মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূ ইসহাক (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি বারা (রাযিঃ) কে কুরআন মাজীদের আয়াতঃ "মু'মিনদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে ও যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে তারা সমান নয়" সম্পর্কে বলতে শুনেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়দ (রাযিঃ) কে একটি হাড় নিয়ে আসতে আদেশ করলেন এবং তিনি তাতে তা লিখলেন। তখন ইবনু উম্মু মাকতুম (রাযিঃ) তার (অন্ধত্বের) ওযর সম্পর্কে অনুযোগ করলেন। এ বিষয়ে নাযিল হলোঃ "মু'মিনদের মধ্যে যারা অক্ষম নয় অথচ ঘরে বসে থাকে তারা সমান নয়।" শুবাহ (রহঃ) বলেন, আমার কাছে সাদ ইবনু ইবরাহীম বর্ণনা করেছেন এক ব্যক্তি সূত্রে তিনি যায়দ (রহঃ) হতে এ আয়াত সম্পর্কে “যারা বসে থাকে তারা সমান নয়।” বাকী হাদীস বারা (রাযিঃ)-এর হাদীসের অনুরূপ। ইবনু বাশশার তার বর্ণনায় বলেছেন, সাদ ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) তার পিতা থেকে তিনি এক ব্যক্তি থেকে তিনি যায়দ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) থেকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৫৮, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ...... বারা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন لاَ يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ আয়াত নাযিল হল তখন উম্মু মাকতুম (রাযিঃ) সে ব্যাপারে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে আলাপ করলেন। তখন নাযিল হলো غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ অর্থাৎ, যাদের কোন ওযর নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৫৯, ইসলামিক সেন্টার)
সাঈদ ইবনু আমর আশ'আসী ও সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আমর (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি জাবির (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন, এক ব্যক্তি (এসে) বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি যদি (আল্লাহর রাস্তায়) নিহত হই তবে কোথায় থাকবো। উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, জান্নাতে। লোকটি তখন তার হাতের খেজুরগুলো ছুড়ে ফেলে দিয়ে যুদ্ধে প্রবৃত্ত হলো, অবশেষে শহীদ হলো। সুওয়াইদ (রহঃ) এর বর্ণনায় আছে, উহুদ যুদ্ধের দিন এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলল (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৬০, ইসলামিক সেন্টার)
–(১৪৪/১৯০০) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... বারা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বানু নবীতের এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলো। তিনি বলেন, আহমাদ ইবনু জানাব মিসসীসী (রহঃ) বারা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনসারদের অন্তর্ভুক্ত একটি কবীলা বানু নবীতের এক ব্যক্তি আসলো এবং বলল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই এবং আপনি তার বান্দা ও রসূল। তারপর সে অগ্রসর হলো এবং যুদ্ধে প্রবৃত্ত হলো। এমনকি শেষ পর্যন্ত সে শহীদ হলো। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে খুবই সহজ কাজ করলো তবে তাকে প্রচুর সাওয়াব দেয়া হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৬১, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 4915 — Sahih Muslim 33:210
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ النَّضْرِ بْنِ أَبِي النَّضْرِ، وَهَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ - وَأَلْفَاظُهُمْ مُتَقَارِبَةٌ - قَالُوا حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، - وَهُوَ ابْنُ الْمُغِيرَةِ - عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بُسَيْسَةَ عَيْنًا يَنْظُرُ مَا صَنَعَتْ عِيرُ أَبِي سُفْيَانَ فَجَاءَ وَمَا فِي الْبَيْتِ أَحَدٌ غَيْرِي وَغَيْرُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لاَ أَدْرِي مَا اسْتَثْنَى بَعْضَ نِسَائِهِ قَالَ فَحَدَّثَهُ الْحَدِيثَ قَالَ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَتَكَلَّمَ فَقَالَ " إِنَّ لَنَا طَلِبَةً فَمَنْ كَانَ ظَهْرُهُ حَاضِرًا فَلْيَرْكَبْ مَعَنَا " . فَجَعَلَ رِجَالٌ يَسْتَأْذِنُونَهُ فِي ظُهْرَانِهِمْ فِي عُلْوِ الْمَدِينَةِ فَقَالَ " لاَ إِلاَّ مَنْ كَانَ ظَهْرُهُ حَاضِرًا " . فَانْطَلَقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابُهُ حَتَّى سَبَقُوا الْمُشْرِكِينَ إِلَى بَدْرٍ وَجَاءَ الْمُشْرِكُونَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يُقَدِّمَنَّ أَحَدٌ مِنْكُمْ إِلَى شَىْءٍ حَتَّى أَكُونَ أَنَا دُونَهُ " . فَدَنَا الْمُشْرِكُونَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قُومُوا إِلَى جَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَوَاتُ وَالأَرْضُ " . قَالَ يَقُولُ عُمَيْرُ بْنُ الْحُمَامِ الأَنْصَارِيُّ يَا رَسُولَ اللَّهِ جَنَّةٌ عَرْضُهَا السَّمَوَاتُ وَالأَرْضُ قَالَ " نَعَمْ " . قَالَ بَخٍ بَخٍ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا يَحْمِلُكَ عَلَى قَوْلِكَ بَخٍ بَخٍ " . قَالَ لاَ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِلاَّ رَجَاءَةَ أَنْ أَكُونَ مِنْ أَهْلِهَا . قَالَ " فَإِنَّكَ مِنْ أَهْلِهَا " . فَأَخْرَجَ تَمَرَاتٍ مِنْ قَرْنِهِ فَجَعَلَ يَأْكُلُ مِنْهُنَّ ثُمَّ قَالَ لَئِنْ أَنَا حَيِيتُ حَتَّى آكُلَ تَمَرَاتِي هَذِهِ إِنَّهَا لَحَيَاةٌ طَوِيلَةٌ - قَالَ - فَرَمَى بِمَا كَانَ مَعَهُ مِنَ التَّمْرِ . ثُمَّ قَاتَلَهُمْ حَتَّى قُتِلَ .
আবূ বাকর ইবনু নাযর ইবনু আবূ নাযর, হারূন ইবনু আবদুল্লাহ, মুহাম্মাদ ইবনু রাফি’ ও ‘আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুসায়সা (রাযিঃ) কে আবূ সুফইয়ানের বাণিজ্যিক কাফিলার গতিবিধি লক্ষ্য করার জন্যে পাঠান। তারপর তিনি ফিরে আসলেন। তখন আমি ও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া ঘরে আর কেউই ছিল না। রাবী বলেন, আমি স্মরণ করতে পারছি না, তিনি (আনাস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন সহধর্মিণীর কথাও বলেছেন কি-না। এরপর তিনি সমুদয় ঘটনা বর্ণনা করলেন। অতঃপর বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন এবং (লোকজনকে লক্ষ্য করে) তিনি বললেন, আমি দুশমনের খোজে বের হচ্ছি। যার সওয়ারী মওজুদ আছে সে যেন আমাদের সঙ্গে সওয়ার হয়ে যায়। তখন কিছুলোক মাদীনার উপরাঞ্চল থেকে তাদের সওয়ারী নিয়ে আসার অনুমতি চাইলেন। তখন তিনি বললেন, না; কেবল যাদের সওয়ারী প্রস্তুত আছে তারাই যাবে। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সাহাবীগণ রওনা করলেন এবং মুশরিকদের পূর্বেই বদরে গিয়ে পৌছলেন। এর পরপরই মুশরিকরা এসে পৌছলো। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের কেউ যেন কোন ব্যাপারে আমার অগ্রবর্তী না হয়, যতক্ষণ না আমি তার সামনে থাকি। এরপর মুশরিকরা নিকটবর্তী হলো। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা জান্নাতের দিকে অগ্রসর হও যার প্রশস্ততা আসমান ও যমীনের প্রশস্ততার মত। রাবী বলেন, উমায়র ইবনু হুমাম আনসারী (রাযিঃ) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! জান্নাতের প্রশস্ততা কি আসমান ও যমীনের প্রশস্ততার ন্যায়? তিনি বললেন, হ্যাঁ। উমায়র বলে উঠলেন, বাহ, বাহ, কী চমৎকার! তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বাহ, বাহ্, বলতে তোমাকে কিসে উদ্বুদ্ধ করলো হে! তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! বরং আল্লাহর কসম! আমি তার অধিবাসী হওয়ার আশায়ই এরূপ বলেছি। তখন তিনি বললেন, তুমি নিশ্চয়ই তার অধিবাসী (হবে)। রাবী বলেন, তারপর তিনি তার তৃণ থেকে কয়েকটি খেজুর বের করলেন এবং তা খেতে লাগলেন। তারপর বললেন, আমি যদি এ খেজুরগুলো খেয়ে শেষ করা পর্যন্ত বেঁচে থাকি তবে তাও হবে এক দীর্ঘ জীবন। রাবী বলেন, তারপর তিনি তার কাছে রক্ষিত খেজুরগুলো ছুড়ে ফেলে দিলেন তারপর জিহাদে প্রবৃত্ত হলেন এমনকি শেষ পর্যন্ত শহীদ হলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৬২, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামীমী ও কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু কায়স (রহঃ) বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি- আর তিনি ছিলেন তখন শত্রুর মুখোমুখি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নিশ্চয়ই জান্নাতের দরজাসমূহ রয়েছে তরবারির ছায়ার নীচে। তখন আলুথালু এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়ালো এবং বলল, হে আবূ মূসা! আপনি কি নিজে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তা বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন সে ব্যক্তি তার সাথীবর্গের কাছে ফিরে গেলো। তারপর বলল, আমি তোমাদেরকে (বিদায়ী) সালাম জানাচ্ছি। এরপর সে তার তরবারির কোষ ভেঙ্গে ফেলে তা দূরে নিক্ষেপ করলো। তারপর নিজ তরবারিসহ শক্ৰদের কাছে গিয়ে তা দিয়ে যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হয়ে গেল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৬৩, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কতিপয় লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, আমাদের সঙ্গে এমন কিছু লোক দিন যারা আমাদেরকে কুরআন এবং সুন্নাহ্ শিক্ষা দেবেন। তখন তিনি আনসারদের সত্তর ব্যক্তিকে তাদের সাথে পাঠালেন। তাদেরকে কুররা (কারী সমাজ) বলা হতো। এদের মধ্যে আমার মামা হারামও ছিলেন। তারা কুরআন তিলওয়াত করতেন এবং রাত্রে এর অর্থ অনুধাবন ও শিক্ষায় নিমগ্ন থাকতেন, আর দিনের বেলায় জলাশয়ে গিয়ে পানি এনে মসজিদে রাখতেন এবং কাঠ সংগ্রহ করে তা বিক্রি করে বিক্রি লব্ধ অর্থে সুফফাবাসীগণ এবং নিঃস্ব ফকীরদের জন্যে আহার্য সামগ্ৰী ক্রয় করতেন। এদেরকেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সঙ্গে পাঠিয়েছিলেন। ওরা তাদের উপর আক্রমণ করলো এবং তারা গন্ত ব্যস্থলে পৌছার পূর্বেই তাদেরকে হত্যা করলো। তখন তারা বললেন, হে আল্লাহ আমাদের পক্ষ থেকে আমাদের নবীর নিকট সংবাদ পৌছিয়ে দিন যে, আমরা আপনার সন্নিধানে পৌছে গিয়েছি এবং আপনার প্রতি সন্তুষ্ট রয়েছি। আর আপনিও আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট রয়েছেন। রাবী বলেন, এক লোক আনাস (রাযিঃ) এর মামা হারাম (রাযিঃ) এর পিছন দিক দিয়ে এসে বর্শা দিয়ে বিদ্ধ করে হত্যা (শহীদ) করে দিল। হারাম (রাযিঃ) বলে উঠলেন, কা'বার প্রভুর কসম! আমি সাফল্যমণ্ডিত হয়েছি। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীগণকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমাদের ভাইগণ নিহত হয়েছেন। আর (অন্তিম মুহূর্তে) তারা বলেছেন, হে আল্লাহ আমাদের নবীকে সংবাদ পৌছিয়ে দিন যে, আমরা আপনার সন্নিধানে পৌছে গেছি এ অবস্থায় যে, আমরা আপনার প্রতি সন্তুষ্ট আর আপনিও আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৬৪, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার যে চাচার নামানুসারে আমার নামকরণ করা হয়েছে সে আনাস (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে বদরের যুদ্ধে শরীক হতে পারেননি। রাবী বলেন, এটা ছিল তার জন্যে অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি (প্রায়ই) বলতেন, রসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম যে যুদ্ধটি করেছিলেন, তাতে আমি শরীক হতে পারলাম না। এরপর যদি আল্লাহ তা'আলা আমাকে তার কোন যুদ্ধ প্রত্যক্ষ করার সুযোগ দান করেন তাহলে আমি কী করি তা আল্লাহ দেখবেন। রাবী বলেন, এর বেশী কিছু বলতে তিনি ভয় পেতেন। তারপর উহুদ যুদ্ধের দিন তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। রাবী বলেন, সাদ ইবনু মু'আয (রাযিঃ) যখন অগ্রসর হলেন তখন আনাস (রাযিঃ) তাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আবূ আমর কোথায় (যাচ্ছে)? আহা! জান্নাতের ঘ্রাণ আমি উহুদ প্রান্ত থেকে পাচ্ছি। রাবী বলেন, তারপর তিনি কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেন এমন কি শেষ পর্যন্ত শহীদ হয়ে গেলেন। রাবী বলেন, তারপর তার মৃত লাশে আশিটিরও অধিক তরবারি, বর্শা ও তীরের চিহ্ন পাওয়া যায়। রাবী আনাস (রাযিঃ) বলেন, তার বোন এবং আমার ফুফু রুবাইয়্যি' বিনতু নাযর (রাযিঃ) বলেন, (শহীদের ক্ষত-বিক্ষত দেহের) কেবল তার আঙ্গুলের জোড়া দেখেই তাকে আমি সনাক্ত করেছি। (অন্য কোন পরিচয়ই অবশিষ্ট ছিল না।) তখন আয়াত নাযিল হলোঃ “এরা হচ্ছে সেসব ব্যক্তি, যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূরণ করে দেখিয়েছে। তাদের কেউ অঙ্গীকার ইতোমধ্যেই পূরণ করে ফেলেছে, আর কেউ তার প্রতীক্ষায় রয়েছে। তারা মোটেই পরিবর্তিত হয়নি”— (সূরা আহযাব ৩৩ঃ ২৩)। রাবী বলেন, সাহাবীগণ মনে করতেন যে এ আয়াতটি তার এবং তার সঙ্গী-সাথীদের সম্পর্কেই নাযিল হয়েছিল।
হাদিস 4919 — Sahih Muslim 33:214
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ، بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا وَائِلٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى، الأَشْعَرِيُّ أَنَّ رَجُلاً، أَعْرَابِيًّا أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ الرَّجُلُ يُقَاتِلُ لِلْمَغْنَمِ وَالرَّجُلُ يُقَاتِلُ لِيُذْكَرَ وَالرَّجُلُ يُقَاتِلُ لِيُرَى مَكَانُهُ فَمَنْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ قَاتَلَ لِتَكُونَ كَلِمَةُ اللَّهِ أَعْلَى فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ " .
মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূ মূসা আশ'আরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, জনৈক বেদুঈন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে উপস্থিত হয়ে আরয করলো, হে আল্লাহর রসূল! এক ব্যক্তি গনীমাত লাভের জন্য যুদ্ধ করে, অন্য এক ব্যক্তি যুদ্ধ করে স্মরণীয় হওয়ার জন্যে, আর এক ব্যক্তি যুদ্ধ করে নিজের উচ্চমর্যাদা প্রদর্শনের জন্যে। এগুলোর মধ্যে কোনটি আল্লাহর পথে বলে গণ্য হবে? তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কালিমা সমুন্নত করার উদ্দেশে যুদ্ধ করে সে ব্যক্তিই আল্লাহর পথে (যুদ্ধ করে)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৬৬, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 4920 — Sahih Muslim 33:215
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ وَمُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرُونَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ أَبِي، مُوسَى قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الرَّجُلِ يُقَاتِلُ شَجَاعَةً وَيُقَاتِلُ حَمِيَّةً وَيُقَاتِلُ رِيَاءً أَىُّ ذَلِكَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ قَاتَلَ لِتَكُونَ كَلِمَةُ اللَّهِ هِيَ الْعُلْيَا فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ " .
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, ইবনু নুমায়র, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনু 'আলা (রাযিঃ) ..... আবূ মূসা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রশ্ন করা হলো, যে ব্যক্তি বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য যুদ্ধ করে, যে ব্যক্তি গোত্রের স্বার্থ রক্ষার জন্য যুদ্ধ করে, যে ব্যক্তি লোক দেখানোর উদ্দেশে যুদ্ধ করে এগুলোর মধ্যে কোনটি আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ (বলে গণ্য হবে)? তখন (জবাবে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি এ উদ্দেশে যুদ্ধ করে যে, আল্লাহর বাণী সমুন্নত হবে, (কেবল) সে আল্লাহর রাস্তায় (বলে গণ্য হবে)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৬৭, ইসলামিক সেন্টার)