মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... মুআবিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চুলের চারদিক থেকে কেটেছি, আমার নিকট তীরের ফলা ছিল তা দিয়ে, তাঁর বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা মারওয়া সাঈ-এর পর যুলহিজ্জার দশ দিনের মধ্যে। কায়স (রহঃ) বলেন, লোকেরা মুআবিয়া (রাঃ)-এর এ ব্যাপারটি অস্বীকার করেছেন।
মুহাম্মদ ইবন রাফি (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমরা হজ্জের নিয়্যতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে বের হই। যখন তিনি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ এবং সাফা ও মারওয়ার সাঈ করেন, তখন বললেনঃ যার সাথে কুরবানীর পশু রয়েছে, সে তার ইহরামের উপর আসবে। আর যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে হালাল হয়ে যাবে।
হাদিস 2991 — Sunan an Nasai 24:374
সহিহসহিহহাসান
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا سُوَيْدٌ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَمِنَّا مَنْ أَهَلَّ بِالْحَجِّ وَمِنَّا مَنْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ وَأَهْدَى فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ وَلَمْ يُهْدِ فَلْيَحْلِلْ وَمَنْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ فَأَهْدَى فَلاَ يَحِلَّ وَمَنْ أَهَلَّ بِحَجَّةٍ فَلْيُتِمَّ حَجَّهُ " . قَالَتْ عَائِشَةُ وَكُنْتُ مِمَّنْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ .
মুহাম্মদ ইবন হাতিম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমরা বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে বের হই। আমাদের মধ্যে কেউ তোমরা হজ্জের ইহরাম করে, আর কেউ কেউ উমরার ইহরাম করে এবং কুরবানীর পশু সঙ্গে নেয়। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে উমরাহর ইহরাম করেছে, আর কুরবানীর পশু সাথে আনেনি, সে হালাল হয়ে যাবে। আর যে উমরাহর ইহরাম করে কুরবানীর পশু সঙ্গে এনেছে, সে হালাল হবে না। আর যে হজ্জের ইহরাম করেছে সে তার হজ্জ পূর্ণ করবে। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ আমি ঐ সকল লোকের মধ্যে ছিলাম, যারা উমরার ইহরাম করেছিল।
মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন মুবারক (রহঃ) ... আসমা বিনত আবু বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হজ্জের ইহরাম করে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে বের হলাম। আমরা মক্কার নিকটবর্তী হলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে যেন হালাল হয়ে যায়, আর যার সাথে কুরবানীর পশু রয়েছে, সে তার ইহরামের উপর থাকবে। আসমা (রাঃ) বলেনঃ যুবায়র (রাঃ)-এর সাথে কুরবানীর পশু থাকায় তিনি তার ইহরামের উপর থাকেন। আর আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকায় আমি হালাল হয়ে যাই। আমি আমার জামাকাপড় পরিধান করি, সুগন্ধি ব্যবহার করি এবং যুবায়র (রাঃ)-এর কাছে বসি। তিনি বললেন, আমার থেকে দূরে বস। আমি বলিঃ তুমি কি ভয় কর যে, আমি তোমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়বাে?
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরাহ্ করে জিয়িররানা নামক স্থানে ফিরে এসে আবু বকর (রাঃ)-কে হজ্জের আমীর নিযুক্ত করে প্রেরণ করেন। আমরাও তাঁর সঙ্গে আসলাম। যখন ‘আরজ নামক স্থানে পৌছলেন তখন সকাল হলে তিনি তাকবীর বলার জন্য প্রস্তুত হলেন। এমন সময় তার পেছনে উটের শব্দ শুনতে পেয়ে তিনি তাকবীর না দিয়ে বললেন ইহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উটনী জাদ’আর শব্দ। হয়তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশরীফ এনেছেন, আমরা তার সঙ্গে সালাত আদায় করবো, হঠাৎ দেখা গেল এর আরােহী হলেন আলী (রাঃ)। আবু বকর (রাঃ) তাকে বললেনঃ আপনি কি আমীর হিসেবে এসেছেন, না সংবাদ বাহক হিসেবে। তিনি বললেনঃ আমি সংবাদ বাহক হিসেবে এসেছি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে অব্যাহতি বাণী (সূরা তাওবা বা বারা'আত) সহ প্রেরণ করেছেন। আমি হজ্জের বিশিষ্ট স্থানসমূহে লোকদের তা শুনাব। আমরা মক্কায় আগমন করলাম। যিলহজ্জের ৮ তারিখের একদিন পূর্বে আবু বকর (রাঃ) লোকের মধ্যে দাঁড়িয়ে খুতবা দিলেন এবং তাদেরকে হজ্জের আহকাম শুনালেন। তিনি তার খুৎবা শেষ করলে আলী (রাঃ) দাঁড়ালেন এবং তিনি লোকের মধ্যে অব্যাহতি বাণী (সূরা বারাআত) পাঠ করে শুনালেন এবং তা শেষ করলে আমরা তাঁর সঙ্গে বের হলাম। যখন আরাফার দিন উপস্থিত হলো, তখন আবু বকর (রাঃ) লোকের মধ্যে দাঁড়িয়ে খুৎবা দিলেন, তাদের কাছে হজ্জের আহকাম বর্ণনা করলেন। যখন তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করলেন, তখন আলী (রাঃ) দাঁড়িয়ে লোকের মধ্যে সূরা বারাআত পাঠ করে শুনালেন। এরপর কুরবানীর দিন আসলে আমরা তাওয়াফে ইফাযা করলাম। আবু বকর (রাঃ) ফিরে এসে লোকের মধ্যে খুৎবা দিলেন। তাতে তিনি প্রত্যাবর্তন ও কুরবানীর আহকাম এবং হজ্জের আহকাম বৰ্ণনা করলেন। তিনি যখন খুৎবা শেষ করলেন, তখন আলী (রাঃ) দাঁড়িয়ে লোকের মধ্যে বারাআতের ঘােষণা শুনালেন, সূরা বারাআত শুনানাে শেষ করলেন। প্রথম নফরের দিন আসলে আবু বকর (রাঃ) লোকের উদ্দেশ্যে খুতবা দিলেন; কিরূপে নফর বা যাত্রা করতে হবে এবং রমী করতে হবে সে সমস্ত আহকাম তাদেরকে শিক্ষা দিলেন। তিনি খুৎবা শেষ করলে আলী (রাঃ) দাঁড়িয়ে লোকের নিকট সূরা বারাআত পড়ে শুনালেন এবং তা শেষ পর্যন্ত পাঠ করলেন। আবু আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, ইবন খুশায়ম (রহঃ) হাদীস বর্ণনায় তেমন শক্তিশালী নন। আমি ইবন জুরায়জ (রহঃ) আবূ যুবায়র (রহঃ) থেকে এ সনদে বর্ণনা না করে ইবন জুরায়জ (রহঃ) ইবন খুশায়ম (রহঃ) থেকে, তিনি আবু যুবায়র (রাঃ) এ সনদে রেওয়ায় বর্ণনা করেছি। কেননা প্রথমােক্ত সনদে ইবন জুরায়জ (রহঃ) ও আবু যুবায়র (রহঃ)-এর মধ্যের একজন রাবী বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যাকে উসূলে হাদীসের ভাষায় মুনকাতি' বলা হয়। আমি এ হাদীসটি ইসহাক ইবন রাহওয়াই ইবন ইবরাহীম (রহঃ) সূত্রে লিপিবদ্ধ করেছি। ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আল-কাত্তান (রহঃ) ইবন খুশায়ম (রহঃ) থেকে হাদীস বর্ণনা বাদ দেননি। আর আবদুর রহমান থেকেও না। তবে আলী ইবন মাদীনী (রহঃ) ইবন খুশায়ম (রহঃ)-কে 'মুনকারুল হাদীস' বলে মন্তব্য করেছেন। আর আলী ইবন মাদীনী (রহঃ) হাদীস শাস্ত্রের জন্যেই তাঁর সৃষ্টি।
হাদিস 2994 — Sunan an Nasai 24:377
সহিহসহিহIsnaad Hasan
أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَدِمْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأَرْبَعٍ مَضَيْنَ مِنْ ذِي الْحِجَّةِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَحِلُّوا وَاجْعَلُوهَا عُمْرَةً " . فَضَاقَتْ بِذَلِكَ صُدُورُنَا وَكَبُرَ عَلَيْنَا فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَحِلُّوا فَلَوْلاَ الْهَدْىُ الَّذِي مَعِي لَفَعَلْتُ مِثْلَ الَّذِي تَفْعَلُونَ " . فَأَحْلَلْنَا حَتَّى وَطِئْنَا النِّسَاءَ وَفَعَلْنَا مَا يَفْعَلُ الْحَلاَلُ حَتَّى إِذَا كَانَ يَوْمُ التَّرْوِيَةِ وَجَعَلْنَا مَكَّةَ بِظَهْرٍ لَبَّيْنَا بِالْحَجِّ .
ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যিলহজ্জ মাসের চারদিন অতীত হওয়ার পর আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাঙ্গে আগমন করলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা হালাল হয়ে যাও এবং একে ‘উমরাহ গণ্য কর। এতে আমাদের অন্তর সংকুচিত হলো এবং আমাদের কাছে তা ভারী মনে হলো। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এ সংবাদ পৌছলে তিনি বললেনঃ হে লোকেরা! তোমরা হালাল হয়ে যাও, আমার নিকট যে কুরবানীর পশু রয়েছে, যদি তা থাকতো তাহলে তোমরা যা করছে। আমিও তা করতাম। এরপর আমরা হালাল হয়ে গেলাম এবং স্ত্রী সহবাসও করলাম। হালাল ব্যক্তি যা করে আমরাও তাই করলাম। যখন তারবিয়ার' দিন আসলো এবং মক্কা প্রকাশিত হলো, তখন আমরা হজ্জের তালবিয়া পড়লাম।
মুহাম্মদ ইবন সালামা ও হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আমর আনসারী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) আমার কাছে আসলেন, তখন আমি মক্কার পথে একটি বৃক্ষের নীচে অবস্থানরত ছিলাম। তিনি আমাকে বললেন, আপনাকে এ বৃক্ষের নীচে কিসে অবতরণ করালো? আমি বললামঃ এর ছায়া আমাকে এখানে অবতরণ করতে আকৃষ্ট করেছে। তখন আবদুল্লাহ বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তুমি মিনার দু'টি পাহাড়ের মধ্যস্থলে থাকবে এবং তিনি তার হাত দ্বারা পূর্ব দিকে ইশারা করলেন, তখন সেখানে একটি উপত্যকা দেখতে পাবে। যাকে 'সুরিয়াবা' বলা হয়- হারিসের বর্ণনায় আছে একে ‘সারার' বলা হয়, তাতে একটি প্রকাণ্ড বৃক্ষ রয়েছে, যার নীচে সত্তরজন নবী জন্মগ্রহণ করেন।
মুহাম্মদ ইবন হাতিম ইবন নুযায়ম (রহঃ) ... মুহাম্মদ ইবন ইবরাহীম তায়মী তাদের মধ্য হতে একজন লোকের মাধ্যমে বর্ণনা করেন, যার নাম আবদুর রহমান ইবন মুয়ায (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় আমাদের উদ্দেশ্যে খুৎবা দিলেন, আল্লাহ আমাদের কান খুলে দিলেন এবং আমরা তিনি যা বলেছিলেন, তা শুনেছিলাম। অথচ আমরা ছিলাম আমাদের মনযিলে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে হজ্জের আহকাম শিক্ষা দিচ্ছিলেন। যখন তিনি কংকর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত পৌছলেন, তখন বললেনঃ দু' আঙ্গুলে পাথর টুকরো নিয়ে তা নিক্ষেপ করবে। আর মুহাজিরদের মসজিদের সামনে থাকতে আদেশ করলেন এবং আনসারদের মসজিদের শেষভাগে থামতে আদেশ করলেন।
মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম ও আবদুর রহমান ইবন মুহাম্মদ ইবন সালাম (রহঃ) ... আবদুল আযীয ইবন রুফাই (রহঃ) বলেনঃ আমি আনাস ইবন মালিক (রাঃ)-কে বললাম, আপনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা কিছু স্মরণ রেখেছেন, তা আমাকে বলুন, তিনি তারবিয়ার দিন জোহরের সালাত কোথায় আদায় করেন? তিনি বললেনঃ মিনায়। আমি বললামঃ মিনা হতে প্রত্যাবর্তনের দিন আসর কোথায় আদায় করেন? তিনি বললেনঃ আবতাহে অর্থাৎ মুহাসাবে।
ইয়াহইয়া ইবন হাবীব ইবন আরাবী (রহঃ) .... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ভোরে মিনা হতে আরাফার দিকে গমন করলাম, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ তালবিয়া পড়ছিল; আর কেউ কেউ তাকবীর বলছিল।