আবু আবদুর রহমান আহমদ ইবন শুআয়ব (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করা হলোঃ কোন আমল উত্তম? তিনি বললেনঃ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের উপর ঈমান আনা।
হারূন ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন হাবাশী খাসআমী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করা হলোঃ কোন আমল উত্তম? তিনি বললেনঃ এমন ঈমান, যাতে কোন সন্দেহ নেই এবং এমন জিহাদ, যাতে কোন খিয়ানত নেই, আর মককূল হজ্জ।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার মধ্যে তিনটি গুণ থাকে সে ঈমানের স্বাদ ও মিষ্টতা পেয়ে যায়; (১) যার নিকট আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল অন্য সব কিছু অপেক্ষা বেশি প্রিয়; (২) যে আল্লাহর জন্য ভালবাসা রাখে এবং আল্লাহর জন্য শত্রুতা পোষণ করে; (৩) আর যদি ভয়াবহ আগুন প্রজ্জ্বলিত করা হয়, তবে তাতে প্রবেশ করা তার নিকট আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা অপেক্ষা বেশি পসন্দনীয় হয়।
সুওয়ায়দ ইন নসর (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যার মধ্যে তিনটি গুণ থাকবে; সে ঈমানের মিষ্টতা পাবে; ১. যে কাউকে ভালবাসলে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই তাকে ভালবাসবে; ২. আল্লাহ্ এবং আল্লাহর রাসূল তার কাছে অন্য সবকিছুর চাইতে বেশি প্রিয় হবে এবং ৩. আল্লাহ্ তাকে কুফর হতে পরিত্রাণ করার পর পুনঃ কুফরীতে ফিরে যাওয়ার চেয়ে অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হওয়া তার নিকট পছন্দনীয় হবে।
আলী ইবন হুজুর (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার মধ্যে তিনটি গুণ থাকবে, সে ইসলামের মিষ্টতা উপলব্ধি করবে; ১. আল্লাহ্ এবং আল্লাহর রাসূল তার নিকট অন্য সমস্ত কিছু হতে প্রিয় হবে; ২. সে কাউকে ভালবাসলে তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই ভালবাসবে; ৩. আর সে কুফরীতে ফিরে যাওয়াকে ঐরূপই ঘৃণা করবে, যেরূপ সে অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে ঘৃণা করে।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমন সময় এক ব্যক্তি আগমন করলেন, যার কাপড় অত্যধিক সাদা ছিল এবং চুল অধিক কাল ছিল। বুঝা যাচ্ছিল না যে, তিনি সফর হতে এসেছেন; আর আমাদের মধ্যে কেউ তাকে চিনতে পারছিল না। তিনি নিজ হাঁটুদ্বয় তাঁর হাঁটুদ্বয়ের সাথে লাগিয়ে বসলেন, তাঁর হস্তদ্বয় তাঁর উভয় উরুর উপর রাখলেন এবং বললেনঃ হে মুহাম্মদ! আমাকে বলুন, ইসলাম কি? তিনি বললেনঃ এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, আর মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং সালাত আদায় করা, যাকাত দেওয়া, রমযানের রোযা রাখা ও পথ খরচের সামর্থ্য থাকলে হজ্জ করা। সে লোকটি বললোঃ আপনি সত্যই বলেছেন। আমরা আশ্চর্যান্বিত হলাম যে, তিনি প্রশ্ন করলেন এবং বললেনঃ আপনি সত্য বলেছেন। এরপর তিনি বললেন, ঈমান কী, আমাকে বলুন? তিনি বললেনঃ বিশ্বাস স্থাপন করা আল্লাহর উপর, ফিরিশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, কিয়ামত দিবস এবং নিয়তির ভাল-মন্দের উপর বিশ্বাস। তিনি বললেনঃ আপনি সত্য বলেছেন। তারপর বললেনঃ ইহসান কি? তিনি বললেনঃ এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে, যেন তুমি আল্লাহকে দেখছাে, যদি তুমি তাকে না দেখতে পাও, তবে তিনি তোমরা তোমাকে দেখছেন। তারপর বললেনঃ কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেনঃ যার নিকট প্রশ্ন করা হচ্ছে তিনি প্রশ্নকারী হতে অধিক জ্ঞাত নন। সে ব্যক্তি বললোঃ কিয়ামতের নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করুন। তিনি বললেনঃ দাসী তার মুনিবকে প্রসব করবে, নগ্ন পদ, বিবস্ত্র, গরীব, বকরীর রাখালরা বড় বড় প্রাসাদ নির্মাণে প্রতিযোগিতা করবে। উমর (রাঃ) বলেন, আমি তিন দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম, পরে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ হে উমর! তুমি কি অবগত আছ, এই প্রশ্নকারী ব্যক্তি কে? আমি বললামঃ আল্লাহ্ এবং আল্লাহর রাসূলই সমধিক অবগত। তিনি বললেনঃ তিনি ছিলেন জিবরীল (আঃ), তিনি তোমাদেরকে তোমাদের দীন শিক্ষা দিতে এসেছিলেন।
মুহাম্মদ ইবন কুদামা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা এবং আবু যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে বসতেন; নবাগত লোক এসে তাকে চিনতে পারত না যতক্ষণ না জিজ্ঞাসা করতো। আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তাঁর জন্য একটি বসার স্থান নির্মাণের জন্য অনুমতি চাইলাম। যাতে নবাগত লোক তাঁকে সহজে চিনতে পারে। আমরা তাঁর জন্য মাটির একটি উঁচু স্থান তৈরি করলাম। তিনি তার উপর উপবেশন করতেন। একদা আমরা বসা ছিলাম, আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্থানে উপবিষ্ট ছিলেন। এমন সময় এক নবাগত ব্যক্তির আগমন হলো, যার মুখমণ্ডল সকলের চেয়ে সুন্দর ছিল এবং যার শরীরের সুগন্ধি ছিল সকলের চেয়ে উত্তম। তাঁর বস্ত্রে একটু ময়লাও ছিল না। সে ব্যক্তি বিছানার কিনারা হতে সালাম করে বললেনঃ হে মুহাম্মদ! আপনাকে সালাম। তিনি তাঁর সালামের উত্তর দিলে তিনি বললেনঃ আমি কি নিকটে আসবাে? তিনি বললেনঃ আস। এভাবে কয়েকবার বললেন, তিনিও কয়েকবার উত্তরে বললেন, হ্যাঁ, নিকটে আস। এমনকি তিনি নিকটে এসে নিজ হাত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাঁটুর উপর রাখলেন এবং বললেনঃ হে মুহাম্মদ! আমাকে ইসলাম সম্বন্ধে বলুন। তিনি বললেনঃ ইসলাম হলো তুমি আল্লাহ্ তা'আলার ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না, সালাত কায়েম করবে এবং যাকাত আদায় করবে, কা'বা শরীফের হজ্জ করবে এবং রমযানের রোযা রাখবে। তিনি বললেনঃ আমি যদি এটা করি, তবে কি আমি মুসলিম হয়ে যাব? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সে ব্যক্তি বললেন, আপনি সত্যই বলেছেন। ঐ ব্যক্তির 'আপনি সত্য বলেছেন' বাক্য শুনে আমাদের বিস্ময় জাগল। এরপর বললেনঃ হে মুহাম্মদ! আমাকে বলুন, ঈমান কি? তিনি বললেনঃ আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের, নবীগণের এবং কিতাবের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা এবং কদরে বিশ্বাস করা। তিনি বললেনঃ আমি যদি এরূপ করি, তবে কি আমি মুমিন হয়ে যাব? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ। তখন সে বলল, আপনি সত্যই বলেছেন। এরপর তিনি বললেনঃ হে মুহাম্মদ! আমাকে বলুন, ইহসান কি? তিনি বললেনঃ তুমি এমনভাবে ইবাদত করবে, যেন তুমি আল্লাহ্ তা'আলাকে দেখছাে। কেননা যদিও তুমি তাঁকে দেখছাে না, তিনি তোমরা তোমাকে দেখছেন। তিনি বললেনঃ আপনি সত্যই বলেছেন। তিনি আবার বললেনঃ হে মুহাম্মদ! কিয়ামত কবে হবে? তিনি কিছু বললেন না, বরং মাথা নিচু করলেন। লোকটি আবারও সেই প্রশ্ন করলেন কিন্তু তিনি তাকে কোন উত্তর দিলেন না। আবারও প্রশ্ন করলেন কিন্তু এবারও তিনি তাকে কোন উত্তর দিলেন না, অতঃপর তিনি মাথা উঠিয়ে বললেনঃ তুমি যার নিকট জিজ্ঞাসা করছে, তিনি প্রশ্নকারী হতে অধিক জ্ঞাত নন। কিন্তু এর অনেক আলামত রয়েছে। তুমি তা জানতে পার। যখন তুমি দেখবে পশুপালের রাখালরা সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করবে, আর তুমি দেখবে, নগ্ন পদ ও নগ্ন দেহ লোকেরা ভূখণ্ডের বাদশাহ হবে, আরো তুমি দেখবে যে, দাসী তার মালিককে প্রসব করবে, তখন মনে করবে যে, কিয়ামত নিকটবর্তী। পাঁচটি বস্তু আল্লাহ্ ব্যতীত কেউ অবগত নয়। এরপর তিনি إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ হতে اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ পর্যন্ত পাঠ করলেন। এরপর তিনি বললেনঃ ঐ সত্তার কসম! যিনি মুহাম্মদকে সত্য সহকারে পথ প্রদর্শক ও সুসংবাদদাতারূপে প্রেরণ করেছেন, আমি তাকে তোমাদের চাইতে অধিক জানি না। তিনি ছিলেন জিবরীল (আঃ) যিনি দিহইয়া কালবীর রূপে অবতীর্ণ হয়েছিলেন।
হাদিস 4992 — Sunan an Nasai 47:8
সহিহসহিহসহিহ - Agreed Upon
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، - وَهُوَ ابْنُ ثَوْرٍ - قَالَ مَعْمَرٌ وَأَخْبَرَنِي الزُّهْرِيُّ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَعْطَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رِجَالاً وَلَمْ يُعْطِ رَجُلاً مِنْهُمْ شَيْئًا قَالَ سَعْدٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَعْطَيْتَ فُلاَنًا وَفُلاَنًا وَلَمْ تُعْطِ فُلاَنًا شَيْئًا وَهُوَ مُؤْمِنٌ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَوْ مُسْلِمٌ " . حَتَّى أَعَادَهَا سَعْدٌ ثَلاَثًا وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " أَوْ مُسْلِمٌ " . ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي لأُعْطِي رِجَالاً وَأَدَعُ مَنْ هُوَ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْهُمْ لاَ أُعْطِيهِ شَيْئًا مَخَافَةَ أَنْ يُكَبُّوا فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ " .
মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... সা'দ ইবন আবু ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতিপয় লোককে কিছু দান করলেন; আর তাদের মধ্যে এক লোককে কিছুই দিলেন না। সাদ (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি অমুক, অমুককে দান করলেন কিন্তু অমুককে দান করলেন না, অথচ সে মু'মিন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ অথবা সে মুসলিম। সা'দ (রাঃ) কথাটি তিনবার পুনরাবৃত্তি করলেন। আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবারই বললেন, অথবা সে মুসলিম। পরে তিনি বললেনঃ আমি কোন কোন লোককে দান করি, আর কাউকে দান করি না, অথচ সে আমার নিকট তাদের চেয়ে অধিক প্রিয়, এই ভয়ে যে, তাদেরকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
আমর ইবন মানসূর (রহঃ) ... সাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু মাল বণ্টন করলেন। তিনি কতিপয় লোককে দিলেন, আর অপর কতককে দিলেন না। আমি জিজ্ঞাসা করলামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি অমুক অমুককে দান করলেন, অমুককে দান করলেন না, অথচ সেও মু'মিন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : মু'মিন বলো না, বরং বলো মুসলিম। এরপর রাবী ইবন শিহাব (রহঃ) এই আয়াত (قَالَتْ الْأَعْرَابُ آمَنَّا) অর্থঃ “বেদুঈনগণ বলে, আমরা ঈমান এনেছি। বল, তোমরা ঈমান আননি; বরং তোমরা বল আমরা ইসলাম গ্রহণ (বাহ্যিক আনুগত্য প্রকাশ) করেছি” (হুজুরাতঃ ১৪)। তিলাওয়াত করলেন।
কুতায়বা (রহঃ) ... বিশর ইবন সুহায়ম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আইয়ামে তাশরীকে এই কথা ঘোষণা করতে বললেন যে, জান্নাতে শুধু মু'মিনই প্রবেশ করবে।