আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রসূল! কোন ধরনের দানে বিরাট সাওয়াবের অধিকারী হওয়া যায়? তিনি বললেনঃ জেনে রাখ, তোমার পিতার শপথ। (আমি অবশ্য তোমাকে জানাচ্ছি) তুমি সুস্থ, সবল ও অনুরক্ত অবস্থায় দান করবে যে, তুমি দারিদ্র্যকে ভয় কর এবং ধনী হওয়ার বাসনা রাখ। আর দানের ব্যাপারে জীবন বায়ু কণ্ঠনালী আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করো না যে, তখন বলতে থাকবে অমুকের জন্য এটা, অমুকের জন্য ওটা। বরং তখন তো এসব অমুকের হয়েই যাবে। (অর্থাৎ তোমার আর দান করার প্রয়োজন হবে না বরং তোমার মৃত্যুর পর এ সব উত্তরাধিকারীগণ নিয়ে নিবে)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৫২, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ কামিল আল জাহদারী (রহঃ) .... 'উমারাহ ইবনুল ক্বা-ক্বা (রহঃ) থেকে এ সূত্রেও জারীর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে তিনিأَىُّ الصَّدَقَةِ أَعْظَمُ এর স্থলেأَىُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ বলেছেন। এ সূত্রে বলা হয়েছেঃ কোন ধরনের দান-খয়রাত সর্বোত্তম? (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৫৩, ইসলামীক সেন্টার ২২৫৩[ক)
কুতায়বাহ্ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে দাঁড়িয়ে নাসীহাত করলেন। তিনি বললেন, উপরের হাত নীচের হাতের চেয়ে উত্তম। উপরের হাত হলো দানকারী। আর নীচের হাত হলো দান গ্রহণকারী। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৫৪, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার, মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও আহমাদ ইবনু আবদাহ (রহঃ) ..... হাকীম ইবনু হিযাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বচ্ছলতা বজায় রেখে যে দান করা হয় সেটাই উত্তম দান। উপরের হাত (বা দাতা) নীচের হাতের (বা ভিক্ষাকারীর) চেয়ে উত্তম। আর যাদেরকে লালন পালন করো তাদেরকে দিয়ে অর্থাৎ নিজের নিকটাত্মীয়দের দিয়ে দান-খয়রাত শুরু কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৫৫, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... হাকীম ইবনু হিযাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আমাকে কিছু দেয়ার জন্য আবেদন করলাম। তিনি আমাকে দিলেন। আমি আবার আবেদন করলাম। তিনি আবারও দিলেন। আমি পুনরায় আবেদন করলে। তিনি দিলেন এবং বললেনঃ “এ সম্পদ টাটকা এবং মিষ্টি।" সুতরাং যে ব্যক্তি না চেয়ে এবং দাতার স্বতঃস্ফূর্ত অনুদান হিসেবে এ মাল লাভ করল তাকে এর মধ্যে বারাকাত দেয়া হবে। আর যে ব্যক্তি কাকুতি মিনতি করে নিজেকে হীন ও অপমানিত করে তা লাভ করল তাকে এ মালের মধ্যে বারাকাত দেয়া হয় না। তার অবস্থাটা ঐ ব্যক্তির মতো যে খায় অথচ তুষ্ট হয় না। আর উপরের হাত (বা দাতা) নীচের হাতের (গ্রহণকারীর) চেয়ে উত্তম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৫৬, ইসলামীক সেন্টার)
নাসর ইবনু আলী আল জাহযামী, যুহায়র ইবনু হারব ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ... আবূ উমামাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “হে আদম সন্তান! তোমার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত যে মালামাল রয়েছে তা খরচ করতে থাক; এটা তোমার জন্য উত্তম। আর যদি তুমি তা দান না করে কুক্ষিগত করে রাখো তাহলে এটা তোমার জন্য অকল্যাণ বয়ে আনবে। তবে প্রয়োজন পরিমাণ রাখায় কোন দোষ নেই। এজন্য তোমাকে ভৎসনাও করা হবে না। যাদের প্রতিপালনের দায়িত্ব তোমার উপর রয়েছে তাদেরকে দিয়েই দান শুরু কর। উপরের হাত নীচের হাতের চেয়ে উত্তম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৫৭, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আমির আল ইয়াহসাবী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু'আবিয়াহ (রাযিঃ) বলেন, তোমরা হাদীস বর্ণনা করার ব্যাপারে সতর্ক থাকে। কেবলমাত্র সে সকল হাদীস বর্ণনা করতে পারো যা উমার (রাযিঃ) এর সময় ছিল। কেননা উমার (রাযিঃ) লোকদের মনে আল্লাহর ভয় বদ্ধমূল করার প্রয়াস পেতেন। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ "আল্লাহ তা'আলা যার কল্যাণ চান তাকে দীনের গভীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করেন।” মু'আবিয়াহ (রাযিঃ) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আরো বলতে শুনেছিঃ “আমি তো শুধুমাত্র জনৈক খাজাঞ্চি। যাকে আমি স্বতঃস্ফূর্তভাবে দান করি, তাতে তার বারাকাত হয়। আর যাকে আমি তার সনির্বন্ধ মিনতি ও উত্যক্ত করার পর দেই তার অবস্থা এমন ব্যক্তির মতো যে খায় অথচ পরিতৃপ্ত হতে পারে না।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৫৮, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... মু'আবিয়াহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কোন কিছু পাওয়ার ব্যাপারে মাত্রাতিরিক্ত কাকুতি মিনতির আশ্রয় নিও না। কেননা, আল্লাহর শপথ! যে ব্যক্তি আমার কাছে কোন কিছু চায়, আর তার মিনতিপূর্ণ আকুল প্রার্থনাই আমাকে দানে বাধ্য করে অথচ আমি তা অপছন্দ করি, তাহলে এতে কী করে বারাকাত হবে? (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৫৯, ইসলামীক সেন্টার)
ইবনু আবূ উমার আল মাক্কি (রহঃ) ..... আমর ইবনু দীনার থেকে ওয়াহব ইবনু মুনাব্বিহ সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সনা’আ নামক স্থানে তার বাড়িতে গিয়েছিলাম। তিনি আমাকে আখরোট দিয়ে আপ্যায়ন করলেন। তার (ওয়াহব ইবনু মুনব্বিহ) ভাই বর্ণনা করেন, আমি আবূ সুফইয়ান (রাযিঃ) এর পুত্র মু'আবিয়াহ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি ... পূর্বের হাদীসের অনুরূপ।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৬০, ইসলামীক সেন্টার)
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... মু'আবিয়াহ ইবনু আবূ সুফইয়ান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি খুতবাহ দেয়ার সময় বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ "আল্লাহ তা'আলা যার কল্যাণ চান তাকে দীনের গভীর জ্ঞান দান করেন। আমি জনৈক বণ্টনকারী আর দান করার মালিক আল্লাহ এবং তিনিই দিয়ে থাকেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৬১, ইসলামীক সেন্টার)