মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে উপবেশন করে খুতবা দিচ্ছিলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বললোঃ আমি যদি ধৈর্যশীল হয়ে সওয়াবের নিয়তে সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হই, পিছপা না হই, তাহলে কি আল্লাহ তাআলা আমরা সব পাপ মার্জনা করবেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তারপর তিনি কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থাকলেন, পরে বললেনঃ প্রশ্নকারী লোকটি কোথায়? লোকটি বললোঃ এই যে, আমি এখানে। তিনি বললেনঃ তুমি কি বলেছিলে? সে বললোঃ আমি যদি আল্লাহর রাস্তায় ধৈর্যসহকারে ইখলাসের সংগে সম্মুখে অগ্রসর হয়ে যুদ্ধ করি, পিছু না হটি- সওয়াবের আশা রাখি, তাহলে কি আমার পাপসমূহ আল্লাহ ক্ষমা করবেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, ঋণ ব্যতীত। এইমাত্র জিবরীল (আঃ) আমাকে তা বলে গেলেন আমার কানে কানে।
হাদিস 3156 — Sunan an Nasai 25:72
সহিহসহিহসহিহ Muslim
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، عَنِ ابْنِ الْقَاسِمِ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ قُتِلْتُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ صَابِرًا مُحْتَسِبًا مُقْبِلاً غَيْرَ مُدْبِرٍ أَيُكَفِّرُ اللَّهُ عَنِّي خَطَايَاىَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَعَمْ " . فَلَمَّا وَلَّى الرَّجُلُ نَادَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوْ أَمَرَ بِهِ فَنُودِيَ لَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَيْفَ قُلْتَ " . فَأَعَادَ عَلَيْهِ قَوْلَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَعَمْ إِلاَّ الدَّيْنَ كَذَلِكَ قَالَ لِي جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ " .
মুহাম্মদ ইবন সালামা ও হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন আবু কাতাদা (তার পিতা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললোঃ আমি যদি ধৈর্যের সাথে সওয়াবের নিয়তে সামনে অগ্রসর হয়ে, পিছু না হটে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করি, তাহলে কি আল্লাহ আমার সব পাপ ক্ষমা করে দিবেন? রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ। যখন সে ব্যক্তি প্রস্থান করলো, তখন রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডাকলেন অথবা ডাকতে বললেন। তাকে ডাকা হলো, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি বললে? লোকটি তার বক্তব্য তার নিকট পুনরায় ব্যক্ত করলো। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ, তবে ঋণ ব্যতীত; জিবরীল (আঃ) আমাকে এরূপ বললেন।
কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের মধ্যে দাঁড়িয়ে তাদের বললেনঃ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান সর্বোত্তম ইবাদত। এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যদি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হই, তাহলে কি আল্লাহ তাআলা আমার সব পাপ মার্জনা করবেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ। যদি তুমি ধৈর্যসহকারে সওয়াবের আশায় সামনে অগ্রসর হয়ে পিছু না হটে যুদ্ধ কর, তবে ঋণ ব্যতীত। জিবরীল (আঃ) আমাকে এরূপ বললেন।
আব্দুল জব্বার ইবন আ'লা (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন 'আবু কাতাদা তার পিতা কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরের উপর থাকাবস্থায় এক ব্যক্তি এসে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যদি আমার এ তলোয়ার দিয়ে ধৈর্যসহকারে সওয়াবের নিয়তে সামনে অগ্রসর হয়ে পিছু না হটে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করে শহীদ হই; তাহলে কি আমার পাপসমূহ আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। লোকটি চলে গেলে তাকে ডেকে বললেনঃ ইনি হলেন জিবরীল, তিনি বলছেন- তোমার উপর ঋণ থাকলে তা ব্যতীত।
হারুন ইবন মুহাম্মদ ইবন বাশার (রহঃ) ... কাছীর ইবন মুররা (রহঃ) বলেন, উবাদা ইবন সামিত (রাঃ) তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পৃথিবীতে এমন কোন লোক নেই, মৃত্যুবরণ করার পর তার জন্য আল্লাহর নিকট উত্তম অবস্থা হওয়া সত্ত্বেও, তার জন্য পৃথিবী সব কিছু হওয়া সত্ত্বেও সে তোমাদের নিকট প্রত্যাবর্তনের আকাক্সক্ষা করবে-শহীদ ব্যতীত। কেননা, সে প্রত্যাবর্তন করে পুনরায় শহীদ হতে পছন্দ করবে।
আবু বকর ইবন নাফি (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতীদের মধ্যে শহীদকে আনা হলে আল্লাহ তা'আলা তাকে জিজ্ঞাসা করবেনঃ হে আদম সন্তান! তোমার বাসস্থান কেমন পেলে? সে বলবে, ইয়া আল্লাহ! সর্বোত্তম স্থান। তিনি বললেনঃ আরও কিছু চাও এবং আকাক্সক্ষা কর। তখন সে ব্যক্তি বলবেঃ হে আল্লাহ! আমি চাই, আপনি আমাকে পুনরায় পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিন। আমি আপনার রাস্তায় দশবার শহীদ হই। কেননা সে শাহাদাতের মর্যাদা দেখেছে।
ইমরান ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শহীদ ব্যক্তি নিহত হওয়ার কষ্ট পিপীলিকার কামড় অথবা চিমটি কাটার কষ্টের চাইতে বেশী অনুভব করবে না।
ইউনুস ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... সাহল ইবন আবু উমামা ইবন সাহল ইবন হানীফ তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার কাছে শাহাদাত কামনা করবে সর্বান্তকরণে, সে তার বিছানায় মৃত্যুবরণ করলেও আল্লাহ তাআলা তাকে শহীদের মর্যাদা দান করবেন।
ইউনুস ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) .... উকবা ইবন আমির (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পাঁচ প্রকারের যে কোন এক প্রকারে মৃত্যুবরণ করবে- সে শহীদঃ আল্লাহর রাস্তায় নিহত ব্যক্তি শহীদ, আল্লাহর রাস্তায় যে ব্যক্তি নদী ইত্যাদিতে ডুবে মরেছে—সে শহীদ, যে আল্লাহর রাস্তায় পেটের পীড়ায় মরেছে-সে শহীদ, যে ব্যক্তি প্লেগ বা তাউন রোগে মারা যায়-সে শহীদ, আর যে স্ত্রীলোক সন্তান প্রসবের সময় মৃত্যুবরণ করে-সেও শহীদ।
আমর ইবন উসমান (রহঃ) ... ইবরায ইবন সারিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শহীদগণ এবং যারা বিছানায় স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেছে, তারা আমাদের রবের নিকট বাদানুবাদ করবে-তাউন রোগে মারা গেছে তার সম্বন্ধে। শহীদগণ বলবেন, আমাদের এ ভাইয়েরা নিহত হয়েছেন, যেভাবে আমরা নিহত হয়েছি। আর বিছানায় মৃত্যুবরণকারীগণ বলবেন আমাদের এ ভাইয়েরা তাদের মৃত্যুবরণ করেছে, যেমন আমরা মৃত্যুবরণ করেছি। তখন আমাদের রব বলবেনঃ তাদের যখমের প্রতি লক্ষ্য কর, যদি তাদের যখম শহীদদের ক্ষতের সদৃশ হয়, তাহলে তারা তাদের মধ্যে হবে এবং তাদের সাথে থাকবে, তখন দেখা যাবে তাদের ক্ষত শহীদের ক্ষতের সদৃশ।