَالَ أَبُو بَكْرٍ رضى الله عنه أَنَا . قَالَ " فَمَنْ تَبِعَ مِنْكُمُ الْيَوْمَ جَنَازَةً " . قَالَ أَبُو بَكْرٍ رضى الله عنه أَنَا . قَالَ " فَمَنْ أَطْعَمَ مِنْكُمُ الْيَوْمَ مِسْكِينًا " . قَالَ أَبُو بَكْرٍ رضى الله عنه أَنَا . قَالَ " فَمَنْ عَادَ مِنْكُمُ الْيَوْمَ مَرِيضًا " . قَالَ أَبُو بَكْرٍ رضى الله عنه أَنَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا اجْتَمَعْنَ فِي امْرِئٍ إِلاَّ دَخَلَ الْجَنَّةَ " .
ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আজ তোমাদের মধ্যে কে রোযা রেখেছে? আবূ বাকর (রাযিঃ) বললেন, আমি। তিনি বললেন, আজ তোমাদের মধ্যে কে জানাযার সাথে গেছে? আবূ বাকর (রাযিঃ) বললেন, আমি। তিনি বললেন, আজ তোমাদের মধ্যে কে মিসকীনকে খাবার দিয়েছে? আবূ বাকর (রাযিঃ) বললেন, আমি। তিনি বললেন, আজ তোমাদের মধ্যে কে রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে গেছে? আবূ বাকর (রাযিঃ) বললেন, আমি। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যখন কোন ব্যক্তির মধ্যে এসব কাজের সমাবেশ ঘটে, সে অবশ্যই জান্নাতে যাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৪৩, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2375 — Sahih Muslim 12:112
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حَفْصٌ، - يَعْنِي ابْنَ غِيَاثٍ - عَنْ هِشَامٍ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْمُنْذِرِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، - رضى الله عنها - قَالَتْ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَنْفِقِي - أَوِ انْضَحِي أَوِ انْفَحِي - وَلاَ تُحْصِي فَيُحْصِيَ اللَّهُ عَلَيْكِ " .
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... আবূ বকরের কন্যা আসমা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ খরচ করো তবে কত খরচ করলে তা গুণে রেখো না। তাহলে আল্লাহ তা'আলা তোমাকে গুণে গুণে দিবেন। (অর্থাৎ কম দিবেন) (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৪৪, ইসলামীক সেন্টার)
আমর আন নাকিদ, যুহায়র ইবনু হারব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আসমা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ খরচ করো আর কত খরচ করলে তার হিসাব রেখো না। আর যদি তাই কর তাহলে আল্লাহ তা'আলাও তোমাদেরকে গুণে গুণে দিবেন। আর জমা করে রেখো না তাহলে আল্লাহ জমা করে রাখবেন। (অর্থাৎ আল্লাহ তোমাকে দিবেন না) (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৪৫, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2377 — Sahih Muslim 12:114
وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ حَمْزَةَ، عَنْ أَسْمَاءَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهَا نَحْوَ حَدِيثِهِمْ .
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... আবূ বাকরের কন্যা আসমা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল যুবায়র আমাকে যা কিছু দেয়, এছাড়া আমার কাছে আর কোন মালামাল নেই। আমি যদি এ থেকে দান করি তাহলে আমার কি গুনাহ হবে? তিনি বললেন, তুমি তোমার সামর্থ্য অনুযায়ী দান কর; কিন্তু পুঞ্জীভূত করে রেখে না। যদি জমা করে রাখ তাহলে আল্লাহ জমা করে রাখবেন। তোমাকে দিবেন না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৪৭, ইসলামীক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তা'আলা এমন একদিন (কিয়ামতের দিন) তার (আরশের) ছায়াতলে আশ্রয় দিবেন, যেদিন তার ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া অবশিষ্ট থাকবে না। (১) ন্যায়পরায়ণ ইমাম (জনগণের নেতা), (২) ঐ যুবক, যে আল্লাহ তা'আলার ইবাদাতে মশগুল থেকে বড় হয়েছে, (৩) সে ব্যক্তি, যার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে রয়েছে (অর্থাৎ জামাআতের সাথে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায়ে যত্নবান), (৪) সে দু’ব্যক্তি, যারা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে একে অপরকে ভালবাসে ও পরস্পর মিলিত হয় এবং এ জন্যেই (পরস্পর) বিচ্ছিন্ন হয়, (৫) যে ব্যক্তিকে কোন অভিজাত এবং সুন্দরী রমণী (ব্যভিচারের জন্য) আহবান জানায় আর তার জবাবে সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি; (৬) যে ব্যক্তি এতটা গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত কী দান করে তা তার বাম হাত টের পায় না এবং (৭) যে ব্যক্তি একাকী বসে আল্লাহকে স্মরণ করে আর তার চোখ দু’টো (আল্লাহর ভয় বা ভালবাসায়) অশ্রুপাত করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৪৯, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ..... উবায়দুল্লাহর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। সেখানে এ কথা রয়েছে যে ব্যক্তি মাসজিদ থেকে বের হয়ে পুনরায় এখানে ফিরে না আসা পর্যন্ত তার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে থাকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৫০, ইসলামীক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! কোন ধরনের সদাকাহ্ বা দান সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেন, তুমি এমন অবস্থায় দান করবে, যখন তুমি সুস্থ-সবল, সম্পদের প্রতি আকর্ষণ প্রদর্শনকারী, দারিদ্র্যকে ভয়কারী ও এবং ঐশ্বর্যের আকাঙ্ক্ষাকারী। আর (সদাকাহ্ প্রদানে) বিলম্ব করবে না জীবনের অন্তিম মুহূর্ত পর্যন্ত বিলম্ব করে প্রাণ কণ্ঠনালী পর্যন্ত এসে গেলে তখন তুমি বলবে, এটা অমুকের ওটা অমুকের- এরূপ ঠিক নয়। তখন তো এগুলো অমুকের হয়েই যাচ্ছে। অর্থাৎ তোমার মরার সাথে সাথে উত্তরাধিকারীগণ নিয়ে নিবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৫১, ইসলামীক সেন্টার)