ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... বারা ইবনু ‘আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক লোককে বললেন, ‘হে অমুক যখন তুমি তোমার বিছানায় আশ্রয় গ্রহণ করবে। এরপর আমর ইবনু মুররাহ বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করলেন। কিন্তু পার্থক্য এই যে, তিনি বলেছেন, “ওয়াবি নাবিয়্যিকাল্লায়ী আরসালতা" অর্থাৎ- “এবং আপনার সে নবীর উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছি, যাকে আপনি প্রেরণ করেছেন।” যদি তুমি সে রাত্রে মৃত্যুবরণ করো তাহলে ফিতরাতের উপরই মৃত্যুবরণ করলে। আর যদি ভোরে উপনীত হও তবে তুমি কল্যাণপ্রাপ্ত হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৬৩৭, ইসলামিক সেন্টার)
ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... বারা ইবনু আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক লোককে আদেশ করলেন। তারপর তার অবিকল। কিন্তু তিনি "যদি তুমি ভোরে উপনীত হও তবে তুমি কল্যাণপ্রাপ্ত হবে" কথাটি বর্ণনা করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৬৩৮, ইসলামিক সেন্টার, নেই)
উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয (রহঃ) ..... বারা ইবনু আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শয্যগ্রহণ করতেন তখন তিনি বলতেন, "আল্লা-হুম্মা বিসমিকা আহইয়া- ওয়া বিসমিকা আমুতু" অর্থাৎ- "হে আল্লাহ! আমি তোমার নামেই জীবিত আছি আর তোমার নামেই মৃত্যুবরণ করছি।" আর যখন তিনি ঘুম হতে সজাগ হতেন তখন বলতেন, "আলহামদু লিল্লা-হিল্লায়ী আহইয়া-না- বা’দা মা- আমা-তানা- ওয়া ইলাইহিন নুশুর" অর্থাৎ- "সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যই যিনি আমাদেরকে মৃত্যুবরণের পর জীবিত করছেন। আর তার দিকেই প্রত্যাবর্তন।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৬৩৯, ইসলামিক সেন্টার)
উকবাহ ইবনু মুকরিম আল আম্মী ও আবু বাকর ইবনু নাফি’ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি এক লোককে আদেশ করলেন, যখন শয্যগ্রহণ করবে তখন বলবে, "আল্ল-হুম্মাখ লাকতা নাফসী ওয়া আনতা তাওয়াফ্ফা-হা- লাকা মামা-তুহা ওয়া মাহইয়া-হা ইন্ আহ ইয়াইতাহা- ফাহফাযহা- ওয়া ইন্ আমাত্তাহা- ফাগফির লাহা- আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকাল আ-ফিয়াহ" অর্থাৎ- "হে আল্লাহ! আপনি আমার জীবন সৃষ্টি করেছেন এবং আপনিই তাকে (আমার জীবনকে) মৃত্যুদান করেন। আপনার কাছে (নাফসের) জীবন ও মরণ। যদি আপনি একে জীবিত রাখেন তাহলে আপনি এর হিফাযাত করুন। আর যদি আপনি এর মৃত্যু দান করেন তাহলে একে ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে সুস্থতা প্রার্থনা করছি"। তখন সে লোকটি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি তা উমর (রাযিঃ) হতে শুনছেন? তিনি বললেন, উমার এর চেয়ে যিনি উত্তম (অর্থাৎ-) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুনেছি। ইবনু নাফি’ (রহঃ) তার বর্ণনায় বলেছেন, আবদুল্লাহ ইবনু হারিস (রহঃ) হতে এবং তিনি سَمِعْتُ (আমাকে শুনেছি) শব্দটি বলেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৬৪০, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... সুহায়ল (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু সালিহ আমাদেরকে আদেশ করতেন, যখন আমাদের কেউ ঘুমাতে যায় সে যেন ডান পার্শ্বে কাত হয়ে শয্যগ্রহণ করে। এরপর যেন বলে, "আল্ল-হুম্মা রব্বাস সামা-ওয়া-তি ওয়া রব্বাল আরযি ওয়া রব্বাল আরশিল আযীম, রব্বানা ওয়া রব্বা কুল্লি শাইয়িন্ ফা-লিকাল হাব্বি ওয়ান্ নাওয়া ওয়া মুনযিলাত তাওরা-তি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল ফুরকানি আউযুবিকা মিন শাররি কুল্লি শাইয়িন আনতা আ-খিযুন বিনা-সিয়াতিহি, আল্ল-হুম্মা আন্তাল আওওয়ালু ফালাইসা কাবলাকা শাইউন ওয়া আনতাল আ-খিরু ফালাইসা বা'দাকা শাইউন ওয়া আনতায যা-হিরু ফালাইসা ফাওকাকা শাইউন ওয়া আনতাল বা-তিনু ফালাইসা দূনাকা শাইউন ইকযি আন্নাদ দাইনা ওয়া আগনিনা- মিনাল ফাক্রি" অর্থাৎ- "হে আল্লাহ! আপনি আকাশমণ্ডলী, জমিন ও মহান আরশের রব। আমাদের রব ও সব কিছুর পালনকর্তা। আপনি শস্য ও বীজের সৃষ্টিকর্তা, আপনি তাওরাত, ইনজীল ও কুরআনের অবতীর্ণকারী। আমি আপনার নিকট সকল বিষয়ের খারাবী হতে আশ্রয় চাই। আপনিই একমাত্র সব বিষয়ের পরিচর্যাকারী। হে আল্লাহ! আপনিই শুরু, আপনার আগে কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই এবং আপনিই শেষ, আপনার পরে কোন কিছু নেই। আপনিই প্রকাশ, আপনার উর্ধ্বে কেউ নেই। আপনিই বাতিন, আপনার অগোচরে কিছু নেই। আমাদের ঋণকে আদায় করে দিন এবং অভাব থেকে আমাদেরকে সচ্ছলতা দিন।" তিনি (আবু সালিহ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) এর সূত্রেও এ হাদীসটি রিওয়ায়াত করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৬৪১, ইসলামিক সেন্টার)
আবদুল হামীদ ইবনু বায়ান আল ওয়াসিতী (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের আদেশ করতেন যে, যখন আমরা শয্যাগ্রহণ করি তখন যেন পড়ি। তারপর জারীর এর হাদীসের হুবহু হাদীস। আর তিনি বলেছেন, সকল জীবের অকল্যাণ হতে যাদের ধারণকারী আপনিই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৬৪২, ইসলামিক সেন্টার)
আবু বাকর ইবনু আবু শাইবাহ ও আবু কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতিমাহ্ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে একজন খাদিমের জন্য আবেদন করলেন। তখন তিনি তাকে বললেনঃ তুমি বলো, "সাত আসমানের রব হে আল্লাহ! ....." (তারপর) সুহায়ল এর পিতা থেকে বর্ণিত হাদীসের অবিকল উল্লেখ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৬৪৩, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু মূসা আল আনসারী (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন তার শয্যগ্রহণ করতে বিছানায় আসে, সে যেন তার কাপড়ের আঁচল দিয়ে বিছানাটা ঝাড়া দিয়ে নেয় এবং বিসমিল্লাহ’ পাঠ করে নেয়। কেননা সে জানে না যে, বিছানা ছাড়ার পর তার বিছানায় কি আছে। তারপর যখন সে শয্যগ্রহণ করতে ইচ্ছা করে তখন যেন ডান কাত হয়ে শয্যগ্রহণ করে। এরপর সে যেন বলে, "সুবহা- নাকাল্লা-হুম্মা রব্বী বিকা ওয়া যা’তু জামবী ওয়াবিকা আর ফা'উহু ইন্ আমসাক্তা নাফসী ফাগফির লাহা- ওয়া ইন্ আরসালতাহা- ফাহফাযহা- বিমা- তাহফাযু বিহি ইবা-দাকাস সলিহীন" অর্থাৎ- "আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, হে আমার প্রতিপালক! আপনার নামেই আমি আমার পার্শ্ব (দেহ) রাখলাম, আপনার নামেই তা তুলব। আপনি যদি আমার প্রাণ আটকিয়ে রাখে তাহলে আমাকে মাফ করে দিন। আর যদি আপনি তাকে উঠবার অবকাশ দেন তাহলে তাকে রক্ষা করুন, যেমন আপনি আপনার নেক বান্দাদের রক্ষা করে থাকেন।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৬৪৪, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... উবাইদুল্লাহ ইবনু উমর (রহঃ) এ সূত্রে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এরপর সে যেন বলে, “বিস্মিকা রব্বী ওয়াযা'তু জামবী ফা ইন্ আহ ইয়াইতা নাফসী ফারহামহা” অর্থাৎ- "হে আমার রব! তোমার নামে আমার পার্শ্ব রাখলাম। যদি আপনি আমাকে জীবিত রাখেন তাহলে তার উপর দয়া করুন।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৬৪৫, ইসলামিক সেন্টার)
আবু বকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বিছানায় আশ্রয় গ্রহণ করতেন তখন তিনি বলতেন, আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আত- আমানা ওয়া সাকা-না- ওয়া কাফা-না- ওয়া আ-ওয়া-না- ফাকাম মিম্মান লা-কা-ফিয়া লাহু ওয়ালা- মু’বিয়া" অর্থাৎ “সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের জীবিকা দিয়েছেন, পানি পান করিয়েছেন, তিনি আমাদেরকে দায়িত্ব বহন করেছেন, আমাদের আশ্রয় দিয়েছেন। এমন অনেক আছে যাদের জন্য কোন দায়িত্ব বহনকারী নেই, আশ্রয় দাতাও নেই।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৬৪৬, ইসলামিক সেন্টার)