হারূন ইবন আবদুল্লাহ এবং কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন বুজাইদ আনসারী (রহঃ)-এর দাদী থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা ভিক্ষুককে কিছু দিয়ে দাও যদিও তা খুরই হােক না কেন। আর হারূন (রহঃ)-এর হাদীসে রয়েছে পোড়া খুর। (অর্থাৎ ভিক্ষুককে খালি হাতে না ফিরায়ে যৎকিঞ্চিত হলেও দাও।)
মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... বাহয ইবন হাকীম (রহঃ) তার পিতার মাধ্যমে তার দাদা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি স্বীয় মুনীবের কাছে এসে তার উদৃত্ত বস্তু চায় অথচ তাকে তা দেওয়া না হয়, কিয়ামতের দিন তার জন্য একটি বিরাট সাপ ডাকা হবে যা তার না দেওয়া উদৃত্ত বস্তু জিহবা দ্বারা চাটতে থাকবে।
কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর ওয়াস্তে আশ্রয় চায় তাকে আশ্রয় দাও, যে ব্যাক্তি তোমাদের কাছে আল্লাহ্র ওয়াস্তে চায় তাকে দিয়ে দাও, যে ব্যক্তি আল্লাহর ওয়াস্তে সাহায্য প্রার্থনা করে তাকে সাহায্য দাও আর যে ব্যক্তি তোমাদের উপর ইহসান করে তার প্রতিদান দিয়ে দাও। আগত্যা যদি দিতে নাই পার তাহলে তার জন্য দু’আ কর যে পর্যন্ত না তোমরা মনে করা যে, তোমরা তার প্রতিদান দিতে পেরেছ।
মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... বাহয ইবন হাকীম (রহঃ) তার পিতার মাধ্যমে তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন যে, আমি বললাম, হে আল্লাহ্র নবী! আমি আপনার কাছে আসার পূর্বে আমার উভয় হস্তের অঙ্গুলীসমূহের সংখ্যার চেয়েও অধিক সংখ্যক শপথ করেছিলাম যে, আমি আপনার কাছে আসব না এবং আপনার ধর্মও গ্রহণ করব না। এখন আমি এমন এক ব্যক্তি, যে আল্লাহ তা’আলা এবং তদীয় রাসূলের শিখানো শিক্ষা ছাড়া আর কিছুই আমি জানি না। আমি আল্লাহর ওয়াস্তে (আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য) আপনার কছে জানতে চাই আল্লাহ তা’আলা আপনাকে কি সহ আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন, আল্লাহ্ তাআলা আমাকে ইসলামসহ পাঠিয়েছেন। আমি বললাম, ইসলামের পরিচয় কি? তিনি বললেন, তুমি বলবে যে, আমি স্বীয় চেহারা আল্লাহ তা’আলার দিকে ফিরিয়ে দিলাম এবং শিরক পরিত্যাগ করলাম। এবং তুমি সালাত আদায় করবে, যাকাত আদায় করবে। প্রত্যেক মুসলিম অন্য মুসলিমের জন্য সম্মানের পাত্ৰ; তারা ভাইয়ের ন্যায় একে অন্যের সাহায্যকারী। আল্লাহ তা’আলা মুশরিকদের ইসলাম গ্রহণের পরও তাদের কোন আমল কবুল করবেন না যতক্ষণ না তারা মুশরিকদেরকে পরিত্যাগ করে মুসলিমদের কাছে এসে যায়।
মুহাম্মদ ইবন রাফি' (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি কি তোমাদেরকে সর্বোচ্চ মর্যাদাশীল ব্যক্তি সম্পর্কে অবহিত করব না? আমরা বললাম, কেন নয়? নিশ্চয়ই ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেনঃ সে ঐ ব্যক্তি, যে আল্লাহর রাস্তায় স্বীয় ঘোড়ার লাগাম ধরে বের হয়ে যায় এবং মৃত্যুবরণ করে বা শহীদ হয়ে যায়। তার পরবর্তী পর্যায়ের লোকের সংবাদও তোমাদেরকে দেব কি? আমরা বললাম, হ্যাঁ; ইয়া রাসূলাল্লাহ্! দিন। তিনি বললেন, সে হল ঐ ব্যক্তি যে নির্জন কোন গুহায় থাকে, সেখানে সে সালাত আদায় করে, যাকাত আদায় করে এবং অসৎ লোকদের থেকে দূরে সরে থাকে। তোমাদেরকে কি সর্বনিকৃষ্ট লোক সম্পর্কে অবহিত করব? আমরা বললাম, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহু! অবহিত করুন। তিনি বললেন, সে হল ঐ ব্যক্তি যার কাছে কেউ আল্লাহ তা'আলার নামে সাহায্য চায় কিন্তু সে তাকে সাহায্য করে না।
মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... আবু যর (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিন ব্যক্তিকে আল্লাহ্ তা'আলা পছন্দ করেন এবং তিন ব্যক্তিকে অপছন্দ করেন। যাদেরকে তিনি পছন্দ করেন তারা হলঃ কোন ব্যক্তি কিছু সংখ্যক লোকের কাছে এসে আল্লাহ তা’আলার নামে কিছু সাহায্য চায়। সে তার এবং তাদের মধ্যকার আত্মীয়তার সম্পর্কের দোহাই দিয়ে সাহায্য চায় না। তারা তাকে কিছু না দিয়েই ফিরিয়ে দেয়। তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর তাদের মধ্য হতে এক ব্যক্তি তার পিছু পিছু যায় এবং তাকে এমন গোপনে সাহায্য করে যে, তার সাহায্য সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা এবং সাহায্য গ্ৰহীতা ছাড়া আর কেউই জানতে পারে না। আর একদল লোক যারা রাত্রে সফর করছিল যখন নিদ্রা তাদের কাছে সমুদয় বস্তু অপেক্ষা প্রিয় হয়ে গেল তখন তারা অবতরণ করল এবং কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিল। অতঃপর জেগে গেল এবং আমার কাছে (আল্লাহর কাছে) অনুনয়-বিনয় করে কান্নাকাটি করে দোয়া করতে লাগল। আর আমার কুরআন তিলাওয়াত করতে লাগল। আর এক ব্যক্তি জিহাদে কোন বাহিনীর সাথে ছিল, তারা শত্রুর মুখোমুখী হয়ে পরাজয়বরণ করল। কিন্তু সে সাহসের সাথে সামনে অগ্রসর হয়ে শহীদ হয়ে গেল অথবা আল্লাহ তা’আলা তাকে বিজয় দান করলেন। আর যে তিন ব্যক্তিকে আল্লাহ তা'আলা অপছন্দ করেন তারা হল, বৃদ্ধ ব্যভিচারী, অহংকারী অভাবী এবং অত্যাচারী ধনী।
আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একটা দু'টাে খেজুর এবং এক দু লোকমা খাদ্যের জন্য যারা ঘুরে ফেরে তারা মিসকীন নয়, বরং মিসকীন হল যে নিজকে সওয়াল (ভিক্ষা) থেকে বিরত রাখে। যদি তোমাদের ইচ্ছা হয় তাহলে তিলাওয়াত করে নিওঃ (لاَ يَسْأَلُونَ النَّاسَ إِلْحَافًا) অর্থাৎ তারা মানুঘের নিকট নাছোড় হয়ে যাচ্ঞা করে না। (সূরা বাকারাঃ)
কুতায়বা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এমন ঘুরা-ফিরাকারী ব্যক্তি মিসকীন নয়, যে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে এক দু’লোকমা খাদ্য এবং একটা দু'টা খেজুরের জন্য ঘুরে ফেরে। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, তাহলে মিসকীন কে? তিনি বললেন, যার এমন সম্পত্তি নেই যা তাকে পরমুখাপেক্ষী হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে। এবং তার দারিদ্র্য আঁচ করা যায় না। ফলে তাকে সাদাকাও দেওয়া হয় না। আর সে এমন অবস্থায় দাঁড়ায় না যাতে লোকজন তাকে জিজ্ঞাসা করতে পারে।
নাসির ইবন আলী (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মিসকীন সে ব্যক্তি নয় যে, এক লোকমা বা দু'লোকমার এবং একটা-দুটা খেজুরের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ফেরে। সাহাবীরা জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তাহলে মিসকীন কে? তিনি বললেন, যার কোন সহায়-সম্বলও নেই আর লোকেরাও তার অবস্থা জানে না যে, তাকে সাহায্য করবে।
হাদিস 2574 — Sunan an Nasai 23:140
সহিহসহিহIsnaad Sahih
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ بُجَيْدٍ، عَنْ جَدَّتِهِ أُمِّ بُجَيْدٍ، وَكَانَتْ، مِمَّنْ بَايَعَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ الْمِسْكِينَ لَيَقُومُ عَلَى بَابِي فَمَا أَجِدُ لَهُ شَيْئًا أُعْطِيهِ إِيَّاهُ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنْ لَمْ تَجِدِي شَيْئًا تُعْطِينَهُ إِيَّاهُ إِلاَّ ظِلْفًا مُحْرَقًا فَادْفَعِيهِ إِلَيْهِ " .
কুতায়াবা (রহঃ) ... আব্দুর রহমান ইবন বুজায়দ তার দাদী উম্মে বুজায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বায়'আত হয়েছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন যে, কখনাে কোন মিসকীন আমার দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়ে যায়। কিন্তু আমার কাছে তাকে দেওয়ার মত তখন কিছুই থাকে না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন যে, তুমি যদি তাকে দেওয়ার মত একটি ঝলসানাে খুর ব্যতীত আর কিছুই না পাও তবে তাকে তাই দাও।