মুহাম্মাদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, বাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তির সাথে আল্লাহ্ তাআলা কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না। বৃদ্ধ ব্যভিচারী, অহংকারী ফকীর এবং মিথ্যাবাদী নেতা।
আমর ইবন মানসূর (রহঃ)... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিধবা এবং মিসকীনদের জন্য উপার্জনকারী ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী ব্যক্তির ন্যায়।
হান্নাদ ইবনুস সারি (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আলী (রাঃ) ইয়ামেনে অবস্থানকালীন মাটি মিশ্ৰিত কিছু স্বর্ণ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পাঠালেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেগুলো চারজন ব্যক্তির মধ্যে বন্টন করে দিলেন, আকরা' ইবন হাবিস হানযালী, উওয়ায়না ইবন বদর ফাযারী, আলকামা ইবন উলাছা আমিরী পরবর্তীতে কিলাবী, এবং যায়ীদ ত্বায়ী (রাঃ) পরবর্তীতে নারহানী। তখন কুরায়শ বংশের লোকজন ব্লাগান্বিত হয়ে গেলেন। রাবী অন্যত্র বলেছেন, কুরায়শের সর্দারগণ রাগান্বিত হলেন। তারা বললেন যে, আপনি নাজদের সর্দারদেরকে দিচ্ছেন আর আমাদেরকে বাদ দিচ্ছেন? তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন যে, আমি এরকম করেছি তাদের হৃদয় আকৃষ্ট করার জন্য। এমন সময় ঘন শ্মাশ্রু, উন্নত চোয়াল, কোটেরাগত চক্ষু, উঁচু ললাট এবং মুণ্ডিত মাথা বিশিষ্ট এক ব্যক্তি এসে বলল যে, হে মুহাম্মাদ। আপনি আল্লাহ্ তা'আলাকে ভয় করেন। তিনি বললেন যে, যদি আমিই আল্লাহ তা'আলার অবাধ্য হই, তাহলে আর কে আল্লাহ্ তা'আলার বাধ্য হবে? আল্লাহ আঁআলা আমাকে পৃথিবীতে বিশ্বস্ত করে পাঠিয়েছেন আর তোমরা আমাকে বিশ্বস্ত মনে করছ না? অতঃপর সে ব্যক্তি চলে গেল এবং উপস্থিত লোকদের থেকে একজন তাকে হত্যা করার জন্য অনুমতি চাইলেন। লোকের ধারণা যে, অনুমতি প্রার্থনাকারী ছিলেন খালিদ ইবন ওয়ালীদ (রাঃ)। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন যে, এই ব্যক্তির ঔরসে এমন কিছু লোক জন্মগ্রহণ করতে পারে যারা কুরআন তিলাওয়াত করবে কিন্তু কুরআন তাদের কণ্ঠ অতিক্রম করবে না। তারা মুসলিমদেরকে হত্যা করবে এবং প্রতিমা পূজারীদেরকে ছেড়ে দেবে। তারা ইসলাম থেকে এরকমভাবে দূরে সরে যাবে, যে রকম তীর কামান থেকে দূরে সরে যায়। আমি যদি তাদেরকে পেতাম তাহলে তাদেরকে এমনভাবে হত্যা করতাম, যে রকমভাবে 'আদ গোত্রের লোকদেরকে হত্যা করা হয়েছিল।
ইয়াহইয়া ইবন হাবীব (রহঃ) এবং আলী ইবন হুজার (রহঃ) ... কবীসা ইবন মুখারিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি একজনের পাওনা আদায় করে দেয়ার যামিন হয়েছিলাম। তখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলাম এবং এ ব্যাপারে তার সাহায্য চাইলাম। তিনি বললেন, তিন ব্যক্তি ব্যতীত সাহায্য চাওয়া বৈধ নয়। এক ব্যক্তি হল, যে সমাজের কারো পাওনা আদায় করে দেওয়ার যামিন হয়েছে এবং এ ব্যাপারে অন্য কারো সাহায্য চায়, এবং ঐ সাহায্য দ্বারা উহা আদায় করে দেয়। এরপর সে সাহায্য চাওয়া থেকে বিরত থাকে ।
মুহাম্মদ ইবন নাদর (রহঃ) ... কাবীসা ইবন মুখারিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একজনের পাওনা আদায় করে যামিন হয়েছিলাম এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে এ ব্যাপারে তাঁর সাহায্য চাইলাম। তিনি বললেন যে, হে কবীসা! তুমি আমার কাছে সাদাকার কোন মাল আসা পর্যন্ত অপেক্ষা কর; আসলেই আমি তােমাকে দিয়ে দেব। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে কবীসা! সাদাকা তিন ব্যক্তি ছাড়া আর কারো জন্য বৈধ নয়; যে কারো পাওনা আদায় করে দেওয়ার যামিন হয়, তার জন্য সাহায্য চাওয়া বৈধ। যাতে সে নিজের আবশ্যকীয় প্রয়োজন মিটাতে পারে। যার উপর কোন বিপদ নিপতিত হয় এবং তার ধন-সম্পত্তি ধ্বংস হয়ে যায়। তার জন্য সাহায্য চাওয়া বৈধ, যাতে তার বিপদ দূর হয়ে যায়। অতঃপর সে সাহায্য চাওয়া থেকে বিরত হয়ে যায় এবং এমন অভাব্যগ্রস্থ ব্যক্তি যার সম্পর্কে তার গোত্রের তিনজন জ্ঞানী ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, সে অভাবগ্ৰস্ত, তাহলে তার জন্যও সাহায্য চাওয়া বৈধ, যাতে সে নিজের আবশ্যকীয় প্রয়োজন মিটাতে পারে। হে কবীসা! এ তিন প্রকার ব্যক্তি ব্যতীত আর কারো জন্য সাহায্য চাওয়া বৈধ নয়। অন্য কেউ যদি সাহায্য নিয়ে খায় তাহলে সে হারাম খায়।
যিয়াদ ইবন আইয়ূব (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারের উপর বসলেন, আমরাও তাঁর চারপাশে বসে গেলাম। তিনি বললেন, আমার পরবর্তীকালে তোমাদের অর্জিত পার্থিব ধন-দৌলতের আধিক্যে আমি আশংকিত। এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল যে, সে বিপর্যয়ের পরে কি আবার শান্তি আসবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তাকে (প্ৰশ্নকারীকে) বলা হল যে, তোমার কি হল তুমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে কথা বলতে চাইলে আর তোমার সাথে কথা বললেন না। রাবী বলেন, আমরা দেখলাম যে, তখন তাঁর উপর ওহী অবতীর্ণ হচ্ছে। যখন ওহী অবতীর্ণ হয়ে গেল। তিনি ঘাম মুছতে মুছতে বললেন, প্রশ্নকারী কি উপস্থিত আছে? নিশ্চয়ই সে বিপর্যয়ের পর শান্তি আসবে না। কেননা দেখ, বসন্ত ঋতুতে ঘাস জন্মায় এবং তা মরেও যায় অথবা মরার পর্যয়ে এসে যায় অথচ ঘাস একটি উত্তম বস্তু কিন্তু কোন চতুষ্পদ জন্তু যখন তা অপরিমিত ভক্ষণ করে তখন বদহজমীর দরুন মৃত্যুমুখে পতিত হওয়ার উপক্রম হয় বা মরেই যায় কিন্তু কোন তৃণভোজি জন্তু যখন তা ভক্ষণ করে তখন তার পেট ভরে যায়। আর সে সূর্যের আলোতে বসে পড়ে, অতঃপর প্রশ্রাব করে এবং চড়ে বেড়ায়। অনুরূপভাবে এ সমস্ত মাল মুসলিমদের জন্য কত উত্তম উৎকৃষ্ট এবং উপকারী সাথী যদি তার থেকে ইয়াতীম মিসকীন এবং মুসাফিরকে দান করা হয়। আর যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে ধন-সম্পদ সঞ্চয় করে সে যেন আহার করল কিন্তু পরিতৃপ্ত হতে পারল না। আর এ ধন-সম্পদ কিয়ামতের দিন তার বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে দাঁড়াবে।
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... সালমান ইবন আমির (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মিসকীনকে দান করার মধ্যে শুধু সাদাকার সওয়াব রয়েছে আর আত্মীয়-স্বজনকে দান করার মধ্যে দুটি সওয়াব রয়েছে, দান করার সওয়াব এবং আত্মীয়াত্রার সম্পর্ক বজায় রাখার সওয়াব।
হাদিস 2583 — Sunan an Nasai 23:149
সহিহসহিহসহিহ - Agreed Upon
أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ زَيْنَبَ، امْرَأَةِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلنِّسَاءِ " تَصَدَّقْنَ وَلَوْ مِنَ حُلِيِّكُنَّ " . قَالَتْ وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ خَفِيفَ ذَاتِ الْيَدِ فَقَالَتْ لَهُ أَيَسَعُنِي أَنْ أَضَعَ صَدَقَتِي فِيكَ وَفِي بَنِي أَخٍ لِي يَتَامَى فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ سَلِي عَنْ ذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَتْ فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا عَلَى بَابِهِ امْرَأَةٌ مِنَ الأَنْصَارِ يُقَالُ لَهَا زَيْنَبُ تَسْأَلُ عَمَّا أَسْأَلُ عَنْهُ فَخَرَجَ إِلَيْنَا بِلاَلٌ فَقُلْنَا لَهُ انْطَلِقْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَلْهُ عَنْ ذَلِكَ وَلاَ تُخْبِرْهُ مَنْ نَحْنُ . فَانْطَلَقَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " مَنْ هُمَا " . قَالَ زَيْنَبُ . قَالَ " أَىُّ الزَّيَانِبِ " . قَالَ زَيْنَبُ امْرَأَةُ عَبْدِ اللَّهِ وَزَيْنَبُ الأَنْصَارِيَّةُ قَالَ " نَعَمْ لَهُمَا أَجْرَانِ أَجْرُ الْقَرَابَةِ وَأَجْرُ الصَّدَقَةِ " .
বিশর ইবন খালিদ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ)-এর স্ত্রী যয়নাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের উদ্দেশ্য করে বলেছেনঃ তোমরা সাদাকা কর যদিও তা অলংকারই হােক না কেন। রাবী বলেন, আব্দুল্লাহ দরিদ্র ছিলেন, আমি তাঁকে বললাম, আমার সাদাকা। আপনাকে এবং আমার ইয়াতীম ভ্রাতুষ্পপুত্রদেরকে দেওয়ার অবকাশ আমার আছে কি? আব্দুল্লাহ (রাঃ) বললেনঃ তুমি এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা কর। রাবী বলেন, তখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম, এসে দেখলাম তাঁর দরজার সামনে যায়নব নাম্নী একজন আনসারী মহিলা দণ্ডায়মান। আমি যে ব্যাপারে প্রশ্ন করতে এসেছি তিনি সে ব্যাপারেই প্রশ্ন করছেন। আমাদের কাছে বিলাল (রাঃ) আসলেন, আমরা তাঁকে বললাম যে, আপনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গিয়ে এ ব্যাপারে তাঁকে জিজ্ঞাসা করুন। আর আমরা কারা তা তাঁকে বলবে না। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন যে, তারা কারা? বিলাল (রাঃ) বললেন, যয়নন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কোন যয়নব? তিনি বললেন, আব্দুল্লাহ (রাঃ)-এর স্ত্রী যযয়নব এবং আনসারী যায়নব। বললেন, হ্যাঁ; তাদের জন্য দু'টি সওয়াব রয়েছে, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার সওয়ার এবং দান করার সওয়াব।
আবু দাউদ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেছেনঃ তোমাদের কারো এক বোঝা কাষ্ঠ নিজ পিঠে বহন করে আনা এবং বিক্রি করা কারো কাছে ভিক্ষে চাওয়ার চেয়ে উত্তম। চাই সে ভিক্ষা দিক বা না দিক।