ইমরান ইবন ইয়াযীদ ও মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন স্বীয় সওয়ারীতে স্থির হয়ে উপবেশন করতেন, তখন তালবিয়া পাঠ করতেন।
মুহাম্মদ ইবন আলী (রহঃ) ... উবায়দ ইবন জুরায়জ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন উমর (রাঃ)-কে বললামঃ আমি আপনাকে দেখলাম যে, আপনি যখন আপনার উটনীর উপর স্থির হয়ে বসেন, তখন তালবিয়া পাঠ করেন? তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন স্বীয় উটনীর উপর স্থির হয়ে উপবেশন করতেন, তখন তিনি তালবিয়া পাঠ করতেন।
মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন আবদুল হাকম (রহঃ) ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মদীনায়) নয় বছর অবস্থান করেন, কিন্তু তিনি হজ্জ করেন নি। তারপর তিনি লোকদেরকে হজ্জের ব্যাপারে ঘোষণা দিলেন। ফলে যে সওয়ার হয়ে অথবা পদব্ৰজে আসার ক্ষমতা রাখতো, এমন কেউ আসতে বাকী রইলো না। তারা মিলিত হলো রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে হজ্জে শরীক হওয়ার জন্য। এমনিভাবে সকলে যুলহুলায়ফায় উপস্থিত হলো। সেখানে আসমা বিনত উমায়স-এর গর্ভে মুহাম্মদ ইবন আবু বকর ভূমিষ্ট হন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ সংবাদ পাঠালে তিনি বলেন, গোসল করে একখানা কাপড় বেঁধে নাও, তারপর তালবিয়া পাঠ কর, তিনি তা-ই করেন। (সংক্ষিপ্ত)
হাদিস 2762 — Sunan an Nasai 24:144
সহিহসহিহহাসান
أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا إِسْمَاعِيلُ، - وَهُوَ ابْنُ جَعْفَرٍ - قَالَ حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرٍ، رضى الله عنه قَالَ نَفَسَتْ أَسْمَاءُ بِنْتُ عُمَيْسٍ مُحَمَّدَ بْنَ أَبِي بَكْرٍ فَأَرْسَلَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَسْأَلُهُ كَيْفَ تَفْعَلُ فَأَمَرَهَا أَنْ تَغْتَسِلَ وَتَسْتَثْفِرَ بِثَوْبِهَا وَتُهِلَّ .
আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আসমা বিনত উমায়স-এর গর্ভে মুহাম্মদ ইবন আবু বকর ভূমিষ্ট হন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট সংবাদ পাঠিয়ে জিজ্ঞাসা করেন যে, তাঁকে ঐ অবস্থায় কি করতে হবে? তখন তিনি তাকে গোসল করতে এবং একখানা কাপড় বেঁধে নিয়ে তালবিয়া পড়তে আদেশ করেন।
কুতায়বা (রহঃ) ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে হজ্জের তালবিয়া পাঠ করতে করতে গমন করলাম, আর আয়েশা (রাঃ) গেলেন উমরাহর তালবিয়া পড়তে পড়তে। আমরা যখন সরিফ নামক স্থানে পৌছলাম, তখন আয়েশা (রাঃ) ঋতুমতী হলেন, তারপর যখন আমরা মক্কায় পৌঁছলাম, আমরা কা'বার তাওয়াফ এবং সাফা ও মারওয়ার সাঈ করলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে আদেশ করলেন, যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে যেন ইহরাম ভঙ্গ করে। রাবী বলেন- আমরা আরয করলামঃ কোন বস্তু হালাল হবে? তিনি বললেনঃ সকল কিছুই হালাল হবে। (যা ইহরামে কারণে হারাম হয়েছিল)। পরে আমরা স্ত্রী সহবাস করলাম, সুগন্ধি ব্যবহার করলাম এবং আমাদের কাপড় পরিধান করলাম অথচ আমাদের ও আরাফার মধ্যে চার রাতেরই ব্যবধান ছিল। তারপর আমরা ৮ই যিলহজ্জের দিন তালবিয়া পাঠ করলাম এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট গেলেন তখন দেখলেন তিনি কাঁদছেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন ও তোমার অবস্থা কি? আয়েশা (রাঃ) বললেনঃ আমার অবস্থা হলো আমার ঋতু আরম্ভ হয়েছে, লোকজন তো ইহরাম ভঙ্গ করেছে অথচ আমি ইহরাম ভঙ্গ করিনি। আর আমি বায়তুল্লাহর তওয়াফও করিনি। এখন লোকজন তো হজ্জ আদায়ের জন্য যাচ্ছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ইহা এমন এক ব্যাপার, যা আল্লাহ্ তা'আলা আদম কন্যাদের জন্য নির্ধারিত করেছেন। অতএব তুমি গোসল কর এবং হজ্জের নিয়ত কর। তারপর তিনি তা-ই করলেন এবং বিভিন্ন অবস্থান স্থলে অবস্থান করলেন। এরপর যখন তিনি পবিত্র হলেন। তখন বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করলেন এবং সাফা ও মারওয়ায় সাঈ করলেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এখন তুমি তোমার হজ্জ ও উমরাহ উভয়ের ইহরাম ভঙ্গ করলে। আয়েশা (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার মনে হয় যেন আমি বাতুল্লাহর তাওয়াফ করিনি, অথচ হজ্জ করেছি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবদুর রহমান! তাকে নিয়ে যাও এবং তানঈম হতে উমরাহ করাও। আর ইহা ছিল মুহাসসবের রাত্রি। (মিনা থেকে প্রত্যাবর্তনের পর মুহাসসাব নামক স্থানে অবস্থানের রাত্রি।)
হাদিস 2764 — Sunan an Nasai 24:146
সহিহসহিহহাসান
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - عَنِ ابْنِ الْقَاسِمِ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَأَهْلَلْنَا بِعُمْرَةٍ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ كَانَ مَعَهُ هَدْىٌ فَلْيُهْلِلْ بِالْحَجِّ مَعَ الْعُمْرَةِ ثُمَّ لاَ يَحِلُّ حَتَّى يَحِلَّ مِنْهُمَا جَمِيعًا " . فَقَدِمْتُ مَكَّةَ وَأَنَا حَائِضٌ فَلَمْ أَطُفْ بِالْبَيْتِ وَلاَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَشَكَوْتُ ذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " انْقُضِي رَأْسَكِ وَامْتَشِطِي وَأَهِلِّي بِالْحَجِّ وَدَعِي الْعُمْرَةَ " . فَفَعَلْتُ فَلَمَّا قَضَيْتُ الْحَجَّ أَرْسَلَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَعَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ إِلَى التَّنْعِيمِ فَاعْتَمَرْتُ قَالَ " هَذِهِ مَكَانُ عُمْرَتِكِ " . فَطَافَ الَّذِينَ أَهَلُّوا بِالْعُمْرَةِ بِالْبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ثُمَّ حَلُّوا ثُمَّ طَافُوا طَوَافًا آخَرَ بَعْدَ أَنْ رَجَعُوا مِنْ مِنًى لِحَجِّهِمْ وَأَمَّا الَّذِينَ جَمَعُوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ فَإِنَّمَا طَافُوا طَوَافًا وَاحِدًا .
মুহাম্মদ ইবন সালামা ও হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বের হলাম। আমরা উমরাহর তালবিয়া পড়লাম। তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যার সাথে কুরবানীর জন্তু রয়েছে, সে যেন উমরাহর সাথে হজ্জেরও নিয়াত করে এবং এ দুয়ের কাজ সমাধা করার পূর্বে যেন ইহরাম ভঙ্গ না করে, তারপর আমি হায়েয অবস্থায় মক্কায় পৌছলাম। ফলে আমি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতে পারলাম না এবং সাফা ও মারওয়ার সাঈও না। আমি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অবহিত করলাম। তিনি বললেনঃ তুমি তোমার মাথার চুলের বেনী খুলে ফেল, মাথার চুল আঁচড়াও এবং হজের নিয়্যত কর, উমরাহর নিয়্যত ছেড়ে দাও, তখন আমি তাই করলাম। যখন হজ্জ শেষ করলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আবদুর রহমান ইবন আবু বকর (রাঃ)-এর সাথে তানঈম পাঠিয়ে দিলেন। তখন আমি উমরাহ করলাম। তিনি বললেনঃ ইহাই তোমার উমরাহর স্থান। অতএব যারা উমরাহর নিয়্যত করেছিলেন, তারা কা'বার তাওয়াফ এবং সাফা ও মারওয়ার সাঈ করলেন। পরে তারা ইহরাম ভঙ্গ করলেন। তারা মিনা থেকে প্রত্যাবর্তনের পর হজ্জের জন্য অন্য এক তাওয়াফ করলেন। কিন্তু যারা হজ্জ ও উমরাহর একত্রে নিয়্যত করেছিলেন তারা একই তাওয়াফ করলেন (ফরয হিসেবে)।
হাদিস 2765 — Sunan an Nasai 24:147
সহিহসহিহসহিহ Muslim
أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ حَدَّثَنَا حَبِيبٌ، عَنْ عَمْرِو بْنِ هَرِمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، وَعِكْرِمَةُ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ ضُبَاعَةَ، أَرَادَتِ الْحَجَّ فَأَمَرَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ تَشْتَرِطَ فَفَعَلَتْ عَنْ أَمْرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
হারূন ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, দুবা'আ (রাঃ) হজ্জের ইচ্ছা করলেন। তাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করলেন, যেন তিনি শর্ত করে নেন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশে তা-ই করলেন।
ইব্রাহীম ইবন ইয়াকুব (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন ও দুবা'আ বিনত যুবায়র ইবন আবদুল মুত্তালিব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি হজ্জের ইচ্ছা করেছি। এখন আমি কি বলবো? তিনি বললেনঃ তুমি বলবেঃ لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ وَمَحِلِّي مِنَ الأَرْضِ حَيْثُ تَحْبِسُنِي লাব্বায়ক আল্লাহুম্মা লাব্বায়ক, আমার ইহরাম খোলার স্থান ঐটি যেখানে আমাকে আটকে দিলে। কারণ তোমার জন্য তোমার রবের নিকট তা-ই রয়েছে, যা তুমি শর্ত করেছ।
ইমরান ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ দুবা'আ বিত যুবায়র রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি সন্তান সম্ভবা মহিলা অথচ আমি হজ্জ করার মনস্থ করেছি। অতএব, আমাকে কি বলে ইহরাম করতে আদেশ করেন? তিনি বলেনঃ তুমি ইহরাম বাঁধার সময় শর্ত করে বলবেঃ যেখানে (হে আল্লাহ্) আমাকে বাঁধা দেবেন, সেখানে আমি ইহরাম ভঙ্গ করবো।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুবা'আ (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলে দুবা'আ বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি অসুস্থ অথচ আমি হজ্জের ইচ্ছা করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি হজ্জে যাবে এবং শর্ত করবে যে, (হে আল্লাহ) আপনি আমাকে যেখানে বাধাগ্ৰস্ত করবেন, সেখানে আমি ইহরাম ভঙ্গ করবো।