মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন আমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি মাসে একবার কুরআন খতম কর। আমি বললাম, আমি তো এরচেয়েও অধিক পড়তে পারি। আমি তাঁর কাছে আরো বাড়াবার আবেদন করতে থাকলে শেষ পর্যন্ত তিনি আমাকে পাঁচ দিনে কুরআন খতম করতে বললেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বললেন, তুমি মাসে তিন দিন সাওম পালন কর । আমি বললাম, আমি তো এরচেয়েও অধিক সাঞ্জাম পালন করার সামর্থ্য রাখি। আমি তার কাছে আরো বাড়াবার আবেদন করতে থাকলে শেষ পর্যন্ত তিনি আমাকে আল্লাহ তা’আলার নিকট সবেত্তিম সাওম দাউদ (আ.)-এর সাওম পালন করতে বললেন। তিনি একদিন সাওম পালন করতেন। আর একদিন সাওম ভঙ্গ করতেন।
ইবরাহীম ইবন হাসান (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে সংবাদ পৌঁছলে যে, আমি সর্বদা সাওম পালন করে থাকি এবং সারা রাত্রে সালাত আদায় করে থাকি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছে সংবাদ পাঠালেন কিংবা তিনি তাঁর সাথে সাক্ষাত করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন আমাকে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, তুমি সর্বদা সাওম পালন কর; সাওম ভঙ্গ কর না এবং সারা রাত্রে সালাত আদায় করে থাকে। তুমি এরূপ করবে না। কেননা, তোমার চক্ষুর জন্য তোমার উপর হক রয়েছে। তোমার শরীরের জন্য তোমার উপর হক রয়েছে। তোমার স্ত্রীর জন্য তোমার উপর হক রয়েছে। তুমি কখনো কখনো সাওম পালন করবে। আবার কখনো সাওম ভঙ্গও করে ফেলবে। এবং রাত্রের কিছু সময় সালাত আদায় করবে। আর কিছু সময় নিদ্ৰা যাবে। তুমি প্রত্যেক দশ দিনে একদিন সাওম পালন করবে, তাহলে তোমার জন্য অবশিষ্ট নয় দিনের সওয়াবও লেখা হবে। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তো এর চেয়েও অধিক সাত্তম পালন করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বলেন, তাহলে তুমি দাউদ (আ.)-এর সাওম পালন কর। তিনি বলেন দাউদ (আ.)-এর সাওম কিরূপ ছিল। ইয়া রাসূলাল্লাহ? তিনি বলেন, দাউদ (আ.) একদিন সাওম পালন করতেন আর তিনি একদিন সাওম ভঙ্গ করতেন। আর তিনি শত্রুর মুখোমুখী হলে পলায়ন করতেন না। তিনি বললেন যে, হে আল্লাহ্র নবী! আমার সেই শক্তি কোথায়?
যাকারিয়া ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন আমার (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে আমার সাওম পালন সম্পর্কে উল্লেখ করা হলে তিনি আমার কাছে আসলেন এবং আমি তাঁর জন্য একটি খেজুরের বাকল ভর্তি মধ্যম আকারের চামড়ার বালিশ আগিয়ে দিলাম। তিনি মাটিতে বসে গেলেন এবং বালিশ আমার আর তাঁর মাঝখানে ছিল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার জন্য কি প্রত্যেক মাসে তিন দিন সওম পালন যথেষ্ট নয়? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (আমার জন্য আরো বাড়িয়ে দিন) তিনি বললেন, তাহলে পাঁচ দিন? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (আমার জন্য আরো বাড়িয়ে দিন) তিনি বললেন, তাহলে সাত দিন? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (আমার জন্য আরো বাড়িয়ে দিন) তিনি বললেন, নয় দিন? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (আমার জন্য আরো বাড়িয়ে দিন) তিনি বললেন, তাহলে এগার দিন? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (আরো বাড়িয়ে দিন) তিনি বললেন, দাউদ (আ.)-এর সাওমের উপরে কোন সাওম হতে পারে না। আর তা হল সারা জীবনের অর্ধেক একদিন সাওম পালন করা আর একদিন সওম ভঙ্গ করা।
ইবরাহীম ইবন হাসান (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ তুমি প্রত্যেক মাসে একদিন সওম পালন কর তাহলে অবশিষ্ট দিনগুলোর সওয়াবও তুমি পাবে। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালনের সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তবে তুমি দুইদিন সওম পালন কর, অবশিষ্ট দিনগুলোর সওয়াবও তুমি পাবে। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালনের সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তবে তুমি তিন দিন সাওম পালন কর, অবশিষ্ট দিনগুলোর সওয়াবও তুমি পাবে। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সওম পালনের সামৰ্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তবে তুমি চারদিন সওম পালন কর, তুমি অবশিষ্ট দিনগুলোর সওয়াবও তুমি পাবে। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালনের সামর্থ্য রাখি। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সর্বোত্তম সাওম হল দাউদ (আ.)-এর সাওম। তিনি একদিন সওম পালন করতেন আর একদিন সাওম ভঙ্গ করতেন।
আলী ইবন হজর (রহঃ) ... আবু যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বন্ধু (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তিনটি আমলের ওসীয়্যত করেছেন; ইনশাআল্লাহ আমি সেগুলো কখনো পরিত্যাগ করব না। তিনি আমাকে চাশতের সালাত এবং নিদ্ৰা যাওয়ার পূর্বে বিত্বরের সালাত আদায় করার আর প্রত্যেক মাসে তিন দিন সাওম পালন করার ওসীয়্যত করেছেন।)
মুহাম্মদ ইবন আলী (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তিনটি আমলের নির্দেশ দিয়েছেন- বিতরের সালাত আদায় করেই নিদ্রা যাওয়ার, শুক্রবার দিন গোসল করার এবং প্রত্যেক মাসে তিন দিন সাওম পালন করার।
যাকারিয়া ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দুই রাকাআত চাশতের সালাত আদায় করার, বিতরের সালাত আদায় করার পরই নিদ্ৰা যাওয়ার এবং প্রত্যেক মাসে তিন দিন সওম পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
হাদিস 2407 — Sunan an Nasai 22:318
MunkarMunkarহাসান
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ هِلاَلٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضى الله عنه قَالَ أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِنَوْمٍ عَلَى وِتْرٍ وَالْغُسْلِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَصِيَامِ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ .
মুহাম্মদ ইবন রাফি' (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিতরের সালাত আদায় করার পরই নিদ্ৰা যাওয়ার, শুক্রবার দিন গোসল করার এবং প্রত্যেক মাসে তিন দিন সাওম পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
যাকারিয়া ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ধৈর্যের মাস হল রমযান মাস আর প্রত্যেক মাসে তিন দিন সাওম পালন করা সারা বছর সওম পালন করার সমতুল্য।
আলী ইবন হাসান লানী (রহঃ) ... আবু যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিন দিন সাওম পালন করল সে যেন সারা বছর সাওম পালন করল। অতঃপর তিনি বললেন, আল্লাহ তা'আলা কুরআনে সত্যই বলেছেন, যে ব্যক্তি একটি ভাল কাজ করবে: তাকে তার দশ গুণ সওয়াব দেওয়া হবে।