কুতায়বাহ্ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু রুমূহ (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বানু উযযাহ গোত্রের এক ব্যক্তি তার এক গোলামকে তার মৃত্যুর পর মুক্ত হওয়ার কথা দিলেন। অতঃপর এ সংবাদ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পৌছলে তিনি বললেন, এ ছাড়া তোমার কাছে কি আর কোন সম্পদ আছে? তিনি বললেন, না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এমন কে আছ যে আমার কাছ থেকে এ গোলামটিকে ক্রয় করবে? নুআয়ম ইবনু আবদুল্লাহ আল আদাবী (রাযিঃ) তাকে আটশ' দিরহামে ক্রয় করলেন। তারপর তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এ দিরহামগুলো নিয়ে আসলেন। তিনি তা গোলামের মালিককে বুঝিয়ে দিয়ে বললেন, “এ অর্থ তুমি প্রথমে তোমার নিজের জন্য ব্যয় কর। তারপর যদি কিছু বাকী থাকে তাহলে তোমার পরিবারের লোকদের জন্য তা ব্যয় কর, অতঃপর তোমার নিকটাত্মীয়দের জন্য ব্যয় কর, এরপরও যদি কিছু অবকাশ থাকে তাহলে তা এদিকে সেদিকে ব্যয় কর।” এ বলে তিনি সামনে, ডানে ও বামে হাত দিয়ে ইঙ্গিত করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৮২, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম আদ দাওরাকী (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আবূ মাযকুর নামে আনসার সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি ছিল। তার মৃত্যুর পর তার গোলাম আযাদ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তার নাম ছিল ইয়াকুব। হাদীসের অবশিষ্ট অংশ লায়স বর্ণিত হাদীসের সমর্থবোধক। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২১৮৩, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদীনায় আনসার সম্প্রদায়ের মধ্যে আবূ তলহাহ্ (রাযিঃ) প্রচুর সম্পদের মালিক ছিলেন। তার সকল সম্পদের মধ্যে “বায়রুহা” নামক বাগানটি তার সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ ছিল। এটি মসজিদে নাবাবীর সামনেই অবস্থিত ছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ বাগানে যেতেন এবং এর মিষ্টি পানি পান করতেন। আনাস (রাযিঃ) বলেন, যখন এ আয়াত- "তোমরা যতক্ষণ তোমাদের নিজেদের প্রিয় জিনিস (আল্লাহর পথে) ব্যয় না করবে- ততক্ষণ কিছুতেই প্রকৃত পুণ্য লাভ করতে পারবে না”— (সূরা আ-লি ইমরান ৩ঃ ৯২) অবতীর্ণ হলো, আবূ তলহাহ্ (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, মহান আল্লাহ তা'আলা তার কিতাবে বলেন, “তোমরা কিছুতেই প্রকৃত পুণ্য লাভ করতে পারবে না যতক্ষণ তোমাদের প্রিয় জিনিস আল্লাহর পথে ব্যয় না করবে।" আর আমার সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ হলো “বায়রাহা" নামক বাগানটি, আমি তা আল্লাহর পথে সদাকাহ (দান) করলাম। আমি এর থেকে কল্যাণ পেতে চাই এবং আল্লাহর কাছে এর সাওয়াব জমা হওয়ার আশা রাখি। কাজেই হে আল্লাহর রসূল! আপনি আপনার ইচ্ছামত তা ব্যয় করুন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, অত্যন্ত ভাল কথা; এটা তো খুব লাভজনক সম্পদ। এটা তো খুব লাভজনক সম্পদ। তোমার প্রিয়জন ও নিকটবর্তী আত্মীয়দের মধ্যে তা বণ্টন করে দাও। অতঃপর আবূ তলহাহ (রাযিঃ) এটা তার আত্মীয়-স্বজন ও তার চাচাতো ভাইদের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৮৪, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “তোমাদের প্রিয় বস্তু (আল্লাহর পথে) ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কিছুতেই প্রকৃত সাওয়াব লাভ করতে পারবে না"- এ আয়াত যখন অবতীর্ণ হলো আবূ তলহাহ (রাযিঃ) বলেন, এ তো মহা সুযোগ। আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ তা'আলা নিজেই আমাদের মাল থেকে চাচ্ছেন। তাই হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনাকে সাক্ষী রেখে আমার "বায়রাহ” নামক বাগানটি আল্লাহর জন্য দান করলাম। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তোমার এ বাগান তোমার আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে বণ্টন করে দাও। আনাস (রাযিঃ) বলেন, তিনি এটা হাসসান বিন সাবিত ও উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ) এর মধ্যে বণ্টন করে দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৮৫, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2317 — Sahih Muslim 12:54
حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، عَنْ بُكَيْرٍ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنْ مَيْمُونَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ، أَنَّهَا أَعْتَقَتْ وَلِيدَةً فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " لَوْ أَعْطَيْتِهَا أَخْوَالَكِ كَانَ أَعْظَمَ لأَجْرِكِ " .
হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী (রহঃ) ... আবদুল্লাহর স্ত্রী যায়নাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় একটি দাসী আযাদ করে দেন। অতঃপর আমি এ কথা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জানালাম। তিনি বললেন, “যদি তুমি এ দাসীটি তোমার মামাদের দান করতে তাহলে অনেক বেশী সাওয়াব পেতে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৮৬, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2318 — Sahih Muslim 12:55
حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ زَيْنَبَ، امْرَأَةِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَصَدَّقْنَ يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ وَلَوْ مِنْ حُلِيِّكُنَّ " . قَالَتْ فَرَجَعْتُ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ فَقُلْتُ إِنَّكَ رَجُلٌ خَفِيفُ ذَاتِ الْيَدِ وَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ أَمَرَنَا بِالصَّدَقَةِ فَأْتِهِ فَاسْأَلْهُ فَإِنْ كَانَ ذَلِكَ يَجْزِي عَنِّي وَإِلاَّ صَرَفْتُهَا إِلَى غَيْرِكُمْ . قَالَتْ فَقَالَ لِي عَبْدُ اللَّهِ بَلِ ائْتِيهِ أَنْتِ . قَالَتْ فَانْطَلَقْتُ فَإِذَا امْرَأَةٌ مِنَ الأَنْصَارِ بِبَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَاجَتِي حَاجَتُهَا - قَالَتْ - وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ أُلْقِيَتْ عَلَيْهِ الْمَهَابَةُ - قَالَتْ - فَخَرَجَ عَلَيْنَا بِلاَلٌ فَقُلْنَا لَهُ ائْتِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبِرْهُ أَنَّ امْرَأَتَيْنِ بِالْبَابِ تَسْأَلاَنِكَ أَتَجْزِي الصَّدَقَةُ عَنْهُمَا عَلَى أَزْوَاجِهِمَا وَعَلَى أَيْتَامٍ فِي حُجُورِهِمَا وَلاَ تُخْبِرْهُ مَنْ نَحْنُ - قَالَتْ - فَدَخَلَ بِلاَلٌ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ هُمَا " . فَقَالَ امْرَأَةٌ مِنَ الأَنْصَارِ وَزَيْنَبُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَىُّ الزَّيَانِبِ " . قَالَ امْرَأَةُ عَبْدِ اللَّهِ . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَهُمَا أَجْرَانِ أَجْرُ الْقَرَابَةِ وَأَجْرُ الصَّدَقَةِ " .
হাসান ইবনু রবী’ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহর স্ত্রী যায়নাব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের উদ্দেশ্য করে বললেন, হে নারী সমাজ! তোমরা (দান) সদাকাহ কর যদিও তা তোমাদের গহনাপত্রের মাধ্যমে হয়। যায়নাব (রাযিঃ) বলেন, এ কথা শুনে আমি গিয়ে আমার স্বামী আবদুল্লাহকে বললাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সদাকাহ করতে বলেছেন। আর তুমি তো গরীব অভাবী মানুষ, তাই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস কর, তোমাকে দান করলে তা দান হিসেবে গণ্য হবে কিনা? তা না হলে অপর কাউকে দান করব। রাবী বলেন, আমার স্বামী আবদুল্লাহ আমাকে বললেন, বরং তুমিই যাও। অতঃপর আমিই গেলাম এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরজায় আনসার সম্প্রদায়ের অপর এক মহিলাকে একই উদ্দেশে দাঁড়ানো দেখলাম। কারণ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন অনন্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী ও প্রভাবশালী লোক। অতঃপর বিলাল (রাযিঃ) বের হয়ে আসলে আমরা তাকে বললাম, আপনি গিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলুন, দু'জন মহিলা দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। তারা আপনার কাছে জানতে চাচ্ছে- যদি তারা তাদের নিজ স্বামীকে দান করে এবং তাদের ঘরেই প্রতিপালিত ইয়াতীমকেই দান করে তাহলে কি তা আদায় হবে? আর অনুরোধ হলো আমাদের পরিচয় তাকে জানাবেন না। রাবী বলেন, অতঃপর বিলাল (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, মহিলাদ্বয় কে কে? তিনি বললেন, জনৈক আনসার গোত্রের এবং অপরজন যায়নাব? তিনি বললেন, ‘আবদুল্লাহর স্ত্রী যায়নাব। অতঃপর তাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তারা উভয়েই তাদের দানের জন্য দ্বিগুণ সাওয়াব পাবে। এক- নিকটাত্মীয়দের সাথে সদ্ব্যবহারের জন্য। দুই- সদাকাহ করার জন্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৮৭, ইসলামীক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু ইউসুফ আল আযদী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) এর স্ত্রী যায়নাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। ..... পূর্বের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তাতে এও আছে– যায়নাব (রাযিঃ) বলেন, আমি মসজিদের ভিতরে ছিলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখে বললেন- "সদাকাহ্ দাও যদিও তা তোমার গহনাপত্রের মাধ্যমে হয়।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৮৮, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আলী (রহঃ) ..... যায়নাব বিনতে আবূ সালামাহ (রাযিঃ) থেকে উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আবূ সালামার সন্তানদের জন্য আমি যা খরচ করি তার বিনিময়ে আমি কি সাওয়াব পাব? আর আমি চাই না যে, তারা আমার হাত ছাড়া হয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়ুক। কেননা তারা তো আমারই সন্তান। অতঃপর তিনি (উত্তরে) বললেন হ্যাঁ, তাদেরকে তুমি যা দান করবে তার সাওয়াব পাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৮৯, ইসলামীক সেন্টার)
উবায়দুল্লাহ ইবনু মুআয আল আনবারী (রহঃ) ..... আবূ মাসউদ আল বাদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুসলিম ব্যক্তি সাওয়াবের আশায় তার পরিবার-পরিজনের জন্য যা কিছু খরচ করবে তা সবই তার জন্য সদাকাহ অর্থাৎ দান হিসেবে গণ্য হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৯১, ইসলামীক সেন্টার)