আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন মুগীরা (রহঃ) ও আমর ইবন উছমান ইবন সায়ীদ ইবন কাসীর (রহঃ) ... সাঈদ ইবন মুসায়্যার (রহঃ) বর্ণনা করেন, আবু হুরায়রা (রাঃ) তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকেরা যতক্ষণ 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' না বলবে, ততক্ষণ আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি। যে ব্যক্তি তা বললো, সে আমার পক্ষ হতে তার জান-মালের নিরাপত্তা লাভ করলো তবে ইসলামের হক ব্যতীত। তার হিসাব আল্লাহর কাছে।
হাদিস 3096 — Sunan an Nasai 25:12
সহিহসহিহহাসান
أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ، قَالَ أَنْبَأَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " جَاهِدُوا الْمُشْرِكِينَ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ وَأَلْسِنَتِكُمْ " .
হারূন ইবন আব্দুল্লাহ ও মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল ইবন ইব্রাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ তোমরা জিহাদ কর মুশরিকদের বিরুদ্ধে তোমাদের মাল, তোমাদের হাত, এবং তোমাদের জিহ্বা দ্বারা।
আবদা ইবন আব্দুর রহীম (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জিহাদ না করে মারা গেল বা তার মনে যুদ্ধের বাসনা জাগলো না, তার মৃত্যু হলো নিফাকের একটি অংশ (জিহাদ বিমুখ হওয়া)-এর উপর।
আহমদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন ওয়াযীর ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ সে সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ, যদি মুমিনদের মধ্য হতে এমন কিছু সংখ্যক লোক না থাকতো-যাদের মন চায় না আমার সঙ্গে যুদ্ধে শরীক হওয়া থেকে বিরত থাকুক, অথচ আমি তাদেরকে সওয়ারী দেওয়ার মত কিছু পাই না; তাহলে আমি এমন কোন যুদ্ধ হতে বিরত থাকতাম না, যা আল্লাহর রাস্তায় সংঘটিত হয়। যার হাতে আমার প্রাণ, তার শপথ! আমার ইচ্ছা হয়, আমি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হই, আবার আমাকে জীবিত করা হয়; আবার শহীদ হই, আবার আমাকে জীবিত করা হয়, আবার শহীদ হই, আবার আমাকে জীবিত করা হয়, আবার শহীদ হই, আবার আমাকে জীবিত করা হয়, আবার শহীদ হই।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন বযী (রহঃ) ... সাহল ইবন সা'দ (রাঃ) বলেন, আমি মারওয়ান ইবন হাকাম (রহঃ)-কে দেখলাম তিনি বসে আছেন। আমিও তার নিকট গিয়ে বসে পড়লাম। তিনি বর্ণনা করলেন যে, যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর নাযিল হল (لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ) মু'মিনদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে তারা এবং যারা আল্লাহ্র রাস্তায় জিহাদ করে, তারা সমান নয়। (সূরা নিসাঃ ৯৫) ইতোমধ্যে ইবন উম্মে মাকতুম (রাঃ) আগমন করলেন। তিনি তা লিখে নেওয়ার উদ্দেশ্য আমাকে পড়ে শুনালেন। তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি আমার জিহাদ করার শক্তি থাকতো, তাহলে আমিও জিহাদ করতাম। তখন আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করলেনঃ (غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ) “অসুস্থগণ ব্যতীত”। আর তখন তার উরু আমার উরুর উপর ছিল, তা আমার উপর ভারী লাগছিল। মনে। হলো আমার উরু ভেঙ্গে যাবে। এরপর তাঁর এ অবস্থা থেকে অবমুক্ত হলো। আব্দুর রহমান (রহঃ) বলেন, আব্দুর রহমান ইবন ইসহাকের কোন ত্রুটি নেই, আব্দুর রহমান ইবন ইসহাক হতে আলী ইবন মুসহির ও আবু মু'আবিয়া এটি বর্ণনা করেন। আব্দুল ওয়াহিদ ইবন যিয়াদ (রহঃ) নু'মান ইবন সা'দ (রহঃ) হতে এরূপ বর্ণনা করেন, তিনি নির্ভরযােগ্য নন।
মুহাম্মদ ইন ইয়াহইয়া ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... সাহল ইবন সা'দ (রহঃ) বলেন, আমি মারওয়ান (রহঃ)-কে মসজিদে উপবিষ্ট দেখলাম, আমি অগ্রসর হয়ে তার পার্শ্বে বসে পড়লাম। তিনি আমাদের কাছে বর্ণনা করলেন যে, যায়দ ইবন ছাবিত (রাঃ) তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পড়ে শুনালেনঃ (لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ) তিনি বললেন, তারপর তার নিকট ইবন উম্মে মাকতুম আগমন করলেন, তখনও তিনি আমাকে পড়ে শুনালেন। তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি আমার জিহাদ করার ক্ষমতা থাকতো, তাহলে আমিও জিহাদ করতাম। আর তিনি ছিলেন একজন অন্ধ ব্যক্তি। তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর অবতীর্ণ করলেন, তখন তার উরু ছিল আমার উরুর উপর, এমনকি আমার উরু ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হলো। এরপর তার উপর হতে ওহীর প্রভাব কেটে গেল আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেনঃ (غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ) “অক্ষম ব্যক্তি ব্যতীত”।
নসর ইবন আলী (রহঃ) ... বারা (রাঃ) হতে বর্ণিত, এরপর তিনি এমন কিছু শব্দ উচ্চারণ করলেন, রাবী বলেন, যার অর্থ আমার নিকট কলম এবং তখতী আনয়ন কর, এরপর তিনি লিখলেনঃ (لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ) অর্থাৎ মুমিন, যারা বসে থাকে, তারা সমান নয়। আর তখন আমর ইবন উম্মে মাকতুম তার পেছনে ছিলেন। তিনি বললেনঃ আমার জন্য কি অব্যাহতি রয়েছে? তখন অবতীর্ণ হলোঃ (غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ) অর্থাৎ অক্ষম ব্যক্তি ব্যতীত।
মুহাম্মদ ইবন উবায়দ (রহঃ) ... বারা (রাঃ) বলেন, যখনঃ (لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ) এ আয়াত নাযিল হলো, তখন অন্ধ সাহাবী ইবন উম্মে মাকতুম আগমন করে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার উপর কিভাবে এই আয়াত প্রযােজ্য হবে অথচ আমি অন্ধ? বর্ণনাকারী বলেন, অল্পক্ষণ পরেই অবতীর্ণ হলোঃ (غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ)।
মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে এসে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করলে, তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার মাতাপিতা জীবিত আছে কি? সে ব্যক্তি বললোঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তুমি তাঁদের সেবায় সব সময় রত থাকার জিহাদ কর।
আব্দুল ওয়াহহাব ইবন আব্দুল হাকাম ওয়ারাক (রহঃ) ... মুআবিয়া ইবন জাহিমা সালামী (রহঃ) বলেন, আমার পিতা জাহিমা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে এসে জিজ্ঞাসা করলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যুদ্ধে গমন করতে ইচ্ছা করেছি। এখন আপনার নিকট মতামত জিজ্ঞাসা করতে এসেছি। তিনি বললেনঃ তোমার মাতা আছে কি? সে বললোঃ হ্যাঁ। তিনি বললেন, তার খেদমতে লেগে থাক। কেননা, জান্নাত তার পদদ্বয়ের নিচে।