মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা দুই ব্যক্তি সম্বন্ধে আশ্চর্যবােধ করবেন, তাদের একজন অন্যজনকে হত্যা করবে। অন্য সময় তিনি বলেছেন, আল্লাহ তাআলা সন্তুষ্টি প্রকাশ করবেন ঐ দুই ব্যক্তি সম্বন্ধে, যাদের একজন তার সাথীকে হত্যা করবে, এরপর তারা উভয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
মুহাম্মদ ইবন সালামা ইবন হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা দুই ব্যক্তির প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করবেন, তাদের একে অন্যকে হত্যা করে-আর উভয়ে জান্নাতে প্রবেশ করে। একজন তো আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে শহীদ হয়, এরপর আল্লাহ্ তা'আলা হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দেন, তারপর সেও জিহাদ করে এবং শহীদ হয়।
হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... সালমানুল খায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন ও একরাত সীমানা পাহারায় কাটায় তার জন্য এক মাস রোযা রাখার ও ইবাদতের সওয়াব রয়েছে। আর যে ব্যক্তি পাহারার কাজে নিয়ােজিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তার জন্যও ঐ সওয়াব রয়েছে। আর তাকে জান্নাত হতে রিযিক পৌছানো হবে, আর সে সমস্ত ফিতনা হতে রক্ষিত থাকবে।
আমর ইবন মানসূর (রহঃ) ... সালমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় সীমানা পাহারায় রত থাকে একদিন এবং এক রাত, তার জন্য এক মাস রোজা রাখা ও ইবাদতের সওয়াব রয়েছে। সে ইন্তেকাল করলেও তার একাজ জারি থাকবে, আর সে সকল ফিতনা হতে রক্ষিত থাকবে, আর তাকে তার রিযিক পৌঁছানো হবে।
হাদিস 3169 — Sunan an Nasai 25:85
হাসানহাসানIsnaad Sahih
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ زَهْرَةَ بْنِ مَعْبَدٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو صَالِحٍ، مَوْلَى عُثْمَانَ قَالَ سَمِعْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ، رضى الله عنه يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " رِبَاطُ يَوْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ يَوْمٍ فِيمَا سِوَاهُ مِنَ الْمَنَازِلِ " .
আমর ইবন মানসূর (রহঃ) ... যাহরা ইবন মা'বাদ (রহঃ) বলেন, আবূ সালিহ মাওলা উছমান আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি উছমান ইবন আফফান (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহর রাস্তায় একদিনের সীমানা পাহারায় রত থাকা অন্যান্য স্থানের হাজার দিন হতে উত্তম।
মুহাম্মাদ ইবন সালমা এবং হারিছ ইন মিসকীন (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোবায় পদার্পণ করতেন, তখন তিনি মিলহান কন্যা উম্মে হারাসের নিকট যেতেন। তিনি তাকে আহার করাতেন। আর উম্মে হারাম বিনতে মিলহান ছিলেন উবাদা ইবন সামিতের স্ত্রী। একবার তিনি তার বাড়ীতে গেলে উম্মে হারাম তাকে আহার করালেন এবং তার মাথার উকুন তালাশ করতে বসে গেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিদ্রাভিভূত হলেন। এরপর তিনি হাসতে হাসতে জাগ্রত হলেন। উম্মে হারাম বলেন, আমি তাকে বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার হাসার কারণ কি? তিনি বললেনঃ আমার উম্মতের কিছু সংখ্যক লোককে আমাকে দেখান হলো তারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করার জন্য সমুদ্র পাড়ি দিয়েছে, এবং তারা সিংহাসনে উপবিষ্ট বাদশাহ। রাবী ইসহাক (রহঃ) বলেন, অথবা তিনি বলেছেনঃ তারা সিংহাসনে উপবিষ্ট বাদশাহর ন্যায়। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর নিকট দু'আ করুন, তিনি যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য দু'আ করে আবার নিদ্রা গেলেন। হারিছ (রহঃ) বলেন, ন্দ্রিা যাওয়ার পর তিনি আবার হাসতে হাসতে জাগলেন, আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার হাসার কারণ কি? তিনি বললেনঃ আমার উম্মতের কিছু লোককে আমাকে দেখান হলো, তারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করেছে, যেমন সিংহাসনের উপর বাদশাহ অথবা বাদশাহর মত, যেভাবে প্রথমবার বলেছিলেন। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর নিকট দুআ করুন, তিনি যেন আমাকে এদের মধ্যে শামিল করেন। তিনি বললেনঃ না, তুমি প্রথম দলে থাকবে। উম্মে হারাম মুআবিয়া (রাঃ)-এর সময় সমুদ্র পাড়ি দিয়েছিলেন, এরপর সমুদ্র হতে ফিরে আসার পর তিনি তার সওয়ারীর উপর হতে পড়ে শহীদ হন।
ইয়াহইয়া ইবন হাবিব ইবন আরাবী (রহঃ) ... উম্মে হারাম বিনতে মিলহান (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে খাওয়া দাওয়ার পর শয়ন করলেন, এরপর হাসতে হাসতে জাগরিত হলেন। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মাতাপিতা আপনার উপর কুরবান হোক, আপনার হাসার কারণ কি? তিনি বললেনঃ আমি আমার উম্মতের একদল লোককে দেখলাম, সমুদ্র পাড়ি দিয়েছে সিংহাসনের উপর বাদশাহর ন্যায়। আমি বললামঃ আল্লাহর নিকট দু'আ করুন, তিনি যেন আমাকে এদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি বললেনঃ তুমি তাদের মধ্যে থাকবে। এরপর তিনি নিদ্রা গেলেন এবং হাসতে হাসতে জাগরিত হলেন। আমি তাকে প্রশ্ন করলাম এবং তিনি আগের মত বললেন। আমি বললামঃ আল্লাহর নিকট দু'আ করুন, তিনি যেন আমাকে তাদের মধ্যে শামিল করেন। তিনি বললেনঃ তুমি প্রথম দলভুক্ত থাকবে। উবাদা ইবন সামিত (রাঃ) তাকে বিবাহ করলেন, এরপর সমুদ্র পাড়ি দিলেন। তার সাথে তার স্ত্রীও সমুদ্রে পাড়ি দিলেন। যখন সমুদ্র হতে ফিরে এলে তার জন্য একটি খচ্চর আনা হলো, তিনি তাতে আরোহণ করলেন; খচ্চর তাঁকে ফেলে দিলে তার ঘাড় ভেঙ্গে যায়, ফলে তিনি মারা যান।
আহমদ ইবন উছমান ইবন হাকিম (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে হিন্দুস্থানের জিহাদের ওয়াদা দিয়েছিলেন। যদি আমি ঐ যুদ্ধের সুযোগ পাই, তা হলে আমি তাতে আমার জান-মাল ব্যয় করব। আর যদি আমি তাতে নিহত হই, তা হলে আমি শহীদের মধ্যে উত্তম সাব্যস্ত হব। আর যদি আমি ফিরে আসি, তা হলে আমি আবূ হুরায়রা হবাে আযাদ বা জাহান্নাম হতে মুক্ত।
মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল ইবন ইব্রাহীম (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে হিন্দুস্থানের জিহাদের আশ্বাস দিয়েছেন। আমি তা পেলে তাতে আমার জান মাল উৎসর্গ করব। আর যদি আমি নিহত হই, তবে মর্যাদাবান শহীদ বলে গণ্য হব, আর যদি ফিরে আসি, তা হলে আমি আবু হুরায়রা হব আযাদ বা জাহান্নাম হতে মুক্ত।