। জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার পরে বারোজন শাসক হবে। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি কি যে বললেন, আমি তা বুঝতে পারিনি। তাই আমি আমার কাছের একজন লোককে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তাদের সকলেই কুরাইশ বংশীয় হবে। সহীহ, সহীহাহ (১০৭৫), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। উপরোক্ত হাদীসের মতো বর্ণিত আছে আবু কুরাইব হতে, তিনি উমার ইবনু উবাইদ হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আবু নকর ইবনু আবু মুসা হতে, তিনি জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে। জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) হতে এ হাদীসটি একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ গরীব। এ হাদীসটিকে আবূ মূসা হতে জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ)-এর সূত্রে গারীব বলা হয়। ইবনু মাসউদ ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। যিয়াদ ইবনু কুসাইব আল-আদাবী (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি ইবনু আমিরের মিম্বরের নিকট আবূ বাকরা (রাঃ)-এর সাথে বসা ছিলাম। সে সময় তিনি সূক্ষ্ম মিহি পোশাক পরিহিত অবস্থায় ভাষণ দিচ্ছিলেন। আবূ বিলাল বললেন, তোমরা আমাদের শাসকের প্রতি লক্ষ্য করে দেখ, তিনি গুনাহগারদের অনুরূপ পোশাক পরেছেন। আবূ বাকরা (রাঃ) বললেন, তুমি চুপ থাক, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ দুনিয়াতে আল্লাহ তা'আলার নিযুক্ত শাসককে যে ব্যক্তি অপমান করবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে অপমান করবেন। হাসান, সহীহাহ (২২৯৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে বলা হলো, আপনি যদি আপনার পরবর্তী খালীফা (প্রতিনিধি) মনোনীত করে যেতেন! তিনি বললেন, আমি যদি পরবর্তী খালীফা মনোনীত করি তাহলে আবূ বাকর (রাঃ)-ও পরবর্তী খালীফা মনোনীত করেছিলেন। আর আমি যদি পরবতী খালীফা মনোনীত না করে যাই (তাও যথার্থ হবে), কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে খালীফা মনোনীত করে যাননি। সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (২৬০৫), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসে আরো দীর্ঘ ঘটনা আছে-যো সহীহ মুসলিমের কিতাবুল ইমারা-এর প্রথমদিকে উল্লেখিত)। এ হাদীসটি সহীহ। এ হাদীসটি ইবনু উমার (রাঃ) হতে একাধিকসূত্রে বর্ণিত আছে।
। সাঈদ ইবনু জুহমান (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, সাফীনাহ (রাঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের খিলাফাতের সময়কাল (শাসনকাল) হবে ত্ৰিশবছর, তারপর হবে রাজতন্ত্র। সহীহ, সহীহাহ (৪৫৯, ১৫৩৪, ১৫৩৫)। তারপর সাফীনাহ (রাঃ) আমাকে বললেন, তুমি আবূ বাকর (রাঃ)-এর খিলাফতকাল গণনা কর। তারপর বললেন, উমার ও উসমান (রাঃ)-এর খিলাফতকাল গণনা কর। তারপর বললেন, আলী (রাঃ)-এর খিলাফতকালও গণনা কর। আমরা গণনা করে এর সময়কাল ত্ৰিশবছরই পেলাম। সাঈদ (রহঃ) বললেন, আমি তাকে বললাম, বানু উমাইয়্যার জনগণও দাবি করে যে, তাদের মাঝেও খিলাফাত বিদ্যমান? তিনি বললেন, যারকার সন্তানেরা মিথ্যা বলছে, বরং তারা তো নিকৃষ্ট রাজতন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত রাজতান্ত্রিক গোষ্ঠী। আবূ ঈসা বলেন, উমার ও আলী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। তারা বলেন, খিলাফাত প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন অঙ্গীকার করে যাননি। এ হাদীসটি হাসান। অবশ্য এ হাদীসটি সাঈদ ইবনু জুমহান (রাহঃ) হতে একাধিক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। আমরা এ হাদীস প্রসঙ্গে শুধুমাত্র তার রিওয়ায়াত হিসাবেই জেনেছি।
। হাবীব ইবনুয যুবাইর (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু আবূল হুযাইল (রাহঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ আমর ইবনুল আস (রাঃ)-এর সামনে রাবীআ বংশের কয়েকজন লোক উপস্থিত ছিল। বাকর ইবনু ওয়াইল বংশের কোন একজন লোক বলল, অবশ্যই অন্যায় কাজ হতে কুরাইশদের বিরত থাকা উচিত। তা না হলে আল্লাহ তা'আলা এ (খিলাফাতের) দায়িত্ব আরবদের মাঝে অন্যদেরকে প্রদান করবেন। আমর ইবনুল আস (রাঃ) বলেন, তুমি ভুল বলেছ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছিঃ কিয়ামতের দিন পর্যন্ত কুরাইশগণ ভাল-মন্দ সর্বাবস্থায় জনগণের নেতৃত্ব দিবে। সহীহ, সহীহাহ (১১৫৫)। আবূ ঈসা বলেন, ইবনু মাসউদ ইবনু উমার ও জাবির (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ।
। উমার ইবনুল হাকাম (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি আবূ হুরাইরা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জাহজাহ’ নামক কোন এক মুক্তদাস অধিপতি না হওয়া পর্যন্ত দিন-রাতের অবসান (কিয়ামত) হবে না। সহীহ, সহীহাহ (২৪৪১), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।
হাদিস 2229 — Jami At Tirmidhi 33:72
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ Muslim
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ الرَّحَبِيِّ، عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا أَخَافُ عَلَى أُمَّتِي الأَئِمَّةَ الْمُضِلِّينَ " . قَالَ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِينَ لاَ يَضُرُّهُمْ مَنْ يَخْذُلُهُمْ حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ يَقُولُ سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ الْمَدِينِيِّ يَقُولُ وَذَكَرَ هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي ظَاهِرِينَ عَلَى الْحَقِّ " . فَقَالَ عَلِيٌّ هُمْ أَهْلُ الْحَدِيثِ .
। সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি আমার উম্মাতের ব্যাপারে পথভ্রষ্টকারী নেতাদেরকেই ভয় করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেনঃ আমার উম্মাতের এক দল লোক আল্লাহ তা'আলার হুকুম (কিয়ামত) আসার পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত সর্বদা বিজয়ীবেশে সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। যারা তাদের অপমানিত করতে চাইবে তারা তাদের ক্ষতি করতে পারবে না। সহীহ, সহীহাহ (৪/১১০, ১৯৫৭), মুসলিম ২য় অংশ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলকে আমি বলতে শুনেছি, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উক্ত হাদীসটি আলী ইবনুল মাদীনীকে এভাবে বর্ণনা করতে শুনেছিঃ আমার উম্মাতের এক দল সর্বাবস্থায় সত্যের উপর বিজয়ী থাকবে। তাদের ব্যাপারে আলী (রাঃ) বলেন, এরা হলো আহলুল হাদীস।
। আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার পরিবারের একজন আরবের অধিপতি না হওয়া পর্যন্ত পৃথিবী ধ্বংস হবে না। আমার নামের অনুরূপই তার নাম হবে। হাসান সহীহ, মিশকাত (৫৪৫২), ফাযাইলুশশাম (১৬), বাওযুন নায়ীর (৬৪৭)। আবূ ঈসা বলেন, আলী, আবূ সাঈদ, উম্মু সালামা ও আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান
। আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার পরিবারের মধ্যে একজন লোক রাজাধিপতি হবে, তার নাম হবে আমার নামের অনুরূপ। আসিম (রাহঃ) বলেন, আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে আবূ সালিহ (রাহঃ) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, যদি পৃথিবী ধ্বংসের মাত্র একদিনও অবশিষ্ট থাকে, তাহলে তার রাজত্বের জন্য আল্লাহ তা'আলা সে দিনটিকেই দীর্ঘায়িত করে দিবেন। হাসান সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা ভয় পাচ্ছিলাম যে, আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরে নতুন কোন দুর্ঘটনা ঘটবে। সুতরাং আমরা এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেনঃ আমার উম্মাতের মাঝে মাহদীর আগমন ঘটবে, সে পাঁচ অথবা সাত অথবা নয় বৎসর পর্যন্ত বেঁচে থাকবে (যাইদ সন্দেহে পতিত হয়েছেন যে, উধ্বতন বর্ণনাকারী কোন সংখ্যাটি বলেছেন)। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা প্রশ্ন করলাম, এই সংখ্যায় কি বুঝায়? তিনি বললেন বছর। মানুষ তার নিকট এসে বলবে, হে মাহদী। আমাকে কিছু দান করুন, আমাকে কিছু দান করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তারপর সে তার কাপড় বা থলেতে যেটুকু পরিমাণ বহন করে নিতে পারবে তিনি তাকে সেটুকু পরিমাণ দান করবেন। হাসান, ইবনু মা-জাহ (৪০৮৩)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ হাদীসটি আবূ সাঈদ (রাঃ)-এর বরাতে অন্যান্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। আবূস সিদ্দীক আন-নাজীর নাম বাকর ইবনু আমর, মতান্তরে বাকর ইবনু কাইস।