أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحِيمِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَسَدُ بْنُ مُوسَى، قَالَ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ الزُّبَيْدِيُّ، عَنْ أَخِيهِ، مُحَمَّدِ بْنِ الْوَلِيدِ عَنْ لُقْمَانَ بْنِ عَامِرٍ، عَنْ عَبْدِ الأَعْلَى بْنِ عَدِيٍّ الْبَهْرَانِيِّ، عَنْ ثَوْبَانَ، مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " عِصَابَتَانِ مِنْ أُمَّتِي أَحْرَزَهُمَا اللَّهُ مِنَ النَّارِ عِصَابَةٌ تَغْزُو الْهِنْدَ وَعِصَابَةٌ تَكُونُ مَعَ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ عَلَيْهِمَا السَّلاَمُ " .
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আব্দুর রহীম (রহঃ) ... রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গোলাম ছাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মতের দুটি দল আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে জাহান্নাম হতে পবিত্রাণ দান করবেন, একদল যারা হিন্দুস্থানের জিহাদ করবে, আর একদল যারা ঈসা ইবন মারিয়াম (আঃ) এর সঙ্গে থাকবে।
হাদিস 3176 — Sunan an Nasai 25:92
হাসানহাসানIsnaad Hasan
أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، قَالَ حَدَّثَنَا ضَمْرَةُ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ السَّيْبَانِيِّ، عَنْ أَبِي سُكَيْنَةَ، - رَجُلٌ مِنَ الْمُحَرَّرِينَ - عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَمَّا أَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِحَفْرِ الْخَنْدَقِ عَرَضَتْ لَهُمْ صَخْرَةٌ حَالَتْ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ الْحَفْرِ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَخَذَ الْمِعْوَلَ وَوَضَعَ رِدَاءَهُ نَاحِيَةَ الْخَنْدَقِ وَقَالَ " { تَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلاً لاَ مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ } " . فَنَدَرَ ثُلُثُ الْحَجَرِ وَسَلْمَانُ الْفَارِسِيُّ قَائِمٌ يَنْظُرُ فَبَرَقَ مَعَ ضَرْبَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَرْقَةٌ ثُمَّ ضَرَبَ الثَّانِيَةَ وَقَالَ " { تَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلاً لاَ مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ } " . فَنَدَرَ الثُّلُثُ الآخَرُ فَبَرَقَتْ بَرْقَةٌ فَرَآهَا سَلْمَانُ ثُمَّ ضَرَبَ الثَّالِثَةَ وَقَالَ " { تَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلاً لاَ مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ } " . فَنَدَرَ الثُّلُثُ الْبَاقِي وَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخَذَ رِدَاءَهُ وَجَلَسَ . قَالَ سَلْمَانُ يَا رَسُولَ اللَّهِ رَأَيْتُكَ حِينَ ضَرَبْتَ مَا تَضْرِبُ ضَرْبَةً إِلاَّ كَانَتْ مَعَهَا بَرْقَةٌ . قَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا سَلْمَانُ رَأَيْتَ ذَلِكَ " . فَقَالَ إِي وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " فَإِنِّي حِينَ ضَرَبْتُ الضَّرْبَةَ الأُولَى رُفِعَتْ لِي مَدَائِنُ كِسْرَى وَمَا حَوْلَهَا وَمَدَائِنُ كَثِيرَةٌ حَتَّى رَأَيْتُهَا بِعَيْنَىَّ " . قَالَ لَهُ مَنْ حَضَرَهُ مِنْ أَصْحَابِهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَفْتَحَهَا عَلَيْنَا وَيُغَنِّمَنَا دِيَارَهُمْ وَيُخَرِّبَ بِأَيْدِينَا بِلاَدَهُمْ . فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ " ثُمَّ ضَرَبْتُ الضَّرْبَةَ الثَّانِيَةَ فَرُفِعَتْ لِي مَدَائِنُ قَيْصَرَ وَمَا حَوْلَهَا حَتَّى رَأَيْتُهَا بِعَيْنَىَّ " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَفْتَحَهَا عَلَيْنَا وَيُغَنِّمَنَا دِيَارَهُمْ وَيُخَرِّبَ بِأَيْدِينَا بِلاَدَهُمْ . فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ " ثُمَّ ضَرَبْتُ الثَّالِثَةَ فَرُفِعَتْ لِي مَدَائِنُ الْحَبَشَةِ . وَمَا حَوْلَهَا مِنَ الْقُرَى حَتَّى رَأَيْتُهَا بِعَيْنَىَّ " . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ ذَلِكَ " دَعُوا الْحَبَشَةَ مَا وَدَعُوكُمْ وَاتْرُكُوا التُّرْكَ مَا تَرَكُوكُمْ " .
ঈসা ইবন ইউনুস (রহঃ) ... রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একজন সাহাবী বলেনঃযখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরীখা খননের আদেশ করলেন, তখন একটি কঠিন প্রস্তরখণ্ড দেখা গেল, যা খনন কার্যে ব্যাঘাত সৃষ্টি করলো। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেলচা (কোদাল জাতীয় যন্ত্র বিশেষ) নিয়ে অগ্রসর হলেন এবং তার চাদর পরীখার পাশে রাখলেন, তিনি বললেনঃ تَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلًا لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ অর্থঃ সত্য ও ন্যায়ের দিক দিয়ে আপনার রবের বাণী সম্পূর্ণ এবং তাঁর বাক্য পরিবর্তন করার কেউ নেই, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (সূরা আন'আমঃ ১১৫) তাতে ঐ প্রস্তর খণ্ডের এক তৃতীয়াংশ পড়ে গেল। আর সালমান ফারসী সেখানে দণ্ডায়মান ছিলেন। তিনি দেখলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বেলচা মারার সঙ্গে সঙ্গে একটি বিদ্যুৎ চমকিত হলো। এরপর তিনি তিনিদ্বিতীয়বার আঘাত করলেন এবং বললেনঃ تَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلًا لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ তাতে আর এক তৃতীয়াংশ পড়ে গেল এবং একটি বিদ্যুৎ চমকিয়ে উঠলো, সালমান ফারসী (রাঃ) তাও দেখতে পেলেন, তারপর তিনি তৃতীয়বার তাতে আঘাত করলেন এবং বললেনঃ تَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلًا لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ এতে অবশিষ্ট তৃতীয়াংশ পড়ে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে আসলেন, এবং তার চাদরখানা নিয়ে বসে পড়লেন সালমান ফারসী (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি যখন আঘাত করছিলেন, আমি আপনার প্রতি লক্ষ্য করছিলাম, দেখলাম আপনি যখনই তাতে আঘাত করছিলেন, আর তা হতে বিদ্যুৎ চমকিত হচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে সালমান! আমিও তা দেখেছি। সালমান (রাঃ) বললেনঃ হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঐ সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন। তিনি বললেনঃ আমি যখন প্রথমবার আঘাত করেছিলাম, তখন কিসরার শহরসমূহ এবং এর চতুম্পার্শ্বস্থ স্থানসমূহ এবং আরো বহু শহর আমার সামনে প্রকাশিত হলো। আমি তা স্বচক্ষে দর্শন করেছি। উপস্থিত সাহাবীবৃন্দ আরয করলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ তাআলার নিকট দুআ করুন, তিনি যেন আমাদের এ সকল শহরের বিজয় দান করেন এবং তাদের আবাসকে আমাদের গনীমত করে দেন, আর আমাদের হাতে তাদের দেশ ধ্বংস করে দেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য দু'আ করলেন। তিনি বললেনঃ এরপর আমি দ্বিতীয়বার আঘাত করলাম। তাতে রোম-সম্রাটের শহরসমূহ এবং এর পার্শ্বস্থ স্থানসমূহ দেখানো হলো। আমি তা স্বচক্ষে দর্শন করলাম। তারা বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ্ তা'আলার নিকট দু'আ করুন, তিনি যেন আমাদের এ সকল শহরের বিজয় দান করেন আর তাদের বাড়ী ঘর আমরা গনীমতরূপে প্রাপ্ত হই এবং তাদের বাড়ী ঘর আমাদের হাতে ধ্বংস হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য দু'আ করলেন। তিনি বললেনঃ এরপর আমি তৃতীয়বার আঘাত করলাম, আমাকে হাবশার শহরসমূহ এবং এর আশে পাশের গ্রামসমূহ দেখান হলো। আমি তা স্বচক্ষে দেখলাম। এ সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা হাবশীদের সাথে যুদ্ধ করো না, যতক্ষণ না তারা তুর্কীদের নিয়ে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে। আর তোমরা তুর্কীদের সাথেও যুদ্ধ করো না, যতক্ষণ না তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে।
হাদিস 3177 — Sunan an Nasai 25:93
সহিহসহিহসহিহ Muslim
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُقَاتِلَ الْمُسْلِمُونَ التُّرْكَ قَوْمًا وُجُوهُهُمْ كَالْمَجَانِّ الْمُطَرَّقَةِ يَلْبَسُونَ الشَّعَرَ وَيَمْشُونَ فِي الشَّعَرِ " .
কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যে পর্যন্ত না মুসলিমরা তুর্কীদের সাথে যুদ্ধ করবে, যাদের চেহারা হবে ঢালের ন্যায়, তারা পশমের পােষাক পরিধান করবে এবং পশমের জুতা পরিধান করে চলাচল করবে।
হাদিস 3178 — Sunan an Nasai 25:94
সহিহসহিহসহিহ Bukhari
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ، قَالَ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ ظَنَّ أَنَّ لَهُ، فَضْلاً عَلَى مَنْ دُونَهُ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا يَنْصُرُ اللَّهُ هَذِهِ الأُمَّةَ بِضَعِيفِهَا بِدَعْوَتِهِمْ وَصَلاَتِهِمْ وَإِخْلاَصِهِمْ " .
মুহাম্মদ ইবন ইদ্রীস (রহঃ) ... মুসআব ইবন সা'দ (রহঃ) তাঁর পিতার মাধ্যমে বর্ণনা করেন, তিনি মনে করতেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উম্মতের মধ্যে যাঁরা তা হতে নিম্নশ্রেণীর, তাদের উপর তার মর্যাদা রয়েছে, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা এ উম্মতকে সাহায্য করবেন তার দুর্বলদের দ্বারা, তাদের দু'আ, নামায এবং ইখলাসের দরুন।
ইয়াহইয়া ইবন উছমান (রহঃ) ... জুবায়র ইবন নুফায়র হাযরামী (রহঃ) বলেন, তিনি আবুদ্দারদা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আমার জন্য দুবর্লদের অন্বেষণ কর, কেননা তোমরা রিযিক পাচ্ছ এবং সাহায্য পাচ্ছ তোমাদের দুর্বলদের দ্বারা।
সুলায়মান ইবন দাউদ এবং হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) .... যায়িদ ইবন খালিদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ই বলেছেন : যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তার কোন যোদ্ধাকে সামান দান করবে, সে যেন নিজেই যুদ্ধ করলো। আর যে ব্যক্তি কোন যোদ্ধার পরিবারে তার মঙ্গলের জন্য স্থলাভিষিক্ত হলো, সেও যেন যুদ্ধে যোগদান করলো।
মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... যায়দ ইবন খালিদ জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন যোদ্ধাকে যুদ্ধের সামান দান করলো, সে যেন যুদ্ধ করলো, আর যে ব্যক্তি কোন যোদ্ধার পরিবারে তার স্থলাভিষিক্ত হলো পরিবারের মঙ্গলের জন্য; সেও যেন যুদ্ধ করলো।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আহনাফ ইন কায়স (রহঃ) বলেন, আমরা হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হয়ে মদীনায় উপনীত হলাম। হজ্জে গমনের জন্য আমরা আমাদের মনযিলে পৌঁছে আমাদের হাওদা নামাচ্ছিলাম, এমন সময় আমাদের নিকট এক আগন্তুকের আবির্ভাব হলো। সে বললোঃ লোক মসজিদে একত্রিত হয়েছে। তারা ভীত হয়ে পড়েছে। আমরা সেখানে গিয়ে দেখলাম, একদল লোকের চতুর্দিকে কিছু লোক একত্রিত হয়ে আছে মসজিদের মধ্যস্থলে। তাদের মধ্যে আলী, যুবায়র, তালহা এবং সা'দ ইবন আবু ওয়াক্কাস (রাঃ) রয়েছেন। আমরা এ অবস্থায় ছিলাম, এমন সময় উছমান (রাঃ) আগমন করলেন, তার পরনে রয়েছে হলুদ বর্ণের একখানা কাপড়, তা দ্বারা তিনি তাঁর মাথা ঢেকে রেখেছেন। তিনি বললেনঃ এখানে কি তালহা (রাঃ) আছেন? এখানে কি যুবায়র (রাঃ) আছেন? এখানে কি সা'দ (রাঃ) আছেন? সকলে বললেনঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ আমি ঐ আল্লাহর কসম দিয়ে তোমদেরকে জিজ্ঞাসা করছি, যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নাই। তোমরা কি অবগত আছ যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অমুক গোত্রের উট বাঁধার বা খেজুর শুকাবার স্থানটি যে খরীদ করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করবেন। এরপর আমি তা বিশ হাজার অথবা পঁচিশ হাজায় টাকার খরিদ করেছি। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে এসে তাঁকে তার সংবাদ দিলে তিনি বললেনঃ তা আমাদের মসজিদের জন্য দান কর, আর এর সওয়াব তোমারই থাকবে। তাঁরা বললেনঃ হ্যাঁ। তিনি আবার বললেনঃ যে আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, সেই আল্লাহর কসম দিয়ে তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করছি, তোমরা কি অবগত আছ যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বীর-রুমা নামক কূপটি খরিদ করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করবেন? আমি তা এত এত মূল্যে খরিদ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে তাকে সংবাদ দিলে তিনি বললেনঃ তুমি তা মুসলিমদের পানি-পানের স্থান করে দাও, তার সওয়াব হবে তোমার। তারা বললেনঃ আল্লাহুম্মা, হ্যাঁ। তিনি আবার বললেনঃ তোমাদের ঐ আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি তোমরা কি অবগত আছ যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত লোকদের দিকে লক্ষ্য করে বললেনঃ এ জায়শে - উসরাতকে (তাবুকের সেনাবাহিনীকে) যে ব্যক্তি যুদ্ধের সামান দিয়ে সজ্জিত করবে, তাকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন? আমি তাদেরকে এমনভাবে সজ্জিত করলাম যে, কেউ উটের একটি রশিও কম পায়নি। তারা বললেনঃ আল্লাহর কসম, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ্। তুমি সাক্ষী থাক; হে আল্লাহ তুমি সাক্ষী থাক; হে আল্লাহ তুমি সাক্ষী থাক।
মুহাম্মদ ইবন সালামা এবং হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার সম্পদ হতে দু'প্রকার মাল আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করবে, তাকে জান্নাতে ডাকা হবেঃ হে আল্লাহর বান্দা! এ তোমার জন্য উত্তম। যে ব্যক্তি নামাযী হবে, তাকে নামাযের দরজা দিয়ে ডাকা হবে, আর যে ব্যক্তি মুজাহিদদের মধ্যে শামিল হবে, তাকে জিহাদের দরজা দিয়ে ডাকা হবে। আর যে ব্যক্তি আহলে সাদকা অর্থাৎ দাতা হবে, তাকে সাদকার দরজা দিয়ে ডাকা হবে। আর যে ব্যক্তি রোযাদার হবে, তাকে 'রাইয়ান' নামক দরজা দিয়ে ডাকা হবে। আবু বকর (রাঃ) বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! যে ব্যক্তিকে এসকল দরজা দিয়ে ডাকা হবে, তার আর কোন প্রয়োজন থাকবে কি? কাউকেও কি এ সকল দরজা হতে ডাকা হবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, এবং আমি আশা করি আপনি তাদের মধ্যে হবেন।
হাদিস 3184 — Sunan an Nasai 25:100
সহিহসহিহসহিহ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَنْفَقَ زَوْجَيْنِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ دَعَتْهُ خَزَنَةُ الْجَنَّةِ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ يَا فُلاَنُ هَلُمَّ فَادْخُلْ " . فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَاكَ الَّذِي لاَ تَوَى عَلَيْهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي لأَرْجُو أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ " .
আমর ইবন উছমান (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় দু'প্রকার দান করবে,তাকে জান্নাতের দ্বাররক্ষী ফিরিশতা জান্নাতের দরজাসমূহ হতে ডাকবে ও হে অমুক! এদিকে এসাে এবং জান্নাতে প্রবেশ কর। আবু বকর (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঐ ব্যক্তির তো কোন প্রকার ধ্বংস নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি একান্তভাবে আশা করি আপনি তাদের মধ্যে হবেন।