সুওয়ায়দ ইবন নাসর (রহঃ) ... জাসরা বিনত দিজাজা বলেন, আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট কিছু লোক নবীযের ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমরা ভধরে খেজুর ভেজাই, সন্ধ্যায় পান করি আবার সন্ধ্যায় ভেজাই এবং ভধরে পান করি। তিনি বলেন, আমি কোন মাদকদ্রব্যকে হালাল বলছি না, যদিও তা রুটি হয় বা পানি হয়। একথা তিনি তিনবার বলেন।
সুওয়ায়দ ইবন না (রহঃ) ... কারীমা বিনত হাম্মাম বলেন, আমি উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, তোমাদেরকে কদুর খোল, মাটির পাত্র এবং তৈলাক্ত পাত্র হতে নিষেধ করা হয়েছে। এরপর তিনি নারীদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেনঃ যদি সবুজ মাটির পাত্র হতেও মাদকতা আসতে দেখ, তবে তাতেও পান করবে না।
ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আবান ইবন সাম'আ বলেন, আমার মা আমার কাছে আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর নিকট কোন ব্যক্তি মদের ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল মাদকদ্রব্য থেকে নিষেধ করেছেন। ইমাম নাসাঈ (রহঃ) বলেন, তারা ‘আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে আবদুল্লাহ ইবন শাদ্দাদ যে হাদীস বর্ণনা করেছেন, সেটিকেও অজুহাত বানিয়েছেন। বর্ণনাটি নিম্নরূপঃ
আবু বকর ইবন আলী (রহঃ) ... ইবন শুবরুমা আবদুল্লাহ ইব্ন শাদ্দাদ থেকে এবং তিনি ইব্ন আব্বাস (রাঃ) থেকে। তিনি বলেন, মদ অল্প হোক অথবা বেশি হোক তা হারাম করা হয়েছে। অন্যান্য পানীয় ততটুকু হারাম, যখন তাতে মাদকতা সৃষ্টি হয়। ইমাম নাসাঈ (রহঃ) বলেন, ইবন শুবরুমা এটা আবদুল্লাহ্ ইবন শাদ্দাদ থেকে শোনেন নি। নিম্নের বর্ণনা দ্রষ্টব্যঃ
আবু বকর ইবন আলী (রহঃ) ... ইবন শুবরুমা বলেন, আমার কাছে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি অবিদুল্লাহ ইবন শাদ্দাদ থেকে এবং তিনি ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, মদতো প্রকৃতপক্ষে হারাম বস্তু, তা কম হোক বা বেশি। অন্যান্য পানীয় তখন হারাম, যখন তাতে মাদকতা সৃষ্টি হয়। আবূ আওন মুহাম্মাদ ইবন উবায়দুল্লাহ সাকাফী তার বিপরীত বর্ণনা করেছেন যা নিম্নরূপঃ
মুহাম্মদ ইব্ন আবদুল্লাহ ইবন হাকাম ও হুসায়ন ইন মানসূর (রহঃ) ... আবূ আওন আবদুল্লাহ ইবন শাদ্দাদ থেকে এবং তিনি ইব্ন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, মদ অল্প হােক বা অধিক, তা হারাম। আর অন্যান্য পানীয়ের মধ্যে যা মাদকতা সৃষ্টি করে, তা-ও হারাম।
হুসায়ন ইব্ন মানসূর (রহঃ) ... আবু অওন আবদুল্লাহ ইব্ন শাদ্দাদ থেকে এবং তিনি ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে। তিনি বলেন, মদ হারাম বস্তু অল্প হোক বা অধিক। আর অন্যান্য পানীয় যাতে মাদকতা সৃষ্টি হয়, তা হারাম। আবু আবদুর রহমান বলেন, ইবন শুবরুমা বর্ণিত হাদীস অপেক্ষা এই হাদীসই বেশি সঠিক। হুশায়ম ইবন বুশায়র তাদলীস (লুকোচুরি) করতেন। তা ছাড়া তার বর্ণনায় স্পষ্ট নেই যে, তিনি ইবন শুবরুমা থেকে শুনেছেন। আবার ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে নির্ভরযােগ্য রাবীগণ যা বর্ণনা করেছেন ইব্ন আওনের বর্ণনা তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ জুওয়াইরিয়া জারমী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি কাবার দিকে পিঠ দিয়ে বসেছিলেন, আমি তাঁকে বাযাক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ বাযাক বের হওয়ার পূর্বেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইনতিকাল করেছেন। জেনে রাখ! প্রত্যেক মাদকদ্রব্যই হারাম। আরবদের মধ্যে আমিই সর্বপ্রথম এ সম্পর্কে প্রশ্ন করেছি।
ইসহাক ইবন ইব্রাহীম (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের হারাম করা বস্তু হারাম মনে করে, সে যেন নবীয-কে হারাম মনে করে।
সুওয়ায়দ ইবন নাসর (রহঃ) ... আবদুর রহমান তাঁর পিতা থেকে থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে বললেনঃ আমি খুরাসানের বাসিন্দা। আমাদের এলাকা শীত প্রধান। আমরা কিশমিশ আঙুর ইত্যাদি দ্বারা এক প্রকার পানীয় প্রস্তুত করি। এ নিয়ে আমি দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়েছি। এরপর সে আরও কয়েক প্রকার পানীয়ের উল্লেখ করলো। আমি মনে করলাম, হয়তো ইবন আব্বাস তা বুঝতে পারেন নি। ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেনঃ তুমি তো অনেক শরাবের কথাই বললে। মনে রেখ! মাদকদ্রব্য পরিত্যাগ করবে, তা খেজুর, আঙুর অথবা অন্য কিছু দ্বারাই তৈরি হোক না কেন।