(…) আবূ গাসসান মিসমাঈ ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের উপর এরূপ কতিপয় আমীর নিযুক্ত করা হবে তোমরা তাদের চিনতে পারবে এবং অপছন্দ করবে। যে তাদের অপছন্দ করল সে মুক্তি পেল এবং যে প্রত্যাখ্যান করল সে নিরাপদ হলো। কিন্তু যে (তাদের প্রতি) সন্তুষ্ট থাকল এবং অনুসরণ করল (সে ক্ষতিগ্রস্ত হলো) লোকেরা জানতে চাইল, হে আল্লাহর রসূল! আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব না? তিনি বললেন, না, যতক্ষণ তারা সালাত আদায়কারী থাকবে। (অপছন্দ করল) অর্থাৎ, যে অন্তর থেকে তাদের অপছন্দ করল এবং অন্তর থেকে প্রত্যাখ্যান করলো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৪৮, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) হাসান ইবনু রাবী’ বাজালী (রহঃ) ... উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। এরপর রাবী ইবনু মুবারক পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করে যান। তবে তিনি ঐ হাদীসে উল্লেখিতمَنْ رَضِيَ وَتَابَعَ বাক্যাংশ উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৫০, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম হানযালী (রহঃ) ..... আওফ ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের সর্বোত্তম নেতা হচ্ছে তারাই যাদেরকে তোমরা ভালবাস আর তারাও তোমাদেরকে ভালবাসে। তারা তোমাদের জন্য দু'আ করে, তোমরাও তাদের জন্য দু'আ কর। পক্ষান্তরে তোমাদের নিকৃষ্ট নেতা হচ্ছে তারাই যাদেরকে তোমরা ঘৃণা কর আর তারাও তোমাদেরকে ঘৃণা করে। তোমরা তাদেরকে অভিশাপ দাও আর তারাও তোমাদেরকে অভিশাপ দেয়। বলা হল, হে আল্লাহর রসূল! আমরা কি তাদেরকে তরবারি দ্বারা প্রতিহত করবো না? তখন তিনি বললেন, না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তোমাদের মধ্যে সালাত কায়িম রাখবে। আর যখন তোমাদের শাসকদের মধ্যে কোনরূপ অপছন্দনীয় কাজ দেখবে; তখন তোমরা তাদের সে কাজকে ঘৃণা করবে; কিন্তু (তাদের) আনুগত্য থেকে হাত গুটিয়ে নেবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৫১, ইসলামিক সেন্টার)
দাউদ ইবনু রুশায়দ (রহঃ) ..... আওফ ইবনু মালিক আশজা'ঈ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, তোমাদের সর্বোত্তম নেতা হচ্ছেন তারা যারা তোমাদেরকে ভালবাসেন এবং তোমরাও তাদেরকে ভালবাস। তোমরা তাদের জন্য দু'আ কর এবং তারাও তোমাদের জন্য দুআ করেন। আর তোমাদের নিকৃষ্ট নেতা হচ্ছে তারা যাদেরকে তোমরা ঘৃণা কর এবং যারা তোমাদেরকে ঘৃণা করে এবং তোমরা তাদেরকে অভিশাপ দাও এবং তারাও তোমাদেরকে অভিশাপ দেয়। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এ সময় আমরা কি তাদেরকে প্রতিহত করবো না? তিনি বললেন, না, যে যাবৎ তারা তোমাদের মধ্যে সালাত কায়িম রাখবে। তবে যার উপর কোন শাসক নিয়োগ করা হবে আর সে তাকে আল্লাহর কোন নাফরমানী করতে দেখবে তখন ঐ শাসক যতক্ষণ আল্লাহর নাফরমানীতে থাকবে ততক্ষণ তাকে ঘৃণা করতে থাকবে কিন্তু আনুগত্যের হাত গুটিয়ে নেবে না। এ হাদীসের একজন রাবী ইবনু জাবির (রহঃ) বলেন, আমার কাছে এ হাদীস বর্ণনাকারী রুযায়ককে আমি এ হাদীস বর্ণনাকালে বললাম, আল্লাহর কসম! হে আবূ মিকদাম! সত্যিই কি আপনি মুসলিম ইবনু কারযাকে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, আওফ ইবনু মালিক (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট থেকে হুবহু বলতে শুনেছেন? রাবী বলেন, তখন তিনি তার দু'হাটুর উপর ভর করে কিবলামুখী হয়ে গেলেন এবং বললেন, সে আল্লাহর কসম! যিনি ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই আমি নিশ্চয়ই মুসলিম ইবনু কারযাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি আওফ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৫২, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু রুমূহ (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুদাইবিয়ার দিন আমরা ছিলাম চৌদ্দশ, আমরা তার (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর) হাতে বাই’আত হলাম। আর 'উমার (রাযিঃ) তার হাত ধরে (বাই’আত গ্রহণ করেছিলেন) সামুরা নামক গাছের তলে এবং তিনি বলেছেন, আমরা এ মর্মে তার হাতে বাই’আত হলাম যে, আমরা পলায়ন করবো না। কিন্তু "আমরা মৃত্যুবরণ করবো" এ শপথ গ্রহণ করিনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৫৪, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 4808 — Sahih Muslim 33:105
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ لَمْ نُبَايِعْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمَوْتِ إِنَّمَا بَايَعْنَاهُ عَلَى أَنْ لاَ نَفِرَّ .
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে মৃত্যুর শপথ গ্রহণ করিনি, আমরা তো তার কাছে এ মর্মে শপথ করেছি যে, আমরা পলায়ন করবো না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৫৫, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আবূ যুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি শুনতে পেলেন যে, জাবিরকে এ মর্মে জিজ্ঞেস করা হল, হুদাইবিয়ার দিন সাহাবীদের সংখ্যা কত ছিল? তিনি বললেন, আমরা সংখ্যায় ছিলাম চৌদশ’। আমরা তার (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর) হাতে বাই’আত হলাম, আর উমর (রাযিঃ) তার হাতে ধরে (বাই’আত হয়েছিলেন) সামুরাহ নামক গাছের তলে। জাদ ইবনু কায়স আনসারী ছাড়া আমরা সকলেই সেদিন তার হাতে বাই’আত হয়েছিলাম। আর সে তার উটের পেটের নীচে আত্মগোপন করে বসে ছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৫৬, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 4810 — Sahih Muslim 33:107
وَحَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ دِينَارٍ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ الأَعْوَرُ، مَوْلَى سُلَيْمَانَ بْنِ مُجَالِدٍ قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ وَأَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرًا، يُسْأَلُ هَلْ بَايَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِذِي الْحُلَيْفَةِ فَقَالَ لاَ وَلَكِنْ صَلَّى بِهَا وَلَمْ يُبَايِعْ عِنْدَ شَجَرَةٍ إِلاَّ الشَّجَرَةَ الَّتِي بِالْحُدَيْبِيَةِ . قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ وَأَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ دَعَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى بِئْرِ الْحُدَيْبِيَةِ .
ইব্রাহীম ইবনু দীনার (রহঃ) …... আবূ যূবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি জাবির (রাযিঃ) এর নিকট শুনতে পেলেন, তাকে এ মর্মে জিজ্ঞেস করা হল যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল-হুলাইফাহ্ নামক স্থানে বাই’আত গ্রহণ করেছিলেন কি? তিনি বললেন না, বরং তিনি সেখানে সালাত আদায় করেছেন, আর হুদাইবিয়ার বৃক্ষের নিকট ব্যতীত অন্য কোন বৃক্ষের নিকট তিনি বাই’আত গ্রহণ করেননি। রাবী ইবনু জুরায়জ (রহঃ) বলেন, আবূ যুবায়র (রহঃ) আমাকে বলেছেন, তিনি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদাইবিয়ার কুপের নিকট দু'আ করেছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৫৭, ইসলামিক সেন্টার)