أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، قَالَ حَدَّثَنَا سَيَّارٌ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ بَايَعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَلَى السَّمْعِ وَالطَّاعَةِ فَلَقَّنَنِي " فِيمَا اسْتَطَعْتَ وَالنُّصْحِ لِكُلِّ مُسْلِمٍ " .
ইয়াকূব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... জারীর ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট শ্রবণ ও আনুগত্যের বায়আত করলাম। তিনি আমাকে বলে দিলেন— যতটুকু তোমার শক্তি আছে। এবং প্রত্যেক মুসলিমের কল্যাণকামিতার শপথ নিলাম।
হাদিস 4190 — Sunan an Nasai 39:42
সহিহসহিহহাসান
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ أُمَيْمَةَ بِنْتِ رُقَيْقَةَ، قَالَتْ بَايَعْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي نِسْوَةٍ فَقَالَ لَنَا " فِيمَا اسْتَطَعْتُنَّ وَأَطَقْتُنَّ " .
কুতায়বা (রহঃ) ... উমায়মা বিনতে রুকায়কা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা কতিপয় মহিলার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বায়'আত গ্রহণ করি। এরপর তিনি আমাদেরকে বলেনঃ তোমাদের দ্বারা যতটুকু সম্ভব এবং তোমাদের যতটুকু শক্তি আছে।
হাম্মাদ ইবন সারী (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবনে আবদে রাব্বিল কা'বা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর নিকট গেলাম, তখন তিনি কাবার ছায়ায় উপবিষ্ট ছিলেন এবং তাঁর চতুর্দিকে লোক সমবেত ছিল। তিনি বলেন, আমি তাকে বলতে শুনলামঃ একবার আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে এক সফরে ছিলাম। আমরা এক মনযিলে অবতরণ করলাম। এ সময় আমাদের কেউ তাঁবু খাটাচ্ছিল, কেউ তীর নিক্ষেপের প্রতিযোগিতায় ছিল, কেউ পশু চারণে ছিল। এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ হতে আহ্বানকারী আহ্বান করলঃ সালাতের জন্য একত্রিত হও। আমরা সকলে একত্র হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে বললেনঃ আমার পূর্ববর্তী প্রত্যেক নবীর দায়িত্ব ছিল, তাঁর উম্মতের জন্য যা ভাল মনে করতেন, তাদেরকে তা শিক্ষা দেওয়া। আর যা তাদের জন্য অনিষ্টকর মনে করতেন, তা হতে তাদেরকে সতর্ক করা। আর তোমাদের এই উম্মতের প্রথমদিকের লোকদের জন্য নিরাপত্তা রাখা হয়েছে কিন্তু শেষের দিকে যাৱা আসবে তারা মুসীবত এবং এমন কিছু বিষয়ের সম্মুখীন হবে যা তারা অনিষ্টকর মনে করবে। তাদের উপর উপর্যুপরি ফিতনা আসতে থাকবে, যার পরেরটির কাছে আগেরটি তুচ্ছ মনে হবে। এক ফিতনা আসবে। তখন মু'মিন বলবেঃ এটিতো আমাকে ধ্বংস করবে। পরে তা দূর হয়ে যাবে। তা দূর হতে না হতে আর এক মুসীবত এসে পড়বে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জাহান্নাম হতে নিস্তার পেতে এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে চায়, সে যেন আল্লাহ এবং কিয়ামতের উপর বিশ্বাস রেখে মারা যায়। আর সে লোকের প্রতি ঐরূপ ব্যবহার করবে, যেরূপ ব্যবহার সে তাদের নিকট প্রত্যাশা করে। আর যে ইমামের হাতে হাত রেখে বায়'আত করবে, সে যেন নিষ্ঠার সাথে সাধ্যমত তার আনুগত্য করে। পরে যদি কোন ব্যক্তি ঐ ইমামের সঙ্গে বিরোধে লিপ্ত হতে চায়, তবে তার গর্দান উড়িয়ে দিবে। তখন আমি তার নিকটবর্তী হয়ে বললামঃ আপনি কি রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ বলতে শুনেছেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ।
মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... ইয়াহইয়া ইবন হুসায়ন (রহঃ) বলেন, আমি আমার দাদীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিদায় হজ্জের সময় বলতে শুনেছিঃ যদি তোমাদের উপর কোন হাবশী দাসকেও শাসক নিযুক্ত করা হয়, যিনি তোমাদেরকে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী পরিচালনা করেন, তখন তোমরা তার কথা শুনবে; তার আনুগত্য করবে।
ইউসুফ ইবন সা'ঈদ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করলো, সে আল্লাহ্ তা'আলার আনুগত্য করলো; আর যে আমার আনুগত্য করলো না, সে আল্লাহরও আনুগত্য করলো না। আর যে আমার নির্বাচিত শাসকের আনুগত্য করলো, সে আমার আনুগত্য করলো; আর যে আমার নির্বাচিত শাসককে অমান্য করলো, সে আমাকে অমান্য করলো।
আমর ইবন উসমান ইবন সাঈদ (রহঃ) ... মুআয ইবন জাবাল (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, জিহাদ দুই প্রকারঃ ১. যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলার সন্তুষ্টি কামনা করে এবং ইমামের আনুগত্য করে আর উত্তম মাল আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে এবং ফিতনা-ফাসাদ পরিহার করে। তার নিদ্রা ও জাগরণ সবই ইবাদতরূপে গণ্য হয়। ২. আর ঐ ব্যক্তি, যে লোককে দেখানোর জন্য ও প্রসিদ্ধি লাভ করার উদ্দেশ্যে জিহাদ করে এবং ইমামের অবাধ্য হয়, পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করে, সে কিছুই নিয়ে প্রত্যাবর্তন করবে না অর্থাৎ তার কোন সওয়াব হবে না।
ইমরান ইবন বাককার (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ ইমাম ঢাল সদৃশ, যার আড়ালে লোক যুদ্ধ করে এবং তার দ্বারা পরিত্রাণ লাভ করে। যদি ইমাম আল্লাহর ভয়ের আদেশ করে এবং ইনসাফের সাথে আদেশ করে, তবে এর জন্য তার সওয়াব রয়েছে, আর যদি এর অন্যথা করে, তবে তার উপর এর পরিণতি বর্তাবে।
মুহাম্মাদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... তামীম দারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শুভ কামনা করার নামই দীন। লোকগণ জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কার জন্য? তিনি বললেনঃ আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের, তাঁর রাসূলের, আর মুসলিমদের নেতাদের এবং মুসলিম সাধারণের জন্য।
ইয়াকূব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... তামীম দারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শুভ কামনার নামই দীন। লোকেরা জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! কার জন্য? তিনি বললেন, আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের, তাঁর রাসূলের, আর মুসলিমদের ইমামদের এবং মুসলিম সাধারণের জন্য।