Qurani·قرآني
বাংলা

কিতাবুন নিকাহ

193 হাদিস · #3196–3388

হাদিস 3216 — Sunan an Nasai 26:21
হাসানহাসানসহিহ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْخَلَنْجِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ، مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ قَالَ حَدَّثَنَا حُصَيْنُ بْنُ نَافِعٍ الْمَازِنِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي الْحَسَنُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ عَائِشَةَ قَالَ قُلْتُ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَسْأَلَكِ عَنِ التَّبَتُّلِ فَمَا تَرَيْنَ فِيهِ قَالَتْ فَلاَ تَفْعَلْ أَمَا سَمِعْتَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُ ‏{‏ وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلاً مِنْ قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَاجًا وَذُرِّيَّةً ‏}‏ فَلاَ تَتَبَتَّلْ ‏.‏
মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ খালানজী (রহঃ) ... সা'দ ইবন হিশাম (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেনঃ আমি আপনাকে কৌমার্য সম্বন্ধে প্রশ্ন করতে ইচ্ছা করি। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কি? তিনি বললেনঃ তা করো না। তুমি কি শ্রবণ করনি যে, আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেনঃ وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِنْ قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَاجًا وَذُرِّيَّةً অর্থঃ আর আমি আপনার পূর্বেও অনেক রাসূল প্রেরণ করেছিলাম এবং তাদেরকে স্ত্রী ও সন্তান-সন্তুতি দিয়ে ছিলাম। (সূরা আর-রা'দঃ ৩৮)।
হাদিস 3217 — Sunan an Nasai 26:22
সহিহসহিহসহিহ Muslim
أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَفَّانُ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ نَفَرًا، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ بَعْضُهُمْ لاَ أَتَزَوَّجُ النِّسَاءَ ‏.‏ وَقَالَ بَعْضُهُمْ لاَ آكُلُ اللَّحْمَ ‏.‏ وَقَالَ بَعْضُهُمْ لاَ أَنَامُ عَلَى فِرَاشٍ ‏.‏ وَقَالَ بَعْضُهُمْ أَصُومُ فَلاَ أُفْطِرُ ‏.‏ فَبَلَغَ ذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ ‏ "‏ مَا بَالُ أَقْوَامٍ يَقُولُونَ كَذَا وَكَذَا لَكِنِّي أُصَلِّي وَأَنَامُ وَأَصُومُ وَأُفْطِرُ وَأَتَزَوَّجُ النِّسَاءَ فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي ‏"‏ ‏.‏
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) বলেন, সাহাবায়ে কিরাম এর একদলের কেউ কেউ বললোঃ আমি স্ত্রী গ্রহণ করবো না, কেউ বললেনঃ আমি আহার করবো না। আর কেউ বললোঃ আমি বিছানায় শয়ন করবো না। আবার কেউ বললো এমন রোযা রাখব, আর কখনও রোযা ভঙ্গ করবো না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শ্রবণ করে আল্লাহর প্রশংসা করে বললেনঃ এ সকল দলের কি হলো-যারা এমন এমন কথা বলে! কিন্তু আমি (রাত্রির) কিছু অংশে নামায পড়ি, আবার নিদ্রা যাই; রোযা রাখি আবার রোযা ভঙ্গ করি এবং স্ত্রী গ্রহণ করি, যে আমার সুন্নত হতে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।
হাদিস 3218 — Sunan an Nasai 26:23
হাসানহাসানহাসান
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ ثَلاَثَةٌ حَقٌّ عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ عَوْنُهُمُ الْمُكَاتَبُ الَّذِي يُرِيدُ الأَدَاءَ وَالنَّاكِحُ الَّذِي يُرِيدُ الْعَفَافَ وَالْمُجَاهِدُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ‏"‏ ‏.‏
কুতায়বা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন প্রকারের লোক যাদের প্রতি আল্লাহর হক রয়েছে, আল্লাহ অবশ্য তাদের সাহায্য করবেন; যে মুকাতাব দাস কিতাবাতের অর্থ আদায় করার ইচ্ছা পোষণ করে, যে বিবাহিত ব্যক্তি ব্যভিচার হতে রক্ষা পেতে চায় এবং আল্লাহর রাস্তার মুজাহিদ।
হাদিস 3219 — Sunan an Nasai 26:24
সহিহসহিহসহিহ - Agreed Upon
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ تَزَوَّجْتُ فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏"‏ أَتَزَوَّجْتَ يَا جَابِرُ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ نَعَمْ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ بِكْرًا أَمْ ثَيِّبًا ‏"‏ ‏.‏ فَقُلْتُ ثَيِّبًا ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَهَلاَّ بِكْرًا تُلاَعِبُهَا وَتُلاَعِبُكَ ‏"‏ ‏.‏
কুতায়বা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) বলেন, বিবাহ করার পর আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে আগমন করলে তিনি বললেনঃ হে জাবির! তুমি কি বিবাহ করেছ? আমি বললামঃ জি হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ কুমারী, না বিবাহিতা? আমি বললামঃ বিবাহিতা। তিনি বললেনঃ কুমারী কেন বিবাহ করলে না, যে তোমার সাথে ক্রীড়া-কৌতুক করতো, আর তুমি তার সাথে ক্রীড়া-কৌতুক করতে।
হাদিস 3220 — Sunan an Nasai 26:25
সহিহসহিহসহিহ Bukhari
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ قَزَعَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، - وَهُوَ ابْنُ حَبِيبٍ - عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ لَقِيَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏"‏ يَا جَابِرُ هَلْ أَصَبْتَ امْرَأَةً بَعْدِي ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَبِكْرًا أَمْ أَيِّمًا ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ أَيِّمًا ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَهَلاَّ بِكْرًا تُلاَعِبُكَ ‏"‏ ‏.‏
হাসান ইন্ধন কাযা'আ (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সংগে আমার দেখা হলে তিনি বললেনঃ হে জাবির! আমার অজ্ঞাতে তুমি কি স্ত্রী গ্ৰহণ করেছ? আমি বললামঃ হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেনঃ কুমারী না বিবাহিতা? আমি বললামঃ বিবাহিতা। তিনি বললেনঃ কেন কুমারী বিবাহ করলে না, তাহলে সে তোমার সাথে ক্ৰীড়া-কৌতুক করতো
হাদিস 3221 — Sunan an Nasai 26:26
সহিহ Isnaadসহিহ IsnaadIsnaad Sahih
أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنِ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ خَطَبَ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ رضى الله عنهما فَاطِمَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِنَّهَا صَغِيرَةٌ ‏"‏ ‏.‏ فَخَطَبَهَا عَلِيٌّ فَزَوَّجَهَا مِنْهُ ‏.‏
হুসায়ন ইবন হুরায়াছ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন বুরায়দা (রহঃ) তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, আবু বকর এবং উমর (রাঃ) ফাতিমা (রাঃ)-এর বিবাহের পয়গাম পাঠালে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে তো অল্প বয়স্ক। এরপর আলী (রঃ) প্রস্তাব করলে তিনি তাঁর সাথে বিবাহ দিলেন।
হাদিস 3222 — Sunan an Nasai 26:27
সহিহসহিহসহিহ Muslim
أَخْبَرَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، عَنِ الزُّبَيْدِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ عُثْمَانَ، طَلَّقَ وَهُوَ غُلاَمٌ شَابٌّ فِي إِمَارَةِ مَرْوَانَ ابْنَةَ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ وَأُمُّهَا بِنْتُ قَيْسٍ الْبَتَّةَ فَأَرْسَلَتْ إِلِيْهَا خَالَتُهَا فَاطِمَةُ بِنْتُ قَيْسٍ تَأْمُرُهَا بِالاِنْتِقَالِ مِنْ بَيْتِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَسَمِعَ بِذَلِكَ مَرْوَانُ فَأَرْسَلَ إِلَى ابْنَةِ سَعِيدٍ فَأَمَرَهَا أَنْ تَرْجِعَ إِلَى مَسْكَنِهَا وَسَأَلَهَا مَا حَمَلَهَا عَلَى الاِنْتِقَالِ مِنْ قَبْلِ أَنْ تَعْتَدَّ فِي مَسْكَنِهَا حَتَّى تَنْقَضِيَ عِدَّتُهَا فَأَرْسَلَتْ إِلَيْهِ تُخْبِرُهُ أَنَّ خَالَتَهَا أَمَرَتْهَا بِذَلِكَ فَزَعَمَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ قَيْسٍ أَنَّهَا كَانَتْ تَحْتَ أَبِي عَمْرِو بْنِ حَفْصٍ فَلَمَّا أَمَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ عَلَى الْيَمَنِ خَرَجَ مَعَهُ وَأَرْسَلَ إِلَيْهَا بِتَطْلِيقَةٍ هِيَ بَقِيَّةُ طَلاَقِهَا وَأَمَرَ لَهَا الْحَارِثَ بْنَ هِشَامٍ وَعَيَّاشَ بْنَ أَبِي رَبِيعَةَ بِنَفَقَتِهَا فَأَرْسَلَتْ - زَعَمَتْ - إِلَى الْحَارِثِ وَعَيَّاشٍ تَسْأَلُهُمَا الَّذِي أَمَرَ لَهَا بِهِ زَوْجُهَا فَقَالاَ وَاللَّهِ مَا لَهَا عِنْدَنَا نَفَقَةٌ إِلاَّ أَنْ تَكُونَ حَامِلاً وَمَا لَهَا أَنْ تَكُونَ فِي مَسْكَنِنَا إِلاَّ بِإِذْنِنَا فَزَعَمَتْ أَنَّهَا أَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لَهُ فَصَدَّقَهُمَا ‏.‏ قَالَتْ فَاطِمَةُ فَأَيْنَ أَنْتَقِلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏ "‏ انْتَقِلِي عِنْدَ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ الأَعْمَى الَّذِي سَمَّاهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي كِتَابِهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ فَاطِمَةُ فَاعْتَدَدْتُ عِنْدَهُ وَكَانَ رَجُلاً قَدْ ذَهَبَ بَصَرُهُ فَكُنْتُ أَضَعُ ثِيَابِي عِنْدَهُ حَتَّى أَنْكَحَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ فَأَنْكَرَ ذَلِكَ عَلَيْهَا مَرْوَانُ وَقَالَ لَمْ أَسْمَعْ هَذَا الْحَدِيثَ مِنْ أَحَدٍ قَبْلَكِ وَسَآخُذُ بِالْقَضِيَّةِ الَّتِي وَجَدْنَا النَّاسَ عَلَيْهَا ‏.‏ مُخْتَصَرٌ ‏.‏
কাছীর ইবন উবায়দ (রহঃ) ... উবায়দুল্লাহ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন উতবা (রহঃ) বর্ণনা করেন, আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন উসমান, মারওয়ানের খেলাফতকালে বিনতে সাঈদ ইবন যায়দকে তিন তালাক দিলেন, অথচ তিনি ছিলেন তখন একজন পূর্ণ যুবক। আর বিনতে সাঈদ-এর মাতা ছিলেন বিনতে কায়স। তার খালা ফাতিমা বিনতে কায়স তার নিকট সংবাদ পাঠালো, সে যেন আব্দুল্লাহ্ ইবন আমরের ঘর হতে পৃথক হয়ে যায়। মারওয়ান এ খবর শুনে বিনতে সাঈদ-এর নিকট লোক পাঠিয়ে আদেশ করলো, সে যেন তার ঘরে প্রত্যাবর্তন করে, এবং তাকে প্রশ্ন করলো, সে ইতিপূর্বে তার ঘরে থাকা অবস্থায় তাকে কিসে তার ঘর হতে বের করলো। ঘরে থেকে ইদ্দত কেন পূর্ণ করলো না? সে খলিফার নিকট সংবাদ পাঠালো, তার খালা তাকে এ আদেশ করেছেন। ফাতিমা বিনতে কায়স মনে করলেন, সে আবু আমর ইবন হাফসের বিবাহে রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আলী ইবন আবী তালিব (রাঃ)-কে ইয়ামনে গর্ভনর করে পাঠালেন, তখন তিনি তাঁর সাথে গিয়েছিলেন, সেখান হতে তিনি তাঁর নিকট এক তালাক পাঠালেন, যা ছিল তাঁর অবশিষ্ট তালাক এবং হারিছ ইবন হিশাম এবং আইয়াশ ইবন আবী রবীআকে তার খোরপোষ দিয়ে দিতে আদেশ করলেন। ফাতিমা হারিছ এবং আইয়াশ-এর নিকট লোক পাঠিয়ে তার স্বামী তাদেরকে যে খোরপোষ দিতে বলেছিলেন, তা চেয়ে পাঠালেন। তাঁরা উভয়ে বললেনঃ আল্লাহর শপথ আমাদের নিকট তার কোন খোরপোষ নেই; তবে যদি সে গর্ভবতী হয়। আর তার আমাদের ঘরে থাকার কোন অধিকার নেই, আমাদের অনুমতি ব্যতীত। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে গমন করে তা বর্ণনা করলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হারিছ এবং আইয়াশ এর কথাই বিশ্বাস করলেন। তখন ফাতিমা (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি কোথায় যাব? তিনি বললেনঃ তুমি ইবন উম্মে মাকতুম, যাকে আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় কিতাবে 'অন্ধ' বলেছেন, তাঁর নিকট থাক। ফাতিমা (রাঃ) বলেনঃ আমি তার নিকটই ইদ্দত পূৰ্ণ করলাম। তিনি ছিলেন দৃষ্টি শক্তিহীন ব্যক্তি। আমি তাঁর ঘরে আমার কাপড় খুলে রাখতাম। পরে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উসামা ইবন যায়ীদ-এর নিকট বিবাহ দিলেন, মারওয়ান ইহা অবিশ্বাস করলেন। তিনি বললেন, তোমার পূর্বে এ হাদীস আমি কারও নিকট শ্রবণ করিনি। এ ব্যাপারে লোককে যা করতে দেখেছি, আমি সে ফয়সালা করবো। (সংক্ষিপ্ত)
হাদিস 3223 — Sunan an Nasai 26:28
সহিহসহিহসহিহ Bukhari
أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ بَكَّارِ بْنِ رَاشِدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، قَالَ أَنْبَأَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ أَبَا حُذَيْفَةَ بْنَ عُتْبَةَ بْنِ رَبِيعَةَ بْنِ عَبْدِ شَمْسٍ، - وَكَانَ مِمَّنْ شَهِدَ بَدْرًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - تَبَنَّى سَالِمًا وَأَنْكَحَهُ ابْنَةَ أَخِيهِ هِنْدَ بِنْتَ الْوَلِيدِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ رَبِيعَةَ بْنِ عَبْدِ شَمْسٍ وَهُوَ مَوْلًى لاِمْرَأَةٍ مِنَ الأَنْصَارِ كَمَا تَبَنَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم زَيْدًا وَكَانَ مَنْ تَبَنَّى رَجُلاً فِي الْجَاهِلِيَّةِ دَعَاهُ النَّاسُ ابْنَهُ فَوَرِثَ مِنْ مِيرَاثِهِ حَتَّى أَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي ذَلِكَ ‏{‏ ادْعُوهُمْ لآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ فَإِنْ لَمْ تَعْلَمُوا آبَاءَهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ وَمَوَالِيكُمْ ‏}‏ فَمَنْ لَمْ يُعْلَمْ لَهُ أَبٌ كَانَ مَوْلًى وَأَخًا فِي الدِّينِ ‏.‏ مُخْتَصَرٌ ‏.‏
ইমরান ইবন বাক্কার ইবন রাশিদ (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) বলেন, আবু হুযায়ফা ইবন উতবা ইবন রবীআ ইবন আবদ শামস ছিলেন ঐ সকল লোকের মধ্যে যারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সংগে বদর যুদ্ধে শরীক ছিলেন। তিনি সালিম নামে এক ব্যক্তিকে পুত্র বানিয়ে নিয়েছিলেন এবং তার সাথে তার ভ্রাতৃকন্যা হিন্দা বিনতে ওয়ালীল ইবন উতবা ইবন রবীআ ইবন আবদ শামস-এর বিবাহ দেন। আর সে ছিল এক আনসারী মহিলার ক্রীতদাস। যেমন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়দ-কে ছেলে হিসাবে গ্ৰহণ করেছিলেন। জাহিলী যুগে নিয়ম ছিল, যদি কেউ কাউকেও পোষ্যপুত্র হিসেবে গ্রহণ করতো, লোক তাকে তার ছেলে বলেই ডাকতো এবং এ ছেলে ঐ লোকের ওয়ারিস হতো। এ ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত নাযিল করেনঃ ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ فَإِنْ لَمْ تَعْلَمُوا آبَاءَهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ وَمَوَالِيكُمْ অর্থঃ তোমরা তাদের ডাক তাদের পিতৃ-পরিচয়ে, ইহা আল্লাহর দৃষ্টিতে অধিক ন্যায়সঙ্গত; যদি তোমরা তাদের পিতৃ-পরিচয় না জান, তবে তারা তোমাদের ধর্মীয় ভাই এবং বন্ধু। (সূরা আহযাবঃ ৫)। এরপর যার পিতৃ পরিচয় না থাকতো, সে বন্ধু বা ধৰ্মীয় ভাই হিসেবে পরিগণিত হতো। (সংক্ষিপ্ত)
হাদিস 3224 — Sunan an Nasai 26:29
সহিহসহিহIsnaad Sahih
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلاَلٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلاَلٍ، قَالَ قَالَ يَحْيَى - يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ - وَأَخْبَرَنِي ابْنُ شِهَابٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، وَابْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ أَبَا حُذَيْفَةَ بْنَ عُتْبَةَ بْنِ رَبِيعَةَ بْنِ عَبْدِ شَمْسٍ - وَكَانَ مِمَّنْ شَهِدَ بَدْرًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - تَبَنَّى سَالِمًا وَهُوَ مَوْلًى لاِمْرَأَةٍ مِنَ الأَنْصَارِ كَمَا تَبَنَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم زَيْدَ بْنَ حَارِثَةَ وَأَنْكَحَ أَبُو حُذَيْفَةَ بْنُ عُتْبَةَ سَالِمًا ابْنَةَ أَخِيهِ هِنْدَ ابْنَةَ الْوَلِيدِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ رَبِيعَةَ وَكَانَتْ هِنْدُ بِنْتُ الْوَلِيدِ بْنِ عُتْبَةَ مِنَ الْمُهَاجِرَاتِ الأُوَلِ وَهِيَ يَوْمَئِذٍ مِنْ أَفْضَلِ أَيَامَى قُرَيْشٍ فَلَمَّا أَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي زَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ ‏{‏ ادْعُوهُمْ لآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ ‏}‏ رُدَّ كُلُّ أَحَدٍ يَنْتَمِي مِنْ أُولَئِكَ إِلَى أَبِيهِ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ يُعْلَمُ أَبُوهُ رُدَّ إِلَى مَوَالِيهِ ‏.‏
মুহাম্মদ ইবন নাসর (রহঃ) ... রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) এবং উম্মে সালমা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আবু হুযায়ফা ইবন উতবা ইবন রবীআ ইবন আবদ শামস ছিলেন। ঐ সকল লোকদের একজন, যাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বদর যুদ্ধে শরীক ছিলেন, তিনি সালিম নামক এক ব্যক্তিকে পুত্ৰ বানিয়ে নেন। আর সালিম ছিলেন এক আনসারী মহিলার ক্রীতদাস। যেমন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়দ ইবন হারিছাকে পোষ্যপুত্র হিসাবে গ্রহণ করে ছিলেন। আবু হুযায়ফা ইবন উতবা তার ভাতিজি হিন্দা বিনত ওয়ালীদ ইবন উতবা ইবন রবীআ-কে তার সাথে বিবাহ দিলেন। হিন্দা বিনত ওয়ালীদ ইবন উতবা ছিলেন প্রথম হিজরতকারিণীদের মধ্যে উত্তম। এরপর আল্লাহ্ তাআলা যখন যায়দ ইবন হারিছা সম্বন্ধে আয়াত নাযিল করলেনঃ ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ তখন প্রত্যেকেই স্বীয় পোষ্যপুত্ৰকে তার পিতার দিকে প্রত্যাবর্তিত করলো। যদি তাঁর পিতার নাম জানা না থাকতো, তা হলে তাকে ধর্মীয় ভাই হিসেবে গণ্য করা হতো।
হাদিস 3225 — Sunan an Nasai 26:30
সহিহসহিহIsnaad Sahih
أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو تُمَيْلَةَ، عَنْ حُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِنَّ أَحْسَابَ أَهْلِ الدُّنْيَا الَّذِي يَذْهَبُونَ إِلَيْهِ الْمَالُ ‏"‏ ‏.‏
ইবন বুরায়দা (রহঃ) ... তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুনিয়াদারদের বংশ মর্যাদা গণনা করা হয় সম্পদ দিয়ে।
← আগের সংগ্রহে ফিরে যান পরের →

শুধুমাত্র সহিহ ও হাসান হাদিস দেখানো হয়।