কুতায়বা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, সে কুরবানীর উট হাঁকিয়ে নিয়ে চলছে। তিনি বললেনঃ এতে আরোহণ করা। সে ব্যক্তি বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এ-তো কুরবানীর উট। তিনি দ্বিতীয়বারে বা তৃতীয়বারে তাকে বললেনঃ দুর্ভোগ তোমার জন্য! তুমি উহাতে আরোহণ করা।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, সে তার কুরবানীর উট হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি বললেনঃ এতে আরোহণ কর। সে ব্যক্তি বললোঃ এ-তো কুরবানীর উট। তিনি আবার বললেনঃ এতে আরোহণ কর। তিনি চতুৰ্থবারে বললেনঃ তুমি এতে আরোহণ করা। দুর্ত্যোগ তোমার জন্য।
মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, সে তার কুরবানীর উট হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অথচ পথ চলতে চলতে সে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। তিনি বললেনঃ এতে আরোহণ কর। সে ব্যক্তি বললোঃ এ-তো কুরবানীর উট। তিনি আবার বললেনঃ কুরবানীর উট হলেও তুমি এতে আরোহণ কর।
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আবূ যুবায়র (রহঃ) বলেন, আমি জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-কে কুরবানীর জন্তুর উপর আরোহণ করা সম্বন্ধে প্রশ্ন করতে শুনি, তিনি বলেনঃ আমি বাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, এতে বিবেচনার সাথে আরোহণ কর। যখন তুমি এর মুখাপেক্ষী হও এবং অন্য একটি সওয়ারী না পাও।
মুহাম্মদ ইবন কুদামা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বের হলাম। আর হজ্জ ব্যতীত আমাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না, পরে যখন আমরা মক্কায় পৌঁছলাম তখন বায়তুল্লাহর তওয়াফ করলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করলেনঃ যে কুরবানীর জন্তু সাথে নিয়ে আসেনি, সে যেন হালাল হয়ে যায়। ফলে, যে কুরবানীর জন্তু সাথে নিয়ে আসেনি। সে হালাল হয়ে গেল। আর তাঁর সহধর্মিণীগণ ও কুরবানীর জন্তু সাথে আনেন নি, তাঁরাও হালাল হয়ে গেলেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন, এরপর আমি ঋতুবতী হলাম। তাই আমি বায়তুল্লাহর তওয়াফ করলাম না। এরপর যখন মুহাসসাব নামক স্থানে রাত্রি যাপনের সময় হলো, তখন আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! অন্যান্য লোক তো এক হজ্জ ও এক উমরাহসহ প্ৰত্যাবর্তন করবে, আর আমি শুধু এক হজ্জ নিয়েই প্রত্যাবর্তন করবো? তিনি বললেনঃ তুমি কি আমাদের মক্কা আগমনের রাত্রে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করনি? আমি বললামঃ না। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি তোমার ভাইয়ের সাথে তানঈম চলে যাও এবং উমরাহর ইহরাম করে আস। এরপর তোমার ওয়াদা পূর্ণ হওয়ার স্থান হবে অমুক অমুক জায়গা।
হাদিস 2804 — Sunan an Nasai 24:186
সহিহসহিহহাসান
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ يَحْيَى، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَ نُرَى إِلاَّ أَنَّهُ الْحَجُّ فَلَمَّا دَنَوْنَا مِنْ مَكَّةَ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ كَانَ مَعَهُ هَدْىٌ أَنْ يُقِيمَ عَلَى إِحْرَامِهِ وَمَنْ لَمْ يَكُنْ مَعَهُ هَدْىٌ أَنْ يَحِلَّ .
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বের হলাম। হজ্জ ব্যতীত আমাদের আর কোন উদ্দেশ্য ছিল না। আমরা যখন মক্কার নিকটবর্তী হলাম, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করলেন, যার সাথে কুরবানীর জন্তু রয়েছে, সে যেন তার ইহরাম অবস্থায় থাকে। আর যার সাথে কুরবানীর জন্তু নেই, সে যেন হালাল হয়ে যায়।
হাদিস 2805 — Sunan an Nasai 24:187
সহিহসহিহIsnaad Sahih
أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ أَهْلَلْنَا أَصْحَابَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِالْحَجِّ خَالِصًا لَيْسَ مَعَهُ غَيْرُهُ خَالِصًا وَحْدَهُ فَقَدِمْنَا مَكَّةَ صَبِيحَةَ رَابِعَةٍ مَضَتْ مِنْ ذِي الْحِجَّةِ فَأَمَرَنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَحِلُّوا وَاجْعَلُوهَا عُمْرَةً " . فَبَلَغَهُ عَنَّا أَنَّا نَقُولُ لَمَّا لَمْ يَكُنْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ عَرَفَةَ إِلاَّ خَمْسٌ أَمَرَنَا أَنْ نَحِلَّ فَنَرُوحَ إِلَى مِنًى وَمَذَاكِيرُنَا تَقْطُرُ مِنَ الْمَنِيِّ فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَخَطَبَنَا فَقَالَ " قَدْ بَلَغَنِي الَّذِي قُلْتُمْ وَإِنِّي لأَبَرُّكُمْ وَأَتْقَاكُمْ وَلَوْلاَ الْهَدْىُ لَحَلَلْتُ وَلَوِ اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْتُ مَا أَهْدَيْتُ " . قَالَ وَقَدِمَ عَلِيٌّ مِنَ الْيَمَنِ فَقَالَ " بِمَا أَهْلَلْتَ " . قَالَ بِمَا أَهَلَّ بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ " فَأَهْدِ وَامْكُثْ حَرَامًا كَمَا أَنْتَ " . قَالَ وَقَالَ سُرَاقَةُ بْنُ مَالِكِ بْنِ جُعْشُمٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ عُمْرَتَنَا هَذِهِ لِعَامِنَا هَذَا أَوْ لِلأَبَدِ قَالَ " هِيَ لِلأَبَدِ " .
ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ শুধু হজ্জের ইহরাম করেছিলাম, তার সাথে আর কোন কিছুর নিয়ত ছিল না। যিলহজ্জ মাসের চতুর্থ তারিখ ভোরে আমরা মক্কায় উপনীত হলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে আদেশ করলেন, তোমরা হালাল হয়ে যাও, আর একে উমরাহ করে ফেল। (অর্থাৎ হজ্জের নিয়্যতের ইহরামকে উমরাহর নিয়্যতে পরিবর্তিত করে ফেল।) আমাদের পক্ষ থেকে তার নিকট এ খবর পৌঁছলো যে, আমরা বলছি, আমাদের আরাফার মধ্যে মাত্র পাঁচ দিন বাকী থাকতে আমাদেরকে তিনি হালাল হতে আদেশ করলেন? তাহলে কি আমরা এমন অবস্থায় মিনায় উপস্থিত হব, যখন আমাদের বীর্য নিৰ্গত হতে থাকবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে আমাদেরকে ভাষণ দিতে গিয়ে বললেনঃ তোমরা যা বলেছ তা আমার নিকট পৌছেছে। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মধ্যে অধিক নেককার এবং পরহেযাগার। যদি কুরবানীর জন্তু না হতো, তাহলে আমি অবশ্যই হালাল হয়ে যেতাম। আমি পরে যা বুঝতে পেরেছি, তা যদি পূর্বে বুঝতাম, তাহলে কুরবানীর জন্তু সাথে আনতাম না। বর্ণনাকারী বলেন, ইত্যবসরে আলী (রাঃ) ইয়ামন থেকে আগমন করলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কিসের ইহরাম বেঁধেছা? তিনি বললেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার ইহরাম বেঁধেছেন তার। তিনি বললেনঃ তাহলে কুরবানীর জন্তুসহ ইহরাম অবস্থায় থাকে। বর্ণনাকারী বলেন, সুরাকা ইবনু মালিক ইবন জা'সুম বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি কি বলেন? আমাদের এ উমরাহ কি এ বৎসরের জন্যই, না চিরদিনের জন্য? তিনি বললেনঃ চিরদিনের জন্য।
মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... সুরাকা ইবন মালিক ইবন জ'শম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়া ব্লাসূলাল্লাহ্! আপনার কি অভিমত, আমাদের এ উমরাহ কি এ বৎসরের জন্যই, না চিরদিনের জন্য? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ইহা চিরদিনের জন্য।
হাদিস 2807 — Sunan an Nasai 24:189
সহিহ Isnaadসহিহ Isnaadহাসান
أَخْبَرَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ عَبْدَةَ، عَنِ ابْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَطَاءٍ، قَالَ قَالَ سُرَاقَةُ تَمَتَّعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَتَمَتَّعْنَا مَعَهُ فَقُلْنَا أَلَنَا خَاصَّةً أَمْ لأَبَدٍ قَالَ " بَلْ لأَبَدٍ " .
হান্নাদ ইবন সারী (রহঃ) ... আতা (রহঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন যে, সুরাকা (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জে তামাত্তু করলেন, তাঁর সঙ্গে আমরাও তামাত্তু করলাম, পরে আমরা বললামঃ ইহা কি বিশেষভাবে আমাদের জন্য, না চিরদিনের জন্য? তিনি বললেনঃ চিরদিনের জন্য।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... হারিস ইবন বিলাল তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! হজ্জ পরিত্যাগ করার বিধান কি শুধু আমাদের জন্য, না সকল লোকের জন্য? তিনি ইরশাদ করলেনঃ বরং শুধু আমাদের জন্য।