মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ ও ইবনু আবু উমার (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে আমার জীবন বর্ণনাকারী ইবনু আব্বাদ (রহঃ) বলেন, আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেছেন, ঐ সত্তার শপথ! যার হাতে আবূ হুরাইরার জীবন। একাধারে তিন দিন গমের রুটি দিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পরিবার-পরিজনকে পূর্ণতৃপ্ত আহার করাতে পারেননি। এ অবস্থায়ই তিনি দুনিয়া ত্যাগ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭১৮৮, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 7458 — Sahih Muslim #7458
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আবু হাযিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) কে স্বীয় আঙ্গুল দ্বারা কয়েকবার ইঙ্গিত করতঃ এ কথা বলতে শুনেছি যে, ঐ সত্তার শপথ! যার হাতে আবু হুরাইরার জীবন, একাধারে তিন দিন পর্যন্ত আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার পরিবার গমের রুটি দিয়ে কক্ষনো পরিতৃপ্ত হননি। এমতাবস্থায় তিনি দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭১৮৯, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 7459 — Sahih Muslim #7459
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও আবু বকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... নুমান ইবনু বাশীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা কি চাহিদা মতো পর্যাপ্ত খাদ্য ও পানীয় পাচ্ছ না? অথচ আমি তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি যে, তিনি ক্ষুধা নিবারণের জন্য নিম্নমানের খুরমাও পাননি। বর্ণনাকার কুতাইবাহ অন্য বর্ণনায়بِهِ (নিম্নমানের খুরমা) শব্দটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭১৯০, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 7460 — Sahih Muslim #7460
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি, ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) ..... সিমাক (রহঃ) হতে এ সূত্রে অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে সিমাক (রহঃ) যুহায়র এর হাদীসের মধ্যে এ কথাটি বর্ধিত বর্ণনা করেছেন যে, অথচ বর্তমানে তোমরা খুরমা ও মাখনের বিভিন্ন প্রকার খাদ্য ছাড়া কোন খাদ্য গ্রহণ করো না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭১৯১, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 7461 — Sahih Muslim #7461
মুহাম্মদ ইবনুল মুসন্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ...... সিমাক ইবনু হারব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নুমান (রহঃ) কে বক্তৃতারত অবস্থায় আমি এ কথা বলতে শুনলাম যে, উমর (রাযিঃ) বলেছেন, মানুষ কি পরিমাণ দুনিয়া অর্জন করেছে। অথচ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমি দেখেছি যে, তিনি ক্ষুধার তাড়নায় সারা দিন অস্থির থাকতেন। ক্ষুধা নিবারণের জন্য নিম্নমানের খেজুরও তিনি পেতেন না (যার মাধ্যমে পেটপূর্ণ করবেন)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭১৯২, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 7462 — Sahih Muslim #7462
আবূ তাহির, আহমাদ ইবনু আমর ইবনু সারহ (রহঃ) ..... ‘আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক লোক তাকে জিজ্ঞেস করল যে, আমরা কি মুহাজির ফকীরদের দলভুক্ত নই? এ কথা শুনে আবদুল্লাহ তাকে বললেন, তোমার কি সহধর্মিণী নেই, যার কাছে তুমি গিয়ে থাকো? উত্তরে সে বলল, হ্যাঁ আছে। অতঃপর তিনি বললেন, বসবাস করার জন্য তোমার কি আবাসস্থল নেই? সে বলল, হ্যাঁ আছে। তখন তিনি বললেন, তবে তো তুমি ধনীদের পর্যায়ভুক্ত। তারপর সে বলল, আমার একজন খাদিমও আছে। এ কথা শুনে তিনি বললেন, তাহলে তো তুমি বাদশাহ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭১৯৩, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 7463 — Sahih Muslim #7463
(…/…) আবু আবদুর রহমান বলেন, একদিন তিন লোক আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) এর কাছে আসলেন। তখন আমি তার কাছে বসা ছিলাম। তারা এসে বলল, হে আবূ মুহাম্মাদ! আমাদের কোন কিছুই নেই, আমাদের পরিবারের ভরণ-পোষণের কোন ব্যবস্থা নেই, সওয়ারীও নেই, কোন আসবাবপত্রও নেই। তারপর তিনি তাদেরকে বললেন, তোমরা যা চাও আমি তাই করব। তোমরা যদি ইচ্ছা কর আমার কাছে চলে এসো। আল্লাহ তোমাদের ভাগ্যলিপিতে যা রেখেছেন আমি তোমাদেরকে তা প্রদান করব। তোমরা চাইলে বাদশাহের নিকট আমি তোমাদের আলোচনা করব। আর তোমাদের মনে চাইলে তোমরা সবর করো। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের দিন দরিদ্র মুহাজির ব্যক্তিগত বিত্তবানদের চেয়ে চল্লিশ বছর আগেই জান্নাতে পৌছে যাবে। এ কথা শুনে তারা বললেন, আমরা ধৈর্য অবলম্বন করব, কারো কাছে কিছুই চাইব না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭১৯৩, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু আইয়্যুব, কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ..... ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসহাবে হিজর তথা সামূদ গোত্র সম্পর্কে সহাবাদেরকে বলেছেনঃ শাস্তিপ্রাপ্ত এ সম্প্রদায়ের উপর দিয়ে ক্ৰন্দনরত অবস্থায় তোমাদের পথ চলা উচিত। যদি তোমাদের কান্না না আসে তাদের এলাকায় কিছুতেই ঢুকবে না। যাতে এমনটি না ঘটে যে, তাদের উপর যে ‘আযাব এসেছিল, অনুরূপ আযাব তোমাদের উপরও এসে যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭১৯৪, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 7465 — Sahih Muslim 55:48
حَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، - وَهُوَ يَذْكُرُ الْحِجْرَ مَسَاكِنَ ثَمُودَ - قَالَ سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ إِنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ قَالَ مَرَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْحِجْرِ فَقَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَدْخُلُوا مَسَاكِنَ الَّذِينَ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ إِلاَّ أَنْ تَكُونُوا بَاكِينَ حَذَرًا أَنْ يُصِيبَكُمْ مِثْلُ مَا أَصَابَهُمْ " . ثُمَّ زَجَرَ فَأَسْرَعَ حَتَّى خَلَّفَهَا .
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে একদিন আমরা হিজ্র অধিবাসীদের এলাকা দিয়ে পথ অতিক্রম করছিলাম। এমন সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বললেন, যারা নিজেদের প্রতি যুলম করেছে তাদের জনপদ দিয়ে তোমরা ক্ৰন্দনরত অবস্থায় যাবে এ ভয়ে যে, তাদের উপর যে শাস্তি পতিত হয়েছে অনুরূপ শাস্তি তোমাদের উপরও যেন এসে না যায়। অতঃপর (ধমকের স্বরে) তিনি তার সওয়ারীকে আরো দ্রুতগতি করে উক্ত অঞ্চল অতিক্রম করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭১৯৫, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 7466 — Sahih Muslim 55:49
حَدَّثَنِي الْحَكَمُ بْنُ مُوسَى أَبُو صَالِحٍ، حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ إِسْحَاقَ، أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، أَخْبَرَهُ أَنَّ النَّاسَ نَزَلُوا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْحِجْرِ أَرْضِ ثَمُودَ فَاسْتَقَوْا مِنْ آبَارِهَا وَعَجَنُوا بِهِ الْعَجِينَ فَأَمَرَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُهَرِيقُوا مَا اسْتَقَوْا وَيَعْلِفُوا الإِبِلَ الْعَجِينَ وَأَمَرَهُمْ أَنْ يَسْتَقُوا مِنَ الْبِئْرِ الَّتِي كَانَتْ تَرِدُهَا النَّاقَةُ .
হাকাম ইবনু মূসা আবু সালিহ্ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার লোকেরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে হিজর তথা সামূদ গোত্রের জনপদে পৌছলেন। অতঃপর লোকেরা তথাকার কূপ হতে পানি উত্তোলন করলেন এবং এর দ্বারা আটার খামীর প্রস্তুত করলেন। এ দেখে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে এ পানি ফেলে দেয়া এবং খামীর উষ্ট্রকে খাইয়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন। আর তাদেরকে ঐ কূপ হতে পানি উত্তোলনের নির্দেশ দিলেন, যে কূপ হতে সালিহ (আঃ) এর উষ্ট্রী পানি পান করত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭১৯৬, ইসলামিক সেন্টার)