রবী' ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, কল্যাণকামিতাই দীন, কল্যাণকামিতাই দীন, দীন হলো কল্যাণকামিতাই। লোকগণ জিজ্ঞাসা করলেনঃ কার জন্য, ইয়া রাসূলাল্লাহ? তিনি বললেনঃ আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের এবং তাঁর রাসূলের ও মুসলিমের ইমামদের এবং মুসলিম সাধারণের জন্য।
আবদুল কুদ্দুস ইবন মুহাম্মাদ ইবন আবদুল কাবীর ইবন শু'আয়ব (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কল্যাণকামিতাই দীন। লোকগণ জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! কার জন্য? তিনি বললেনঃ আল্লাহর, তাঁর কিতাবের, তাঁর রাসূলের ও মুসলিমদের ইমামদের এবং মুসলিম সাধারণের জন্য।
মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক ইমামের দু’জন পরামর্শদাতা থাকে। এক পরামর্শদাতা হলো, যে তাকে নেকী ও উত্তম কাজের আদেশ করে এবং তাকে মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। আর এক পরামর্শদাতা হলো, যে তার কাজে ফাসাদ সৃষ্টিতে ত্রুটি করে না। অতএব, যে ব্যক্তি এর মন্দ থেকে রক্ষা পায়, সে সকল অনিষ্ট থেকে রক্ষা পেল। আর সে এমন দলের একজন হয়ে যায়, যারা মন্দ পরামর্শদাতার উপর জয়যুক্ত হয়।
ইউনুস ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আবু সাঈদ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা কোন নবী বা কোন প্রতিনিধি প্রেরণ করেননি, তার সাথে দুটি পরামর্শদাতা ব্যতীত। এক পরমর্শদাতা হলো, যে ভাল কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে। আর এক পরামর্শ দাতা হলো, যা মন্দ কাজের প্রেরণা যোগায়। কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলা যাকে রক্ষা করেন তিনিই রক্ষা পান।
মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবদুল হাকাম (রহঃ) ... আবু আইয়ুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ দুনিয়াতে কোন নবী প্রেরিত হননি আর না তাঁর কোন খলীফা, যাকে দুটি অলক্ষ্য পরামর্শদাতা দেয়া হয়নি। এক পরামর্শদাতা হলো, যে ভাল কাজের প্রতি নির্দেশ করে এবং মন্দ কাজ হতে নিষেধ করে। আর এক পরামর্শদাতা হলো, যে মন্দ কাজের প্রেরণা দেয়। অতএব যে ব্যক্তি মন্দ পরামর্শদাতা হতে রক্ষা পেল, সেই সকল অনিষ্ট হতে রক্ষা পেল।
আমর ইবন উসমান (রহঃ) ... কাসিম ইবন মুহাম্মাদ (রহঃ) বলেন, আমার ফুফুকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি শাসক নিযুক্ত হন এবং আল্লাহ্ তা'আলা তার কল্যাণের ইচ্ছা করেন, আল্লাহ্ তাআলা তার জন্য একজন পুণ্যবান মন্ত্রী নিযুক্ত করেন, যদি ভুলে যান তবে তাঁকে স্মরণ করিয়ে দেন। আর যদি তাঁর স্মরণ থাকে, তবে তাঁকে সাহায্য করেন।
মুহাম্মদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ও মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সেনাদল প্রেরণ করেন এবং তাদের জন্য এক ব্যক্তিকে অধিনায়ক নিযুক্ত করেন। তিনি আগুন জ্বালিয়ে লোকদেরকে তাতে প্রবেশ করতে বললেন। কেউ কেউ তো তাতে প্রবেশের ইচ্ছা করে; আর অন্যরা বলেঃ আমরা তো আগুন থেকেই পালিয়ে এসেছি। এরপর তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ বিষয়টি অবহিত করলে, তিনি যারা আগুনে প্রবেশ করতে মনস্থ করেছিল তাদেরকে বলেন, যদি তোমরা তাতে প্রবেশ করতে, তবে তোমরা তাতে কিয়ামত পর্যন্ত থাকতে। আর যারা প্রবেশ করতে ইচ্ছা করেন নি, তিনি তাদের কাজকে উত্তম বলে অভিহিত করলেন। আবু মূসা (রহঃ) তার হাদীসে একটি উত্তম কথা বলেছেন। তিনি বলেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার অবাধ্যতায় কারো আনুগত্য করা যাবে না; আনুগত্য শুধু ভাল কাজে করতে হবে।
কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক মুসলিমেরই শাসকের আদেশ শোনা ও আনুগত্য করা আবশ্যক; সে পছন্দ করুক আর নাই করুক। কিন্তু তিনি যদি গুনাহর কাজের আদেশ করেন, তবে তা শ্রবণ করার এবং মানার প্রয়োজন নেই।
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... কা'ব ইবনে উজরা (রাঃ) বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আগমন করলেন, তখন আমরা ছিলাম নয়জন। তিনি বললেনঃ দেখ, অচিরেই আমার পর এমন শাসক হবে, যে ব্যক্তি তাদের মিথ্যাকে স্বীকার করবে, আর অন্যায় কাজে তাদের সাহায্য করবে, সে আমার দলভুক্ত নয় এবং আমার সাথে তার কোন সম্পর্ক থাকবে না। কিয়ামতের দিন সে আমার কাছে হাওযে আসবে না, আর যারা এ সকল শাসকের মিথ্যাকে সত্য বলবে না, আর যুলুমেও তাদের সাহায্য করবে না; সে আমার সাথী এবং আমিও তার সাথী; আর এ ব্যক্তি আমার কাছে হাওযে আগমন করবে।
হারূন ইবন ইসহাক (রহঃ) ... কা'ব ইবন উজরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আগমন করলেন। তখন আমরা ছিলাম নয়জন। তার মধ্যে পাঁচ ও চার-এর একটি সংখ্যায় ছিল আরব এবং অপর সংখ্যায় ছিল অনারব। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ শোন, তোমরা শুনে থাকবে যে, আমার পরে শাসক হবে, যারা তাদের নিকট গিয়ে তাদের মিথ্যাকে সত্য বলে প্রতিপাদন করবে, আর অত্যাচারে তাদের সাহায্য করবে, আমি তার নই, আর সেও আমার নয়। সে আমার কাছে হাওযে আসতে পারবে না। আর যারা তাদের নিকট যাবে না, তাদের মিথ্যাকে সত্য প্রতিপাদন করবে না এবং তাদের অত্যাচারে সাহায্য করবে না, সে আমার এবং আমিও তার, আর সে আমার কাছে হাওযে আগমন করবে।