। আল-মুস্তাওরিদ ইবনু শাদ্দাদ আল-ফিহরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি তো কিয়ামতের শ্বাস-প্রশ্বাসের মধ্যে (কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার নিকটতর সময়ে) প্রেরিত হয়েছি। আমি তার অগ্রে এসেছি মাত্র যেমন এটি ও এটি অর্থাৎ তর্জনী ও মধ্যমার মাঝে যতটুকু দূরত্ব (আমার ও কিয়ামতের মধ্যে সে রকমই নিকটতর দূরত্ব)। যঈফ, মিশকাত (৫৫১৩) আবূ ঈসা বলেন, আল-মুসতাওরিদ ইবনু শাদ্দাদ (রাঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসাবে এ হাদীসটি গারীব। কেননা এই সূত্রেই শুধুমাত্র আমরা এ হাদীস প্রসঙ্গে জেনেছি।
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার প্রেরণ ও কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার মাঝে এতটুকু ব্যবধান, যেমন এ দুটি। আবূ দাউদ (রাহঃ) তার তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুলের মাধ্যমে ইঙ্গিত করে দেখান। এই দুইটির মাঝে খুব একটা ব্যবধান নেই। সহীহ, বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমরা এমন এক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হবে যাদের জুতা হবে চুলের তৈরী। আর কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমরা এমন এক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হবে, যাদের মুখমণ্ডল হবে বহু স্তরবিশিষ্ট ঢালের মতো। সহীহ, বুখারী, মুসলিম। ইবনু তাগলিব ও মুআবিয়া (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (পারস্য সম্রাট) কিসরার পরাজয়ের পর আর কোন কিসরা ক্ষমতাসীন হবে না এবং (রোম সম্রাট) কাইসারের পরাজয়ের পরও আর কোন কাইসার ক্ষমতাসীন হতে পারবে না। সেই মহান সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! এই দুই রাজ্যের সকল ধনভাণ্ডার আল্লাহ্ তা'আলার পথে খরচ করা হবে। সহীহ, বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। সালিম ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (আব্দুল্লাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের পূর্বে হাযরামাওত হতে অথবা হাযরামাওতের সাগরের দিক হতে শীঘ্রই একটি অগ্নুৎপাত হবে এবং তা লোকদেরকে একত্র করবে। সাহাবীগণ প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসূল তখন আমাদেরকে কি করার জন্য নির্দেশ দেন? তিনি বললেনঃ তোমরা সিরিয়াতে অবস্থান করবে। সহীহ, ফাযাইলুশশাম (১১), মিশকাত (৬২৬৫)। আবূ ঈসা বলেন, হুযাইফা ইবনু উসাইদ, আনাস, আবূ হুরাইরা ও আবূ যার (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ এবং ইবনু উমার (রাঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসাবে গারীব।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রায় ত্রিশজন ডাহা মিথ্যাবাদী প্রতারকের আবির্ভাবের পূর্বে কিয়ামত সংঘটিত হবে না। তাদের সকলে দাবি করবে যে, সে আল্লাহ্ তা'আলার প্রেরিত রাসূল। সহীহ, সহীহাহ (১৬৮৩), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, জাবির ইবনু সামুরা ও ইবনু উমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুশরিকদের সাথে আমার উম্মাতের কতিপয় গোত্র না মিলিত হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, এমনকি তারা মূর্তিপূজাও করবে। আমার উম্মাতের মধ্যে খুব শীঘ্রই ত্রিশজন ডাহা মিথ্যাবাদীর আবির্ভাব হবে। এদের সকলেই দাবি করবে যে সে নবী। অথচ আমিই সর্বশেষ নবী, আমার পরে কোন নবী নেই। সহীহ, মিশকাত (৫৪০৬), সহীহাহ (১৬৮৩)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক মিথ্যাবাদী ও এক নরঘাতক সাকীফ বংশে জন্মগ্রহণ করবে। সহীহ, মুসলিম (৭/১৯১)। আবূ ঈসা আরো বলেন, কথিত আছে যে, এ মিথ্যাবাদী ব্যক্তিটি হলো মুখতার ইবনু আবূ উবাইদ এবং রক্তপিপাসু নরঘাতক হলো হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ (এরা দুজনেই সাকীফ বংশের)। উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস আবদুর রাহমান ইবনু ওয়াকিদ-শারীক (রাহঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান ইবনু উমারের বর্ণনা হিসাবে গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র শারীকের সূত্রে জেনেছি। শারীক বলেন, বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনু উসম এবং ইসরাঈল বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু ইসমাহ। আবূ দাউদ সুলাইমান ইবনু সালম আল-বালধী-নাযার ইবনু শুমাইল হতে, তিনি হিশাম ইবনু হাসসান (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, হাজ্জাজ যে সকল ব্যক্তিকে বন্দী করে এনে খুন করে তাদের সংখ্যা ছিল একলক্ষ বিশহাজার। সহীহ মাকতু। আবূ ঈসা বলেন, আসমা বিনতু আবূ বাকর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ আমার যমানাই হলো সর্বোৎকৃষ্ট যমান, তারপর এর নিকটবর্তীদের যমানা, তারপর এর নিকটবর্তীদের যমানা। তারপর এমন যুগের আগমন ঘটবে যখনকার লোকেরা হবে মোটা দেহ বিশিষ্ট এবং তারা মোটা দেহের অধিকারী হতে পছন্দ করবে। সাক্ষ্য না চাওয়া হলেও তারা সাক্ষ্য প্রদান করবে। সহীহঃ সহীহাহ (১৮৪০), বুখারী ও মুসলিম আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি আমাশ-আলী ইবনু মুদরিক হতে তিনি হিলাল ইবনু ইয়াসাফের সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনু ফু্যাইল অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন। আর একাধিক হাফিয বর্ণনাকারী-আমাশ হতে, তিনি হিলাল ইবনু ইয়াসাফের সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, তবে তারা বর্ণনাকারী আলী ইবনু মুদরিকের কথা উল্লেখ করেননি। হুসাইন ইবনু হুরাইস (রাহঃ) ওয়াকী হতে, তিনি আমাশ হতে, তিনি হিলাল ইবনু ইয়াসাফ হতে, তিনি ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (তিরমিয়ী বলেন) আমার মতে মুহাম্মাদ ইবনু ফুযাইলের সূত্র অপেক্ষা এ সূত্রটি অনেক বেশি সহীহ। এ হাদীসটি একাধিক সূত্রে ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ)-এর বরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে।
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি যে যুগে যাদের মাঝে প্রেরিত হয়েছি সেই যুগের আমার উন্মাতই হলো শ্রেষ্ঠ; তারপর তাদের পরবর্তী যুগের লোক। বর্ণনাকারী বলেন, তৃতীয় যুগের কথা বলা হয়েছে কি-না তা আমি জানি না। তারপর এমন কিছু মানুষের আগমন ঘটবে যাদের নিকট সাক্ষ্য চাওয়া না হলেও তারা সাক্ষ্য প্রদান করবে। তারা খিয়ানাত করবে, আমানাত রক্ষা করবে না এবং তাদের মধ্যে মোটা দেহ বিশিষ্ট মানুষের বিস্তার ঘটবে। সহীহ, সহীহাহ (১৮৪০), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।