أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ الصَّعْبِ بْنِ جَثَّامَةَ، أَنَّهُ أَهْدَى لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِمَارَ وَحْشٍ وَهُوَ بِالأَبْوَاءِ أَوْ بِوَدَّانَ فَرَدَّهُ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا فِي وَجْهِي قَالَ " أَمَّا إِنَّهُ لَمْ نَرُدَّهُ عَلَيْكَ إِلاَّ أَنَّا حُرُمٌ " .
কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... সা'ব ইবন জাছছামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবওয়ায় অথবা ওয়াদানে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একটি জংলী গাধা হাদিয়া দিলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ফেরত দেন। এতে আমার চেহারার অবস্থা দেখে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিচ বললেনঃ আমি যেহেতু মুহরিম, সেজন্য তা তোমাকে ফেরত দিয়েছি।
কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... সা'ব ইবন জাছছামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় আগমনকালে যখন ওয়াদানে পৌঁছলেন, তখন একটি জংলী গাধা দেখলেন। (যা তাঁকে সাব ইবন জাছছামা কর্তৃক হাদিয়া হিসেবে দেয়া হয়েছে।) তিনি তা তাকে ফেরত দিলেন এবং বললেনঃ আমরা মুহরিম, আমরা শিকার আহার করি না।
মুহাম্মদ ইবন কুদামা (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাব ইবন জাছছামা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জংলী গাধার একটি পা হাদিয়া দিলেন যার থেকে রক্ত পড়ছিল, আর তখন তিনি কুদায়দ নামক স্থানে ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। পরে তিনি তা তাকে ফেরত দিলেন।
ইউসুফ ইবন হাম্মাদ মানী (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, সাব ইবন জাছছামা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একটি গাধা হাদিয়া দিলেন, তখন তিনি ছিলেন মুহরিম। তিনি তা নিকট তা ফেরত দিলেন।
মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন আবু কাতাদা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুদায়বিয়ার বছর আমার পিতা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে রওয়ানা হলেন। তাঁর সাহাবীগণ ইহরাম বাঁধলেন, আর তিনি ইহরাম বাঁধলেন না। আমি তাঁর সাহাবীগণের সাথে ছিলাম। এমন সময় তারা একে অন্যের দিকে তাকিয়ে হেসে উঠলেন। আমি লক্ষ্য করে দেখলাম, একটি জংলী গাধা। আমি তাকে লক্ষ্য করে বর্শা নিক্ষেপ করলাম। বর্শ নিক্ষেপ করতে আমি তাঁদের সাহায্য কামনা করলাম, কিন্তু তারা আমাকে সাহায্য করতে অস্বীকৃতি জানালেন। আমরা তার গোশত খেলাম। আমরা কাফেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশংকা করলাম। তারপর আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তালাশে ঘোড়াকে অতি দ্রুত হাঁকালাম। মধ্যরাত্রে গিফার গোত্রের এক ব্যক্তির সাথে আমার সাক্ষাত হলো। তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি কোথায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ছেড়ে এসেছে? সে বললো, সুকিয়া নামক স্থানে তাঁকে শায়িত অবস্থায় ছেড়ে এসেছি। পরে তাঁর সাথে মিলিত হয়ে বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনার সাহাবীবৃন্দ আপনাকে সালাম দিয়েছেন। তারা আপনার থেকে পেছনে থাকার কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ভয় করছে। অতএব আপনি তাঁদের জন্য অপেক্ষা করুন। তিনি তাঁদের জন্য অপেক্ষা করলেন। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি একটি জংলী গাধা ধরে ফেলেছি। আর তার কিছু অংশ আমার নিকট আছে। তিনি কাফেলাকে লক্ষ্য করে বললেনঃ তোমরা তা আহার কর, অথচ তারা তখন মুহরিম ছিল।
উবায়দুল্লাহ ইবন ফাদালা ইবন নাসায়ী (রহঃ) ... ইয়াহইয়া ইবন আবু কাসীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন আবু কাতাদা (রহঃ) আমার নিকট বৰ্ণনা করেছেন যে, তাঁর পিতা তার নিকট বলেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে হুদায়বিয়ার যুদ্ধে ছিলেন। তিনি বললেনঃ আমি ব্যতীত সকলেই উমরাহর ইহরাম করেছিলেন। আমি একটি জংলী গাধা শিকার করলাম, এবং তা থেকে আমার সাথীদেরকে খাওয়ালাম, অথচ তাঁরা ছিলেন মুহরিম। তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে তাঁকে এ সংবাদ দিলাম যে, এর উদ্ধৃত্ত গোশত আমাদের নিকট রয়েছে। তিনি বললেনঃ তোমরা তা খাও। অথচ তারা সকলেই মুহরিম ছিলেন।
মাহমুদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... উসমান ইবন আবদুল্লাহ ইবন মাওহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহকে তার পিতা আবু কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, কয়েকজন সাহাবী এক সফরে ছিলেন। তাদের কেউ কেউ মুহরিম ছিলেন, আর কেউ কেউ মুহরিম ছিলেন না। তিনি বলেন, আমি একটি জংলী গাধা দেখতে পেলাম। আমি আমার ঘোড়ায় আরোহণ করে বর্শ ধারণ করলাম এবং তঁদের সাহায্য চাইলাম। কিন্তু তারা আমাকে সাহায্য করতে অস্বীকার করলেন। তারপর আমি তাদের একজনের নিকট থেকে একটি তীর কেড়ে নিয়ে ঐ গাধাকে আক্রমণ করলাম এবং তাকে ধরে ফেললাম। তারা সকলেই তা খেলেন এবং ভয় করলেন। বর্ণনাকারী বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেনঃ তোমরা কি এ ব্যাপারে ইঙ্গিত অথবা সাহায্য করেছিলে ? তারা বললেনঃ না । তিনি বললেন, তাহলে খাও।
কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের জন্য স্থলের শিকার হালাল, যদি তোমরা তা শিকার না কর অথবা তোমাদের আদেশে শিকার করা না হয়। আবু আবদুর রহমান (রহঃ) বলেনঃ আমর ইবন আবু আমার হাদীসে তত নির্ভরযোগ্য নন, যদিও মালিক (রহঃ) তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
হাদিস 2828 — Sunan an Nasai 24:211
সহিহসহিহসহিহ - Agreed Upon
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " خَمْسٌ لَيْسَ عَلَى الْمُحْرِمِ فِي قَتْلِهِنَّ جُنَاحٌ الْغُرَابُ وَالْحِدَأَةُ وَالْعَقْرَبُ وَالْفَأْرَةُ وَالْكَلْبُ الْعَقُورُ .
কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচ প্রকার প্রাণী হত্যা করায় মুহরিমের কোন পাপ নেই। তা হলো- কাক, চিল, বিচ্চু, ইদুর এবং দংশনকারী কুকুর।