ইসহাক ইবন মানসূর (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি কোন এক মহিলাকে বিবাহ করে মৃত্যুবরণ করে, সে তার জন্য কোন মাহরও ধাৰ্য করেনি এবং তার সাথে সহবাসও করেনি। এ মহিলা সম্পর্কে তিনি বলেন, তাকে মাহর দিতে হবে এবং তাকে ইদ্দত পালন করতে হবে এবং সে মীরাছও পাবে। মাকাল ইবন সিনান (রাঃ) বলেন, আমি শুনেছি, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিরওয়া বিনত ওয়াশিকের ব্যাপারে এরূপ ফয়সালা দিয়েছিলেন।
আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তার নিকট একদল লোক এসে বললোঃ আমাদের এক ব্যক্তি কোন মাহর ধার্য না করে এক রমণীকে বিবাহ করে মৃত্যুবরণ করলো এবং সে তার সাথে সহবাসও করেনি। আব্দুল্লাহ (রাঃ) বললেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইনতিকালের পরে এর চাইতে কোন কঠিন ব্যাপারে আমাকে প্রশ্ন করা হয়নি। তোমরা আমাকে বাদ দিয়ে অন্য কারও নিকট যাও। তারা একমাস যাবত এ ব্যাপারে তার নিকট যাতায়াত করতে রইলো। এরপর তারা তাঁকে বললোঃ আপনাকে জিজ্ঞাসা না করে আর কাকে জিজ্ঞাসা করবো? আপনি হলেন এ শহরে- মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নেতৃস্থানীয় সাহাবীদের অন্যতম। আপনাকে ব্যতীত আর কাউকেও আমরা পাচ্ছি না। তিনি বললেন, আচ্ছা! এ ব্যাপারে আমার চিন্তায় যা আসে, তা আমি বলছিঃ যদি তা সঠিক হয় তবে তা এক আল্লাহর পক্ষ হতে, আর যদি ভুল হয়, তবে তা আমার পক্ষ হতে, আর শয়তানের পক্ষ হতে। আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল এ ব্যাপারে নির্দোষ। আমার মতে, তার জন্য মাহরে মিছাল হবে, কোন প্রকার কম ও বেশী ব্যতীত, সে মীরাছ পাবে এবং তাকে চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করতে হবে। তিনি বললেনঃ এ ফয়সালা আশজা গোত্রের কয়েকজন লোক শুনলো এবং তারা দাঁড়িয়ে বললোঃ আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি এমন ফয়সালা দিলেন, যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্যে বিরওয়া বিনত ওয়াশিক নাম্নী এক মহিলার ব্যাপারে ফয়সালা দিয়েছিলেন। আব্দুল্লাহ (রাঃ)-কে সেদিন যেমন আনন্দিত দেখা গিয়েছিল, তাঁর ইসলাম গ্রহণের দিন ব্যতীত আর কোন দিন এত আনন্দিত দেখা যায়নি।
হাদিস 3359 — Sunan an Nasai 26:164
সহিহসহিহসহিহ Bukhari
أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا مَعْنٌ، قَالَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَاءَتْهُ امْرَأَةٌ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي قَدْ وَهَبْتُ نَفْسِي لَكَ . فَقَامَتْ قِيَامًا طَوِيلاً فَقَامَ رَجُلٌ فَقَالَ زَوِّجْنِيهَا إِنْ لَمْ يَكُنْ لَكَ بِهَا حَاجَةٌ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَلْ عِنْدَكَ شَىْءٌ " . قَالَ مَا أَجِدُ شَيْئًا . قَالَ " الْتَمِسْ وَلَوْ خَاتَمًا مِنْ حَدِيدٍ " . فَالْتَمَسَ فَلَمْ يَجِدْ شَيْئًا فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَلْ مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ شَىْءٌ " . قَالَ نَعَمْ سُورَةُ كَذَا وَسُورَةُ كَذَا . لِسُوَرٍ سَمَّاهَا . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَدْ زَوَّجْتُكَهَا عَلَى مَا مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ " .
হারূন ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... সাহল ইবন সা'দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এক মহিলা এসে বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আমাকে আপনার জন্য দান করলাম। এ কথা বলে সে অনেক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলো। তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললোঃ যদি আপনার তার প্রয়োজন না থাকে, তবে তাকে আমার নিকট বিবাহ দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার নিকট কি কিছু আছে? সে বললোঃ আমার নিকট কিছুই নেই। তিনি বললেনঃ তালাশ করে দেখ যদি একটা লোহার আংটিও পাও; সে ব্যক্তি তালাশ করে কিছুই পেল না, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তোমার কি কুরআনের কিছু অংশ জানা আছে? সে ব্যক্তি কয়েকটি সূরার নাম নিয়ে বললোঃ এ, এ সূরা। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাকে তার সাথে বিবাহ দিলাম তোমার কুরআনের যা জানা আছে, তার উপর।
মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... নুমান ইবন বশীর (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। ঐ ব্যক্তি সম্বন্ধে, যে তার স্ত্রীর বাঁদীর সাথে সহবাস করেছিল। তিনি বললেনঃ যদি সে তাকে তার জন্য হালাল করে থাকে, তবে আমি তাকে একশত কোড়া লাগাব। আর যদি সে তা তার জন্য হালাল না করে থাকে, তবে আমি তাকে রজম করব।
মুহাম্মাদ ইবন মা'মার (রহঃ) ... নু'মান ইবন বশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত, আব্দুর রহমান ইবন হুনায়ন কুরকুর নামক এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর বাদীর সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হলে নুমান ইবন বশীর (রাঃ)-এর নিকট তার বিচার আনা হলো- তিনি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ফয়সালা অনুযায়ী তোমার ফয়সালা করবো। যদি সে তোমার জন্য তা বৈধ করে থাকে, তাবে তোমাকে বেত্ৰাঘাত করবো, আর যদি সে তোমার জন্য তা বৈধ না করে থাকে, তবে তোমাকে প্রস্তরাঘাতে মেরে ফেলবো। দেখা গেল, সে তা তার জন্য বৈধ করেছিল। সে জন্য তিনি একশত কোড়া লাগালেন। কাতাদা (রহঃ) বলেনঃ আমি এ ব্যাপারে হাবীব ইবন সালিম-এর নিকট লিখলে, তিনিও আমার নিকট এরূপই লিখেন।
আবু দাউদ (রহঃ) ... নুমান ইবন বশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর বাদীর সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হয়, তার সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি সে স্ত্রী বাদীকে তার জন্য বৈধ করে থাকে, তবে তাকে একশত কোড়ার আঘাত কর, আর যদি সে তা তার জন্য বৈধ না করে থাকে, তবে তাকে রজম কর।
মুহাম্মাদ ইবন রাফে' (রহঃ) ... সালামা ইবন মুহাব্বাক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে ফয়সালা দিয়েছিলেন, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর বাঁদীর সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হয়েছে, যদি সে ব্যক্তি তার প্রতি বল প্রয়োগ করে থাকে, তবে এ বাঁদী আযাদ হয়ে যাবে এবং ঐ ব্যক্তির উপর ঐ বৗদীর মালিককে এর মত আর একটি দিতে হবে। আর যদি ঐ বাঁদী, ঐ ব্যক্তির অনুগত হয়ে থাকে তা হলে ঐ বাঁদী ঐ ব্যক্তিরই হয়ে যাবে। সে ব্যক্তির উপর ঐ বাঁদীর মালিককে আর একটা বাঁদী দেয়া গুয়াজিব হবে।
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন বযী (রহঃ) ... সালামা ইবন মুহাব্বাক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর বাঁদীর সাথে সহবাস করলো, এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌঁছলে তিনি বললেনঃ যদি ঐ ব্যক্তি তাকে বল প্রয়োগ করে থাকে, তবে ঐ বাঁদী ঐ ব্যক্তির মাল দ্বারা মুক্ত হয়ে যাবে, এবং তার উপর ঐ বাঁদীর মালিকের জন্য এমন একটি বাদী দেয়া ওয়াজিব হবে।
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... হাসান এবং আব্দুল্লাহ নামক মুহাম্মদের পুত্রদ্বয় তাদের পিতার মাধ্যমে বর্ণনা করেন, আলী (রাঃ)-এর নিকট সংবাদ পৌঁছালো যে, এক ব্যক্তি মুতআ কোন প্রকার ক্ষতি মনে করে না, তখন তিনি বললেনঃ তুমি একজন পথভ্রষ্ট লোক। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তা হতে নিষেধ করেছেন এবং গৃহপালিত গাধার গোশত হতে, খায়বারের দিন।