কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিম ঐ ব্যাক্তি যার হাত ও রসনা হতে অন্য মানুষ নিরাপদ থাকে। আর মু'মিন ঐ ব্যক্তি যার থেকে অন্য লোক নিজের জান ও মালকে নিরাপদ মনে করে।
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ মুসলিম ঐ ব্যক্তি, যার হাত ও রসনা হতে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে, আর মুহাজির ঐ ব্যক্তি, যে আল্লাহর নিষিদ্ধ বস্তু থেকে দূরে থাকে।
হাফস ইবন উমর (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে আমাদের ন্যায় সালাত আদায় করে, আর আমাদের কিবলার দিকে মুখ করে এবং আমাদের যবেহকৃত পশু খায়, সে মুসলিম।
আহমাদ ইবন মুআল্লা (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কোন ব্যক্তি উত্তমরূপে ইসলাম গ্রহণ করে, তখন আল্লাহ্ তা'আলা তার ঐ সকল সৎকর্ম লিখে নেন, যা সে পূর্বে করেছিল আর তার সেই সকল পাপ মুছে ফেলেন যাতে অতীতে লিপ্ত হয়েছিল। এরপর তার হিসাব এইভাবে লিখিত হয় যে, তার প্রত্যেক নেকীর পরিবর্তে দশ হতে সাতশত গুণ পর্যন্ত সওয়াব লেখা হয়। আর প্রত্যেক পাপ শুধু অতটুকুই লেখা হয়, যা সে করে, যদি না আল্লাহ্ তা'আলা ক্ষমা করেন।
সাঈদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ উমাবী (রহঃ) ... আবু মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন্ ইসলাম উত্তম? তিনি বললেনঃ যার রসনা ও হাত হতে অন্য মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে।
কুতায়বা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলোঃ কোন্ ইসলাম (অর্থাৎ ইসলামের কোন কর্ম) ভাল? তিনি বললেনঃ খাদ্য দান করা, পরিচিত অপরিচিত সকলকে সালাম করা।
মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আম্মার (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি তাঁকে বললোঃ আপনি কি যুদ্ধ করেন না? তিনি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ ইসলাম পাঁচটি বস্তুর উপর প্রতিষ্ঠিত, এই কথার সাক্ষ্য দান করা যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, সালাত আদায় করা, যাকাত দেওয়া, রমযানের রোযা রাখা এবং হজ্জ করা।
কুতায়বা (রহঃ) ... উবাদা ইবন সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এক মজলিসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ছিলাম। তিনি বললেন, তোমরা আমার নিকট একথার উপর বায়আত কর যে, তোমরা আল্লাহ্ তা'আলার সাথে কাউকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না। তিনি তাদের সামনে এতদসংক্রান্ত পূর্ণ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন। তারপর বললেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এটা রক্ষা করবে, আল্লাহর নিকট তার প্রতিদান রয়েছে। আর যদি কেউ এর কোন একটি অপরাধ করে ফেলে, আর আল্লাহ্ তা'আলা পৃথিবীতে তা ঢেকে রাখেন, তবে আখিরাতে তা আল্লাহর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। তিনি ইচ্ছা করলে ক্ষমা করবেন, আর ইচ্ছা করলে শাস্তি দেবেন।
মুহাম্মদ ইবন হাতিম ইবন নু'আয়ম (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাকে লোকের বিরুদ্ধে জিহাদ করার আদেশ করা হয়েছে, যতক্ষণ না তারা এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, আর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল। যদি তারা এই সাক্ষ্য দেয় এবং আমাদের কিবলার দিকে মুখ করে, আমাদের যবেহকৃত পশু খায়, আমাদের ন্যায় সালাত আদায় করে, তখন তাদের জান মাল আমাদের উপর হারাম হয়ে যাবে, তবে এর হক ব্যতীত। তখন অন্যান্য মুসলিমের যে প্রাপ্য রয়েছে তাদের জন্যও তা রয়েছে। আর এদের উপর যে দায়-দায়িত্ব বর্তায়; তাদের উপরও তা বর্তাবে।