ইউনুস ইবন আব্দুল আ'লা এবং সুলায়মান ইবন দাউদ (রহঃ) ... উরওয়া ইবন যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আয়েশা (রাঃ)-কে আল্লাহর এ বাণীঃ (وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنْ النِّسَاءِ) অর্থঃ তোমরা যদি আশংকা কর যে, তোমরা ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে বিবাহ করবে নারীদের থেকে যাকে তোমাদের ভাল লাগে....। (সূরা নিসাঃ ৩) সম্বন্ধে প্রশ্ন করেছিলেন। তিনি বলেন, হে আমার ভাগ্নে! আয়াতে ঐ ইয়াতীম সম্পর্কে বলা হয়েছে যে তার অভিভাবক ক্রোড়ে পালিত হচ্ছে, এবং সে তাকে তার মালে শরীক করে নেয়। এরপর তার মাল ও সৌন্দর্য তাকে আকৃষ্ট করে এবং অভিভাবক তাকে বিবাহ করতে ইচ্ছা করে। তার মাহরে ইনসাফ করা ব্যতীত এবং তাকে ঐ মাহরই দিতে চায় না, যা তাকে অন্যরা দিতে চায়। অতএব তাদের প্রতি ইনসাফ করা ব্যতীত এবং মাহরের সর্বোচ্চ হার তাদেরকে আদায় করা ব্যতীত, তাদেরকে বিবাহ করতে নিষেধ করা হয়েছে। আর তাদের ব্যতীত অন্য যে মহিলা তাদের পছন্দ হয়, তাদেরকে বিবাহ করতে আদেশ করা হয়েছে। উরওয়া (রহঃ) বলেন, আয়েশা (রাঃ) বলেছেনঃ এরপর লোকেরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাদের ব্যাপারে সমাধান দিতে বললে, আল্লাহ্ তা'আলা এ আয়াত নাযিল করেনঃ وَيَسْتَفْتُونَكَ فِي النِّسَاءِ قُلْ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِيهِنَّ إِلَى قَوْلِهِ وَتَرْغَبُونَ أَنْ تَنْكِحُوهُنَّ অর্থঃ লোকেরা আপনার নিকট নারীদের বিষয়ে ব্যবস্থা জানতে চায়। বলুন, আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের সম্বন্ধে ব্যবস্থা জানাচ্ছেন ... অথচ তোমরা তাদের বিবাহ করতে চাও...। (সূরা নিসাঃ ১২৭) আয়েশা (রাঃ) বলেন, আল্লাহ তা’আলা যা উল্লেখ করেছেন তা তিলাওয়াত করা হয় আল্লাহর কিতাবে; তাহলে প্রথম আয়াত যাতে রয়েছেঃ وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنْ النِّسَاءِ আয়েশা (রাঃ) বলেন, অন্য আয়াতে আল্লাহ তা'আলার বাণী হলোঃ (وَتَرْغَبُونَ أَنْ تَنْكِحُوهُنَّ) তোমাদের কারও ক্ৰোড়ে যে ইয়াতীম রয়েছে যখন সে স্বল্প মাল ও স্বল্প সৌন্দর্যশীলা হয়, তাদের প্রতি তোমাদের মন আকৃষ্ট হয় না, তখন ইয়াতীমদের মালের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তাদেরকে বিবাহ করতে নিষেধ করা হয়েছে, ইনসাফ ব্যতীত।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবু সালামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-কে এব্যাপারে প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাড়ে বার আওকিয়ায় বিবাহ করেছেন, আর এর পরিমাণ পাঁচশ' দিরহাম।
হাদিস 3348 — Sunan an Nasai 26:153
সহিহ Isnaadসহিহ IsnaadIsnaad Sahih
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ قَيْسٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ الصَّدَاقُ إِذْ كَانَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَشْرَةَ أَوَاقٍ .
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন মুবারক (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্যে ছিলেন, তখনকার মাহর ছিল দশ আওকিয়া।
আলী ইবন হুজুর ইবন আয়াস ইবন মুকাতিল ইবন মুশামরিখ ইবন খালিদ (রহঃ) ... আবুল আজফা (রহঃ) বলেন, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলেছেনঃ হুশিয়ার! তোমরা নারীর মাহরের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না, কেননা যদি তা দুনিয়ায় উত্তম কার্য হতো, তাহলে তোমাদের চেয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অধিক উপযুক্ত ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোন স্ত্রীকে বা তার কন্যাদের কারও বার আওকিয়ার অধিক মাহর দেননি। কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে অধিক মাহর দান করে, শেষ পর্যন্ত ঐ স্ত্রীলোকের প্রতি ঐ ব্যক্তির অন্তরে শক্রিতার সৃষ্টি হয়। এমন কি সে বলে, তোমার জন্য আমি অনেক কষ্ট করেছি। রাবী বলেন, আমি ছিলাম জন্ম সূত্রে আরবী, তাই (عِلْقُ الْقِرْبَةِ) 'মশকের রশির অর্থ কি তা আমি বুঝি না। অপরজন তাকে বললোঃ তোমাদের যুদ্ধে যারা নিহত হয়, অথবা মারা যায়। বলা হয় যে, সে শহীদ হিসাবে মারা গেছে, সম্ভবত সে তার বাহনের পিঠে বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে, অথবা তার বাহনের পিঠে-হাওদা লাগিয়েছে স্বর্ণ ও চাঁদি দিয়ে পূর্ণ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে। তাই তোমরা শহীদি মৃত্যু হয়েছে না বলে এরূপ বল, যেরূপ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তা হলো এইঃ যে আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয় অথবা মারা যায়, সে জগন্নাতে প্ৰবেশ করবে।
হাদিস 3350 — Sunan an Nasai 26:155
সহিহসহিহদাঈফ
أَخْبَرَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدُّورِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَزَوَّجَهَا وَهِيَ بِأَرْضِ الْحَبَشَةِ زَوَّجَهَا النَّجَاشِيُّ وَأَمْهَرَهَا أَرْبَعَةَ آلاَفٍ وَجَهَّزَهَا مِنْ عِنْدِهِ وَبَعَثَ بِهَا مَعَ شُرَحْبِيلَ ابْنِ حَسَنَةَ وَلَمْ يَبْعَثْ إِلَيْهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِشَىْءٍ وَكَانَ مَهْرُ نِسَائِهِ أَرْبَعَمِائَةِ دِرْهَمٍ .
আব্বাস ইবন মুহাম্মদ দাওরী (রহঃ) ... উম্মে হাবীবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁকে বিবাহ করেন, তখন তিনি ছিলেন হাবশায়। নাজ্জাশী তাকে বিবাহ দেন এবং তাঁর মাহর আদায় করেন। চার হাজার দিরহাম এবং তার নিজের পক্ষ হতে বিবাহ উপঢৌকন আদায় করেন। আর তাকে ঐ সকল দিয়ে শুরাহবীল ইবন হাসানা (রাঃ)-এর সাথে পাঠিয়ে দেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট কিছুই পাঠাননি। আর তাঁর অন্যান্য স্ত্রীদের মাহর ছিল চারশত দিরহাম।
হাদিস 3351 — Sunan an Nasai 26:156
সহিহসহিহসহিহ Bukhari
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، - وَاللَّفْظُ لِمُحَمَّدٍ - عَنِ ابْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ، جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَبِهِ أَثَرُ الصُّفْرَةِ فَسَأَلَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ أَنَّهُ تَزَوَّجَ امْرَأَةً مِنَ الأَنْصَارِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَمْ سُقْتَ إِلَيْهَا " . قَالَ زِنَةَ نَوَاةٍ مِنْ ذَهَبٍ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَوْلِمْ وَلَوْ بِشَاةٍ " .
মুহাম্মদ ইবন সালামা এবং হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আব্দুর রহমান ইবন আউফ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে উপস্থিত হলেন, তখন তাব শরীরে বিবাহের সুগন্ধির চিহ্ন অবশিষ্ট ছিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি জানালেন যে, তিনি এক আনসারী রমণীকে বিবাহ করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে কত মাহর দান করেছ? তিনি বললেনঃ একদানা পরিমাণ স্বর্ণ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ একটা ছাগল দ্বারা হলেও ওয়ালীমা কর।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আব্দুল আযীয ইবন সুহায়ব (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, আমি আনাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, আব্দুর রহমান ইবন আউফ (রাঃ) বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আমাকে দেখলেন, তখন আমার মধ্যে ছিল বিবাহের খুশি। আমি বললামঃ আমি এক আনসারী রমণীকে বিবাহ করেছি। তিনি বললেনঃ তাকে কত মাহর দিয়েছ ? আমি বললামঃ একদানা পরিমাণ স্বর্ণ।
হিলাল ইবন আলী (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে রমণীকে বিবাহ দেয়া হয়েছে মাহরের বিনিময়ে অথবা দানে-বিবাহের আকাদের পূর্বে, তা তারই; আর যা আকদের পরে দেয়া হয়, তা যে দান করেছে তার এবং পুরুষকে যা দ্বারা সম্মানিত করা হয়, তার কন্যা বা বোন তার হকদার।
আব্দুর রহমান ইবন মুহাম্মদ ইবন আব্দুর রহমান (রহঃ) ... আলকামা এবং আসওয়াদ (রহঃ) হতে বর্ণিত, তারা বলেন, আব্দুল্লাহ (রাঃ)-এর নিকট এ মর্মে একটা মামলা আনা হলো যে, এক ব্যক্তি জনৈক রমণীকে বিবাহ করেছে, অথচ সে তার কোন মাহর ধার্য করেনি। আর সে ব্যক্তি সহবাস করার পূর্বেই মারা গেছে। আব্দুল্লাহ (রাঃ) বললেন, তোমরা লোকদের জিজ্ঞাসা কর তোমরা কি উক্ত রমণীর মধ্যে কোন চিহ্ন দেখতে পোচ্ছ ? তারা বললোঃ হে আবু আব্দুর রহমান! আমরা তার মধ্যে কোন চিহ্ন পাচ্ছি না। তিনি বললেন, আমি আমার জ্ঞান অনুযায়ী বলছি, যদি তা সঠিক হয়, তবে তা আল্লাহর পক্ষ হতে। আর তার মাহর হলো তার মত রমণীদের মাহরের মত। তা হতে বেশীও হবে না এবং কমও হবে না। সে মীরাছ পাবে, এবং তার ইদ্দত পালন করতে হবে। আশজা গোত্রের এক ব্যক্তি দাড়িয়ে বললোঃ আমাদের এক মহিলার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনই ফয়সালা দেন যার নাম ছিল বিরওয়া বিনত ওয়াশিক। সে এক পুরুষকে বিবাহ করেছিল এবং সহবাসের পূর্বেই তার স্বামী ইনতিকাল করে। তার জন্যও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মত মহিলার মাহরের মত মাহর ধাৰ্য করেন। আর তার জন্য মীরাছ এবং ইদ্দত পালনও ধার্য করেন। একথা শুনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) হস্তদ্বয় উত্তোলন করে তাকবীর অর্থাৎ আল্লাহু আকবার বলেন। আবু আব্দুর রহমান (রহঃ) বলেন, এ, হাদীসে যায়দি ব্যতীত অ্যার কাউকেও আসওয়াদের নাম উল্লেখ করতে শুনিনি।
আহমদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তার নিকট এক মহিলার মোকাদ্দামা উপস্থাপন করা হলো, যাকে একজন পুরুষ বিবাহ করে ইনতিকাল করে। আর তার জন্য কোন মাহরাও ধার্য করেনি এবং তার সাথে সহবাসও করেনি। লোকেরা তার নিকট প্রায় একমাস যাবত যাতায়াত করতে লাগলো। তিনি তাকে কোন সমাধান দিচ্ছিলেন না। এরপর তিনি বললেন, আমার মতে তার জন্য তার মত রমণীর মাহর হবে; বেশীও না এবং কমও না। আর সে মীরাছ পাবে এবং তাকে ইদ্দত পালন করতে হবে। তখন মাকাল ইবন সিনান আশজয়ী (রাঃ) সাক্ষ্য দিলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিরওয়া বিনত ওয়াশিক-এর ব্যাপারে আপনার মতই রায় দিয়েছিলেন।