আহমাদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঈমানের সত্তরটির উপরে শাখা রয়েছে। এর সর্বোত্তমটি হলো, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ বলা, আর এর সর্বনিম্নটি হলো রাস্তা হতে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করা, আর লজ্জাও ঈমানের একটি শাখা।
أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَعَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي عَمَّارٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُرَحْبِيلَ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مُلِئَ عَمَّارٌ إِيمَانًا إِلَى مُشَاشِهِ " .
ইসহাক ইবন মানসূর ও আমর ইবন আলী (রহঃ) ... নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক সাহাবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আম্মারের অস্থিমজ্জা ঈমানে পরিপূর্ণ।
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যখন তোমাদের কেউ কোন অন্যায় দেখতে পায়, তখন সে যেন তা নিজ হাতে প্রতিহত করে। যদি ততটুকু শক্তি তার না থাকে, তবে সে যেন মুখে তা দূর করতে তৎপর হয়। যদি এই শক্তিও তার না থাকে, তবে সে যেন উক্ত মন্দ কাজকে মনে মনে ঘৃণা করে। আর এ হলো ঈমানের নিম্নতম পর্যায়।
আবদুল হামিদ ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কোন মন্দ কাজ দেখতে পায় আর সে তা নিজ হাতে প্রতিহত করে, তবে সে দায়িত্বযুক্ত হল। যদি তার হাতে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা না থাকে, তাই মুখে এর বিরোধিতা করে, তবে সেও দায়িত্বমুক্ত হল। আর যে ব্যক্তি মুখে এর বিরোধিতা করার ক্ষমতা না রাখে, আর সে মনে মনে এর বিরুদ্ধাচরণ করে, সেও দায়িত্বমুক্ত হল; আর এ হলো দুর্বলতর ঈমান।
মুহাম্মদ ইবন রাফে (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের পার্থিব কোন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ঝগড়া এত তীব্র হয় না, যা মু'মিন তার দোযখী ভাইদের জন্য আল্লাহর তা'আলার সাথে করবে। তিনি বলেন, তারা বলবেঃ ইয়া আল্লাহ্! আমাদের ভাইগণ আমাদের সাথে সালাত আদায় করতো, আমাদের সাথে রোযা রাখতে এবং আমাদের সাথে হজ্জ করতো, আর আপনি তাদেরকে দোযখে দাখিল করেছেন। তখন আল্লাহ্ তা'আলা বলবেনঃ তোমরা গিয়ে যাকে চিনতে পার তাকে বের করে নাও। তিনি বলেনঃ তারা এসে তাদেরকে তাদের চেহারা দেখে চিনতে পারবে। তাদের মধ্যে এমন লোক হবে, যাকে আগুন তার পায়ের গোছার অর্ধেক পর্যন্ত ধরেছে এবং কাউকে হাঁটু পর্যন্ত, তারা তাদেরকে বের করবে এবং বলবেঃ হে আমাদের রব! আপনি যাদেরকে বের করার আদেশ দিয়েছেন, আমরা তাদেরকে বের করেছি। আল্লাহ তা'আলা বলবেনঃ তাদেরকেও বের কর যাদের অন্তরে এক দীনার পরিমাণ ঈমান রয়েছে। এরপর বলবেনঃ ঐ সকল লোককেও বের কর যাদের অন্তরে অর্ধ দীনার পরিমাণ ঈমান রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত বলবেনঃ এমন লোকদেরকেও বের কর যাদের অন্তরে অণু পরিমাণ ঈমান রয়েছে। আবু সাঈদ (রাঃ) বলেনঃ যার বিশ্বাস হয় না সে এই আয়াত (إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ) হতে শেষ পর্যন্ত পাঠ করতে পারে।
মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি নিদ্রিত অবস্থায় দেখলাম, কোন কোন লোককে আমার নিকট উপস্থিত করা হচ্ছে এবং তারা সকলেই জামা পরিহিত। কারো জামা বুক পর্যন্ত, আর কারো তা অপেক্ষা নিচে। এরপর আমার নিকট উমর ইবন খাত্তাবকে আনা হল আর, তার গায়ে এমন একটা জামা, যা সে মাটিতে হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তারা বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি এর কী ব্যাখ্যা করলেন? তিনি বললেনঃ দীন।
আবূ দাউদ (রহঃ) ... তারিক ইবন শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, এক ইয়াহুদী উমর ইবন খাত্তাবের নিকট এসে বললোঃ হে আমীরুল মু'মিনীন! আপনাদের কুরআনে একটি আয়াত আছে, যা আপনারা পাঠ করে থাকেন, যদি ঐ আয়াতটি ইয়াহুদীদের উপর নাযিল হতো, তবে আমরা ঐ দিনকে ঈদের দিন হিসাবে ধার্য করতাম। তিনি বললেনঃ তা কোন আয়াত? সে বললঃ তা হলঃ (الْيَوْمَ عِيدًا قَالَ أَيُّ آيَةٍ قَالَ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمْ الْإِسْلَامَ دِينًا)। উমর (রাঃ) বললেনঃ যে স্থানে সে সময় ঐ আয়াত নাযিল হয়েছে, তা আমার জানা আছে। ঐ আয়াত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর আরাফাতে শুক্রবারে নাযিল হয়।
হুমায়দ ইবন মাসআদা (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউই পূর্ণ মু'মিন হবে না, যতক্ষণ না আমি তার সন্তান-সন্ততি, মাতাপিতা এবং সকল লোক হতে তার নিকট অধিক প্রিয় হই।
হুসায়ন ইবন হুরায়স (রহঃ) ও ইমরান ইবন মূসা (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ পূর্ণ মুমিন হবে না, যে পর্যন্ত না আমি তার নিকট তার পরিবার-পরিজন এবং মাল-সম্পদ এবং সকল লোক হতে অধিক প্রিয় হই।