আমর ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... আবু যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি হজ্জে তামাত্তু সম্বন্ধে বলেনঃ এর অনুমতি শুধু আমাদের জন্যই দান করা হয়েছে। (অর্থাৎ হজ্জ পরিত্যাগ করে উমরাহ করার অনুমতি শুধু আমাদের জন্য ছিল।)
মুহাম্মদ ইবন মুছান্না ও মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... আবু যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি হজ্জে তামাত্তু সম্বন্ধে বলেনঃ ইহা তোমাদের জন্য নয়। ইহা পরিত্যাগ করার অনুমতি শুধু আমরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের জন্য।
মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন মুবারক (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবন আবু শা'ছা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময় আমি ইবরাহীম নাখায়ী এবং ইবরাহীম তায়মীর সাথে ছিলাম। আমি বললামঃ আমি ইচ্ছা করেছি এ বৎসর হজ্জ ও উমরাহ একত্রে করবো। তখন ইবরাহীম বললেনঃ তোমার পিতা হলে এর ইচ্ছা করতেন না। তিনি বললেনঃ ইবরাহীম তায়ামী তাঁর পিতার সূত্রে আবু যর (রাঃ) থেকে বলেন, তিনি বলেছেনঃ হজ্জে তামাত্তু তো আমাদের জন্য খাস ছিল।
আবদুল আ'লা ইবন ওয়াসিল ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহিলী যুগে লোক মনে করতো পৃথিবীতে হজ্জের মাসে উমরাহ করা গুরুতর পাপ। তারা মুহররম মাসকে সফর মাস হিসেবে গণ্য করতো। এবং তারা বলতঃ إِذَا بَرَأَ الدَّبَرْ وَعَفَا الْوَبَرْ وَانْسَلَخَ صَفَرْ - أَوْ قَالَ دَخَلَ صَفَرْ - فَقَدْ حَلَّتِ الْعُمْرَةُ لِمَنِ اعْتَمَرْ যখন উটের পিঠে ক্ষত শুকিয়ে যায়, উটের পশম বৃদ্ধি পায় এবং সফর অর্থাৎ (তাদের বিশ্বাসানুযায়ী) মুহররম অতিবাহিত হয়।” অথবা বলতোঃ সফর মাস এসে যায়, তখন উমরাহ হালাল হয়ে যায়, যে উমরাহ করতে চায়। তার জন্য। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সাহাবীগণ যিলহজ্জ মাসের চতুর্থ তারিখে ভোরে হজের ইহরাম বঁধেন। তিনি তাদেরকে আদেশ করেন, তারা যেন হজ্জকে উমরায় পরিবর্তিত করে ফেলে। ইহা তাদের নিকট কষ্টকর মনে হলো, তাঁরা প্রশ্ন করলোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! কোনটি হালাল? তিনি ইরশাদ করলেন, হালাল সবই।
মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... মুসলিম (রহঃ) বলেনঃ আমি ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরাহর ইহরাম বাঁধলেন, আর তাঁর সাহাবীগণ হজ্জের ইহরাম বাঁধলেন, যাদের সাথে কুরবানীর জন্তু ছিল না, তিনি তাদেরকে আদেশ করলেন যেন তারা হালাল হয়ে যায়। আর যাদের সাথে কুরবানীর জন্তু ছিল না, তাদের মধ্যে ছিলেন তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ্ এবং অন্য এক ব্যক্তি। অতএব, তারা উভয়ে হালাল হয়ে গেলেন।
মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) সূত্রে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এই উমরাহ্ আমরা উপভোগ করলাম, অতএব যার সাথে কুরবানীর জন্তু নেই, সে যেন সর্বোতভাবে হালাল হয়ে যায়। এভাবে উমরার নিয়্যত হজ্জের নিয়্যতের মধ্যে শামিল হলো।
হাদিস 2816 — Sunan an Nasai 24:198
সহিহসহিহসহিহ - Agreed Upon
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، عَنْ نَافِعٍ، مَوْلَى أَبِي قَتَادَةَ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، أَنَّهُ كَانَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِذَا كَانَ بِبَعْضِ طَرِيقِ مَكَّةَ تَخَلَّفَ مَعَ أَصْحَابٍ لَهُ مُحْرِمِينَ وَهُوَ غَيْرُ مُحْرِمٍ وَرَأَى حِمَارًا وَحْشِيًّا فَاسْتَوَى عَلَى فَرَسِهِ ثُمَّ سَأَلَ أَصْحَابَهُ أَنْ يُنَاوِلُوهُ سَوْطَهُ فَأَبَوْا فَسَأَلَهُمْ رُمْحَهُ فَأَبَوْا فَأَخَذَهُ ثُمَّ شَدَّ عَلَى الْحِمَارِ فَقَتَلَهُ فَأَكَلَ مِنْهُ بَعْضُ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَبَى بَعْضُهُمْ فَأَدْرَكُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلُوهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ " إِنَّمَا هِيَ طُعْمَةٌ أَطْعَمَكُمُوهَا اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ " .
কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদা তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলেন। যখন তিনি মক্কায় কোন এক রাস্তায় পৌঁছলেন, তখন তিনি তার কয়েকজন মুহরিম সঙ্গিসহ পেছনে রয়ে গেলেন, আর তিনি নিজে মুহরিম ছিলেন না। এমন সময় তিনি একটি বন্য গাধা দেখতে পেলেন। তিনি একটি ঘোড়ায় আরোহণ করলেন। তারপর তিনি তাঁর সাথীদেরকে তাকে চাবুক মারতে বললেনঃ কিন্তু তারা অস্বীকার করলেন। পরে তিনি তাঁদেরকে তীর ছুড়তে বললেন, তারা তা-ও অস্বীকার করলেন। এরপর তিনি নিজে গাধার প্রতি তীর নিক্ষেপ করলেন এবং তা শিকার করলেন। তা থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন কোন সাহাবী খেলেন আর কেউ কেউ খেতে অস্বীকৃতি জানালেন। তারপর তাঁরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পেয়ে এ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেনঃ ইহা তো খাদ্য বিশেষ, যা আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে খাওয়ালেন ।
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... মুয়ায ইবন আবদুর রহমান তায়মী তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমরা তালহা ইবন উবায়দুল্লাহর সঙ্গে ছিলাম। আর আমরা সকলে ছিলাম মুহরিম। তাকে একটি পাখি হাদিয়া দেওয়া হলো। তখন তিনি ছিলেন নিদ্রিত। আমাদের মধ্যে কেউ তা আহার করলো আর কেউ তা আহার করলো না। ইত্যবসরে তালহা (রাঃ) নিদ্রা থেকে জাগলেন। যারা তা খেয়েছিলেন, তিনিও তাদের অনুসারী হলেন এবং বললেন, আমরা তা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে আহার করেছি।
হাদিস 2818 — Sunan an Nasai 24:200
সহিহ Isnaadসহিহ IsnaadIsnaad Sahih
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - عَنِ ابْنِ الْقَاسِمِ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ عِيسَى بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ عُمَيْرِ بْنِ سَلَمَةَ الضَّمْرِيِّ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ عَنِ الْبَهْزِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ يُرِيدُ مَكَّةَ وَهُوَ مُحْرِمٌ حَتَّى إِذَا كَانُوا بِالرَّوْحَاءِ إِذَا حِمَارُ وَحْشٍ عَقِيرٌ فَذُكِرَ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " دَعُوهُ فَإِنَّهُ يُوشِكُ أَنْ يَأْتِيَ صَاحِبُهُ " . فَجَاءَ الْبَهْزِيُّ وَهُوَ صَاحِبُهُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَأْنَكُمْ بِهَذَا الْحِمَارِ . فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَبَا بَكْرٍ فَقَسَّمَهُ بَيْنَ الرِّفَاقِ ثُمَّ مَضَى حَتَّى إِذَا كَانَ بِالأُثَايَةِ بَيْنَ الرُّوَيْثَةِ وَالْعَرْجِ إِذَا ظَبْىٌ حَاقِفٌ فِي ظِلٍّ وَفِيهِ سَهْمٌ فَزَعَمَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ رَجُلاً يَقِفُ عِنْدَهُ لاَ يُرِيبُهُ أَحَدٌ مِنَ النَّاسِ حَتَّى يُجَاوِزَهُ .
মুহাম্মদ ইবন সালামা ও হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... বাহযী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় মক্কার উদ্দেশ্যে বের হলেন। যখন তঁরা রওহা নামক স্থানে পৌঁছলেন, তখন আহত অবস্থায় একটি জংলী গাধা দেখতে পেলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এ সংবাদ দিলে তিনি বললেনঃ এটা ছেড়ে দাও, হয়তো তার মালিক এসে পড়বে। তারপর তার মালিক বাহযী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এই গাধার ব্যাপারটি আপনাদের হাতে। পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর (রাঃ)-কে আদেশ করলে তিনি তা সাথীদের মধ্যে ভাগ করে দিলেন। তারপর যখন তিনি রুয়াইসাহ ও আরজ এর মধ্যবর্তী উসাইয়াহ্ নামক স্থানে পৌঁছলেন, তখন দেখা গেল একটি হরিণ ছায়ায় শায়িত রয়েছে, ভার গায়ে একটি তীর বিন্ধ আছে। বর্ণনাকারী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে আদেশ করলেন, যে ব্যক্তি তার নিকট দণ্ডায়মান ছিল, কোন ব্যক্তি যেন তাকে অতিক্রম করে যাওয়ার সময় তাকে উত্যক্ত না করে।