আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... আসমা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমার আম্মা এসেছেন। তবে তিনি আমাদের দীনের অনুসারী হতে আগ্রহী নন বা ইসলাম গ্রহণে বিমুখ, এখন আমি কি তার সাথে সৌজন্যমূলক ব্যবহার করব? তিনি বললেন, হ্যাঁ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৯৩, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব, মুহাম্মাদ ইবনুল আলী (রহঃ) ..... আবূ বাকরের কন্যা আসমা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার আম্মা আমার কাছে এসেছেন যে সময় কুরায়শদের সাথে সন্ধি বলবৎ ছিল আর তখন তিনি মুশরিকা ছিলেন। আসমা (রাযিঃ) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললাম, আমার মা আমার কাছে এসেছেন আশা নিয়ে। আমি কি আমার আম্মার সাথে সদ্ব্যবহার করব? উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি তোমার আম্মার সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৯৪, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমার মা হঠাৎ করে মারা গেছেন এবং কোন ওয়াসিয়্যাত করতে পারেননি। আমার মনে হয়, তিনি যদি কথা বলতে পারতেন তাহলে ওয়াসিয়্যাত করে যেতেন। এখন আমি যদি তার পক্ষ থেকে সদাকাহ করি তাহলে কি তিনি এর সাওয়াব পাবেন? উত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৯৫, ইসলামীক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব, আবূ কুরায়ব, আলী ইবনু হুজুর ও হাকাম ইবনু মূসা (রহঃ) ..... বর্ণনাকারী হিশাম এ সানাদের মাধ্যমে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর আবূ উসামার হাদীসে “তিনি ওয়াসিয়্যাত করেননি" বলা হয়েছে যেমনটি ইবনু বিশর এর বর্ণনায় রয়েছে। কিন্তু বাকী রাবীগণ এ কথা বর্ণনা করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৯৬, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2328 — Sahih Muslim 12:65
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، كِلاَهُمَا عَنْ أَبِي مَالِكٍ الأَشْجَعِيِّ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، فِي حَدِيثِ قُتَيْبَةَ قَالَ قَالَ نَبِيُّكُمْ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " كُلُّ مَعْرُوفٍ صَدَقَةٌ " .
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ ও আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... হুযায়ফাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তবে কুতায়বাহ্ (রহঃ) এর হাদীসে রয়েছে যে, “তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন"। আর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ)-এর হাদীস আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “প্রতিটি ভাল কাজই সদাকাহ্ অর্থাৎ দান হিসেবে গণ্য।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৯৭, ইসলামীক সেন্টার)
‘আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আসমা আয যুবাঈ (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কিছু সংখ্যক সাহাবী তার কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! ধন সম্পদের মালিকেরা তো সব সাওয়াব নিয়ে নিচ্ছে। কেননা আমরা যেভাবে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করি তারাও সেভাবে আদায় করে। আমরা যেভাবে সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করি তারাও সেভাবে সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করে। কিন্তু তারা তাদের অতিরিক্ত সম্পদ দান করে সাওয়াব লাভ করছে অথচ আমাদের পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা কি তোমাদেরকে এমন অনেক কিছু দান করেননি যা সদাকাহ করে তোমরা সাওয়াব পেতে পার? আর তা হলো প্রত্যেক তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ) একটি সদাকাহ, প্রত্যেক তাকবীর (আল্ল-হু আকবার) একটি সদাকাহ, প্রত্যেক তাহমীদ (আলহামদু লিল্লাহ) বলা একটি সদাকাহ, প্রত্যেক 'লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ' বলা একটি সদাকাহ, প্রত্যেক ভাল কাজের আদেশ দেয়া এবং মন্দ কাজ করতে দেখলে নিষেধ করা ও বাধা দেয়া একটি সদাকাহ্। এমনকি তোমাদের শরীরের অংশে সদাকাহ রয়েছে। অর্থাৎ আপন স্ত্রীর সাথে সহবাস করাও একটি সদাকাহ। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কেউ তার কাম প্রবৃত্তিকে চরিতার্থ করবে বৈধ পথে আর এতেও কি তার সাওয়াব হবে? তিনি বললেন, তোমরা বল দেখি, যদি তোমাদের কেউ হারাম পথে নিজের চাহিদা মেটাত বা যিনা করত তাহলে কি তার গুনাহ হত না? অনুরূপভাবে যখন সে হালাল বা বৈধ পথে কামাচার করবে তাতে তার সাওয়াব হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৯৮, ইসলামীক সেন্টার)
হাসান ইবনু আলী আল হুলওয়ানী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক আদম সন্তানকেই ৩৬০টি গ্রন্থি বিশিষ্ট করে সৃষ্টি করেছেন। অতএব যে ব্যক্তি ঐ সংখ্যা পরিমাণ আল্লা-হু আকবার বলবে, আলহামদু লিল্লাহ' বলবে, লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ' বলবে, সুবহা-নাল্ল-হ' বলবে, আসতাগফিরুল্ল-হ' বলবে, মানুষের চলার পথ থেকে একটি পাথর বা একটি কাটা বা একটি হাড় সরাবে, সৎ কাজের আদেশ দিবে এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখবে, সে কিয়ামতের দিন এমনভাবে চলাফেরা করবে যে, সে নিজেকে ৩৬০ (গ্রন্থি) সংখ্যা পরিমাণ জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে অর্থাৎ বেঁচে থাকবে। আবূ তওবা তার বর্ণনায় এ কথাও উল্লেখ করেছেন যে, সে এ অবস্থায় সন্ধ্যা করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৯৯, ইসলামীক সেন্টার)
আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান আদ দারিমী (রহঃ) ..... মুআবিয়াহ (রাযিঃ) থেকে এ প্রসঙ্গে একটি হাদীস বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমার ভাই যায়দ এ সানাদে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এখানে “আও আমারা বিল মা’রূফ” (সৎকাজের আদেশ দিবে) এ কথাটি ব্যতীত উল্লেখ করেছেন এবং অন্য সূত্রে তিনি বলেছেন যে, “সে ঐ দিন ঐ অবস্থায় সন্ধ্যা করে।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২০০, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু নাফি আল আবদী (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিটি মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে। অতঃপর রাবী যায়দের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তার হাদীসের মধ্যে "সেদিন সে চলাফেরা করবে" কথাটি বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২০১, ইসলামীক সেন্টার)